Cinematography: শট ও এঙ্গেল নিয়ে কিছু টিপস

 

 

তো, আপনি এখন সিনেমাটোগ্রাফীর বেসিক জানেন। আপনি জানেন কি কি শট আছে আর কি কি এংগেলে টা নেয়া যায়। তারপরেও আপনি খেয়াল করে দেখলেন যে আপনার টেক গুলো কেমন যেনো ভিডিও ভিডিও লাগে। মানে, হাই বাজেটের সিনেমায় যে শট গুলো দেখেন, আপনার গুলো তার থেকে অনেক অনেক পিছনে।

 

আমি সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি, সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে যখন শট নিবেন তখন আপনার কি কি করা উচিত। আপনার উচিত হবে এঙ্গেল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা। এমন কিছু এঙ্গেল থেকে শট নেয়া যা আগে কখনো নেয়া হয় নি। বা, খুব কম ব্যাবহৃত হয়েছে। এতে হয়তো আপনার শট হলিউডের মত হয়ে যাবেনা কিন্তু আপনি একটা সিনেমাটিক লুক পাবেন।

 

যখন কোন নাটক বা সিনেমা দেখবেন তখন খেয়াল করে দেখবেন শট গুলো কিভাবে নেয়া হয়েছে। তাদের কাজ গুলো স্টাডি করবেন। অনেক কিছু শিখা যায় অন্যের কাজ দেখে। মুভি শুধু টাইম পাস করার জন্য দেখবেন না।

 

১… টপ শট নেয়ার চেষ্টা করুনঃ বার্ড’স আই বা টপ ভিউ হলো এমন একটা ভিউ যেটাতে আমরা সাধারনত অভ্যস্ত না। তাই যখন আমরা উপর থেকে নেয়া কোন টপ শট দেখি, তখন সেটা আমাদের আগ্রহী করে তোলে। চেষ্টা করুন মই ব্যাবহার করতে। আপনি একটা চেয়ার বা টেবিলের উপর উঠেও শট নিতে পারেন। ধরুন, একটা প্যান এ কিছু ভাজা হচ্ছে। আপনি ঠিক প্যানের উপর থেকে কি ভাজা হচ্ছে সেটার শট নিন।

 

২… লো এঙ্গেল ব্যাবহার করুনঃ এমন কিছু যায়গা থেকে শট নিন যেটা আগে চেষ্টা করা হয়নি। সোফার নিচ থেকে নিন। একটা বাচ্চার চোখ থেকে যে এঙ্গেলে বড় দের দেখে সেখান থেকে নিন। ড্রেসিং টেবিল থেকে শট নিন। জুতা থেকে নিন। মানে, সেই লেভেল থেকে শট নিন

 

৩… প্রতি শটেই আনুভুমিক (horizontal) লেভেল রাখার চিন্তা বাদ দিন। আপনার ক্যামেরা যে সোজা করে ধরে রাখতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু, প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার শটের ডিমান্ড কি।

 

৪… মোশন আনুন। ক্যামেরা স্টিল রাখবেন না। মুভ করান। তার মানে এই না যে আপনি হাতে ক্যামেরা ধরে একটা কনভার্সেশনের মধ্যে ক্রমান্বয়ে মুভিং শট নিবেন। আগে স্ক্রিপ্ট স্টাডি করুন। তারপর দেখুন, এই শটে মোশন আনলে কেমন হবে। তারপর মোশন আনুন। ডলির উপর ক্যামেরা বসাতে পারে, স্কেটবোর্ড এর উপর ক্যামেরা বসাতে পারেন বা আপনি নিজেই উঠতে পারেন, গাড়ির সিটে মাউন্ট করতে পারেন, ফ্রীজের দরজায় লাগাতে পারেন কিনা দেখুন।

 

৫… ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শট নিন। ডাইনিং টেবিলে ৪/৫ জন বসে খাবার খাচ্ছে আর গল্প করছে – এই শট টা আপনি ওভার দা শোল্ডার, ক্লোজ, মিড, ওয়াইড শটে নিতে পারবেন। ট্রাইপড এর উপর ক্যামেরা বসিয়ে শুধু রেকর্ড বাটিন চাপ দিয়ে অন/অফ করেই ৫ মিনিটের একটা সিকোয়েন্স কাভার করতে পারেন। কিন্তু, আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে একটা ডলির উপর উঠে বা জিব আর্ম ইউজ করে শটে মোশন আনা।

 

৬…যাই করুন না কেনো ক্যামেরা স্থির রাখবেন। কারন ছাড়া স্ক্রিন ঝাকুনি খেলে চরম বিরক্ত লাগে। ক্যামেরা স্থির রাখার জন্য যদি শট স্যাক্রিফাইস করতে হয় তাহলে তাই করা উচিত। বাজে ভাবে নেয়া এরিয়েল শট থেকে সুন্দর ভাবে নেয়া একটা লং শট অনেক ভালো।

 

৭… ক্রেন ব্যবহার করুন। দামী ক্রেন ব্যবহার না করতে পারলে কম দামী ক্রেন ব্যাবহার করুন। এফডিসি থেকে ক্রেন ভাড়া নিতে গেলে আপনার খরচ পড়বে একবেলার জন্য ২৫০০ টাকা। আপনি যদি পিক-আপ দিয়ে নিয়ে আসেন তাহলে পিক-আপের খরচ আপনার। ওরা পিক-আপ দিলে সেটার জন্য আরো দুই হাজার টাকা লাগবে।

 

৮… পয়েন্ট অফ ভিউ শট নিন। কিন্তু বেশী বেশী পয়েন্ট অফ ভিউ নিবেন না। প্রতি সিকোয়েন্সে একটা পয়েন্ট অফ ভিউ শট রাখার চেষ্টা করতে পারেন।

 

এই হলো মোটামুটি ৮ টা পয়েন যেগুলো আপনি একজন সিনেমাটগ্রাফার হিসেবে মাথায় রাখবেন। আপনি যদি ডিরেক্টর হয়ে নিজেই ক্যামেরা চালান, তাহলেও এসব ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত। মনে রাখবেন, পুরোনো জিনিস দেখতে দেখতে আমাদের চোখ পচে গেছে। আপনি যদি নতুন কিছু দিতে না পারেন তাহলে হয় আপনার জিনিস দেখবোনা, আর নয়তো দেখেও গুরুত্ব দিবোনা। So, Be Creative.

 

*লেখাটি ভিডিও মেকারে প্রকাশিত কাইল স্যাসিডির লেখা থেকে ধার করা।

 

মাহদী হাসান [শামীম]
ফ্রীল্যান্স ফিল্মমেকার।
সিনেমাপিপলস 
 

(Visited 88 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন