‘আমার প্রোডিয়সার হবার গল্প”

প্রথমেই আমার সম্পর্কে কিছু বলেনি, আমি একজন সাধারন ঘড়ের ছেলে এখনও ছাত্র জীবন পার করতে পারিনি। এইচ.এস.সি. দেবার পর বাবার পরিচিত এক কোম্পানিতে কিছুদিন কাজ করি এবং পরবর্তিতে সেই টাকা শেয়ারে খাটিয়ে অনেক লাভ পাই, লোভে আরও টাকা খাটাই কিন্তু শেষটা যায় ধরা। তারপরও ব্যাংকে ১ লক্ষ টাকা রয়ে যায়, পাশাপাশি একটা এফ.টি.ডি.আর. ছিল যা দির্ঘ ৪ বছর যাবৎ মাসে হাজারের কিছু কম দিয়ে জমাই প্রায় ৪০,০০০ টাকা।

এবার আসা যাক মুল ঘটনায়, আমার এক বড় ভাই (আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু) একজন ডিরেক্টর, (নাম বলব না বললে চিনে যাবেন) “সুর্যের মুক্তি” নামক একটি টেলি-ফিল্ম বানাবেন। ভাল কথা এইটা সাভাবিক ব্যপার ওনি ডিরেক্টর ওনি টেলি-ফিল্ম বানাবেন এইটা সাভাবিক ব্যাপার কিন্তু উনি নাকি প্রডিইয়সার পাচ্ছেন না। আমার ব্যাংকের মাত্র এক লক্ষ টাকা + ৪০,০০০ টাকা উনাদের নজরে পড়ল।

সারাদিন এসে বুজিয়ে পড়িয়ে, শেষ মেশ স্ট্যাম্প এ সই করে টাকা নেয়। যে লাভ-লুকসান যাই হয় আমার টাকা উনি ডিসেম্বারের ২০১১ এর মধ্যে ফিরিয়ে দিবেন। ওই টাকা সহ কিছু টাকা লোন করে তাদের দিলাম। সুটিং স্পট, ক্যামেরা, অ্যাক্টর সব ঠিক হল। আমরা গাজিপুরের,  সেই সুটিং স্পটে গেলাম। সাত দিন রইলাম সারাদিন স্যুট হত, সবাই কাজে ভালই মনযুগি। কিন্তু মহিলা অ্যাক্টর থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষ বেন্ডসন লাইটস ছাড়া খেতে পারেনা আর ছোট মহিলা অ্যাক্টর দের নিয়ে সহকারি ডিরেক্টররা প্রায় রাতে জঙ্গলের অন্ধকারে হারিয়ে যেত। এই সাত দিনে কত বাজে জিনিষ যে আমি দেখেছি। নিজেরি ভয় হচ্ছিল এক সময় আল্লাহ যেন আমার মৃত্যু এমন জঘন্য জায়গায় না দেয়।

 

আজ প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত আমি আমার টাকার এক পয়সাও পাইনি… শুধু ঘুরিয়েই যাচ্ছেন কিন্তু আমি চাইলে এদের অনেক কিছুই আমার কাছে আছে আমিও তা প্রকাশ করে দিতে পারি। তবে এবার সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে আর নয় এবার সোজা হাতে ঘি না উঠলে বড় ভাই ভুলে যাব।

এই থেকে আমি যে ব্যপার গুল বুঝতে পেরেছি যে “এরা কতটা নিচু মনের, এরা কত সস্তা, এরা মাত্র ৩-৪,০০০ টাকার জন্য (বেশির ভাগ বড় অ্যাকটরগুলা) বিক্রি হতে পারে, এদের কোনদিন বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই। এদের অধিকাংশই এসেছে নিচু পরিবার থেকে আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে নিজে যেই জিনিষ না বুজি তা থেকে দূরে থাকাই মংগল।” এই ভুল কখনও কেউ যেন না করে, কারন আজ আমি এই ভুলের কারনে আমার শেষ কিছু অর্জন ধরে রাখতে পারিনি।
এই ছিল ‘আমার প্রডিয়সার হবার গল্প” । আমার লেখার বানান, ভাশাগত ভুল সহ সকল প্রকার ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি, ভুল না বুঝার জন্য ধন্যবাদ।

(Visited 29 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন