The Martian – নিঃসঙ্গ নভোচারীর গল্প – বিস্তারিত সমালোচনা

10256345_849399708480744_4333069872450384783_oএকসময় এমন যুগ ছিল, ভালো স্পেস এক্সপ্লোরেশন মুভি খুঁজতে গিয়ে শুধু ২০০১ঃ এ স্পেস অদিসি ছাড়া বিখ্যাত কোন মুভির দেখাই মিলত না। তারপরে কার্ল সেগানের লেখা চিত্রনাট্যে বানানো হল কনট্যাক্ট। এর পরেও সমালোচক ও দর্শকদের টানতে সক্ষম স্পেস এক্সপ্লোরেশন মুভি পাওয়া বিরল ছিল। সেখানে পর পর ৩ বছরে আমরা পেলাম গ্রাভিটি, ইন্টারস্টেলার ও দ্য মারশিয়ান।

2011 সালে অনলাইনে প্রকাশিত এন্ডি ওয়্যার এর নভেল এ নিকট ভবিষ্যতে মঙ্গলে একাকী নভোচারী কীভাবে তার ফিজিক্স ও জীববিদ্যার জ্ঞান ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন তা বর্ণনা করেন। সেদিক থেকে ইন্টারস্টেলার নিছকই কল্পকথা মনে হবে। অনেকের কাছে ছবির টোন এন্টি- ইন্টারস্টেলার মনে হতে পারে। অবশ্য রিডলি স্কট মুভিতে ভালই স্পেশাল ইফেক্টের কারিশমা দেখিয়েছেন। রিডলি স্কটের প্রমিথিউস মুভির বিভিন্ন এলিমেন্ট এখানে ব্যবহার করেছেন এমনভাবে, মনে হতে পারে দুটো স্পেসসিপই তার হাতে বানানো।


ছবির শুরু হয় মঙ্গলে এরিস – ৩ অভিযানের মাধ্যমে যেখানে মিশনের সবকিছুতেই মানুষ আছে। বাস্তবে এখনও নাসা মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর জন্য সাহস করে পারে নাই। সবচে জটিল কারণ হল, এখানে মহাকাশে থাকতেই হবে মঙ্গলে যাওয়ার আগে ৬ মাস ও মঙ্গলে যাওয়ার পরে ৬ মাস। এত দীর্ঘ সময়ে মানুষের দৈহিক ও মানসিক কি প্রভাব পড়ে তা এখনও বিজ্ঞানীরা জানেন না।

মঙ্গলে প্রায়ই বিশাল ধূলিঝড় শুরু হয় ও একই জায়গায় বছরের পরে বছর ধরে ধূলিঝড় হতেও দেখা গেছে। এমন অবিশ্বাস্য একটি ঘূর্ণিঝড় এসে মিশন পণ্ড করে দেয় ও ম্যাট ডিমন – নভোচারী উইটনি আলাদা হয়ে যান। মিশন কমান্ডার উইটনিকে মৃত ভেবে মূল স্পেসশিপে করে পৃথিবীতে রওনা দিয়ে দেন ও পৃথিবীতে তার এই সংবাদ প্রচার করা হয়।


এদিকে উইটনি অলৌকিভাবে বেঁচে গিয়ে নিজেকে গুরুতরভাবে আহত আবিষ্কার করে। এন্টেনা তার পেটে ঢুকে যায় ও সেখান থেকে রক্ত স্পেসস্যুটে আটকে গিয়ে প্রেসার ডিকম্প্রেশন এর হাত থেকে বেঁচে যায়। মঙ্গলের বেজ এ গিয়ে আবিষ্কার করে, এন্টেনা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর যোগাযোগের রাস্তা নেই। খাবার ও পানির ব্যবস্থা করে দেখে ৩০০ দিনের মত বাঁচার উপায় হতে পারে। এরপরে নিজের বাথরুমের বর্জ্যকে সার ব্যবহার করে মঙ্গলের মাটিতে আলুর চাষ করা শুরু করে। এমনটা আসলে সম্ভব কিনা তা জানা নেই, কারণ মঙ্গলের মাটি সম্পর্কে খুব অল্প ধারণাই আছে। এরপরে রকেটের জ্বালানী যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন, তা ব্যবহার করে চাষযোগ্য পানি বানানো শুরু করল উইটনি। বাই দ্য ওয়ে, মঙ্গলের বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কিন্তু খুব কম। কাজেই বেজের অক্সিজেন প্লান্টের অক্সিজেন ব্যবহার করতে হয়।

এর মধ্যে উইটনির কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করা শুরু করেছে পৃথিবী থেকে। উইটনির মনে পড়ল বিখ্যাত পাথফাইন্ডার মিশনের কথা যে মিশনে একটি রোভার (রোবট গাড়ি) পাঠানো হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর আগে পাঠানো হয়েছিল ষাটের দশকে মেরিনার ও পরে স্পিরিট ও অপরচুনিটি। পাথফাইন্ডার খুব কাছে থাকায় সেটি চালু করে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ শুরু করল। প্রতিটা স্পেসশিপের একটি করে টুইন থাকে পৃথিবীতে যা মঙ্গলের মত একই কাজ করে। এর মাধ্যমে শত কোটি মাইল দূরে থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়। যোগাযোগ স্থাপনের পরে উইটনির মনে বাঁচার জন্য নতুন ভাবে আশা জাগে।

এদিকে উইটনি এক্সিডেন্ট করে বসলে তার আলুর খামার নষ্ট হয়ে যায়। আবার পৃথিবীতে রকেট পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তখন আরেকজন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করে, হার্মিস মহাকাশযান, যা পৃথিবীতে আসছে তাকে পৃথিবীর গ্রাভিটি এসিস্ট ব্যবহার করে ঘুরিয়ে দিলে আরো বেশি গতিবেগ অর্জন করা যাবে ও মঙ্গলে আরো কম সময়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু এতে গতিবেগ এত বেশি হবে যে মহাকাশযান মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করবে না, তার আগেই অভিকর্ষ পার করে চলে যাবে। অর্থাৎ একটি ফ্লাইবাই। তাহলে ফ্লাইবাইতে উইটনিকে উদ্ধার করবে কীভাবে? উইটনিকে ফ্লাইবাই হওয়ার সময় উড়ে আসতে হবে। সেইসময় এরিস ৪ মিশনের জন্য একটি মডিউল স্পেসশিপ আগে থেকেই রাখা ছিল, যা ব্যবহার করে উইটনি উড়ে আসে। এই মডিউল আবার কাঙ্খিত গতিবেগ পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হাল্কা ছিল না। কাজেই অনেককিছু ফেলে বাদ দিয়ে ওজন হাল্কা করা হয়। শেষমেশ কোন প্রাণসং হার ছাড়াই মিশন সফলভাবে শেষ হয়।


সিনেমার উল্লেখ্য দিক, শন বিন মরে নাই!!! ইন্টারস্টেলার কাস্টের দুজন অভিনেতা জেসিকা চ্যাস্টেইন ও ম্যাট ডিমন এখানে আছেন। ম্যাট ডিমন ইন্টারস্টেলারে সারপ্রাইজ প্যাকেজ ছিল। এখানে ম্যাট ডিমন ONE MAN ARMY!!!

মজার বিষয় হল 1998 সালের Saving Private Ryan, গত বছরের ইন্টারস্টেলারে প্লটে ছিল ম্যাট ডিমনকে বাঁচানোর জন্য মিশন। দেখুন এই মজার ভিডিওটি!!!

বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি ম্যাট ডিমন গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছেন সেরা অভিনেতার জন্য। এর জন্য ম্যাট ডিমনের অস্কার নমিনেশনও প্রাপ্য।

The Martian (2015)
The Martian poster Rating: 9.1/10 (185 votes)
Director: Ridley Scott
Writer: Drew Goddard (screenplay), Andy Weir (book)
Stars: Kate Mara, Matt Damon, Jessica Chastain, Kristen Wiig
Runtime: 130 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi
Released: 02 Oct 2015
Plot: During a manned mission to Mars, Astronaut Mark Watney is presumed dead after a fierce storm and left behind by his crew. But Watney has survived and finds himself stranded and alone on the hostile planet. With only meager supplies, he must draw upon his ingenuity, wit and spirit to subsist and find a way to signal to Earth that he is alive.

(Visited 161 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মারটিয়ান অসাধারন এক ছবি। কিন্তু এই ছবিতে বিজ্ঞানের সাথে ক্লাশ করে এমন অনেক কিছুই দেখানো হয়েছে। মার্সে এইভাবে টিকে ঠাকা অসম্ভবের থেকে কয়েকগুন উপরে

  2. Ananda Khan says:

    এই লোকরে উদ্ধারের জন্য হলিউড আর কত খরচ করবে? সেই ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ থেকে শুরু! সবখানে শুধু এই ডে’মনই আটকা পরে ক্যান? :p

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন