ম্যাসেজ ফ্রম জলিল বস…
ম্যাসেজ ফ্রম জলিল বস…

…………

বন্ধু এবং শুভাকাংখীরা,
গতরাতে পিজ্জা হাটে যে অনাকাংখিত ঘটনাটি ঘটে গেল সেটি কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্ষা শুধু ওই নাছোড়বান্দা ছেলেগুলোকে বুঝানোর চেষ্টায় ওদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে রাগে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেবিলের প্লেট ভেঙ্গে ফেলে। বর্ষার এই প্রতিক্রিয়াও অবশ্য অগ্রহণযোগ্য। আমি শুধু ওই ছেলেগুলোকে বলতে চাই তারা তরুণ ছাত্র এবং প্রত্যেকেই আমার অনেক জুনিয়র। তারা কি জগতের সকল ভাষা শুদ্ধ উচ্চারণে বলার টেন্ডার নিয়েছে। কয়টি ভাষা তারা শুদ্ধভাবে জানে!! আমি ওই অস্থায়ও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম।

আমরা যাই হই না কেন আমাদের অবশ্যই পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু বিসর্জন দেয়া কি উচিত?

অন্যদিকে , আমি বলতে চাই যারা আমার উচ্চারণে “ফ্রম ঘানা” কে মজা করে হোক অথবা যে উদ্দেশ্যেই হোক ”পম গানা ” বলছেন … আমি সত্যই এসব বিষয় গ্রাহ্য করি না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলেরই নিজেদের অধিকারকে নিজেদের মত করে উপভোগ করার অধিকার আছে। তাই এত কিছু সত্ত্বেও আমি আমার কাজে মগ্ন থাকতে চাই। আশেপাশে আমাকে নিয়ে বাজে সমালোচনার জবাব দেবার মত সময় আমার অপাতত নেই। নিজের উপর আমার আস্থা আছে এবং আমি জানি কিভাবে অমসৃণ পথেও এগুতে হয়

…….

কাউকে নিয়ে মজা করা, কাউকে পঁচানো, কাউকে ইচ্ছেকৃত অপমান করা…এই তিনটি ব্যাপারে পরষ্পর সুষ্পষ্ট পার্থক্য আছে। তিনটিকে একসাথে গুলিয়ে ফেললেই সমস্যা। এখন যা অবস্থা দেখছি তা আর মজা করার পর্যায়ে নেই। এখন যা হচ্ছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কাউকে অপমান করা , হেয় করা। কাউকে হেয় করে , অপমান করার মাধ্যমে কি ধরণের স্মার্টনেসের বহিপ্রকাশ ঘটে সেটা আমার বোধ শক্তির বাইরে। যারা এসব করে বিকৃত আস্ফালনে আহ্লাদিত হচ্ছে তারা কি নিজেদের চেয়ারা আয়নায় দেখেছে? জলিল বস্তির ছেলে , বর্ষা গণিকা ( ওই ছেলে গুলো দু’জনকেই প্রকাশ্যে এভাবে সম্বোধন করেছিলো) ভালো কথা। তোমরা ভদ্রঘরের ছেলে, শিক্ষিত.. তোমাদের কি জলিলের মত বস্তির ছেলে এবং বর্ষার মত গণিকার সাথে তর্ক করা মানায় ?

জলিলকে বাজে সমালোচনা করার আগে নিজেরা ওরকম একটা মুভি বানিয়ে আলোচনায় আসতে পেরেছ? এখানেই জলিলের ক্রডিট। আমরা  জলিলের উচ্চারণ, অভিনয় ইত্যাদি নিয়ে মজা লুটি, সমস্যা নেই। আমরা টিকেট কেটে হলে গিয়ে ছবি দেখেছি। তাই আমরা ওই ছবি ডায়ালগ , অভিনয়ের মান নিয়ে আলোচনা , সমালোচনা করতেই পারি, করাটা আমাদের অধিকার। কিন্তু লাগামহীন অধিকারের সাথে স্বেচ্চাচারিতার কোন পার্থক্য নেই। সমালোচনা , মজা লুটা এসব আমরা নিজেদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখলেই পারি।
প্রকাশ্যে অপমান করাটা কোন ধরণের সভ্যতা? ছেলেগুলো ওই দু’জনের সাথে যা করল বিশেষ করে বর্ষার সাথে তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। জলিলের চেয়ে তাদের টার্গেট ছিল বর্ষা। একজন মেয়েকে অপ্রকাশ্যে তার দোষগুণ নিয়ে চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতে পারি; কিন্তু সরাসরি জনসম্মুখে একটা মেয়েকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অপমান করাতো এক ধরণের অ্যাবিউজিং এর পর্যায়ে পড়ে। যারা এসব করছে তারা আসলেই কি চায় বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের উন্নতি হোক? সময় এসেছে এদের চিনে রাখার।

(Visited 24 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন