ঈদের সেরা আরো ১০ টি নাটক (পর্ব ৩) বাই তানিম
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
#পর্ব_৩
শেষ পর্ব
২য় পর্বের পর থেকে (২১-৩০)
—————————-
২১) হোমওয়ার্ক:
স্কুলে চিঠি আদানপ্রদানে প্রেমের শুরু গড়ায় তা কলেজ জীবনে এবং সে প্রেমের বাকি গল্প। চিঠিগুলো ৩য় একজনের হাতে পড়ত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এবং সেও চিঠির জবাব দিত।
নাজমুল হুদা ইমনের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় খুবই সাবলীল উপস্থাপন এ মিষ্টি প্রেমের গল্পের। চিত্রনাট্য, আর দারুণ আবহসঙ্গীত ছিল। সাথে ছিল সবার সাবলীল অভিনয়। তবে চরিত্র দুটিকে না বদলালেও হত।
২২) চার সপ্তাহ:
ক্ষমতা হাতে পেয়ে তার অপব্যবহার, সামাজিক অসংগতি আর প্রতিশোধের গল্প।
একদম আনপ্রেডিক্টেবল কিংবা হা করিয়ে দেওয়ার মত টুইস্ট হয়ত নেই তবে গল্পে ধরে রাখার মত চিত্রনাট্য ছিল, চমৎকার আবহসঙ্গীত, সংলাপ ছিল। ন্যারেশান স্টাইলটাও খারাপ নয়। সবার এনার্জিটিক পারফরম্যান্স ছিল। বিশেষ করে, জয়রাজ। আরো একটি ভালো কাজ উপহার দিয়েছেন শাফায়েত মনসুর রানা।
২৩) প্রতিশোধ :
স্বস্তির গল্প।
অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারক এক প্রশ্নের উত্তর দিতে পড়ে যান এক গোলক ধাঁধায় যার সুতোয় বাঁধা অনেক বছর আগের দেওয়া এক রায় !
এ গল্প প্রতিশোধের গল্প। হ্যা, অনুমেয় তবে প্রতিশোধের স্টাইলটা বেশ এবং ভিন্নরকম একটি কাজ। লোকেশান দুর্দান্ত আর যথাযথ চিত্রগ্রহণে তাকে আরো আকর্ষনীয় করে তোলা হয়েছে। দুর্দান্ত সংলাপ, পারফেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড আর তার সাথে তারিক আনাম খানের অসাধারণ অভিনয়। নজর ঘোরানো দায় তার অভিনয় দেখে।
গাউসুল আলম শাওন এর গল্পে নতুন পরিচালক – মোঃ আবিদ মল্লিক বেশ ভালো একটি কাজ উপহার দিয়েছেন।
লিংক- বায়োস্কোপ লাইভ
২৪) এন্টি ক্লক:
কিডন্যাপ, খুন, রহস্য !
থ্রিলার হিসেবে গল্প খারাপ না। বর্তমান বিবেচনায়, নাটক হিসেবে ভালোই বলা চলে। বেশ কয়েকটি টুইস্ট আছে। যদিও শেষ টুইস্ট খানিকটা অনুমেয়। গল্পপ্রবাহ, চিত্রনাট্য আর ভালো আবহসঙ্গীত এর সাথে জন, মিথিলা, অপূর্ব, সাব্বির সবার যুতসই পারফরম্যান্স ছিল।
পরিচালনায়- ইমরাউল রাফাত
২৫) আমি মোটিভেশনাল স্পিকার হতে চাই:
স্যাটায়ারধর্মী নাটক। বরাবরই যেটার অপেক্ষা থাকে শাফায়েত মনসুর রানা থেকে, তবে এবার নিয়ে এলেন আশফাক নিপুণ।
দারুণ হাস্যরসাত্মক সব সংলাপ। নিপুণ এর নৈপুণ্যতায় যথেষ্ট উপভোগ্য একটা কাজ। তবে শেষে একটু তাড়াহুড়ো করেছে এছাড়া দারুণ বিনোদন !
২৬) হৃদ মাঝারে রাখিব:
সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুর পর স্বামী-স্ত্রীর দুজনের মাঝে দুরত্বটা শুধু বেড়েই যায়। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয় তাদের। এ দ্বন্দ্বের হবে কি অবসান ?
বদরুল আনাম সৌদ এর পরিচালনায় ইরফান সাজ্জাদ, নাদিয়া এবং একটি পার্শ্ব চরিত্রে আছেন সুবর্ণা মোস্তফা। স্বামী স্ত্রী দুজনের মাঝের দুরত্ব, মানসিক বিপর্যস্ততা, দ্বন্দ্ব এ পয়েন্টগুলো খুবই ভালোভাবে ফুটে উঠেছে প্রধান দুই চরিত্রে। আবহসঙ্গীত এবং শব্দগ্রহণ বেশ ভালো ছিল।
২৭) ডিভোর্স :
৩ অক্ষর এর এই ছোট্ট শব্দ দ্বারা কত সহজেই না একটা সম্পর্কের ইতি টেনে দেই। এতই কি ঠুঙকো একটা সম্পর্ক ????
এমনই এক গল্প আবর্তিত হয়েছে এই নাটকে। নিশো মিথিলার দারুণ কেমেস্ট্রি আর শিহাব শাহীন এর পোক্ত নির্দেশনায় বেশ ভালো একটি কাজ। যদিও গল্প বিল্ড আপে শুরুর দিকের তাড়াহুড়ো বেশ চোখে লাগে, এছাড়া ভালোই।
২৮) প্রাপক, প্রিয় পরী:
কুখ্যাত সেই ডাকাতের গল্প। ডাকাতি করার আগে ঘোষণা দিয়ে ডাকাতি করে। কিন্তু কুখ্যাত সেই ডাকাতের এই গল্পের পেছনেও রয়েছে এক গল্প। তা কি ????
গ্রামীণ আবহে খুব পরিছন্ন এবং গোছানো একটি কাজ উপহার দিয়েছেন হিমেল আশরাফ। চমৎকার লোকেশান আর তার দুর্দান্ত চিত্রগ্রহণ এ মুগ্ধতার রেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিল। ভালো চিত্রনাট্য, সংলাপ মোটামুটি মানের। ড্রোন ক্যামেরার শটগুলো চোখের শান্তি দিয়েছে। মিলনের অভিনয় দারুণ ছিল। সহচরিত্রে শখ।
২৯) প্রেম-
এক নারীর জীবন এর ৩ পর্যায়ের ৩টি প্রেমকে ঘিরে গল্প। স্কুল জীবনের প্রেম, ভার্সিটি জীবনের প্রেম, কর্মজীবনের প্রেম। ৩টি পর্যায়কে আলাদা নামকরণ ও করা হয়েছে। প্রেম আমার, প্রেম তোমার, প্রেম তোমার আমার।
শেষের পার্টটি সবচেয়ে দারুণ ছিল। অভিনয়ে- সোহানা সাবা, তওসিফ, নাইম।
ভালো লেগেছে, গল্প এবং উপস্থাপন। পরিচালনায়- শ্রাবণী ফেরদৌস।
৩০) মেয়েটির হাতে জাদুর প্রদীপ :
সামাজিক এক ব্যাধি নিয়ে গড়ে উঠেছে গল্প।
কন্সেপ্টটা বেশ ভালো ছিল। তবে স্ক্রিপ্ট আরো খানিকটা জোরালো আশা করেছিলাম কন্সেপ্ট অনুযায়ী। মেহজাবিনের অভিনয়ে উন্নতির গ্রাফ চোখে পড়ার মত। কালার গ্রেডিং, চিত্রনাট্য, আবহসঙ্গীত ভালো। নির্দেশনা ভালো, এ ধরনের সামাজিক ইস্যু নির্ভর কাজে আরেকটু শক্ত নির্দেশনা দরকার।
পরিচালনায়- মাবরুর রশিদ বান্নাহ।
———————–
দেখতে থাকুন আমাদের নাটক, সাপোর্ট দিন ভালো কাজগুলোকে।
– সমাপ্ত।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন