চার্লি উইলসন্স ওয়্যার- আমেরিকার তালেবান সৃষ্টির পটভূমি

আমেরিকার একটা স্বভাব আছে। তারা সবকিছুতে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অথবা কিছুটা ভাল করার জন্য একটা যুদ্ধ লাগায়। যোদ্ধাহত নিরীহ মানুষদের সাহায্য করে, এবং দিনশেষে নিজেরাই তাদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে!

 

কথা বলছিলাম Charlie Wilson’s War মুভিটি নিয়ে। আপাতত উপরের কথা দুটোকে বাদ দিয়ে সিনেমার দিকে নজর দেয়া যাক। Charlie Wilson’s War মুভিটি সম্পূর্ণ রূপে একটি কূটনীতিক সিনেমা যেটি বাস্তব কিছু ঘটনা এবং কিছু ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। মুভির প্রেক্ষাপট সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ এবং এ সংক্রান্ত বিশ্ব রাজনীতি। এই সিনেমায় আমেরিকা-সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যেকার শীতল যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেছে।

 

এই সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টম হ্যাংকস। টম হ্যাংকসের সিনেমা মানেই বিশেষ কিছু। এটাও এর বাইরে নয়। টম হ্যাংকস ছাড়াও এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জুলিয়া রবার্টস, এমি অ্যাডামস, ফিলিপ হফম্যান এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ওমপুরি।

007CWW_Tom_Hanks_015

চার্লি উইলসন একজন মার্কিন কংগ্রেসম্যান যিনি ব্যক্তিজীবনে প্রচন্ডরকম আমুদে। সিনেমার প্রেক্ষাপট শুরু হয় আশির দশকের একেবারে শুরুতে যখন সবেমাত্র সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। চার্লি ঘটনাক্রমে তার এক পুরনো বান্ধবীর (জুলিয়া রবার্টস) উৎসাহে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের পটভূমিতে হাজির হন। চার্লি সেখানে পাকিস্তানি এক রিফিউজি ক্যাম্প ভ্রমণ শেষে যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেন এবং নিজ দেশে ফিরে এসে আফগান মুজাহিদিনদের (গেরিলা) সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত মূলত ইউএসএ-ইউএসএসআর (দ্য ইউনিয়ন অফ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক্স) শীতল যুদ্ধেরই একটি নমুনা এবং একই সাথে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে রাশিয়াকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ারও একটা অংশ ছিল। ক্রমেই চার্লি এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রদত্ত বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকেন। এই পরিকল্পনায় চার্লি পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইজরাইল এবং মিশরকেও নিজের পাশে পান। এভাবেই সিনেমার কাহিনী এগুতে থাকে।

 

যেহেতু এই মুভি ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত তাই এই সিনেমার কোন স্পয়লার নেই বলেই আমার ধারণা। তবুও কাহিনীর প্রয়োজনে আমি অনেক কিছুই এখানে উল্লেখ করছি না। তবে যাদের স্পয়লার এড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে তারা ‘***’ চিহ্নের মাঝের অংশটুকু এড়িয়ে যেতে পারেন। স্টার চিহ্ন শেষ হলে বাকিটুকু স্বাভাবিকভাবেই পড়ে যেতে পারবেন।

 

***যেহেতু এটি একটি হলিউডের মুভি তাই এটা সহজেই অনুমেয় যে এখানে আমেরিকার বিজয় এবং তাদের মহানুভবতার কথাই প্রতিফলিত হবে এবং হয়েছেও তাই! আমেরিকার দেয়া অস্ত্রে আফগান মুজাহিদিনরা সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করে এবং এই হার সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনকে ত্বরান্বিত করে। তবে সিনেমা এখানে এসে শেষ হয়ে গেলেও মূল ঘটনা শুরু হয় এর পরে। আফগান যোদ্ধারা এই অস্ত্র দিয়েই গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পরে এবং গৃহযুদ্ধ শেষে সেখানে শুরু হয় আমেরিকার রাজনৈতিক পরীক্ষাগারে তৈরি এক গিনিপিগ অর্থাৎ তালেবানদের রাজত্ব। যারা পরবর্তীতে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়। এবং সেই তালেবানদের ধ্বংস করার আমেরিকান প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। যেহেতু সিনেমাটি ঐতিহাসিক সত্যি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত তাই এই অতিরিক্ত অংশটুকু আলোচনা করা হয়েছে।***

সত্যিকারের চার্লি উইলস, জোয়েন হেরিং এবং গাস এভ্রাকোতোস

সত্যিকারের চার্লি উইলস, জোয়েন হেরিং এবং গাস এভ্রাকোটোস

 

১০০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মাইক নিকোলস। প্রযোজনা করেছেন গ্যারি গোয়েটজম্যান এবং টম হ্যাংকস নিজে। সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৭.১ এবং রোটেন টম্যাটো রেটিং ৮২%। আমার পার্সোনাল রেটিং ৮।

 

রিভিউয়ের শুরুতে আমি নিজে একটা কথা লিখেছিলাম যেটা সম্ভবত চার্লি উইলসনের কথার সাথে কাকতালীয়ভাবে অনেকটাই মিলে যায়। বাস্তবজীবনের কংগ্রেসম্যান চার্লি উইলসন একটা কথা বলেছিলেন যা অনেকটা এরকম, “These things happened. They were glorious and they changed the world… and then we fucked up the end game.”

 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মুভিটি R রেটিংধারী। তাই সব বয়সের মানুষদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। কিছু অ্যাডাল্ট দৃশ্য থাকায় শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই এটি দেখতে পারবেন।

(Visited 124 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন