Dangal : সিনেমার চাইতেও বেশি কিছু… মাস্ট ওয়াচ !!!

মেয়েসন্তান মানেই তাকে বোঝা মনে করতো আমাদের সমাজ। মনে করতো কি? সমাজের এখনো অনেকেই মেয়ে সন্তান হলে মুখ কালো করে বসে থাকে, ছেলে সন্তানের জন্য তাদের কি হাহাকার। ছেলেকেই নিজের স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার মনে করেন অনেকে। কিন্তু যুগ পাল্টেছে। এখন মেয়েরাও ছেলেদের পাশাপাশি সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন।

 

১৯৮৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভারতের হরিয়ানায় এক কন্যা সন্তানের জন্ম হল, কিন্তু খুশি হতে পারলেন না বাবা। মেয়ে দিয়ে তিনি কি করবেন? তাঁর স্বপ্ন যে ছেলে সন্তানের, যে তাকে এবং তাঁর দেশকে এনে দিবে সাফল্য। ছেলে সন্তানের আশায় সেই বাবা-মা এরপর জন্মদিলেন একে একে আরো ৩টি সন্তানের। কিন্তু আফসোস, সবাই মেয়ে। বাবা নিজেকে পরাজিত ভাবলেন। তাঁর স্বপ্ন যে আর পূরণ হচ্ছেনা তা তিনি বুঝতে পেরে চরম হতাশ। হঠাতই কোন একদিনের ঘটনা তাকে আশান্বিত করলো যে মেয়েদের জন্ম শুধু রান্নাবান্না আর ঘরসংসার সামলানোর জন্য হয়নি। তাঁর মেয়েদের দ্বারাও সম্ভব তাঁর স্বপ্ন পূরণ। উঠেপড়ে লাগলেন তিনি মেয়েদের স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার বানানোয়। সেই বাবা আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত কুস্তীগির ও কোচ “মহাভীর সিং ফোগাট”। তাঁর জীবনী নিয়েই সম্পতি নিতেশ তিওয়ারী বানিয়েছেন #দাঙ্গাল নামে এক সিনেমা। হরিয়ানার ভাষায় দাঙ্গাল বলা হয় কুস্তি প্রতিযোগিতাকে। আর সিনেমায় সেই বাবার চরিত্রে ছিলেন মি. পারফেকশনিস্ট আমির খান।

 

চরিত্র পরিচিতিঃ

maxresdefault(8)

.

বায়োগ্রাফিক্যাল স্পোর্টস ড্রামা মুভি হিসেবে আমার দেখা সেরা কিছু মুভির মধ্যে একটি হচ্ছে এই দাঙ্গাল। আমির খানের মুভি মানেই সেখানে পারফেকশনের ছড়াছড়ি থাকে। এই মুভিতেও তাঁর ব্যতিক্রম নেই। কিছুদিন আগেই ২টা ভিডিও দেখেছিলাম ইউটিউবে যেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে বডি ট্রান্সফর্মেশন এবং কুস্তির প্র্যাকটিস করছেন আমির খান ও অন্যান্যরা। তাদের সেই পরিশ্রমেরই প্রতিফলন দেখতে পেয়েছি মুভিতে।

 

কাহিনীঃ বায়োগ্রাফিক্যাল মুভি তাই মুভির কাহিনী একদম পরিচিত। ফিকশনাল মুভি “সুলতান” দেখার পর অনেকেই ভেবেছিলেন যেহেতু দুটি মুভিই একই ব্যক্তির উপর ভিত্তি করে বানানো তাই হয়তো অনেক কিছুতেই মিল থাকবে। তাদের জন্য খবর হচ্ছে দুই মুভির মধ্যে তেমন কোনই মিল নাই। আর মিল থাকবেই বা কেন? সুলতান হচ্ছে কুস্তিগীর মহাবীরের ফিকশনাল মুভি, আর দাঙ্গাল হচ্ছে বাবা ও কোচ মহাবীরের বাস্তব কাহিনী নির্ভর মুভি যেখানে তাঁর মেয়ের মাধ্যমে তাঁর নিজের সাফল্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কাহিনী আমার কাছে চরম ভাল্লাগছে।

 

অভিনয়ঃ আমির খানের মুভিতে অভিনয় নিয়ে বলার কিছু থাকেনা। এতটাই পারফেক্ট থাকে যে কি বলবো। আমির খানের কন্যারুপে নবাগতা Fatima Sana Shaikh, Zaira Wasim, Suhani Bhatnagar, Sanya Malhotra এর অভিনয় দেখে মনেই হয়নি এরা নবাগতা এবং এরা এখানে অভিনয় করছে। মনে হল যেন ওদেরই বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলো জাস্ট সিনেমার পর্দায় দেখছি। এত্ত বাস্তব সম্মত অভিনয় ছিল যে অবাক হয়ে শুধু দেখছিলাম, বিশেষ করে Zaira Wasim এর অভিনয়। আমিরের নেক্সট মুভিতে (সিক্রেট সুপারস্টার) সে লিড ক্যারেক্টারে আছে। Fatima Sana Shaikh নায়িকা হিসেবে অনেকদূর যাবে। Sakshi Tanwar টেলিভিশনের পাকা অভিনেত্রী এবং এখানেও দারুণ অভিনয় করেছেন। রেসলিং সিকুয়েন্সে এদের অভিনয় দেখে মনেই হয়নি এরা রেসলার নয় অভিনেত্রী।

 

গান ও বিজিএমঃ মুভির গানগুলো সবই অনেক ভাল্লাগছে। আর বোনাস হিসেবে শেষে আমিরের গাওয়া গানটা তো আরো চরম। ‘হানিকারাক বাপু’ ও ‘ধাক্কাড়’ গানদুটো খুবই ভাল্লাগছে। বিজিএম ছিল একদম পারফেক্ট। মিউজিক ডিরেক্টর প্রীতম, র‍্যাপার রাফতার এবং অন্যান্য শিল্পীদের অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য।

 

ডিরেকশন ও সিনেমাটোগ্র্যাফিঃ মুভির ডায়লগ, ডিরেকশন ও সিনেমাটোগ্র্যাফি এক কথায় অসাম। নিতেশ তিওয়ারির মুভি মানেই অন্যকিছু। “চিল্লার পার্টি” কিংবা “ভূতনাথ রিটার্নস” যাদের দেখা আছে তারা জানবেন। হরিয়ানার একসেন্টে কথা বলাটা একদম পারফেক্ট মনে হয়েছে এই মুভিতে। দারুণ এঞ্জয় করেছি ডায়লগগুলো। রেসলিং সিনগুলো একদম পারফেক্ট লেগেছে।

.

অনেক বলে ফেললাম। এই মুভি সম্পর্কে এতকিছু বলা লাগতো না। একটা কথায়ই এই মুভির রিভিউ দেয়া সম্ভব। “জাস্ট অসাম অসাম এন্ড অসাম + মাস্ট ওয়াচ”। 10 অন 10 মুভি।

.

.

#HasanMRp

(Visited 1,175 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন