টিভি সিরিজ: দ্যা ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিস্‌: অমরত্বের যন্ত্রণা।

মিস্টিক ফলস্‌, ভার্জিনিয়া । নামের মতোই শহরটিও মিস্টিক, রহস্যময়। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আর দশটি ছোট শহরের সাথে তেমন পার্থক্য নেই। কিন্তু পার্থক্য আছে শহরটির মানুষ গুলোর বিচিত্র চরিত্রে । প্রায় দুই শত বছর আগে পূর্ব উপকূলের ধনী ব্যাবসায়ীরা শহরটি গড়ে তোলেন। আমেরিকান সিভিল ওয়ার, দাস প্রথার নির্মম রূপ সব কিছুরই নীরব সাক্ষী এই ছোট শহরটি। এই শহরে
রই একজন ফাউন্ডার সালভেটর ফ্যামেলি। সিভিল ওয়ার তুঙ্গে। নানান কারণে শহরটি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার প্যাসেজ হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে। ভবঘুরে, সৈনিক, বারবণিতা, ভদ্রমহিলাবেশী মতলববাজ নারী সবারই নিরাপদ জোনে পরিণত হয় ধীরে ধীরে।
সালভেটর ফ্যামিলীর উচ্ছন্নে যাওয়া দু’ভাই ডেমন স্যালভেটর এবং স্টিফেন স্যালভেটর। নানান সামাজিকতা এবং আঠারো শতকীয় আমেরিকান আভিজাত্যর গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছে দু’জন। সিভিল ওয়ারের ভয়াভহতায় তুলনামূলক শান্ত মিস্টিক ফল্‌সে উদয় হয় নাম না জানা তরুণী ক্যাথরিনের। ছলা-কলায় দু’ভাই ই বশীভূত। ক্যাথরিনের অন্য পরিচয় তাদের জানা ছিল না। স্টিফেনের প্রতি ক্যাথরিনের অতি অনুরাগ ডেমন কে পাগল করে দেয়। সে ক্যাথরিনকে পেতে চায় যে কোন মূল্যে।

একদিকে ছোট ভাই স্টিফেনের প্রতি স্নেহ..অন্যদিকে ক্যাথরিনকে পাবার অদম্য বাসনা। কোনটিকে প্রাধান্য দিবে সে? ক্যাথরিনের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল দু’জনকে ব্যবহার করে আপদকালীন স্বীয় স্বার্থ হাসিল। কিন্ত নারী মন (??) বলে কথা। স্টিফেনকেই সে বেশী ভালবাসে তা ডেমনের বুঝতে অসুবিধা হয় না। ডেমনের অদম্য প্রেম বাস্তবতা মানতে নারাজ।
ক্যাথরিন শর্ত দেয় সে তাকে ভালবাসবে চিরদিনের মত। কিন্তু তাকে চির যৌবন অমরত্বের পথ বেঁছে নিতে হবে। ডেমন বুঝে উঠার আগেই অতি আবেগে ক্যাথরিনের ভ্যাম্পায়ার রূপ প্রকাশ পায়। ডেমন রাজী হয় প্রস্তাবে। চির অমরত্ব লাভের জন্য সে ভ্যাম্পায়ার হয় ক্যাথরিন দ্বারা।
সময় এগিয়ে যায়। ডেমনের অস্বাভাবিক আচরণে স্টিফেন বিভ্রান্ত হয়। নানা ঘটনা প্রবাহে শহরের ফাউন্ডাররা ক্যাথরিন কে ভ্যাম্পায়ার হিসেবে সন্দেহ করে। একদিন তাকে পুড়িয়ে মারার প্লান দু ভাই জেনে ফেলে। স্টিফেনও ভাইয়ের পথে অমরত্বের জন্য ভ্যাম্পায়ার হয়। ডেমন তার মেকার। যতটা না ক্যাথরিনের প্রতি আগ্রহ তার চেয়ে ভাইকে চিরতরে হারানোর আশংকাই তাকে ভ্যাম্পায়ার হতে উদ্বুদ্ধ করে। গোপনে দু’ভাই এবং ক্যাথরিন শহর ত্যাগ করে।

তখনকার সময় ভ্যাম্পায়ার দের ফিডিং এর জন্যে সম্পূর্ন ফ্রেশ মানুষের রক্তের উপর নির্ভর করতে হত। এখনকার মত কৃত্রিম রক্তের সরবরাহ ছিল না। আমেরিকান সিভিল ওয়ার ভ্যাম্পায়ারদের জন্য যেন স্বর্গ হয়ে আসল। রাতের বেলায় জঙ্গলে পড়ে থাকা আহত সৈনিক, ক্যাম্পের তাঁবুর হাসপাতাল গুলোতে মানুষ্যবেশী ভ্যাম্পায়াররা সৈনিকদের রক্ত পান করত।
সময়ের পরিক্রমায় তারা শহরের পর শহর বদল করতে বাধ্য হয়। কারণ তাদের চির তরুণ্যই তাদের শত্রু হয়ে উঠে। একই শহরের সমবয়সীরা বন্ধুরা জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে বয়স্ক হয়ে উঠে। কিন্তু তারা সেই ২৬ বছরের তরুন। ব্যাপারটি প্রতিবেশীরা সন্দেহ করলেই তারা শহর বদল করত।
সময় ২০০৫। মিস্টিক ফলসের শহরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহরের বাসিন্দা, যারা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময়টা মিস্টিক ফলসে কাটিয়েছে তারা দলে দলে হাজির হতে থাকে। একটি কালো রংএর অ্যাম্বেসেডর শহরে এসে থামে। ভেতরে একজন সুদর্শন তরুন। নেমেই ”মিস্টিক গ্রিল” বারে ঢুকে পুরনো শহরের নতুন বাসিন্দাদের দেখছে আগ্রহভরে। আমাদের ডেমন। সোয়া দু’শ বছর পর এসেছে প্রিয় শহরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফান্ড রাইজিং এ অংশ নিতে। তাদের পুরনো বাড়ীটা নানান হাত বদল হওয়া সত্বেও তেমন পরিবর্তন হয়নি। সেটা কিনে নিয়ে সংস্কার করে দু’ভাই পুরনো শহরে নতুন জীবন শুরুর প্রত্যাশা নিয়ে।

স্বভাবিক ভাবেই দু’ভাই স্থানীয় মিস্টক ফলস হাই স্কুলে ভর্তি হয়। এই স্কুলে এসে যেন দু’ভাই ই দু’শ বছরের পুরনো রোমাঞ্চে ফিরে যায়। কারণ কিছুই নয়। ক্লাসে সদ্য পরিচিত এলেনা গিলবার্ট। এ যেন পুরোনো ক্যাথরিন। একই চেহারা, গলার স্বর, কথা সব একই। দু’ভাইয়ের মধ্যে আবার শুরু হয় দন্দ্ব। কে পাবে এলেনাকে? এলেনা কি মানসিকভাবে দু জন ভ্যাম্পায়ারের প্রেম মেনে নিতে পারবে?
ত্রিভুজ প্রেমের নানান ঘটনা প্রবাহে জড়িয়ে পড়ে এলেনার বান্ধবী ডাইনী বনী, বেস্ট ফ্রন্ড ভ্যাম্পায়ার ক্যারোনিন, নেকড়েমানব টেইলর লকউড শ অনেকে।
এখানেও দুভাইকে ফাউন্ডার ফ্যামিলির সদস্যরা ভ্যাম্পায়ার হিসেবে সন্দেহ করে। কিন্তু এটা একাবিংশ শতাব্দী । পরিস্থতি পাল্টেছে। যারা ভ্যাম্পায়ার হান্টার তাদের মধ্যেই সর্ষে ভূত।
জমজমাট টান টান উত্তেজনার সাথে ডেমন চরিত্র রূপদানকারী ইয়ান সমারহোল্ডারের অনবদ্য অভিনয় এক কথায় সিরিজটির প্রতি নেশা ধরিয়ে দিবে। আমার দেখা সেরা অভিনয় আমি এই সিরিজে দেখেছি। অভিনয় কাকে বলে ইয়ান সমারহোল্ডার দাড়ি, কমা সহ এখানে দেখিয়েছেন।
এল.জে.স্মিথের একই নামের উপন্যাস সিরিজ অবলম্বনে টিভি সিরিজটি নির্মাণ করা হয়েছে.

(Visited 75 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন