Sarkar (2018) – রাজনীতির এক কালো অধ্যায়

 

 

মুভিঃ সরকার
মুক্তিঃ ২০১৮
অভিনয়েঃ থালাপাথি বিজয়, কীর্তি সুরেশ, ভারালাক্সমি
জনরাঃ পলিটিক্যাল থ্রিলার, অ্যাকশান, ড্রামা
ডিরেক্টরঃ এ.আর. মুরগাদস
আইএমডিবিঃ ৭.৪/১০
পারসোনাল রেটিংঃ ৭.০/১০

 

যেসব দেশে গণতন্ত্র প্রথা চালু আছে সেইসব দেশে নির্বাচন হয়ে থাকে। এই নির্বাচন হয় জনগনের ভোটের মাধ্যমে। জনগনরা তাদের পছন্দের নেতাকে ভোট দেয়। যে অধিক ভোটের অধিকারি হয় সেই জয় লাভ করে। আগেরকার দিনে এই নির্বাচন হতো অত্যন্ত কঠোরতার সাথে এবং নিয়ম কানুন মেনে। কিন্তু বর্তমানে এই নিয়ম কানুন কেউ মানে না। নির্বাচনের সময় জনগনের সাথে বেইমানি করা হয়। কিভাবে করা হয় বলছি- ধরুন আপনি আপনার পছন্দের নেতাকে ভোট দিতে গেছেন। কিন্তু গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট অন্যকেউ দিয়ে দিয়েছে। তখন আপানার কেমন লাগবে? আপনার সাথে বেইমানি করা হলো। আমাদের দেশের নির্বাচনে এই ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু এখানে জনগন আর কিছুই করতে পারে না। তাদের হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। রাজনীতিতে অনেক কিছুই ঘটে থাকে। সাধারণ মানুষরা কেউ সেসব সম্পর্কে জানতে পারে না। সবাই তাদের নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত। যাই হোক, রাজনীতির অনেক খারাপ দিক বা ভালো দিক, এক কথায় রাজনীতি নিয়ে এপর্যন্ত অনেক মুভি নির্মাণ হয়েছে। ইন্ডিয়ায় বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রি, সাউথের ইন্ড্রাস্ট্রি গুলোতেও রাজনীতি নিয়ে বহু মুভি হয়েছে। তবে সাউথের তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে সম্ভবত এই প্রথমবার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে মুভি হলো যেখানে দেখানো হয়েছে  ভোটের প্রয়জনীয়তা, জালিয়াতি করে ভোট দিলে কিভাবে জনগনের ক্ষতি হয় এবং দেশের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। জালিয়াতি করে ভোট দেয়ার ফলে অসাধু নেতারা জয় লাভ করে এবং ক্ষমতার জোরে দেশ এবং দেশের জনগনের ক্ষতি করে। এ যেন আমাদের দেশেরই নির্বাচনের কাহিনী। এরকম কাহিনী নিয়ে মুভি বানানোর জন্য ডিরেক্টরের সাহসের প্রসংশা করতে হয়। এরকম কাহিনী নিয়ে মুভি বানানোর সাহস অন্য কোন ইন্ড্রাস্ট্রির ডিরেক্টর  পায়নি। আমাদের দেশে এই কাহিনী নিয়ে মুভি বানালে সেই ডিরেক্টরকেই গুম করে ফেলা হতো। যে মুভির কথা বলছি সেটা হলো গত বছরের সাউথের সবথেকে আলোচিত এবং সমালোচিত মুভি সরকার। বাংলা সাব রিলিজ হওয়ায় দেখে নিলাম এই ইউনিক কন্সেপ্টের মুভিটা। তো কেমন ছিল এই মুভি-

 

 

 

 

মুভির প্লট সম্পর্কে বলার আগে আমি ডিরেক্টরের ব্যাপারে কিছু বলে নেই। সাউথে যে কয়জন ভালো ডিরেক্টর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ডিরেক্টর হলো এই মুরুগাদস। তিনি স্পাইডার, ৭ আয়ুম আরিভু, স্টালিন, গাজনি এর মতো মুভি পরিচালনা করেছেন। তিনি সবসময় একটু ভিন্ন ধারার মুভি উপহার দেয়ার চেস্টা করেন এবং তার মুভিতে সবসময় সোস্যাল ম্যাসেজ থাকে।  তিনি বিজয়কে নিয়ে এর আগে থুপাক্কি আর কাত্থি মুভি করেছিলেন এবং ২ টি মুভিই ছিল অসাধারন। এবার কাহিনীর ব্যাপারে আসি।

 

 

 

 

মুভির প্লটের খানিকটা ধারনা আমি উপরে দিয়েছি। তবে এখন আরেকটু বলছি- সুন্দর  আমেরিকার GI কোম্পানির CEO। তার আর একটা নাম আছে সেটি হলো কর্পোরেট মনস্টার কারণ তিনি যে দেশেই যান সেই দেশের কোম্পানি গুলোকে শেষ করে দেন। তো ইলেকশনের দিন তিনি ইন্ডিয়া আসেন ৪ ঘন্টার জন্য শুধু তার ভোট দেয়ার জন্য। কিন্তু দেখা যায় যে তার ভোট অন্য কেউ জালিয়াতি করে দিয়ে দিয়েছে। অন্য কেউ হলে হয়তো হতাশ হয়ে চলে যেত কিন্তু সুন্দর তো দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে তার ভোট দিয়েই ছাড়বে। তাই সে আদালতে এই নিয়ে মামলা করে এবং পুনরায় তার ভোট দেয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু বিরোধী দল পড়ে যায় সমস্যায়। শুরু হয় সুন্দর আর বিরোধী দলের দন্দ। এই দন্দের খেলা এবং রাজনীতির অনেক কালো অধ্যায় নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে কাহিনী। আর বললাম না। বাকিটা আপনারা দেখে নিয়েন।
আগেই বলেছি এই মুভির কাহিনী বাংলাদেশের নির্বাচনের সাথে মিলে যায়। তবে আরো অনেক ঘটনা আছে সেটা আপনারা মুভিতে দেখে নিয়েন।

 

 

 

 

মুভির সিনেমাটোগ্রাফি ভালো ছিল। কালারের কাজও ভালো ছিল। অ্যাকশান সিকোয়েন্স গুলাও ভালো। সেইরকম উরাধুরা মারামারি নাই। মুভির মিউজিক ডিরেক্টর ছিল এ.আর. রহমান। উনার মিউজিক কেমন তাতো আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। এই মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো ছিল বিশেষ করে অ্যাকশান দৃশ্যের মিউজিক গুলা আমার ভালো লেগেছে। মুভির গানগুলা আমার তেমন একটা ভালো লাগে নাই।

 

 

 

 

অভিনয়ের কথায় আসি এখন। আমার মতে তামিলে রাজনিকান্তের পর সবথেকে বেশি পপুলারিটি হলো বিজয়ের। তিনি সবসময় তার দূর্দান্ত অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। এই মুভিতেও তার অভিনয়, এক্সপ্রেশন, ডায়লগ ডেলিভারি ছিল দূর্দান্ত। এর আগে বিজয়কে অনেক স্টাইলিস লেগেছিল মেরসাল মুভিতে। তবে এই মুভি দেখার পর আমার মতে এইটাই বিজয়ের ক্যারিয়ারের সবথেকে স্টাইলিস লুক যেটা মেরসালকেও হার মানিয়ে দেয়। কীর্তি সুরেশও ভালো অভিনয় করেছেন। এর আগে মহানতী করে তিনি সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কেমন অভিনয় করেন।  ভিলেন হিসেবে ছিলেন ভারালাক্সমি। আমি এর আগে তার কোন মুভি দেখি নাই তবে  ভিলেন হিসেবে তিনি ভালো অভিনয় করেছেন। এছাড়া অন্যান্য সাইড ক্যারেকটাররাও মোটামুটি ভালো অভিনয় করেছেন।

 

 

 

 

এবার আসি মুভিটার কিছু খারাপ দিক নিয়ে। মুভির স্ক্রিনপ্লে হলো সবথেকে বড় খারাপ দিক। মুভির কন্সেপ্ট দূর্দান্ত হলেও বাজে স্ক্রিনপ্লের কারনে খারাপ লেগেছে। মুভির ফার্স্ট হাফ ভালো হলেও সেকেন্ড হাফে এসে তালগোল পাকিয়ে গেছে। হুটহাট করে অনেক কিছুই ঘটে জায়। সেকেন্ড হাফ দেখে মনে হবে যে ডিরেক্টর যেন তাড়াহুড়া করে মুভি শেষ করে দিতে চাইছেন। সেকেন্ড হাফে তেমন কোন থ্রিল, টুইস্ট নাই। তবে আমি শুনেছিলাম যে মুরুগাদসকে নাকি এই মুভি নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। পরে নাকি মুভি থেকে অনেক সিন কেটে দেয়া হয়। তাই হয়ত সেকেন্ড হাফ একটু খারাপ হয়ে গেছে। এরপর আসি কীর্তি সুরেশের ব্যাপারে। এই মুভিতে কীর্তি সুরেশের কোন গুরুত্বই নাই। একদম শোপিস। মহানতি মুভির পর তাকে এইরকম ক্যারেকটারে মানায় না। মহানতির পর কীর্তি একটা গার্বেজ মুভি করেছিল নাম স্যামি স্কোয়ার যেটা আমার ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিয়েছিল৷ ভবিষ্যতে আমি তার কাছ থেকে এরকম শোপিস ক্যারেকটার চাই না। এরপর আসি ভিলেন ভারালাক্সমির ব্যাপারে। আমার মনে হয়েছে ভারালাক্সমি আর বিজয়ের খেলাটা তেমন জমেনি। এমনিতেই সে অনেক কম স্ক্রিন টাইম পেয়েছে। বিজয় আর তার খেলা শুরু হতে হতে মুভি শেষ! আমার কাছে মুরুগার কাত্থি মুভির ভিলেনের পর এই মুভির ভিলেনকেই সবথেকে দূর্বল মনে হয়েছে। মুরুগা তার বেশিরভাগ মুভিতে নায়কের থেকে ভিলেনকে হাইলাইট বেশি করে তবে এইবার বিজয়কেই বেশি হাইলাইট করেছে। আর মুভির এন্ডিংটাও দেখে মনে হলো যেন তাড়াহুড়ায় শেষ করছে।

 

 

 

 

ওভারঅল মুভিটা আমার কাছে মোটমুটি ভালোই লাগছে। আমার কাছে মুভিটা এনজয়বল লেগেছে। মুভিতে বেশকিছু সোস্যাল ম্যাসেজ রয়েছে যেগুলা আমার ভালো লেগেছে এবং আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে।  মুভিটার অনেকজায়গায় আরো ভালো করা যেতো। সেকেন্ড হাফে দূর্বলতা না থাকলে মুভিটা নিঃসন্দেহে মাস্টারপিস হতো। যাই হোক, যারা হাইএসপেক্টেশন নিয়ে দেখতে বসবেন তারা একটু হতাশ হবেন আর যারা শুধু এনজয় করার জন্য এবং বিজয়ের জন্য মুভিটা দেখবেন তারা মোটেও হতাশ হবেন না।

 

মুভিটার বাংলা সাব করেছেন Sh Ananneya Adnভাই। উনার সাবের মান যথেস্ট ভালো ছিল। এতোসুন্দর সাব উপহার দেয়ার জন্য উনাকে ধন্যবাদ জানাই।
Happy Watching

Error: No API key provided.

(Visited 693 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. বাংলা বা ইংরাজী সাবটাইটেল সহ কোথায় দেখা যাবে এ ছবি?

  2. Md Rayshad Md Rayshad says:

    কেন? আপনার ফোন বা কম্পিউটারে দেখতে পারবেন।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন