মুভি রিভিউ: Flame and Citron (2008)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে অনেক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই কনসেনট্রশন ক্যাম্প, যুদ্ধ, মিত্রবাহিনী, বিমান যুদ্ধ.. সহজ কথায় ”যুদ্ধের” একটি ব্যাপার আছে।

কিন্তু এই সিনেমাটির প্লট এবং প্রেক্ষাপট প্রচলিত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ কেন্দ্রিক সিনেমা গুলো থেকে ব্যতিক্রম। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষের দিকে হিটলারের নাৎসী গ্রুপের গোপন পুলিশ বাহিনী গেস্টাপোর অনুচররা পুরো ইউরোপ জুড়ে গুপ্ত হত্যা শুরু করে। তাদের মূল টার্গেট ছিল নাৎসী বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনী। কমিউনিস্ট প্রভাবিত এসকল প্রতিরোধ বাহিনী বিভিন্ন ছন্মবেশে নাৎসী জার্মান কর্মকতা, জার্মান বাহিনীর অফিসার, গেস্টাপোর অনুচরদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করত।

এই প্রতিরোধ বাহিনীকে ট্রেনিং দিত মিত্র শক্তির বিভিন্ন দেশ। ছদ্মবেশে থাকা প্রতিরোধ বাহিনীর এজেন্টরা শুধু উপরের নির্দেশে তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালন করত। এসব দায়িত্ব পলনে তারা জীবনের ঝুঁকি নিত। দায়িত্ব হল নাৎসী এলিটদের খুঁজে বের করে হত্যা করা।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব এজেন্ট বিবেকের তাড়না থেকে মুক্ত থাকত। তারা যে মাঝে মাঝে দাবার ঘুটি হিসেবেও ব্যবহৃত হত অজান্তে সেটা যখন তদের গোচরে আসত তখন নিরীহ খুনের জন্যে বিবেকের কাছে দগ্ধ্ব হওয়া ছাড়া গতান্তরও থাকত না।
যুদ্ধে যা হয়; কৌশলী চতুর মহিলারা গুপ্তচরবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। কেউ জীবনের ভয়ে; কেউ অভাব মোচন থেকে কেউবা স্রেফ কৌতুহলে। পুরুষ এজেন্টদের মতিগতি বুঝা গেলেও মহিলা এজেন্টদের বুঝা দায়। সব ক্ষেত্রে ডাবল এজেন্ট, সন্দেহের দোলাচাল। তথ্য আদায়ে ” সত্যিকার প্রেমে” পড়া।

যুদ্ধে যখন নিশ্চিত পরাজয়ের সম্ভাবনা আঁচ করা যায় তখন কৌশলী সামরিক অফিসার, গোয়েন্দা , এজেন্ট সবারই দেশপ্রেমের জায়গাটা দখল করে নেয় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দু:শ্চিন্তা। তখন তাঁরা দেশ প্রেমের বদলে দেশের বিপক্ষে যায় ওধরণের তথ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে হলেও নিরপেক্ষ দেশে পাড়ি জমানোর জন্য মারিয়া হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে শত্রুর সাথে আঁতাত করে হলেও। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশকে পণ্য বানায় না এবং ইতিহাস তাদেরকেই স্যালুট করে।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ কেন্দ্রিক সিনেমা হিসেবে এসকল ব্যাপার গুলো অনেক ভালো ভাবে উঠে এসেছে। যুদ্ধের ডামঢোল এখানে নেই। আছে পরিচ্ছন্ন এসপিউনাজ জগতের ঘোরপ্যাচ। অনেক বাস্তব সম্মত অভিনয়ের কারণে কোন চরিত্রকে আরোপিত মনে হয়নি। মূল অভিনেত্রীর অভিনয় দেখে মনে হয়েছে পরিচালক গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এবং সফলও হয়েছেন।

প্রধান দুটি এজেন্ট চরিত্রে যে দু’জন অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে বয়সে বড় এজেন্টের অভিনয় তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তার গোল চশমার সাথে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, উদভ্রান্ত ভাব সহজে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করা কঠিন এবং সে তার এধরণের আউট লুকিংয়ের পুরো সুবিধা পেত বিভিন্ন অপারেশনে। সে তুলনায় বয়সে ছোট এজেন্টের ভূমিকায় যিনি অভিনয় করেছেন তাঁকে তাঁর কাজের ধরণের তুলনায় কম বয়সী মনে হয়েছে।

ক্যমেরার কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হল প্রচুর ক্লোজ শটের উপস্থিতি। কিছুটা এক ঘেয়ে মনে হলেও সামগ্রিকভাবে চরিত্র গুলোর এক্সপ্রেশন বুঝানোর জন্য সেটা জরুরী ছিল । কারণ চরিত্র গুলোর পেশাই ছিল গুপ্তচর/ গুপ্ত ঘাতক ধরণের । গোয়েন্দা চরিত্র / এজেন্ট এ ধরণের চরিত্রগুলোর ফিগারেটিভ ল্যাংগুয়েজ অনেক গুরুত্ব পূর্ণ। বিশেষ করে বিবিন্ন ঘটনার প্রক্ষিতে চেহারার অভিব্যক্তি। হয়ত একারণেই এত ক্লোজ শটের আধিক্য।

তবে কিছু ব্যাপার খেয়ালী দর্শকের চোখ এড়াবে না। যুদ্ধের পরিবেশে এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সুন্দর ঘর বাড়ী, দোকান পাট ..এসব দেখে মনেই হবে না যে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। রাস্তায় সিনেমার পাত্র পাত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। এমনকি কোন পথাচারীও না। তবে সিনেমার কাহিনীর ভিতর ঢুকে গেলে এসব অসংগতি মনের চোখকে নিশ্চিত ফাঁকি দিবে।

সিনেমাটোগ্রাফীতে উল্লেখ করার মত তেমন নতুনত্ব নেই। মিউজিক তেমন জোরালো নয়। এই থিমের সাথে মানন সই হয়েছে। এক ঘেয়ে লাগবে না। সব মিলিয়ে দেখার মত একটি সিনেমা।

পরিচালক: Ole Christian Madsen
কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনয় শিল্পী গণ: Thure Lindhardt, Mads Mikkelsen, Stine Stengade ।
ভাষা: জার্মান, ডেনিশ।
অরিজিন কান্ট্রি: ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক রিপাবলিক।
রানিং টাইম: ১৩০ মিনিট.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন