Millenium Trilogy: মাস্ট ওয়াচ তিনটি সুইডিশ মিস্ট্রি-থ্রিলার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

millenium trilogy

স্টিগ লারসন এর মিলেনিয়াম ট্রিলজির বই তিনটি অনেকেই না পড়ে থাকলেও নাম শুনে থাকতে পারেন।বই তিনটি The Girl With The Dragon Tatto,The Girl Who Played With Fire এবং The Girl Who Kicked The Hornet’s Nest নামে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত।২০১৫ সাল পর্যন্ত এই বইগুলোর ৮ কোটি কপি বিক্রি হয়।এই বই তিনটি থেকেই ২০০৯ সালে মিলেনিয়াম সিরিজের ৩ টি সুইডিশ মুভি রিলিজ হয়।এছাড়া ২০১১ সালে ফাইট ক্লাব খ্যাত পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার The Girl With The Dragon Tatto এর আমেরিকান এডাপ্টেশন নির্মান করেন।মুভি নিয়ে কথা বলার আগে স্টিগ লারসন আর বইগুলোর গুরুত্ত্বপূর্ণ দুইটি চরিত্র নিয়ে কিছু কথা বলা জরুরি।স্টিগ লারসন ছিলেন সুইডিশ সাংবাদিক।তিনি নিজের টিনএজের একটা ঘটনার আলোকে বই তিনটি লেখেন।সেই বয়সে তার কয়েকজন বন্ধুকে একটি মেয়েকে ধর্ষন করতে দেখেন যার প্রতিবাদ করেননি তিনি।আর এ ঘটনা পরে তাকে ভীষণ পীড়া দেয়।পরে সেই মেয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে যান কিন্তু মেয়েটি তাকে ক্ষমা করেনি।সেই মেয়েকে চিন্তা করেই তার বইয়ে একটি অদ্ভুত চরিত্র রাখেন লিসবেথ সালান্ডার নামে।অন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ চরিত্রের নাম মিখাইল ব্লমকোভিস্ট যিনি লারসনের মতোই একজন সাংবাদিক।লারসন মিলেনিয়াম সিরিজের ১০টি বই প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনটি লেখার পরই মারা যান ২০০৪ সালে।বই তিনটিও প্রকাশিত হয় তার মারা যাওয়ার পর যথাক্রমে ২০০৫,’০৬ এবং ’০৭ সালে।তার এই চরিত্রগুলো নিয়ে ২০১৫ সালে সুইডিশ লেখক ডেভিড লেগারক্রেন্টজ The Girl In The Spider’s Web নামে এই সিরিজের চতুর্থ কিস্তি প্রকাশ করেন।বইটি ক্রিটিকদের কাছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়।এই বইগুলোর সাথে আমার পরিচয় ২০১১ এর বইমেলায়।এক বন্ধুর কথায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে দুইজন মিলে এই সিরিজের প্রথম ২টি বই কিনি।প্রথমটি আমার বন্ধু আর দ্বিতীয়টি আমি কিনি এভাবে দুইজন মিলে পড়ে ফেলি অসাধারণ দুইটি বই।তৃতীয়টির বাংলা অনুবাদ সম্ভবত তখনো বের হয়নি আর কেনাও হয়নি পড়াও হয়নি।এখন আর আগের মতো বই পড়ার ধৈর্য নেই তাই তিন নাম্বার বইটি না পড়েই মুভিটি দেখে ফেলেছি।আর মুভি দেখতে গিয়ে সেই পুরানো অভিজ্ঞতা বইয়ের অনেক কিছুই মুভিতে স্কিপ করে যাওয়া হয়েছে।এটাই স্বাভাবিক কারণ বইয়ের সবকিছু মুভিতে তুলে আনা সম্ভব নয়।বই নিয়ে অনেক কথা বললাম এবার মুভির প্রসঙ্গতে আসি।

1.The Girl With The Dragon Tatto 2009

আগেই বলেছি প্রধান দুইটি চরিত্রের নাম মিখাইল ব্লমকোভিস্ট আর লিজবেথ সালান্ডার।ব্লমকোভিস্ট মিলেনিয়াম নামক একটি সুইডিশ ম্যাগাজিনের সম্পাদক।সে একজন বিলিয়নিয়ার এর নামে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের জন্য আদালত দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তিন মাসের জেলের জেলের পাশাপাশি মোটা অংকের জরিমানার দায়ে দন্ডিত হয়।সে মিলেনিয়াম এর স্বার্থে মিলেনিয়াম থেকে সরে দাঁড়ায়।জেলে যাওয়ার আগে তার ছয় মাস সময় থাকে।
লিজবেথ সালান্ডার ২৪ বছর বয়সী একজন প্রফেশনাল হ্যাকার।সে মিখাইল ব্লমকোভিস্ট সম্পর্কিত তথ্য হ্যাক করে হ্যানরিক ভ্যাংগার নামক এক ক্লায়েন্ট এর উকিল এর কাছে দেয়।তার বেশভুষা একটু অদ্ভুত ধরনের।সে ১২ বছর বয়স থেকে সাইকিয়াট্রি হাসপাতালে ছিল।এখন তাকে রাস্ট্র থেকে নিযুক্ত গার্ডিয়ান এর আন্ডারে থাকতে হয়।আগের গার্ডিয়ান এর স্ট্রোক হওয়ায় তার থাকতে হয় নতুন গার্ডিয়ান জারম্যান এর কাছে।জারম্যান আবার এক সেক্সুয়াল সেডিস্ট।সালান্ডার কিভাবে এই সেডিস্ট গার্ডিয়ান এর কাছ থেকে মুক্তি পায় সেটা আর বিস্তারিত বলছিনা।

এদিকে হ্যানরিক ভ্যাংগার হলেন ৮২ বছর বয়সী একজন ধনী ব্যাক্তিত্ত্ব।তার ভাতিজি হ্যারিয়েট ভ্যাংগার ১৯৬৬ সালে ১৬ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়ে যান।কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পুলিশ তাকে না পাওয়ায় মৃত ঘোষণা করে।হ্যারিয়েট ভ্যাংগার নিখোঁজ হয়ে গেলেও হ্যানরিককে প্রতি জন্মদিনে যে ফুল পাঠাত এখনো প্রতি জন্মদিনে তার কাছে সেরকম একটা ফুল আসতে থাকে।তবে কি হ্যারিয়েট এখনো বেঁচে আছে?কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের এলাকা থেকে তার জীবিত পালিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল।কারো না কারো চোখে পড়ারই কথা।তাহলে এর রহস্য কি?এই রহস্য উদঘাটনের জন্য হ্যানরিক মিখাইলকে অনুরোধ করে।ঘটনাক্রমে মিখাইলের সাথে লিজবেথও আসে রহস্য সমাধানের জন্য।কিভাবে তারা সেই রহস্য সমাধান করে সেটাই জানা যাবে শ্বাসরুদ্ধকর এই মুভিতে।

2.The Girl Who Played With Fire 2009

আগের কিস্তিটা মূলত ব্লমকোভিস্টের মুভি হলেও এটা লিজবেথ সালান্ডারের মুভিই বলা যায়।এক বছর বাইরের বিভিন্ন দেশ ঘুরে লিজবেথ দেশে আসার পর পরপর তিনটি খুন হয়।তিনটি খুনের দোষই পড়ে সালান্ডারের উপর।তিনজন হচ্ছে তার গার্ডিয়ান জারম্যান,মিলেনিয়ামের এক তরুণ সাংবাদিক এবং তার গার্লফ্র্যান্ড।এদিকে ব্লমকোভিস্ট বুঝতে পারে লিজবেথকে ফাসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে।সালান্ডারের অতীতের সাহায্যের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে অভিযোগ থেকে মুক্ত করার জন্য ব্লমকোভিস্টও কাজে নেমে পড়ে।কে তাকে খুনের আসামী বানাতে চাচ্ছে কেনই বা করতে চাচ্ছে আর সালান্ডার এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে কিনা মুভিতে জানা যাবে।এটাও আগের মুভির মতো শেষ পর্যন্ত গিয়ে ধাক্কা দিবে।

3.The Girl Who Kicked The Hornet’s Nest 2009

এবার সালান্ডারের পিছনে লেগেছে section নামের একটি গ্রুপ যারা সালান্ডারকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণ করে আবার সাইকিয়াট্রি হাসপাতালে ফেরত পাঠাতে চায়।তারা চায়না সালান্ডার সোসাইটিতে থাকুক।এবারো সালান্ডারের জন্য এগিয়ে আসে ব্লমকোভিস্ট আর আনিকা নামে একজন আইনজীবি।ওই সংঘবদ্ধ গ্রুপের সাথে সালান্ডারের কি শত্রুতা আর সালান্ডার সোসাইটিতে থাকে নাকি হাসপাতালে চলে যায় সেটা জানা যাবে মুভিতে।

সুইডিশ ভার্শনের তিনটি মুভিই একটানা দেখে উঠার মতো।বই পড়া থাকলে দেখে আরো মজা পাবেন।মুভি দেখার ক্ষেত্রে ভালো হয় সবার আগে ফিঞ্চারের আমেরিকান ভার্শনটা দেখলে।কারণ আগে সুইডিশ ভার্শন দেখলে এটা ভালো নাও লাগতে পারে।আবার ডেভিড ফিঞ্চারের মতো নামি পরিচালকের মুভিও মিস করা উচিত হবেনা।সুইডিশ ভার্শনে তিনটি মুভিই বানানো হলেও আমেরিকানটাতে শুধু প্রথম মুভিটিই বানানো হয়েছে।


মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন