মুভি রিভিউঃ Cinema Paradiso (1988)

Cinema Paradiso (1988 )
IMDB Rating 8.5, (74th Position of Top 250 Movies)
Rotten Tomatoes: 96% (Audience) & 89% (Critics)

www.imdb.com/title/tt0095765
www.rottentomatoes.com/m/cinema_paradiso

cinema-paradisoএই মুভিটা নিয়ে রিভিউ দেয়ার মত ভাষা আমার জানা নাই। এমন শৈল্পিক একটা ছবি যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মুভির প্রতি ভালোবাসাই এই ছবির মূল বিষয় তাই ব্লগে এই ছবিটি নিয়ে পোস্ট না থাকাটা অন্যায়, তাই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

এই ছবিতে এমন কিছু ঘটনা দেখানো হয়েছে যা হয়তো সারাবিশ্বের মুভি লাভারদের সাথে মিলে যাবে। এই আধুনিক যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশনের মত মুভি দেখার নানা মাধ্যম আছে, কিন্তু অতীতে এমন ছিল না, তখন সিনেমা হলে গিয়েই ছবি দেখতে হত এবং বিনোদনের প্রধান মাধ্যমই ছিল সিনেমা হলে মুভি দেখা।

আমার মত যাদের আশির দশকের একেবারে শুরুতে জন্ম, তাঁরা হয়তো পুরনো স্মৃতি ঘাঁটলেই মনে করতে পারবেন যে হলে গিয়ে ছবি দেখা আমাদের দেশের সব শ্রেণীর মানুষের জন্য কতটা আনন্দদায়ক ছিল। আমার দুই-তিন বছর বয়সের স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল, তখন হাতে গোনা দু-চারটি বাড়িতে সাদাকালো টেলিভিশন এসেছে। যাদের বাসায় টিভি ছিল বিকেলে মহল্লার সবাই দল বেঁধে সেই বাড়িতে টিভি দেখতে যেত। আর শুক্রবার সহ অন্যান্য ছুটির দিনে সিনেমা হলে যাওয়া ছিল অলিখিত নিয়ম। স্কুল কলেজের ছাত্ররা স্কুল পালিয়ে বাংলা সিনেমা দেখতে যেত। এই মুভিটি দেখে সেই পুরনো দিনগুলোর মনে পড়ে গিয়েছিল। আর ছবিটিতে যেসব দর্শককে দেখানো হয়েছে তাদের কিছু বিষয় বাংলাদেশের দর্শকদের মতই বলা যায়, যেমন কোন দৃশ্য কেটে দিলে সবাই একসাথে চিৎকার করা, সিনেমার দৃশ্যের সাথে সাথে দর্শকের মুখের ভাবের পরিবর্তন, হাসির দৃশ্যে সবাই হাসছে, কান্নার দৃশ্যে তেমনি সবার চোখে জল। কেউ আবার ছবি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছে হলের ভেতরে।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, Cinema Paradiso পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত ইতালিয়ান পরিচালক Giuseppe Tornatore, মুভির শুরুতে দেখা যায় Salvatore নামে একজন সফল ফিল্মমেকার তার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করছেন। মূল চরিত্র Salvatore ওরফে ‘Totò’ একটি ছয় বছর বয়সী বালক, যার ধ্যানজ্ঞান সবই সিনেমা কেন্দ্রিক। এমন সিনেমা পাগল যে তার মা দুধ কিনতে যে টাকা দেয় সে সেই টাকা দিয়ে সিনেমা দেখে মায়ের হাতের পিটুনি খায় 😎  শুধু সিনেমা দেখেই তার ইচ্ছাপূরণ হয়না, তার ইচ্ছা কিভাবে একটি পর্দায় আলো ফেলে ছবি দেখানো হয় তা সম্পর্কে জানা। এভাবেই একদিন সিনেমা হলের প্রজেকশনিস্ট আলফ্রেডোর সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, যদিও তাদের বয়সের পার্থক্য অনেক। আলফ্রেডোর কাছে সে ছবি প্রদর্শনের কাজ শিখতে থাকে।

একদিন দুর্ঘটনায় আলফ্রেডোর চোখ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু হল চালু রাখতে বিকল্প কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেই বালককেই দায়িত্ব নিতে হয়। এভাবেই চলছিল, এরপরে কিশোর বয়সে সে তার ভালোবাসার মানুষের দেখা পায়, এরপরে বিচ্ছেদ এবং তারপরে? তারপরের ঘটনা জানতে মুভিটি অবশ্যই দেখবেন। এই ক্লাসিক মুভিটি না দেখা মানে নিজেকে সুন্দর কিছু অনুভূতি থেকে বঞ্চিত করা। ছবিতে এমন কিছু দৃশ্য আছে যাতে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে হয়, আবার যারা মুভি দেখে কাঁদতে চান তাদেরও উচিৎ ছবিটি দেখা।

মুভিটির 720p BRrip ডাউনলোড লিংকঃ

টরেন্টঃ http://thepiratebay.se/torrent/6741463/ (697 MB)

(Visited 79 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    পড়তে পড়তে হঠাৎ দেখি লেখা শেষ। 🙁 যাই হোক ভালো লাগল রিভিউ পড়ে। দেখতেই হবে মনে হচ্ছে মুভিটা। ধন্যবাদ আপনার রিভিউয়ের জন্য।

  2. আইম্যান আইম্যান says:

    মাজেদ ভাই কিন্তু দুর্দান্ত লেখেন 🙂 … আমিও এখনো মুভিটা দেখিনাই। দেখে নিব তাড়াতাড়ি 🙂

  3. মুভিটা এত ভালো লাগছে যে বলার মতো না… খুবই চমৎকার মুভি। লেখা তো দুর্দান্ত… যারা দেখেন নাই, তারা বড় কিছু মিস করে বসে আছেন

  4. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    আইয়াআআআআআআ :p মেলাদিন পরে গুরুর পোস্ট পড়লাম। 😀

  5. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    লেখা পড়ে আমি মুভি খুবই কমই নামিয়েছি জীবনে। লেখা অনেক ভাল লাগলেও নামানো হয় না। আপনার লেখা শেষ করেই ডাউনলোড শুরু করলাম… 🙂

    • অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার কথা হচ্ছে যাদের জন্য লিখি তারা যদি লেখা পড়ে নাই দেখে তবে লেখার কোন সার্থকতা নাই। জেনে ভালো লাগলো যে একজন অন্তত পড়ার সাথে সাথেই ডাউনলোড দিল 🙂

  6. রীতিমত লিয়া says:

    সবার কথা শুনে মনে হচ্ছে না দেখে ভুল করছি। মুভিটা ছিল। কৈ জানি রাখছি। খুঁজে দেখতে হবে। রিভিউ চমত্‍কার 😀

  7. ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

    কতকাল পরে মাজেদ ভাই রিভিউ লিখলেন… আহা … 🙁 স্পীচলেস মুভির উপর লেখাটা স্পিচলেস হতে হতে হঠাৎ আমারেই স্পীচলেস বানায়া দিল। এতো চমৎকার লেখাটা হঠাৎ কোন সিগনাল না দিয়ে শেষ করে দেবার জন্য মাজেদ ভাইয়ের ফাঁসি চাই 🙂 … তবে তার আগে লেখালেখিতে ফিরে আসার জন্য গোলাপ নেন ভাই… 😛 😛

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন