শেকসপিয়র ইন লাভঃ শেকসপিয়র ইন ফিল্ম
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

images

প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়র ‘রাইটার্স ব্লক’-এ ভুগছেন। তিনি কোনমতেই তার ‘রোমিও অ্যান্ড এথেলঃ পাইরেটস ডটার’ নাটক লিখতে পারছিলেন না। অপরদিকে রোজ থিয়েটারের মালিক হেন্সো (জিওফ্রে রাশ) নতুন নাটকের জন্য তাড়া দিচ্ছেন। নাটক কিছুটা লেখার পর তিনি অডিশন নিচ্ছেন। এমন সময় একদিন ‘টমাস কেন্ট’ নামে নতুন একজন অডিশন দিতে আসেন। শেকসপিয়র (জোসেফ ফাইঞ্জ) তার পিছু নেয় এবং তার বাড়িতে পৌঁছে। তাকে না পেয়ে তার নার্সকে চিঠি দিয়ে তাকে অডিশনে আসার অনুরোধ জানায়। রিহার্সাল চলাকালীন শেকসপিয়র জানতে পারে টমাস কেন্ট আসলে ভায়োলা দে লেসেপস (গিনেথ পালত্রো), যে পুরুষের ছদ্মবেশে অভিনয় করতে এসেছে। কারণ সে সময়ে নারীদের অভিনয় করা নিষিদ্ধ ছিল। ফলে এই ছবির কাহিনী অনুসারে ভায়োলা দে লেসেপস হলেন মঞ্চে প্রথম নারী অভিনয়শিল্পী। যাই হোক, শেকসপিয়র খেয়াঘাটের মাঝির কাছ থেকে তার আসল পরিচয় জানতে পারে এবং তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক শুরু হয়। তারা রিহার্সাল ও রিহার্সালের বাইরেও একে অপরের সাথে দেখা করতে থাকে।
ইতিমধ্যে শেকসপিয়র তার বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্ধী নাট্যকার ক্রিস্টোফার মার্লোর (রুপার্ট এভারেট) সাজেশনে নাটকের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’। ভায়োলার পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক হয় লর্ড ওয়েসেক্সের (কলিন ফার্থ) সাথে। ফলে রানী এলিজাবেথ (জুডি ডেঞ্চ) বিয়ের অনুমতি প্রদানের জন্য তাকে তলব করে। সেখানে শেকসপিয়র তার সঙ্গী হয়ে যান। রানী তাকে পূর্বে থিয়েটারে দেখেছেন বলে চিনতে পারেন এবং তার কেমন কাজ পছন্দ তা জানতে চাইলে ভায়োলা উত্তরে জীবনঘনিষ্ঠ ও প্রেমমূলক গল্পের উপস্থাপনার কথা বলেন। রানী তখন এমন গল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করবেন বলে জানান।
এই ঘটনার পর খুন হল নাট্যকার ক্রিস্টোফার মার্লো এবং গুজব রটে লর্ড ওয়েসেক্স তাকে খুন করিয়েছেন। শেকসপিয়র নিজেকে অপরাধী মনে করে কারণ সে নিজেকে লর্ড ওয়েসেক্সের কাছে মার্লো বলে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যদিকে রোজ থিয়েটারে একজন নারী অভিনয় করছে এই অভিযোগে থিয়েটার বন্ধ করে দিলে রিচার্ড বারবেজের থিয়েটার থেকে নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর ঐদিন ওয়েসেক্সের সাথে ভায়োলার বিয়ে। শেকসপিয়র নিজে রোমিও চরিত্রে অভিনয় করবেন এবং জুলিয়েট চরিত্রে অভিনেতা রিহার্সাল করতে পারে নি। এসময় অবতারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ভায়োলা। নাটক মঞ্চস্থ হয় এবং তা দর্শক ও রানীর প্রশংসা অর্জন করে।
শেকসপিয়র ইন লাভ ছবিটি পরিচালনা করেন জন ম্যাডেন। তিনি এলিজাবেথীয় সময়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। একই সময়ের তিনজন বিখ্যাত নাট্যকার ক্রিস্টোফার মার্লো, উইলিয়াম শেকসপিয়র ও জন ওয়েবস্টারকে এই ছবিতে নিয়ে এসেছেন। থিয়েটারের প্রতি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি, থিয়েটারে নারীর অভিনয় নিষিদ্ধের বিষয়, রোমিও ও জুলিয়েটের বিখ্যাত বেলকনির দৃশ্য, নারীর ছদ্মবেশ, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক দেখিয়েছেন। তবে বেশি ক্রেডিট দিতে হবে দুই চিত্রনাট্যকারদের। মার্ক নরম্যানের ছেলের শেকসপিয়র কেন বা কোন প্রেক্ষাপটে ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ লিখেছেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এই গল্পের সূত্রপাত। পরে বেশিরভাগ চিত্রনাট্য লিখেছেন টম স্টপার্ড। মার্ক নরম্যান ও টম স্টপার্ডের চিত্রনাট্যে ঐতিহাসিক ভুল ও বিতর্ক রয়েছে। যেমন – রানী এলিজাবেথ কখনো থিয়েটারে যান নি, লর্ড ওয়েসেক্স শেকসপিয়রের সময়ের আরো আগে মারা যান, এবং ক্রিস্টোফার মার্লো খুনের ঘটনা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এসব ছোটখাট ভুল বাদ দিলে ছবির কাহিনী চমৎকার। সাথে রয়েছে অসাধারণ সংলাপ।
page
অভিনয়ের দিক থেকে জোসেফ ফাইঞ্জ ও গিনেথ পালত্রোর রসয়ান প্রাণবন্ত। শেকসপিয়র চরিত্রে জোসেফ তার মধ্যে কবি সুলভ ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন। অখ্যাত নাট্যকারে ভালো কিছু করার প্রচেষ্টা, ভায়োলাকে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার পর সনেট লেখার মুহূর্তগুলো অসাধারণ। অপরদিকে গিনেথ পালত্রো যেন জুলিয়েটের মূর্ত প্রতীক। সে থিয়েটার পছন্দ করে এবং শেকসপিয়রের নাটক পছন্দ করে। একই সাথে সে ভায়োলা দে লেসেপস আবার টমাস কেন্ট এবং দুই চরিত্রেই সফলভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তার এই অভিনয় দিয়ে তিনি জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর একাডেমি পুরস্কার। পার্শ্ব অভিনেতাদের মধ্যে বেন অ্যাফ্লেক, কলিন ফার্থ, রুপার্ট এভারেট, জিওফ্রে রাশ এবং রানী এলিজাবেথ চরিত্রে জুডি ডেঞ্চের অভিনয় অনবদ্য ছিল।
সবমিলিয়ে, ‘শেকসপিয়র ইন লাভ’ রোমান্টিক, প্রাণবন্ত, ও বুদ্ধিদীপ্ত একটি ছবি। ১৯৯৮ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ সাতটি বিভাগে অস্কার লাভ করে ছবিটি।

Shakespeare in Love (1998)
Shakespeare in Love poster Rating: 7.2/10 (183,230 votes)
Director: John Madden
Writer: Marc Norman, Tom Stoppard
Stars: Geoffrey Rush, Tom Wilkinson, Steven O'Donnell, Tim McMullan
Runtime: 123 min
Rated: R
Genre: Comedy, Drama, History
Released: 08 Jan 1999
Plot: A young Shakespeare, out of ideas and short of cash, meets his ideal woman and is inspired to write one of his most famous plays.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন