Kaun ? (1999) – মাথা নস্ট করা বলিউড মুভি


মুভিঃ কউন? (Kaun?)
মুক্তিঃ ১৯৯৯
জনরাঃ সাইকোলজিকাল থ্রিলার, হরর, মিস্ট্রি
অভিনয়েঃ উর্মিলা মাতোন্ডকার, মনোজ বাজপায়ি, সুশান্ত সিং
ডিরেক্টরঃ রাম গোপাল ভার্মা
আইএমডিবিঃ ৭.৭/১০
পার্সোনাল রেটিংঃ ৮.৩/১০

 

বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রি, এই ইন্ড্রাস্ট্রির যেমন রয়েছে সুখ্যাতি তেমনি রয়েছে কুখ্যাতি। সুখ্যাতি বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হবে তবে আমি সরাসরি কুখ্যাতির কথাই বলি এবং সেটা হলো রোমান্স। বলিউডের সেই আদিকালের মুভি থেকে শুরু করে এখনকার প্রায় সব মুভিই রোমান্টিক। যদিও অনেক ভিন্ন ধারার মুভিও রয়েছে তবে আপনারা ভালো করে লক্ষ্য করবেন এই ভিন্ন ধারার মুভিগুলোতেও রোমান্স এলিমেন্ট থাকে। আবার অনেক ভিন্ন ধারার মুভিগুলা দূর্দান্ত ভাবে শুরু হলেও ওই হতচ্ছাড়া প্রেম কাহিনী সব শেষ করে দেয়। আমার রোমান্টিক মুভি নিয়ে কোন এলার্জি নাই তবে আমাদের দেশের অনেক মানুষ এই রোমান্সের কারণে বলিউডের ওপর ক্ষুব্দ। অনেকের মতে বলিউডে রোমান্টিক মুভি ছাড়া আর মুভিই হয় না। কি আর করার বলেন, ডিরেক্টরতো আর ইচ্ছা করে এইসব মুভি বানায় না। ইন্ডিয়ান দর্শকরাই এইসব মুভি বেশি খায়। তবে এখন যুগ পরিবর্তন হয়েছে। বলিউডের দর্শকদের রুচি পরিবর্তন হয়েছে যেটার প্রমান আমরা আগের বছর পেয়েছি। তো অনেক কথাই বললাম এবার আসি আসল  কথায়।

 

 

 

 

ডিরেক্টর রাম গোপাল ভার্মা এর নাম অনেকে শুনেছেন এবং অনেকে উনাকে চেনেন। নব্বই দশকের শেষে বলিউডে যখন খালি রোমান্টিক ফ্যামিলি ড্রামা টাইপ মুভি হচ্ছিল তখন হঠাৎ এই ডিরেক্টর বানালেন বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গ্যাংস্টার,ক্রাইম, ড্রামা মুভি সত্য (Satya)। সেই সময়ে মুভিটা দারুন হিট হয়েছিল এবং ক্রিটিকালি প্রশংসিত হয়েছিল। এই রাম গোপাল ভার্মা তখন থ্রিলার মুভিকে দিয়েছিল এক অন্য মাত্রা। এই ডিরেক্টরের মতো তখন আর কেউ এমন মুভি বানানোর সাহস পেতো না। তিনি ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম সেরা পরিচালক। তিনি বলিউডে অনেক মাস্টারপিস মুভি বানিয়েছেন যেমন- সত্য, সত্য ২, কোম্পানি, সরকার, সরকার রাজ, রক্ত চরিত্র ইত্যাদি। এছাড়াও সাউথেও তার অনেক মাস্টারপিস মুভি রয়েছে এবং তিনি মুলত সাউথেরই ডিরেক্টর। কিন্তু আফসোস এই ডিরেক্টর এখন আর আগের মতো মুভি বানান না। যতসব গার্বেজ মুভি বানান এখন। বলিউডের ইতিহাসের সবথেকে কুখ্যাত মুভি আগ (Aag) ইনিই পরিচালনা করেছিলেন। উনার থেকে এমন গার্বেজ মুভি চাই না। আশা করি উনি ভালো মুভি বানিয়ে কামব্যাক করবেন।

 

 

 

 

এই রাম গোপাল ভার্মার পরিচালিত মাস্টারপিস মুভিগুলির মধ্যে মোস্ট আন্ডাররেটেড মুভি হলো কউন। বলিউডে যখন রোমান্টিক মুভির মৌসুম তখন এই মুভিটি তিনি বানিয়েছিলেন। সাইকোলজিকাল থ্রিলার জনরার এই মুভিটির আগেও বলিউডে অনেক গুলি থ্রিলার মুভি হয়েছিল। তবে এটা ছিল ওই সব গুলা মুভি থেকে একদম ভিন্ন। এই মুভির গল্প লিখেছিল গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর খ্যাত অনুরাগ ক্যাশ্যপ। তাইলে ভাবুন মুভিটা কেমন। মুভিটিকে বলিউডের শ্রেষ্ঠ সাইলজিকাল থ্রিলার বললে বোধহয় ভুল হবে না। তো চলুন দেখে নেই মুভিটা কেমন ছিল-

 

মুভির প্লট হলো একটি বিলাসবহুল বাড়িতে একটি মেয়ে (উর্মিলা) একা রয়েছে। তার মা-বাবা বাইরে কোথাও গিয়েছে। তাদের বাড়িতে আসতে অনেক দেরি হবে। যেহেতু তাদের মেয়ে বাড়িতে একা তাই তারা মাঝেমধ্যে ফোন করে মেয়ের খবর নিচ্ছে। মেয়েটাও বলছে কোন সমস্যা নেই। বাইরে মুষলধারে বৃস্টি হচ্ছে। মেয়েটা সময় কাটানোর জন্য টিভি দেখতে লাগলো। হঠাৎ একটা খবরে দেখালো যে এক সাইকো কিলার শহরের লোকদের তাদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে খুন করে বেড়াচ্ছে। তাই সবাইকে সাবধান করা হচ্ছে যে কোন অপরিচিত ব্যক্তিকে যেন বাড়িতে না ঢোকানো হয়। মেয়েটা এই খবর দেখে ভয় পেয়ে যায়। হঠাৎ তার মনে হতে থাকে সে ছাড়াও আরো অনেকে আছে এই বাড়িতে। হঠাৎ এক আগুন্তুক ( মনোজ) এর আগমন ঘটে এবং সে মিঃ মালহোত্রা নামে এক লোকের খোজ করে। মেয়েটা বলে যে সে ভুল ঠিকানায় এসেছে এবং তাকে চলে যেতে বলে। কিন্তু সেই লোক কিছুতেই যাবে না। পরে নানারকম কান্ড ঘটিয়ে সে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে। এদিকে মেয়েটা ভয়ে আছে যে এই কি সেই সাইকো কিলার কিনা। কিন্তু পরে আরেক আগুন্তুক (সুশান্ত) এর আগমন ঘটে। মেয়েটা বিপদে পড়ে। এদের মধ্যে কে সেই সাইকো, মেয়েটার পরিণতি কি হয় তা জানার জন্য আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে। মুভির শেষে এমন এক টুইস্ট রয়েছে যা দেখে আপনি শক খেতে বাধ্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

এবার আসি মুভির অন্যান্য অংশে। এই মুভিটা সম্পূর্ণ একটা বাড়ির মধ্যে। মুভির প্রথম অংশে হরর এলিমেন্ট ছিল যেটা একটু হলেও আপনাকে ভয় পাওয়াবে। এরপর বাকি অংশ থ্রিল, টুইস্টে পরিপূর্ণ। মুভির সিনেমাটোগ্রাফি, কালারের কাজ ভালোই ছিল। মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুন ছিল তবে মুভিতে কোন গান নেই। অভিনয়ের কথা যদি বলতে হয় তাহলে প্রত্যেকে তাদের সেরাটা দিয়েছেন। মুভিতে মাত্র ৩ জন অভিনেতা ছাড়া আর কেউ ছিল না। উর্মিলার অভিনয়, এক্সপ্রেশন, ডায়লগ ছিল দেখার মতো। মনোজ বাজপায়িকে নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নাই। আর সুশান্ত সিং তার জায়গায় ভালো অভিনয় করেছেন।

 

 

 

 

মুভির খারাপ দিক চোখে পড়ে নাই। তবে অনেকের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে কারণ এই টাইপের মুভি অনেকের হজম হয় না। রিভিউ এর শুরুতে কিছু মানুষদের কথা বলেছিলাম যারা বলে বলিউডে রোমান্টিক মুভি ছাড়া আর মুভি হয় না। তাদেরকে এই মুভিটা আমি দেখতে বলবো। এই মুভিটাতে কোন রোমান্স এলিমেন্ট নাই। প্রতিটা মূহুর্তই আপনার টেনশনে কাটবে যে কি ঘটবে। যারা অ্যাকশান, রোমান্স মুভি পছন্দ করেন তারা এই মুভি থেকে দূরে থাকুন আর যারা থ্রিলার মুভি ভালোবাসেন তারা এই মুভিটা অবশ্যই দেখবেন। মুভিটা বক্স অফিসে কি করেছিল জানি না তবে এই টাইপের মুভিকে বক্সঅফিস দিয়ে বিচার করা যায় না।
মুভিটার এইসডি প্রিন্ট ইউটিউবে এভেইলেবল। ইউটিউব থেকে নামিয়ে দেখে নিবেন।
Happy Watching

(Visited 424 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. যে মুভি দেখে মাথা নষ্ট হয় সেই মুভি দেখুম না। 😎

  2. Md Rayshad Md Rayshad says:

    হাহাহা! আপনার ইচ্ছা ভাই

  3. অনেক দিন পর মুভি রিভিউ। আগের মত পাইনা কেন?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন