Jaan E Mann: গত ১৬ বছরের মধ্যে ক্লাসিক রোমান্টিক সিনেমা

13887035_745529172254282_1465724406721606360_nঅবশেষে দেখেই ফেললাম তুমুল সাড়া জাগানো ক্লাসিক এই মুভিটি।না দেখলে একটা অপূর্ণতা থেকেই যেত।

মুভিটা নিয়ে আলোচনা করার আগে যার জন্য এই মুভিটি ক্লাসিকের সম্মান পেয়েছে তাকে নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়।তিনি হচ্ছেন স্পিলবার্গের আইডল,স্করসিজের গুরু,জেমস ক্যামেরন টাইম মেশিনে করে ২০১২ সালে এসে যার ‘জোকার’ নামক আরেক মাস্টারপিস মুভি দেখে ১৯৮৬ সালে ‘এলিয়েনস’ বানানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন,ক্রিস্টোফার নোলান যার কাছ থেকে মাথা নষ্ট করা টুইস্ট দেওয়া শিখেছেন,কোয়ান্টিন টরেন্টিনো যার কাছ থেকে মুভিতে ভায়োলেন্স দেওয়া শিখেছেন সেই লিজেন্ড ডিরেক্টর স্যার শিরিশ কুন্দর।ইনার প্রতিভার কথা বলে শেষ করা যাবেনা।এই মুভিতেই যেমন তিনি ডিরেক্টর,রাইটার,স্ক্রিনপ্লে সব করেছেন।শুধু নায়কের রোলটাই করা বাকি ছিলো।তার সাথে এই মুভি করার পর সালমান খান গত সাত বছর ধরে বক্স অফিসের রাজা।অন্যদিকে শাহরুখ খান তাকে একবার চড় মারার পর এখন মুভিতো ফ্লপ হয়ই উল্টা মুভি রিলিজ দেওয়ারই ডেট পান না।কেন যে কুফা লাগাতে গেছিলেন!স্যার শিরিশ কুন্দর যে শর্ট ফিল্মেও কম যান না তার প্রমাণ কিছুদিন আগে কৃতি নামক এক শর্ট ফিল্মেই দেখিয়েছেন।কিন্তু এটা রিলিজ হওয়ার পর দেখা যায় তার আইডিয়া চুরি করে এক নেপালি পরিচালক তার আগেই আরেকটা শর্ট ফিল্ম বানিয়ে ফেলেছেন।এতে করে দর্শকরা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগে কপি-পেস্ট পরে অরিজিনাল জিনিস দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।এরকম একজন লিজেন্ড ডিরেক্টরের ক্লাসিক মুভিটা না দেখলে মুভি এডিক্ট হিসাবে একটা অপরাধবোধ থেকেই যেত।আর মুভিটা নিয়ে কিছু না লেখলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না।

যাই হোক মুভি শুরু হইলো।নাসার একটা স্পেসশিপে অক্ষয় কুমার একটা সাদা চুলওয়ালি মেয়েকে নিয়ে নাচতাছেন।স্পেসশিপে হলিউডের মুভিগুলোতে মারামারি করতে দেখেছি।শিরিশ স্যার মারামারির বলিউড ভার্শন নাচানাচি ঢুকিয়ে দিয়েছেন স্পেশশিপে।বুদ্ধির তারিফ না করে পারছিনা।নাচতে নাচতে অক্ষয় বাবুর মনে পড়ে আজকে তার এক বন্ধুর জন্মদিন যে পৃথিবীতে থাকে আরো ভালোভাবে বললে ইন্ডিয়ার মুম্বাইয়ে।এখন বন্ধুর কথা উঠায় সাদা চুলওয়ালিকে বন্ধুর গল্প শুনানো করলেন অক্ষয়।শুরু হলো ফ্ল্যাশব্যাক।

ফ্ল্যাশব্যাক এ গিয়ে দেখা গেলো তার বন্ধু হচ্ছে আমাদের সালমান খান বা সাল্লু ভাই।সাল্লু মিয়ার স্বপ্ন বিশাল বড় সুপারস্টার হবেন।একদিন সাল্লু মিয়ার উকিল চাচা অনুপম খের নোটিশ নিয়া আসেন যে সাল্লু ভাইয়ের সাথে তার বৌয়ের এক বছর আগে ডিভোর্স হয়ে গেছে কিন্তু ভাই একটা টাকাও দেন নাই এক বছরে।তাই ভাইকে এখন এককালীন ৫০ লাখ টাকা দেওয়া লাগবে।অনুপম খেরকে সব সময় পুরা মাথা টাক দেখলেও এখানে চুলের পরিমাণটা একটু বেশিই ছিল।এখানে শিরিশ স্যার আরেকটা কাজ করছেন।চুলের সংখ্যা বাড়িয়ে হাইটটা কমিয়ে তাকে বামুন বানিয়ে ব্যালেন্স করেছেন।পুরাই অস্থির অবস্থা!

এখন সাল্লু ভাই আবার কিভাবে ডিভোর্স হুইলো তার গল্প শুনানো শুরু করলেন।আবার ফ্ল্যাশব্যাক।এবার বুঝলাম ফ্ল্যাশব্যাকের ভিতর ফ্ল্যাশব্যাক দেওয়া নোলান সাহেব শিরিশ স্যারের কাছ থেকেই শিখেছেন।তো যাই হোক সালমান ভাই নায়ক হলেন।প্রযোজক বলে দিছেন ভাই যে বিবাহিত সেটা গোপন রাখতে কারণ নায়ক বিবাহিত জানলে নাকি দর্শকরা মুভি দেখেনা!তাই বৌয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে হবে।সালমান ভাইয়ের বৌ হলেন প্রীতি জিনতা।মুভি করতে গিয়ে সাল্লু ভাইয়ের আর কোন খোঁজ নাই দেখে প্রীতি চলে গেছেন ডিভোর্স দিয়ে।

ফ্ল্যাশব্যাক ২ থেকে এখন আবার চলে আসে ফ্ল্যাশব্যাক ১ এ।এখন ৫০ লাখ টাকা কই পাবেন সাল্লু ভাই?শেষে উপরওয়ালার কাছে দুয়া করতে থাকেন তাকে যেন কোন বোকা,গাধা,বলদ টাইপের কোন লোক এসে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে যায়।এসময় এন্ট্রি হয় অক্ষয় কুমারের।তিনি ওই বিশেষণগুলো পূরণ করতে পারেন কিনা সময়ই বলে দিবে।

অক্ষয় কুমার আসেন প্রীতি জিনতার ঠিকানায়।কিন্তু এসে দেখেন সে নাই।তার বাসায় সাল্লু মিয়া আর অনুপম খের।প্রীতি জিনতার সাথে অক্ষয় কুমারের কি সম্পর্ক?এখানে আসলো ৩ নাম্বার ফ্ল্যাশব্যাক।দেখা যায় কলেজ লাইফে প্রীতি জিনতার ক্লাসমেট ছিলেন অক্ষয়।তখন সাল্লু ভাই ইয়া লম্বা চুল রাখতেন আর গার্লফ্র্যান্ড প্রীতিকে নিয়ে বাইকে করে ঘুরতেন।তখন চুল লম্বা ছিল আর ফ্ল্যাশব্যাক ১ এ সাল্লু ভাইয়ের ছোট চুল দেখে চিনতে পারেন নাই :3 তো অক্ষয় ছিলেন ভদ্র ছেলে।একদিন বাইকে করে প্রীতির টোল পড়া হাসি দেখে ক্রাশ খেয়ে যান আর প্রতিদিন ক্লাসে তার সাথে বসেন।একদিন সাল্লু ভাই এসে প্রীতিকে বলেন তিনি ক্যাম্পাসে কনসার্টে পারফর্ম করবেন।সাল্লু ভাই রকস্টারও ছিলেন তাইলে!তিনি আবার ঠিক করে দিলেন প্রীতি যাতে অক্ষয়কে নিয়ে কনসার্টে আসে।বয়ফ্র্যান্ড তার গার্লফ্র্যান্ডকে অন্য কোন ছেলের সাথে কোথাও আসতে বলে এই ফার্স্ট দেখলাম।এদিকে অক্ষয় প্রীতির কাছ থেকে কনসার্টে কোম্পানি দেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে তো মনে করলেন আজ পাশা খেলে ফেলবেন।কিন্তু এদিকে শুরু হইলো গান।গানের মধ্যে অক্ষয় মিয়ার চশমা খুলে যাওয়ায় প্রীতি মনে করে এক ছেলের সাথে নাচা শুরু করছেন।চশমা খুলে ফেললে কেউ যে ছেলে মেয়ের পার্থক্যও ভুলে যায় এই প্রথম দেখলাম।চশমা পরে গার্লফ্র্যান্ড বয়ফ্র্যান্ড নাচানাচি দেখে ছেঁকা খাওয়া কান্না শুরু করে দিলেন।পরে এদের বিয়ে হয়ে যায় দেখে অক্ষয় কলেজ ছেড়ে চলে যান।

ফ্ল্যাশব্যাক ৩ শেষ।এখন আবার ফিরত ফ্ল্যাশব্যাক ১ এ।অনুপম খের আইনের বই ঘেটে বের করেন হিন্দু আইনে কোন বৌ ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে প্রথম জামাইয়ের কিছু দেওয়া লাগবেনা।তাই এরা বুদ্ধি করেন অক্ষয় কুমারকে প্রীতি জিনতার সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার।তাই অক্ষয়কে ফুসলিয়ে তারা বলেন নিউইয়র্ক গিয়ে প্রীতিকে বিয়ে করতে।সাথে সাল্লু ভাইও যান সাহায্য করার জন্য।নিজের বৌকে অন্য কেউ বিয়ে করায় সাহায্য করতে সম্ভবত ইতিহাসে প্রথমবার দেখালেন স্যার শিরিস কুন্দর।এরপর নিউইয়র্কে অনেক কাহিনীর পর আবার স্পেসশিপে ফিরত আসবেন।সাথে কিছু নোলানীয় টুইস্ট পাবেন মুভিতে।যারা দেখেননাই এরকম লিজেন্ডারি ক্লাসিক মুভিটি মিস করবেন না।

এই মুভিটি দেখার পর স্বয়ং লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও বলেছেন তিনি অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার আগে একবার হলেও স্যার শিরিশ কুন্দরের সাথে কাজ করতে চান।এজন্য যদি তার একমাত্র অস্কারও বিসর্জন দিতে হয় তাতেও তিনি রাজি।তার সাথে রোমান্টিক সিনেমা করলে সেটা টাইটানিককে ছাড়িয়ে যাবে এ কথাও বলেছেন।স্যার শিরিশ কি ক্যাপ্রিওর ডাকে সাড়া দিবেন?অপেক্ষায় থাকলাম।

এতক্ষণ শুধু জামাইয়ের মুভি নিয়ে প্রশংসা করলাম দেখে বৌ আবার রাগ করতে পারেন।তাই শিরিশ স্যারের বৌ ফারাহ খানের আরেক মাস্টারপিস হ্যাপি নিউ ইয়ার নিয়েও কিছু কথা বলবো অন্যদিন।

(Visited 168 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. একটা মাস্টারফ্লপকে তুমুল সাড়া জাগানো মুভি বলা এদের পক্ষেই সম্ভব 😂😂😂😂😂😂😂

  2. Romen Sabbir says:

    faltu review. ae shiris kundor akta director hoilo.faltu kotha joto shob.

  3. HK HK says:

    vi muvir link ta dan…..to…you tube a choltase na…apne link ta share koren..amraw aktu dakhi muvie ta

  4. পোলাপাইন পচাঁনিও বুঝতে পারে না!!! 😛

  5. Farhad Babu says:

    ভাই অস্হির এক রিভিউ।আমার দূর্ভাগ্য আমি একদিন সেট ম্যাক্সে এই মুভি দেখছি।

  6. Filmy Sunny says:

    Awesome review man(y) surprised to see that most of the people aren’t getting ur sarcasm 😀

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন