Make Your Step Today – মেকিং ও কিছু কথা

Make Your Step Today নির্মাণের পূর্বে আমরা আরো দুটো শর্ট ভিডিও নির্মান করি মোশন ভাস্করের পক্ষ থেকে। প্রথমটি হচ্ছে – Sanatarium (ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক) এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে – Token Of Love (বিশ্বকাপ ২০১৪ তে হন্ডুরাসকে সাপোর্ট করে নির্মিত)

Make Your Step Today মূলত ইভ টিজিং প্রতিহত করার ব্যাপারে ছেলেদের পজিটিভ ও সামনে এগিয়ে আসার অ্যাটিচুডকে হাইলাইট করা নির্মিত। এই ভিডিওর কন্সেপ্ট দিয়েছেন ভিকি জাহেদ। আমাদের মূল টার্গেট ছিলো একেবারে সিম্পলভাবে আমরা প্রেজেন্ট করবো কিভাবে একটা স্টেপ এগিয়ে আসলেই আমরা ইভ টিজিংকে প্রতিহত করতে পারি। তো, আমরা প্রথমে আমাদের সব টিম মেম্বারকে কয়েকদিন সময় দেই এই ইস্যু নিয়ে ভাবার এবং কন্সেপ্ট জমা দেবার জন্য। আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া দিয়ে দেই, যেমনঃ

* ১ মিনিটেরও কম সময়ের মাঝে দেখানো যেতে হবে
* লোকেশন কম রাখতে হবে (ম্যাক্সিমাম ২টা)
* চরিত্র যতো কম রাখা যায়
* নো ডায়ালগ
* এমন কোনো শট বা সীন রাখা যাবেনা যেটা শুট করতে আমাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে
* সহজ কোনো স্টেপ নিবে প্রোটাগনিস্ট যেটা দেখে দর্শক বলবে – ‘বাহ! এটাতো আমিও পারি’

কয়েকদিন পর আমরা জমাকৃত কন্সেপ্টগুলো নিয়ে বসি এবং ভিকির কন্সেপ্ট ক্রাইটেরিয়াগুলো ফিলাপ করায় সেটা নিয়ে কাজ করা হয়। উল্লেখ্য, নির্মাণের পর লক্ষ্য করা যায় যে একই কন্সেপ্ট নিয়ে আগেও একটা ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে ইন্ডিয়ায়। আমরা তাই আমাদের ইয়ুটিউব চ্যানেলে সেটার নির্মাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

এই কন্সেপ্ট এর সাথে আমরা হন্ডুরাস এর কন্সেপ্ট নিয়েও আলোচনা করেছিলাম। অর্থাৎ দুটো কাজই আমরা একই সাথে শুরু করি। হন্ডুরাস ভিকি ডিরেকশন দেয়ায় আমি ইভ টিজিং ডিরেকশন দেই। তবে আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার একই ব্যাক্তি ছিলো – বিদ্রোহী দীপন

আমরা কিছু ব্যাপার ঠিক করি যেগুলোর উপর আমরা জোর দিবো।

১… কাস্টিং
২… লোকেশন
৩… চুজিং অফ শট
৪… মিউজিক (যদিও আমাদের হাতে অপশন কম ছিলো)

ভিকির কাছ থেকে কনসেপ্ট বুঝে পাওয়ার পর আমি আর দীপন সেটা নিয়ে আলোচনা করি। প্রথমেই আসে কাস্টিং কেমন হবে। ভিকির আইডিয়া ছিলো ইভ টিজার এবং যে স্টেপ নিবে। এই দুইজন একই ধরনের ব্যক্তি হতে হবে। অর্থাৎ, দুজনকে দেখেই যেনো আলাদা না করা যায়। আমরা যখন ইভ টিজার হিসেবে কাউকে চিন্তা করি, তখন আমাদের মাথায় প্রি-ডিটারমাইন্ড একটা ইমেজ ভেসে উঠে। ভিকি দেখাতে চেয়েছিলো, দেখতে খুব সাধারন একজন ব্যক্তিও ইভ টিজার হতে পারে। আমি সেই আইডিয়া মেনে নেই। তবে আমার মাথায় এটাও থাকে যে একেবারে ভদ্র ছেলেও দেখাবোনা আমরা। এবং এমন একজনকে আমাদের দরকার ছিলো যার অভিনয় দূর্দান্ত। প্রথমেই যার কথা মাথায় আসে সে হচ্ছে প্রাচ্যনাটের হাসনাত রিপন। কাস্টিং এ আমাদের আরো দুজনের প্রয়োজন পড়ে। মেয়ে হিসেবে প্রথমে সোনার হরিণের অন্তরা অর্থীর কথা মাথায় আসলেও পরে লোকনাট্যদলের প্রিয়াঙ্কাকে কাস্ট করা হয়। আর হ্যাঁ, স্টেপ ও প্রোডাক্ট শটের জন্য আমরা চুজ করি লোকনাট্যদলের মেম্বার ও প্রয়াত তারেক মাসুদের রানওয়ে সিনেমার প্রোটাগনিস্ট ফজলুল হক

লোকেশন একটা। বাস স্ট্যান্ড। প্রীতমইকবাল কয়েকটি লোকেশন দেখে আমাকে ছবি পাঠায় ও বর্ননা দেয়। আমি প্রথম চুজ করি আজিমপুরের দিকে মেইন রোডের সাথে লাগোয়া একটা বাসস্ট্যান্ড। আমরা সবাই মোশন ভাস্করের অফিসে মিলিত হয়ে সেখানে রিহার্স্যাল করি। এরপর যখন লোকেশনে গিয়ে পৌছাই তখন হাসনাত রিপন আমাদের আরেকটি লোকেশনের কথা বলে যেটি কিনা রিপন আসার পথে দেখে এসেছে। এয়ারপোর্ট থেকে উত্তরা জসিমউদ্দীন রোডের ঠিক পূর্বে একটা বাসস্ট্যামড আছে যেখানে প্রায় সময় খালি থাকে। আমাকে রিপন মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে যায় আর প্রথম দেখাতে দুটো কারনে সেটা পছন্দ হয়। একঃ জায়গাটা নিরিবিলি কিন্তু মেইনরোডের পাশে হওয়ায় ব্যস্ততম শহর ও বুঝানো যাবে। দুইঃ বাইরে কড়া রোদ থাকা স্বত্বেও গাছের কারনে বাসস্ট্যান্ড ও আশে পাশের জায়গা ছায়ায় ঢাকা যেটা আমাদের চমৎকার পিকচার দিবে।

শট চুজিং এর ক্ষেত্রে আমি একটা ব্যাপার দীপনকে পরিষ্কার বলে দিয়েছিলাম – আমরা কোমড়ের নীচে নামবোনা। অর্থাৎ, এমন শট নিবোনা যেটায় কোমড়ের নীচের অংশটুকু হাইলাইট করে থাকে। টিমের কেউ কেউ বলেছিলো যে স্টেপ নেয়ার সময় ইন্সার্টে পায়ের ক্লোজ দেখাতে, এবং হ্যাঁ এটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমার মনে হয়েছিলো পায়ের শট নেয়াটা হবে ক্লিশে বা খুবই কমন। আমরা বরং পায়ের না দেখিয়ে অ্যাক্টরদের চোখ দেখাই না কেনো! আমাদের হাতে দুইজন বেশ ভালো অ্যাক্টর রয়েছে। দীপন আমাকে জানালো ও পুরোটা শুট করবে টেলি লেন্সে। কেনো জানতে চাইলে বললো, ও দর্শকদের অব্জার্ভেশনের একটা ফীল দিতে চায়। অর্থাৎ, দর্শক যেনো মনে করে তারা পুরো ব্যাপারটি অব্জার্ভ করতেছে। আমি বললাম – তথাস্থু। উল্লেখ্য, একেবারে লাস্ট এ প্রোডাক্ট শট এর ব্যাপারটাও দীপনের মাথা থেকে আসে যদিও আমি সেটাকে হালকা কাস্টমাইজ করি।

আমরা মোট সাড়ে ৩ ঘন্টা শুট করি। এর মাঝে দীপন বেশ কিছু স্ক্রিপ্টের বাইরে শুট করে যার মাঝে একটা শট আমরা ভিডিওতে ব্যবহার করি (দুজন পিচ্চি হেটে যাওয়ার দৃশ্য)… 

এডিটিং প্যানেলে বসে আমি ফটাফট কেটে ফেলি। যেহেতু আমি ডিরেকশন দিয়েছিলাম, এটা আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিলো। এডিটিং এর সময় আমি লক্ষ্য রেখেছিলাম ঘটনা যেনো স্লো না হয়ে পড়ে। আর ভিকির কন্সেপ্টের প্রথম বিষয়টা আমাকে মাথায় রাখতে হয়েছিলো শুটিং ও এডিটিং এর সময় – দর্শক যেনো প্রথমে ভুল বুঝে। অর্থাৎ, তারা যেনো মনে করে মেয়েটাকে নয়, ছেলেটাকে টিজিং করছেন টিজার। এবং এটাই মুলত ভিডিও এর প্রাথমিক প্রধান আকর্ষন। আর শেষের আকর্ষন হচ্ছে – ফজলুর এক পা সামনে এগিয়ে এসে মেয়েটাকে ঢেকে দেয়া এবং প্রোডাক্ট শট। ওয়েল, কাটাকুটি করতে খুব বেশি সময় না লাগলেও মিউজিকে গিয়ে আটকে যাই। 

মিউজিক নিয়ে অনেক ভেবেও আসলে বুঝতেছিলাম না কেমন মিউজিক হতে পারে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকারদের কিছু ভরসার জায়গা আছে, সেখানে ঘাটাঘাটি করেও লাভ হলোনা। মিউজিক এর সময় একেকজন একেকরকম পরামর্শ দিতে লাগলো। কিন্তু কোনটাই পছন্দ হচ্ছিলোনা। এডিটিং এর সময়েই দীপনের কালেকশনে কিছু মিউজিক বের হলো। আমি আমার পুরোনো কিন্তু কার্যকরী মেথড চালানো শুরু করলাম। দীপনের হার্ডডিস্ক থেকে একটা করে ট্র্যাক র‍্যান্ডমলি চুজ করা শুরু করলাম, সেটা প্লে করে ৩ বার টেনে কয়েক সেকেন্ড করে শুনলাম। ২ বার টেনে যাওয়ার পরেও যখন সেই ট্র্যাকটি ভালো না লাগে এবং ভিডিও এর সাথে যাচ্ছেনা বলে মনে হয়, তখন আরেকটা ট্র্যাক চুজ করি। এমন করে প্রায় ১০/১২টা ট্র্যাক শোনার পর হঠাত করে একটা ট্র্যাক মনে ধরলো। ব্যাস, ফোল্ডার থেকে টেনে প্রোজেক্টে নিয়ে এসে টাইমলাইনে বসিয়ে দেই। এরপরেরটুকু ইতিহাস। আহেম। ঠিক ইতিহাস না। এখানে ঘটনা আছে। যে ট্র্যাকটা আমরা চুজ করেছিলাম সেটা ছবিয়ালের অনেক নাটকে ইতিপূর্বে ব্যবহ্রত হয়েছে। তাই আমি অর্নবকে দায়িত্ব দিলাম মিউজিকটিকে একটু নাদুস নুদুস করার জন্য যেনো পাব্লিক মজা করে খায়। এবং ফলাফল আপনাদের কানে। 

আর এভাবেই আমরা নির্মান করি Make Your Step Today (উল্লেখ্য, এই স্লোগানটি আমার দেয়া। পরে টেলকোসিসের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর সেটার নাম পরিবর্তন করে Take A Step Today রাখা হয়)… খুব শীগ্রই টেক্সট আর্টিকেলের পরিবর্তে মোশন ভাস্করের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের পরবর্তী কাজ এবং টিপস ও ট্রিক্স নিয়ে ছোট ছোট ভিডিও বের করবো। আপনারা আমাদের চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন। আমাদের ইয়ুটিউব চ্যানেলের ঠিকানা – https://www.youtube.com/motionvaskor/

সবাইকে ধন্যবাদ। 

(Visited 48 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    দারুন কাজের ধরন। সুন্দর করে বুঝিয়ে লিক্ষেছেন তাই পড়ে ভালো লাগল। পরবর্তী কাজের জন্য শুভ কামনা। 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন