“বিখ্যাত ইরানীয়ান পরিচালক এবং তাদের চলচিত্র কর্মগুলো” – (৩য়পর্ব )
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

১ম ও ২য় পর্বের পর ৩য় পর্ব লিখতে একটু বেশীই দেরি হয়ে গেল। যদিও একটু একটু করে অনেকদিন ধরে লেখাটা ঠিকই গুছিয়ে আনছিলাম। যাহোক, বরাবরের মত আজকেও চেষ্টা করেছি দুজন প্রখ্যাত ইরানী চলচিত্র পরিচালক এবং তাদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো উপর আলোকপাত করতে। শুরুটা করছি  তুলনামূলকভাবে মুনশিয়ানা পরিচালক আব্বাসকিয়ারুস্তমীকেদিয়ে।

Abbas Kiarostami

আব্বাসকিয়ারুস্তমীঃ

১৯৪০ সালে তেহরানে আব্বাস কিয়ারুস্তমীর জন্ম। একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে সর্বপ্রথম সৃজনশীল জগতে প্রথম পদক্ষেপ। তারপর মাত্র ৩০ বছর বয়সে চিত্রপরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। ৪০ টিরও অধিক চিত্রপরিচালনাকারী আব্বাস কিয়ারুস্তমীকে আধুনিক ইরানী চলচিত্রের একজন পথিকৃৎ বলা হয়। একইসাথে একজন চিত্রশিল্পী, চিত্রনাট্যকার, চিত্রপরিচালক, চিত্রপ্রযোজক, স্থিরচিত্রগ্রাহক এবং একজন কবি হিসেবে তিনি বিশ্ব সমাদৃত। ইরাণে ইসলামী বিপ্লবের আগের অল্প যে কজন চিত্রপরিচালক বিপ্লবের পরও ইরানেই থেকে গিয়েছিলেন আব্বাস কিয়ারুস্তমী তাদের অন্যতম। বলা হয়ে থাকে তার এই সিদ্ধান্তই পেশাগত জীবনের একটি মাইল ফলক। এ ব্যাপারটি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন-

“যখন তুমি একটি গাছকে তার জন্মস্থান থেকে মূলউৎপাটন করে অন্য কোন স্থানে রোপণ করবে তখন সেই গাছটিতে আর ফল ধরবে না। যদিওবা ধরে তদুপরি তা আর আগের মত হবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আমি মনে করি, যদি আমি সেসময় আমার দেশ ত্যাগ করতাম, তবে আমার অবস্থা হত ওই গাছটির মতই।”

উল্লেখযোগ্য অর্জনঃ

 

Close-Up (1990)

Close-Up (1990)

Imdb রেটিং  : 8

বিখ্যাত ইরানী চিত্রপরিচালক মোহশিন মোখমালবাফের ছবির অন্ধ ভক্ত হোসেইন শাবজান। একদিন বাসে বসে  হোসেইন শাবজান যখন মোহশিন মোখমালবাফের একটি ছবির চিত্রনাট্য পড়ছিল ঠীক তখনই পরিচয় হয় মিসেস অহনখাহর সাথে।  মিসেস অহনখাহকে ওবাক করে দিয়ে হোসেইন শাবজান নিজেকে চিত্রপরিচালক মোহশিন মোখমালবাফ হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন যে আজকে উনি পাবলিক বাসে কারণ এভাবেই আসলে উনি জীবন ঘনিষ্ঠ চলচিত্র নির্মাণে চরিত্রগুলো খুঁজে বেড়ান।  এরপর কয়েক সপ্তাহ মোহশিন মোখমালবাফ রূপী হোসেইন শাবজান মিসেস অহনখাহর বাড়ীতে আসা-যাওয়া করেন সেইসাথে এই আশ্বাসও দেন যে তার পরবর্তী ছবির শুটিং এবাড়ীতেই হবে এবং মিসেস অহনখাহর ছেলেকে কেন্দ্রীয় চরিত্রটি দেয়া হবে। অহনখাহ পরিবার থেকে কিছু টাকাও হাতিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু গোল বাধে যখন মিসেস অহনখাহর স্বামী চিত্রপরিচালক মোহশিন মোখমালবাফএর যুবক বয়সের একটি ছবির সাথে হোসেইন শাবজান বিস্তর ব্যবধান খুঁজে পান এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এক সাংবাদিক বন্ধুকে ব্যাপারটি জড়িয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো জানতে হোলে দেখুন কমেডি ঘরানার এই ছবিটি।

টরেন্ট লিংকঃ http://isohunt.com/torrent_details/192822193/Close-Up+(1990)?tab=summary

 

 

Taste of Cherry (1997)

Taste of Cherry(1997)

Imdb রেটিং  :7.5

মধ্য বয়স্ক মিস্টার বদি তেহরানের রাস্তায় খুঁজে বেড়ায় এমন কাউকে যে কিনা অনেক অর্থের বিনিময়ে একটি বিশেষ কাজ করে দিতে হবে, আর তা হল তার বাড়ির কাছের চেরি গাছের নিচে খুঁড়ে রাখা কবরে শুয়ে সে যেদিন আত্মহত্যা করবে সেদিন  ভাড়াটে লোকটিকে মাটি দিয়ে কবর ভরাট করে দিতে হবে। নিয়োগকৃত প্রথমজন, একজন কুর্দি সৈনিক প্রস্তাব শুনেই ভেগে যায়। অতঃপর একজন আফগান বক্তাও আত্মহত্যা ধর্মীও ভাবে নিষিদ্ধ এই অজুহাতে কেটে পরে। অবশেষে রাজী হয় একজন আজারবাইজানী, কারন তার পুত্রের চিকিৎসার্থে অনেক টাকার প্রয়োজন। ঝড়ের সেই রাতে কবরে শুয়ে  মিস্টার বদি, আকাশে শুরু হল বিদ্যুৎ চমকানো। কি হয় মিস্টার বদির ?

টরেন্ট লিংকঃ http://isohunt.com/torrent_details/93176741/Taste+of+Cherry+(1997)?tab=summary

 

The Wind Will Carry Us (1999)

The Wind Will Carry Us (1999)

Imdb রেটিং  : 7.4

অস্থিরমতি এক শহুরে ইঞ্জিনিয়ার মৃত্যু পথযাত্রী আত্মীয়কে গ্রামে দেখতে এলে  ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। পরিচিত হতে থাকে গ্রামের ঐতিহ্য, অন্যের প্রতি সোণ্মাণবোধ, ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে। এ যেন জীবন-মৃত্যুর কাছ থেকে নতুন কিছু শেখা।

টরেন্ট লিংকঃ http://isohunt.com/torrent_details/93047389/The+Wind+Will+Carry+Us+(1999)?tab=summary

 

Jafar Panahi

জাফরপানাহীঃ

১৯৬০ সালে ইরানের আজারবাইজানী অধ্যুষিত মিয়ানেহ-এর একটি শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম। তার বাবা ছিলেন একজন রং মিস্ত্রী। জাফর পানাহীর ছবির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির গল্পটি বেশ মজার। রক্ষণশীল পরিবারে পানাহীর বোনদের স্থানীয় মঞ্চনাটকগুলো দেখার অনুমতি ছিলনা। তাই তার বড় বোনরা ৯ বছর বয়সী পানাহীকেই মঞ্চনাটক দেখতে পাঠাতো। আর পানাহীর কাজ ছিল সে কি দেখে এল বাড়ি এসে তা বোনদের বর্ণনা করা। ছোট বেলায় পেক্ষাগ্রিহে ছবি দেখতে গিয়ে বাবার হাতে ধরা পরে মার-ও খেয়েছেন কিন্তু হতোদ্যম হননি। ছবির টিকিটের টাকা সংগ্রহের জন্য স্কুল শেষে বিভিন্ন ফুটফরমাশ কাজও দ্বিধাবোধ করেননি। ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ, একপর্যায়ে কুর্দিদের হাতে বন্দী হওয়া সহ বিচিত্র অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছিলো জাফর পানাহীর জীবনবোধ। পরবর্তীতে ফিল্ম বিষয়ে পড়াশোনা। তৈরি করেছেন অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র।

উল্লেখযোগ্য অর্জনঃ

 

The White Balloon (1995)

The White Balloon (1995)

Imdb রেটিং : 7.5

ইরানের নববর্ষ “নওরোজ” প্রায় সমাগত। তাই বাজারে কেনাকাটারত ছোট্ট রিজিয়া তার মায়ের কাছে একটা গোল্ডফিস কেনার জন্য প্রায় ঝুলোঝুলি আরম্ভ করে দেয়। কিন্তু মা তা কিনে দিতে নারাজ। এমনকি বাসায় ফেরার পথে মা রাস্তায় সাপের খেলাও দেখতে দিলনা! রিজিয়া যারপরনাই তাই বাসায় ফিরে মনমরা। একটু পর বড় ভাই আলী বাসায় ফিরে এলে রিজিয়া ঘুষ হিসেবে একটা বেলুন দেবার প্রলোভন দেখিয়ে প্রস্তাব করে মাকে গোল্ডফিস কিনে দিতে রাজী করাতে। শেষ পর্যন্ত ভাইবোন টাকা নিয়ে গোল্ডফিস কিনতে রওয়ানাও হয়। পথে ঘটে সব বিচিত্র ঘটনা। কয়েকবারই তারা টাকা হারিয়ে ফেলে সেইসাথে পথচারীদের সহায়তায় আবার তা উদ্ধারও করা হয়। আপাত দৃষ্টিতে নিতান্ত সাদামাটা গল্প মনে হলেও এই গল্প আপনাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে।

টরেন্ট লিংকঃ  http://isohunt.com/torrent_details/28323719/The+White+Balloon+(1995)?tab=summary

 

The Mirror (1997)

The Mirror (1997)

Imdb রেটিং : 7.4

মনেহয়  জাফর পানাহীর কাছে শিশুমনোজগতের একটা আলাদ গুরুত্ব রয়েছে। তার প্রমাণ মেলে The Mirror (1997) ছবিটিতেও। এই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মিনা একদিন আবিষ্কার করে যে আজ তার মা আর স্কুল থেকে বাড়ীতে নিয়ে যেতে আসেননি। অগত্যা কী আর করা! নিজেই বাড়ীর পথে হাঁটা দিল। কিন্তু বাগড়া বাঁধে অন্যজায়গায়, ঠিকানাতো সঠিক মনে নেই! আধো-আধো পথ যতটুকু মনে পড়ে তাই ভরসা। অনেক পথচারীই তাকে সাহায্য করে আবার অনেকেই হয়ত অবাক হয়। ছবির মাঝামাঝি সময়ে “মিনা” চরিত্রটির রূপদানকারী “মিনা মোহাম্মদ খানি” যে কোন একটি ব্যাপারে মনঃক্ষুণ্ণ হয় এবং ছবিটিতে অভিনয় চালিয়ে যেতে অস্বীকার জানায় ও প্রকৃতঅর্থেই বাড়ী ফিরে যেতে চায়। এপর্যায়ে আমরা দেখতে পাই পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যান সহ ছবিটির ক্রুম্যানদের মিনা মোহাম্মদ খানির মান ভাঙানোর চেষ্টারত। এখানেই ছবিটির চমক, নির্মাণশৈলী ও গল্পে  অন্য ৮-১০ টা ছবি থেকে এটি সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। শেষ পর্যন্ত “মিনা” অথবা “মিনা মোহাম্মদ খানি”  যাই বলুননা কেন বাড়ী ফিরে যায়। এ যেন গল্প ও বাস্তব জীবনের এক অপূর্ব মিশেল! কোন সন্দেহ নেই, ছবিটিতে মিনা মোহাম্মদ খানি নামের শিশু অভিনেত্রীর অসামান্য অভিনয় আপনার মনে দাগ কেটে যাবে।

টরেন্ট লিংকঃ http://thepiratebay.se/torrent/7221468/The_Mirror__(1997)_-_Jafar_Panahi_____U_U_U__(U_U_U_U_)_-_____U____U_U___U_U_

 

 The Circle (2000)

The Circle (2000)

Imdb রেটিং : 7.3

এ যেন নারী সমাজের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের সেই চিরচেনা দৃশ্য।  মেয়ে আবার কন্যা সন্তান প্রসব করেছে তাই বৃদ্ধা মা চিন্তিত শ্বশুরবাড়ির চাপে মেয়েজামাই না আবার বিবাহ বিচ্ছেদ দিয়ে বসে! অবস্থা সামাল দিতে তাই মেয়ের চাচাদের ডেকে পাঠাণো হয়। ক্রমে ক্রমে গল্প আরও জটিল আকার ধারণ করে।  ছবিটি আপনাকে-আমাকে চারপাশের সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে এটুকু বলে দেয়া যায়।

টরেন্ট লিংকঃ http://thepiratebay.se/torrent/7187013/_The_Circle_-_Dayereh_-_Jafar_Panahi_-_Iran_-_2000

 


এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Rouf says:

    আল্লাহর কাছে আপনার জন্য দোয়া কর। আল্লাহ আপনার সকল দোয়া কবুল করুক। এই পোষ্টে আমার খুব উপকার হল।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন