Wind River(2017):- জেরেমি রেনার খুব স্বাভাবিক ভঙ্গীতে কথাটি বল্লেও এর পেছনে লুকিয়ে অনেক বিষাদ, বেদনার গল্প।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
” Wind River ” (2017)
– Luck doesn’t live here,
Luck lives in city !!!
জেরেমি রেনার খুব স্বাভাবিক ভঙ্গীতে কথাটি বল্লেও এর পেছনে লুকিয়ে অনেক বিষাদ, বেদনার গল্প।
– বছরের পুরোটা সময়ই বরফে নিমজ্জিত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েমিং স্টেটের ন্যাটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশন ” উইন্ড রিভার “। টেম্পারেচার বলতে গেলে জিরো।
বরফে আচ্ছাদিত অবস্থায় মিলে এক তরুণীর লাশ। একদম ফ্রোজেন অবস্থায়। গায়ে শীতবস্ত্র থাকলেও পা একদম খালি। লাশটা প্রথম নজরে আসে ভ্যাটেরান ট্র‍্যাকার করি ল্যাম্বার্ট এর। কেসের তদন্ত করতে আসে সদ্য এফবিআই এজেন্ট হিসেবে জয়েন করা জেইন। ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী,  শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঁচড় আর সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স অ্যাক্ট এর হদিস মেলে কিন্তু অনেক সময় ধরে বরফে থাকার ফলে হৃদপিন্ড থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, তাই ডাক্তার এটিকে পুরোপুরি  মার্ডার হিসেবে শনাক্ত করতে অপরাগ সেহেতু অতিরিক্ত পুলিশ ও আর আনা সম্ভব নয়, পুরো কেসের দায়িত্ব জেইন এর। বরফ নিমজ্জিত এ অঞ্চল ট্র‍্যাকার করির মতো কেউ চিনে না। জেইন এর অনুরোধে কেসে সাহায্য করতে রাজি হয় ‘করি’ তবে এ রাজি হওয়ার পেছনে পূর্ববর্তী এক ঘটনা জড়িয়ে আছে !
– আর দশটা ক্রাইম, মিস্ট্রি, থ্রিলার ঘেষা গল্প মনে হলেও পুরোপুরি তা নয়। হ্যাঁ, ক্রাইম মিস্ট্রি থ্রিল তো আছেই তবে গল্পে মূলত সারাবছর বরফাচ্ছন্ন এই উইন্ড রিভার রিজার্ভেশন এর প্রতিকূল অবস্থা, এখানকার আদিবাসীদের প্রতিকূলতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সারা দুনিয়া থেকে এক রকম বিচ্ছিন্ন তারা।
এখানকার মানুষের জীবন ৩ ” এস ” (S) এ বন্দি। Snow, Struggle, Survive….
এর পাশাপাশি করি ল্যাম্বার্ট এর পরিবারের উপর নেমে আসা সেই ঝড়, যা তাদের বিচ্ছিন্ন করেছে, ল্যাম্বার্ট এর মানসিক টানাপোড়ন এর গল্প ও ফুটে উঠেছে।
– এ গল্প ফিকশনাল নয়, ন্যাটিভ আমেরিকান এমন হাজারো মেয়ের রেপড হয়ে অতলে হারিয়ে যাওয়ার গল্পকে সিনেমার পর্দায় নির্মম বাস্তবতার সহিত তুলে ধরেছেন পরিচালক- Taylor Sheridan…..
এ সিনেমার পরিচালনার পাশাপাশি গল্পটাও তার লেখা।
Sicario, Hell or High Water এ দুটো সিনেমার গল্পও তার লেখা। এ দুটো সিনেমার কথা বলছি কারণ, এ ৩টা সিনেমার গল্প যদি দেখেন তাহলে একটা মিল পাওয়া যায়। টেইলর শেরিডান মূলত তার গল্পগুলোতে প্রথাগত হিরো ভালো- ভিলেন খারাপ এ লাইনে না গিয়ে দুটোর মাঝামাঝি একটা পয়েন্টে দর্শককে দাঁড় করান। সীমারেখা ব্লার করে দেন। উইন্ড রিভারে ভিলেনের প্রকাশ তো ঘটে কিন্তু সেখানটায় একটা সূক্ষ্ম পয়েন্ট দর্শক এর জন্য রেখেছেন। কে ভিলেন ??? এখানকার প্রতিকুল পরিবেশ না, মানুষ ????
– ট্র‍্যাকার ল্যাম্বার্ট চরিত্রে জেরেমি রেনার এর কন্ট্রোলড পারফর্ম্যান্স মুগ্ধ করেছে, জেইন চরিত্রে এলিজাবেথ অলসন এর অভিনয়ও বেশ। প্বার্শচরিত্রগুলোও ভালো ছিল। গল্পের খাতিরে খানিক স্লো পেসড কিন্তু দুর্দান্ত চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফিতে লং শট আর মিড শটের প্রাধান্য ছিল। পরিবেশের প্রতিকূলতা তুলে ধরতে যথাযথ সিনেমাটোগ্রাফি ছিল। কালার গ্রেডিং এবং এডিটিং প্রশংসনীয়।
টেইলর শেরিডান এর পরিচালনায় থট প্রভোকিং এবং নাড়া দেওয়ার মতো একখান সিনেমা।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন