ম্যানচেস্টার বাই দা সিঃ চিরাচরিত “হ্যাপিলি এভার আফটার” থেকে আরো বিশ্বাসযোগ্য এবং আরো বেশী তৃপ্তিদায়ক এক চলচ্চিত্র।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

manchester-by-the-sea-2016_0003

খুব কম সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই বিষাদ কাজ করে প্রেরণার শক্তি হিসেবে।অধিকাংশ মানুষের জন্য বিষাদ যেন এক অদমনীয় শক্তির মত যা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে হতাশা আর বিষণ্ণতার কফিনে বন্দি করে রাখার হুমকি দিয়ে যায়। চিত্রপরিচালক কেনেথ লোনেরগান ঠিক এই কথাগুলো যেন বলার চেষ্টা করেছেন ম্যানচেস্টার বাই দা সি চলচ্চিত্র দিয়ে। ছবিটি হচ্ছে বিষণ্ণতা এবং একাকীত্ব ডুবে থাকা মিতভাষী মানুষকে নিয়ে, যার বিষাদময় অতীত তার স্বাভাবিক সত্ত্বাকে আবৃত করে রেখেছে অনুভূতিহীনতার খোলসে। ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে সে ছুটে যায় তার হোমটাউন ম্যানচেস্টারে। তার জীবনের অনুভুতিহিন নগ্ন বাস্তব রুপ চিত্রায়িত হয়েছে ম্যানচেস্টার বাই দা সি চলচ্চিত্রে। স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের পাশাপাশি ইনসাইটফুল স্ক্রিপ্টের মাধমে সৃষ্টি হয়েছে এমন গল্পের যা আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও আসলে সেটা অনেক জটিল এবং একই সাথে বেদনাদায়ক।

MV5BYjRhYWIyMTUtZDZmNi00NmZhLTg1ZDktZjU1YmI0N2E5MjAwL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

 

বিষাদময় জীবনের কষ্ট আর হতাশার দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে গেলে বেশীরভাগ সময় সিনেমা হারিয়ে যায় মেলোড্রামা আর ম্যানিপুলেশানের রসাতলে; যা অনেক ভালো গল্পেরও সর্বনাশ ডেকে আনে। নাট্যকার কেনেথ লোনেরগান এমনটা হতে দেননি তার ছবিতে। ছবির কাহিনী তিনি তুলে ধরেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।দুঃখ-কষ্টে ভুগতে থাকা একজন মানুষের জীবন নিয়ে হিউমারে ভরপুর এরকম ছবি আমি আগে কখনও দেখিনি।

MV5BNjZhYjZkMzEtMjIxYi00N2I1LWFkMGUtZjlkOTMxZmY2NTQyL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

 

কিভাবে একজন মানুষ পারে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ট্রাজেডির মোকাবিলা করতে কিংবা সেগুলো বুকে চেপে বেচে থাকতে; লি চ্যান্ডলার নামের এমনই একটি চরিত্র অভিনয় করেছেন ক্যাসি অ্যাফ্লেক। তিনি এই সময়কার সবচেয়ে আন্ডাররেটেড অভিনেতাদের মধ্য একজন এতে কোন সন্দেহ নেই। যতগুলো ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন তার অধিকাংশেই ভালো অভিনয় দিয়ে নজর কেড়েছেন। বিশেষ করে মূল চরিত্রে করা তার প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ছিল প্রশংসনীয়। এই চলচ্চিত্রেও তার অভিনয় ছিল ভয়ংকর সুন্দর। পুরো সিনেমা জুড়ে তার চেহারায় ক্রোধ আর বিষণ্ণতার ছায়া ছিল তা ভোলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে গোল্ডেন গ্লোব এবং ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার বগলদাবা করেছেন। অবাক হবো যদি এবারের অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার যদি তার হাতে না উঠে।

MV5BNGZkZTZlYmMtNWU4OS00OWJkLWJjYjktZjcxZmFhNTY2M2M3XkEyXkFqcGdeQXVyMjc2NTc3NDA@._V1_SY1000_SX1500_AL_

আইস হকি, দুই গার্লফ্রেন্ড আর রক ব্যান্ড নিয়ে ব্যস্ত প্যাট্রিকের চরিত্রটি ছিল ঠিক লির উলটো।এই চরিত্রে খুবই ভালো করেছে লুকাস হেজেস। পার্শ্ব চরিত্রে গোল্ডেন গ্লোবে নমিনেশন না পেলেও অস্কারে নমিনেশন পেয়েছেন এবং জিতেছেন ছোটখাটো কিছু পুরস্কার। বাকি চরিত্রগুলো খুব অল্প সময় ছবিতে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে লি চ্যান্ডলারের এক্স-ওয়াইফ চরিত্রে করা অভিনেত্রী মিশেল উইলিয়ামস। খুব কম সময় উপস্থিত থেকেও তিনি এতো ভালো অভিনয় করেছেন যে ১৫ মিনিট থেকে কম সময়ে স্ক্রিনে উপস্থিত থেকে অস্কার নমিনেশন পাওয়া অভিনেতারদের তালিকায় নিজের নামটি বসিয়ে নিয়েছেন।
MV5BY2U0ZGY0N2MtYzM0MC00NTY2LWEyMWQtZjg2OWY1MmJmZTJmL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

চরিত্রগুলোর বাস্তববাদী অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক লোনেরগানের অন্তর্দৃস্টি সম্পন্ন চিত্রনাট্য এবং অনন্যসাধারণ পরিচালনা শৈলী ছিল ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক; বিশেষ করে লি আর তার ভাতিজা প্যাট্রিকের ঝগড়ার দৃশ্যগুলো, লির গাড়ি কোথায় পার্ক করেছে ভুলে যাওয়া, লির হাত থেকে চাবি পরে যাওয়ার দৃশ্য কিংবা লি আর তার প্রাক্তন স্ত্রীর মধ্যকার কনভার্সেশনের দৃশ্য গুলো দেখলে ভুলেও মনে হবেনা সেগুলো কারো নির্দেশনায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে। ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে গল্পের পটভূমি আর চ্যান্ডলারের এই অনুভূতিহীন অবস্থার পুর্বের স্বাভাবিক এবং সদাহাস্য রুপ তুলে ধরেন অন্তত দক্ষতার সাথে। তবে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছিল এর একটি বিউটিফুল মিস্টেক। অর্কেস্ট্রার করুন সুর দিয়ে পরিচালক ছবির বিষণ্ণতার পরিমাণ বাড়িয়ে চেষ্টা করলেও কিছু কিছু দৃশ্যের সাথে তা বড়ই বেমানান ছিল।

MV5BMTc4MTQxMTIwMl5BMl5BanBnXkFtZTgwNzM2NzE4OTE@._V1_SX1500_CR0,0,1500,999_AL_

সাধারণত আমরা যেসব চলচ্চিত্র দেখি, সেগুলোর মত গল্পের ধারাবর্ণনা কিংবা একশান এই চলচ্চিত্রের মুল উপজীব্য বিষয় না। এর মুল আকর্ষন ছিল ত্রুটিহীন সুক্ষ পরিচালনার পাশাপাশি চরিত্রগুলোর বাস্তবধর্মী অভিনয় আর সংলাপ বলার ধরন। দৈনন্দিন জীবনের যাঁতাকল থেকে এক মুহর্তের মুক্তি যারা খুঁজছেন সিনেমাটি তাদের জন্যে নয়। কারণ এটি আপনাকে নিয়ে যাবে লি চ্যান্ডলারের অনুভূতিহীন একঘেয়ে জীবন আর উদ্দেশ্যহীন জগতের গভীরে।তবে পেয়াজের খোশা ছেলার মত করে যখন তার বর্তমান পরিস্থিতির কারণ আপনার সামনে অনাবৃত হবে তখনই নিজের মধ্যে লির জন্য প্রচন্ড সহানুভূতির সৃষ্টি হবে।ছবিটি দেখার সময় আপনাকে জোর করে বসে থাকতে হবে না, পরিচালকের অকপটভাবে গল্প বলার ধরন আর চরিত্রগুলোর অসাধারণ অভিনয় আপনার অনুভুতিগুলোকে অদ্ভুতভাবে নাড়া দিয়ে যাবে।আর এই ছবির উপসংহার চিরাচরিত “হ্যাপিলি এভার আফটার” ধরনের নয়, আরো বিশ্বাসযোগ্য এবং আরো বেশী তৃপ্তিদায়ক কিছু।

MV5BZThhYWMyYWEtODRiMy00ZWUwLWJlYzMtMDhmNDE5ODAyZmU3L2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

টিভিয়াঃ চলচ্চিত্রটিতে প্রথমে ম্যাট ডেমনের পরিচালনার পাশাপাশি মূল চরিত্রে অভিনয় করার করার কথা ছিল। শিডিউল জটিলতার কারণ ম্যাট চলচ্চিত্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে দেন লোনেরগানকে এবং মূল চরিত্রটি দিয়ে দেন ক্যাসি আফ্লেককে। এক ইন্টার্ভিউতে পরিচালক বলেন যে চলচ্চিত্রটির আইডিয়া পুরোপুরি তার ছিলনা, ম্যাট ডেমন এবং জন ক্রাজিনস্কি তার হাতে গল্পটি ধরিয়ে দেন।

Manchester by the Sea (2016)
R রেটেড ড্রামা ফিল্ম

ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৫/৫
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.২/১০
মেটাক্রিটিকঃ ৯৬%
রোটেনটম্যাটোসঃ ৯৬% ফ্রেশ

আইএমডিবি লিংক
অ্যাওয়ার্ডস

Manchester by the Sea (2016)
Manchester by the Sea poster Rating: 8.4/10 (21,582 votes)
Director: Kenneth Lonergan
Writer: Kenneth Lonergan
Stars: Casey Affleck, Ben O'Brien, Kyle Chandler, Richard Donelly
Runtime: 137 min
Rated: R
Genre: Drama
Released: 16 Dec 2016
Plot: An uncle is asked to take care of his teenage nephew after the boy's father dies.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন