“The Pianist: যুদ্ধের ডামাডোলেও বেঁচে থাকে জীবনের সুর”

pianist-poster The Pianist

The Pianist (2002)

IMDB Rating: 8.5

দৈর্ঘ্যঃ ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট

রোমান পোলানসস্কির মুভি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। পোলিশ এই চলচিত্র নির্মাতা নির্মাণ করে গেছেন একের পর এক অসামান্য কীর্তি। তবে তার মধ্যে  সম্ভবত অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে THE PIANIST (২০০২)মুভিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মাকে হারানোর পর পলায়নপর জীবন এবং যুদ্ধ শেষে বন্দীশিবির থেকে প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে বাবার ফিরে আশাই হয়ত রোমান পোলানসস্কিকে এমন অসাধারণ একটি  চলচিত্র নির্মাণে সাহায্য করেছে। একইসাথে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের যৌথ প্রযোজিত এই ছবিটি পোল্যান্ডের ইহুদি পিয়ানো বাদক Władysław Szpilman এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “The Pianist –অবলম্বনে নির্মিত।

BBCএর মতে- “This has finally given Roman Polanski the chance to distil his own experiences of Jewish persecution during WWII in this deeply personal and astonishing directorial turn.

ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে যদি শ্রেষ্ঠ তিনটি যুদ্ধের ছবির নাম বলতে বলা হয় তবে “The Pianist  অবশ্যই তার মধ্যে থাকবে। থাকবে একারনেই, কারন- “THE PIANIST কেবলমাত্র যুদ্ধের ছবি নয় বরং যুদ্ধে মানবতার বিপর্যয়ের গল্প।”

এবার মূল গল্পে আসা যাক-

সময়টা সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯। শান্তশিষ্ট নিরীহ গোছের Wladyslaw Szpilman (চরিত্র রুপায়নে Adrien Brody)    পোল্যান্ডের একটি  রেডিওর পিয়ানোবাদক। বাবা, মা, দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল মধ্যবিত্ত এই ইহুদী পরিবারটির। কিন্তু বিধি বাম, হটাৎ আক্রমণে পোল্যান্ড একরাতে জার্মানির দখলে চলে গেল। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেল রেডিও। ইদুদিদের উপর নেমে এলো ব্যাপক লাঞ্ছনা আর নিগ্রহ। অসংখ্য ইহুদী পরিবারকে তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করে নির্বাসিত করা হয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত প্রায় বদ্ধ এক ছোট্ট শহরে। সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাহুতে পড়তে হত স্টার অফ ডেভিড ব্যান্ড যা কিনা “ইহুদী” পরিচায়ক, দেয়া হত কোনরকমে দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য সিমিত অর্থ। প্রায় প্রতিদিনই দেখতে হত কোননা কোন ইহুদী পরিবারের উপর নেমে আশা হত্যাযজ্ঞ।

a

b

“ছোট্ট একটা চকলেট। তাইই পরিবারের সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া”

বিপদের উপর বিপদ। এমনি সময় Wladyslaw    পরিবারকে অন্য একটি ক্যাম্পে স্থানান্তরের নির্দেশ আসে। নির্দিষ্ট দিনে অসংখ্য ইহুদী পরিবারদের সাথে Wladyslaw    পরিবারও যখন অপেক্ষমান ট্রেনএ উঠছিল ঠিক তখন এক ইহুদী বন্ধুর সহায়তায় এ যাত্রায় বেঁচে যায় Wladyslaw। তাকে আর যেতে হয়নি কিন্তু সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে চরম মূল্যর বিনিময়ে অর্থাৎ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হল।

c

“পরিবারের সাথে এই শেষ দেখা”

d

“এই হৃদয়বিদারক দৃশটি সম্ভবত কখনই ভুলতে পারবোনা”

এরপর শুরু হল বন্দী জীবন। বন্দী শিবিরে দাস শ্রমের বিনিময়ে দিন কাটাতে থাকে  Wladyslaw-র সেই সাথে চলে গোপন বিদ্রোহী তৎপরতা। একদিন প্রায় ধরা পরে যেতে যেতে বেঁচে যায় Wladyslaw।

e

“এর নামই কি জীবন?”

অতপরঃ আবার পলায়ন। এবার একটি খ্রিষ্টান দম্পতি একটি পরিতেক্ত বাড়ীর গোপন কক্ষে লুকিয়ে রাখে Wladyslaw-কে। তাও একদিন এক মাতাল প্রতিবেশী টের পেয়ে যায়। খুব বেশি ঝামেলা হবার আগেই খ্রিষ্টান দম্পতির সহায়তায় অন্য স্থানে লুকিয়ে পড়তে হল। সেখানে একটি পুরনো পিয়ানোও ছিল। শুধু লোভাতুর দৃষ্টিতে পিয়ানোর দিকে তাকিয়ে থাকা কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষার্থে সেটি বাজানোর কোন উপায় ছিলনা জন্ডিস আক্রান্ত Wladyslaw-র।

১৯৪৪ সালের আগস্ট মাসে পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। পোলিশ বিদ্রোহী আর জার্মান বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই বেঁধে যায়। টিকতে না পেরে এ আশ্রয়টিও ছেড়ে দিতে হয়। একপর্যায়ে শহরটি ফাঁকাই হয়ে গেল। শুধু Wladyslaw আর তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ধ্বংসস্তূপে প্রতিদিন রসদের খোঁজে করা। এমনিভাবে রসদের খোঁজ করতে করতে একদিন ধরা পড়ে যায় একজন জার্মান অফিসারের হাতে। সেইসাথে প্রকাশ পেয়ে যায় তার ইহুদি পরিচয়। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় একেই বলে, Wladyslaw পিয়ানো বাদক এটা জানার পর এবং পরিত্যাক্ত একটা পিয়ানোতে Wladyslaw –এর বাজানো সুর শুনে অফিসারের মনে করুণার উদ্রেক হয়। শুধু তাই নয়, অফিসারটি পরবর্তীতে কিছুদিন লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু খাবারও দিয়ে যেতে থাকে তাকে এবং লুকিয়ে রাখে একটা ভাঙ্গা বাড়ির চিলেকোঠায়।

ছবির এপর্যায়ে মনে রাখার মত একটি কথোপকথন-

Wladyslaw:  I don’t know how to thank you.

Captain Wilm Hosenfeld(জার্মান অফিসার):  Thank God, not me. He wants us to survive. Well, that’s what we have to believe.

জানুয়ারি ১৯৪৫। অগ্রসরায়মান রাশিয়ার লাল ফৌজ পোল্যান্ডে প্রবেশ করে। পিছু হঠতে থাকে জার্মান বাহিনী। বিদায় বেলায় সেই জার্মান অফিসারটি আশা প্রকাশ করল, একদিন হয়ত সে Wladyslaw-এর বাজানো পিয়ানোর সুর আবার পোল্যান্ড রেডিওতে শুনতে পাবে। বন্ধুত্তের নিদর্শনস্বরূপ দিয়েদেয় নিজের সামরিক উর্দি। এবার  শহরে প্রবেশ করে পোলিশ বাহিনী এবং জার্মান সামরিক উর্দি পরিহিত Wladyslaw  ভুলক্রমে তাদের হাতে প্রায় মরতে বসেছিল। যাহোক শেষ পর্যন্ত Wladyslaw তাদের বোঝাতে সক্ষম হয় যে সে একজন পোলিশ।

ছবির এই সময়টা ছিল একই সাথে সাসপেন্স এবং মজারও-

Wladyslaw:           No. Please. I’m Polish. I’m not a German.
Polish Soldier:     Then why the fucking coat?
Wladyslaw:           I’m cold.

এদিকে পরাজয় ঘটে জার্মান বাহিনীর। ঘটনাক্রমে রাশান বন্দী শিবিরে আটক জার্মান সৈনিকদের মাঝে “সেই অফিসারটিও” একজন। সাহায্যের খুব প্রয়োজন। কোনক্রমে এক বেহালা বাদককে বলে Wladyslaw–এর কথা। বেহালা বাদক ছুটে যায় Wladyslaw–এর কাছে। পরদিন Wladyslaw–এ বন্দীশিবিরে এসে দেখে জার্মান বন্দীদের অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরপর Wladyslaw–এর সাথে সেই অফিসারটির আর দেখা হয়নি।

২০০০ সালে ৮৮ বছর বয়সে Wladyslaw–এর সন্মানজনক জীবনাবসান ঘটে। ভাল কথা, রাশানদের হাতে আটক অবস্থায় ১৯৫২ সেই অফিসারটির মৃত্যু ঘটে।

এরই নাম যুদ্ধ। চাপিয়ে দেয়া একটা ব্যাপার। লাঞ্ছিত হয় মানবতা। তবুও চলে টিকে থাকার লড়াই।

শ্রেষ্ঠাংশেঃ-

অর্জনসমুহঃ-

মনোনীতঃ-

ডাউনলোড লিঙ্কঃ-

Quality: 720p (HD)

Size: 899.22 MB

Resolution: 1280*688

Frame Rate: 23.976 fps

http://yify-torrents.com/movie/The_Pianist_2002

Quality: 1080p (FULL HD)

Size: 2.00 GB

Resolution: 1920*1040

Frame Rate: 23.976 fps

http://yify-torrents.com/movie/The_Pianist_2002_1080p

(Visited 41 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন