বাড়ি থেকে পালিয়ে – ঋত্বিক ঘটকের ছোটদের সিনেমা

 

শিবরাম চক্রবর্তীর গল্প আর ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনা । ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমায় দেখা যায় বাবার কড়া শাসনের কারণে  গ্রামের দস্যি ছেলে কাঞ্চনের বাড়ি থেকে পালিয়ে শহর কলকাতা দেখা আর নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন । সবশেষে নিজ গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে এসে বাপের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে বলা “বাড়ি সবচেয়ে ভাল বাবা, বাড়ি সবচেয়ে ভাল ” ।

কাঞ্চন মায়ের আদরে আর বাবার শাসনে বড় হওয়া এক দস্যি ছেলে । সে তার মাকে বড্ড ভালবাসে । তার মায়ের যে শখগুলো বাবা পূরণ করে না সে  শখগুলো পূরণ করাই তার ইচ্ছা । বাবার শাস্তি থেকে বাচার জন্য আর মায়ের ইচ্ছেগুলো পুরনের জন্য সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা যায় । সে জানত কলকাতা খুব সুন্দর শহর । সেখানে কোন দুঃখ নেই । সেখানে কোন দুঃখ নেই । সেখানে তাকে কেউ বকা দেবে না । সে রোজগার করতে পারবে । প্রথম প্রথম বেশ মজায় মজায় কাটে তার । সে দেখা পায় এক চানাচুরওয়ালার । তার সাথে সময় কাটায় । তার এক মেয়ে বন্ধু, এক মাসি ও জুটে যায় ।  রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় । বিনে পয়সায় খাবার খায় । রাস্তার বড় বড় গাড়ি, বড় বড় দালান কোঠা, নদিতে বড় বড় জাহাজ । সবই তার ভাল লাগে । তার ইচ্ছা বড় হয়ে সে ওই জাহাজে চরে বিলেত যাবে । তার দুচোখে অনেক স্বপ্ন ।  সে তার মায়ের জন্য গয়না কিনবে । উপহার নিয়ে সে বাড়িতে যাবে । কিন্তু বাড়িতেতো বাবা আছে । তাকে পেলেই মারবে । তাই দাক পিওনের বেশে যাবে ।

ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে এই শহরেও দুঃখ আছে । চানাচুরওয়ালা হরিদাস তাকে বাড়ি ফেরার জন্য বোঝায় । তার বাবাও ভুল বুঝতে পারে ।

ইউটিউব দেখেছি । ভাল প্রিন্ট পাইনি । তবে সাদাকালো বলে একদম খারাপ প্রিন্ট না ।

সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি সেই সময়ের থেকে এগিয়ে । সাদাকালো সিনেমা ও প্রিন্ট খারাপ বলে এই সিনেমাটোগ্রাফি তেমন একটা উপভোগ্ নাও করতে পারেন ।  সিনেমায় দৃশের সাথে বাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার অসাধারণ । সিনেমায় স্থান, কাল,পাত্র অনেক বেশি বাস্তব । হোটেলের ভিতরের চায়ের আড্ডা, কয়লা চুরির সিন্ডিকেট, নিম্নশ্রেণীর মানুষের জীবনযাপন সবই অনেক বেশি বাস্তবের মত মনে হয় ।

সবচেয়ে ভাল লেগেছে কাঞ্চন চরিত্রে শ্রীমান পরমভট্টাকর   এর অভিনয় । কাঞ্চনের চরিত্রকে অনেক বেশি জিবন্ত করতে পেরেছে সে ।

এ সিনেমা দেখতে মাথা খাটাতে হয় না । অন্তনিরহিত বার্তা রয়েছে এবং তা সহজেই বোঝা যায় । দারুণ উপভোগ্য সিনেমা ।

(Visited 73 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন