ব্ল্যাকে টিকেটে কেটে ‘ভালোবাসার রঙ’ পোস্ট (মর্টেম সহ)

রংপুরের শাপলা সিনেমায় যখন ভালবাসার রঙ দর্শনে উপস্হিত হই তখনও পরবর্তী প্রদর্শনী শুরু হতে বিশ মিনিট রয়েছে। আমার সাথে ছিলেন সাংবাদিক সহকর্মী মুরাদ মাহমুদ। ছেলেমেয়েদের ভীড় ঠেলে টিকেট কাউন্টারের সামনে গিয়ে বিষম খাই। কাউন্টারে টিকেট নেই। টিকেট সব বিক্রি হয়ে গেছে, শত শত দর্শনার্থী টিকেট খুঁজছে অথবা ফেরত যাচ্ছে। ফেরত আসার পূর্ব মুহুর্তে পরিচিত একজন জানালো সে টিকেট ম্যানেজ করে দিতে পারবে। দেড়গুন দাম দিয়ে টিকেট কেটে শত শত মানুষের ভীড় ঠেলে হলে প্রবেশ করলাম। হলে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। অবাক হচ্ছি যে এত ভীড় হলো কিভাবে, এত আগ্রহ কিসে! মুভি শুরু হলো। চমত্‍কার নিখুত স্ক্রীন দেখে আশ্চর্যই হলাম বটে। চমত্‍কার সাউন্ড সিস্টেম। শেখ হাসিনার ডিজিটাল শব্দটির প্রতি বিরক্তটা দূর হয়ে ডিজিটালের প্রতি মুগ্ধই হলাম। নায়ক বাপ্পী বয়স কম মনে হলেও দারুন লুকিং মুভিকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। চৌধুরীর সাহেবের নাতনী মাহির প্রেমে পড়ে বাপ্পী একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তার মন জয় করতে হয়। তবে এই মন জয়ের পূর্ব পর্যন্ত চলমান কাহিনিকে গতানুগতিক মনে করলে ভুল করবেন। ফ্লাশব্যাকে জানা যায় মাহি চৌধুরীর নাতনি নয়। মাহির বাবার ম্যানেজার মিজু আহমেদ ভাড়াটে গুন্ডা অমিত হাসান কে দিয়ে মাহির বাবাকে হত্যা করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের জন্য এবং মাহিকে হাসপাতালে মানসিক ভাবে পঙ্গু করে দেয়ার জন্য ভর্তি করে দেয়া হয়। এখানে মজার একটি ব্যাপার উল্লেখ করে নেই, কাবিলার চরিত্রটি এখানে দারুন ইনজয় করেছি। কাবিলা, বাপ্পীর এলাকাতো মামার চরিত্রে চমত্‍কার অভিনয় করেছেন, সাথে পান্হ কানাইয়ের কণ্ঠে একটি গানের সাথে পেশাদার নাচিয়ের মত চমত্‍কার নেচেছেন। মাহিকে হাসপাতাল থেকে পালাতে সাহায্য করেন এক মহিলা ডাক্তার আর এখানে মুল ডাক্তারের ভূমিকায় খল চরিত্রে ছিলেন নাসরিন যিনি কিনা মিজুর দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চৌধুরীকে মিজুর লোকজন খুন করার পর মাহি আশ্রয় নেয় বাপ্পীর বাসায়। বাপ্পী মাহিকে নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যায়। মুভি শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সব কাহিনিই পার্বত্য অঞ্চলে। সেখানের চিত্রায়নের প্রতিটি মুহুর্তই বিশ্বমানের। সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুস্কিল। আমার মতে এই মুভিটা বিশ্বের বেশ কিছু দেশে মুক্তি দেয়া দরকার। যারা বাংলাদেশকে দেখেনি চেনে না তারা এই মুভির মাধ্যমে বাংলাদেশ কে নতুন আবিস্কার করবে। বাংলাদেশের মত অপরুপ সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে একটি দেশ রয়েছে তা সুন্দর ভাবে উপস্হাপিত হয়েছে। চিটাগাং পোর্ট এর ভেতরের একটি গানের অংশবিশেষ ভালো লেগেছে। এই মুভিটি একটি আইটেম সং বলিউডের চেয়ে কোন অংশে কম হয় নি। মুভি শেষ করে হল থেকে বের হতে গলদঘর্ম হয়ে গেছি। কারন জনসমুদ্র ঠেলে হল থেকে বের হতে হয়েছে। সুপারহিট ব্লক বাস্টার বাক্যটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রযোজ্য কি না আমার জানা নেই যদি প্রযোজ্য হয় তবে ভালোবাসার রঙ সেই বাক্যটির প্রাপ্তি অর্জন করেছে।

(Visited 39 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন