আমার সবচেয়ে পছন্দের সাউথ নায়িকার জন্মদিনে তার সম্পর্কে কিছুকথা… Happy Birthday Nayanthara
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

সালটা ১৯৮৪, দিনটা ১৮ নভেম্বর, আমার জন্মের ঠিক ৩ বছর ৫ মাস ৩ দিন অর্থাৎ ঠিক ঠিক ১২৫০ দিন আগে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু শহরে কেরালা রাজ্যের তিরুভাল্লা থেকে আসা এক মালায়ালি অর্থোডক্স খৃষ্টান দম্পতির ঘরে জন্ম হয় এক কন্যা সন্তানের। যদিও বর্তমানে মেয়েটি ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে। বাবা বিমান বাহিনীতে চাকুরী করতেন তাই ছোট থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন শহরে বড় হতে হয় তাকে। বিভিন্ন শহর ঘুরে তিরুভাল্লার মারথোমা কলেজ থেকে ইংলিশে গ্রাজুয়েশন শেষ হয় তার। কলেজে থাকাকালীন সময়ে পার্ট টাইম মডেল হিসেবে কাজ করতো সে। সেখান থেকেই ২০০৩ সালে একদিন ডিরেক্টর সত্যয়নের নজরে আসা, আর মালয়ালাম সিনেমা #মানাসিনাক্কারে এর মাধ্যমে সিনেমা জগতে পা রাখা। এরপর ২০০৫ সালে #আইয়্যা সিনেমার মাধ্যমে তামিল এবং ২০০৬ সালে #লাক্সমি সিনেমার মাধ্যমে তেলুগু ডেব্যুও হয়ে যায়। ২০১০ সালে #সুপার সিনেমার মাধ্যমে কান্নাড়া ডেব্যুও হয়ে যায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই এশিয়ানেট বেস্ট নিউ ফেস অব দ্য ইয়ারের পুরষ্কার জেতা এ অভিনেত্রীর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি থাকতেই এসেছেন, ক্ষণিকের ঝলক দেখিয়ে হারিয়ে যেতে নয়। প্রথম থেকেই নিজের অভিনয় দক্ষতা দেখালেও মূলত ২০০৭ সালের তামিল মুভি #বিল্লা এর গ্লামারাস লুক আর অভিনয় দিয়েই সে সারা দক্ষিণ ভারতের নজর কাড়েন। এরপর বাকীটা ইতিহাস। একে একে নিজেকে নিয়ে গেছেন শীর্ষ থেকে চূড়ায়। ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন মোহনলাল, রজনীকান্ত, মামোত্তী, বালাকৃষ্ণা, নাগার্জুনা, শরৎ কুমার থেকে শুরু করে ধানুশ, ভিক্রম, সুরিয়া, অজিথ কুমার, ভিজয়, জুনিয়র এনটিআর, দিলীপ, ভেংকটেশ, রভি তেজা, প্রভাস, কার্থি, ভিশাল, জিভা, আরিয়া, সিম্বু, রানা ডজ্ঞুবতী, স্ট্যালিনদের বিপরীতে। বর্তমানে তিনি সাউথের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী। এ বছর মুক্তি পাওয়া #পুথিয়া_নিয়ামাম, #কাশমোরা কিংবা #ইরু_মুগান সিনেমায় তার লুক দেখলে মনে হয় মানুষের বয়স বাড়ে আর তার কমে। এ বয়সেও এতটা গ্ল্যামার, দেখলে মনে হয় এখনো তার বয়সটা ২০-২৫ এর মধ্যেই ঘুরাঘুরি করছে। পুথিয়া নিয়ামামে তার লুকটা আমার অন্যতম পছন্দের একটা লুক ছিল, ভোলার মত নয়। তার এই ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে মোটামুটি সব এওয়ার্ডই পাওয়া হয়েছে, আক্ষেপ হয়ে আছে শুধু জাতীয় পুরস্কারটা। বিভিন্ন এওয়ার্ডে ৪৭ বার নমিনেটেড হয়ে জিতেছেন ৩৩ বার। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত মুভির সংখ্যা ৫০ টা। মুক্তির অপেক্ষায় আছে আরো ৫ টা মুভি।

.

এখন পর্যন্ত তার ৩৮ টা মুভি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, যার মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দের মুভিগুলো হলঃ

পুথিয়া নিয়ামাম ; বিল্লা ; ইয়ারাদি নি মোহিনী ; ইরু মুগান ; মায়া ; থানি ওরুভান ; বডিগার্ড ; আধভান ; মাস ; ভাস্কর দ্য রাস্কেল ; অনামিকা ; আরাম্বাম ; সুপার ; আদুরস ; গজিনী ; চন্দ্রমুখী ; ভিল্লু ; এগান ; বস – আই লাভ ইউ ; গ্রিকু ভেরুধু ; কৃষ্ণাম ভান্দে জাগাদ্গুরাম; নানবেন্দা ; … থাক অফ যাই… আসলে আমার দেখা তার প্রায় সব মুভিই আমার ভাল লাগে, কেন লাগে এর কোন উত্তর জানি না। তার মুখটা দেখলেই কেন জানি খুব ভাল লাগে, আর অভিনয় তো সে ভাল করেই।

.

এতক্ষণে হয়তো বুঝে গেছেন কার কথা বলছিলাম। সে আর কেউ নয়, সাউথে আমার সবচেয়ে পছন্দের নায়িকা, ক্রাশ, যাকে মাঝেমাঝেই ঘুমের মধ্যেও দেখি, সেই <3 ডায়ানা মরিয়ম কুরিয়ান <3

.

.

.

হাঁ হাঁ হাঁ, ভাবছেন এইডা আবার কিডা??? জি ইনিই <3 নয়নতারা <3

.

আজকে তিনি ৩২ পেরিয়ে ৩৩ এ পা দিলেন, কিন্তু তাকে দেখে আমার এখনো মনে হচ্ছে তিনি হয়তো ২২ পেরিয়ে ২৩ এ পা দিলেন।  যদিও সে আমার থেকে বড় এই আক্ষেপ আমার আজীবন থাকবে, তবুও বড় হইছে তাতে কি, ভালবাসায় কোন বড় ছোট নাই… আমার ১২৫০ দিন আগে জন্ম নেয়া ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের [এখন অবশ্য ফর্সাই হয়ে গেছে] মেয়েটির জন্মদিনে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তার প্রতি রইলো অনেক অনেক ভালবাসা ও লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।

nayanthara post banner

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন