মার্ভেলে অন্তর্দন্দ্বঃ এক ব্যতিক্রমি গৃহযুদ্ধের গল্প (স্পয়লার রিভিউ)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

“An empire toppled by its enemies can rise again.

But one which crumbles from within…

that’s dead …forever.”

Captain America: Civil War

 

গত ৫ই মে মুক্তি পেল মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ১৩তম চলচিত্র ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার।ইতিমধ্যে সবারই জানার কথা, সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের জন্য কমিকবইয়ের কাহিনীগুলোতে মার্ভেল নিজস্ব কিছু পরিবর্তন এনেছে। এবং এই সিভিল ওয়ার ছবিটিও পুরোপুরি কমিকবইয়ের সিভিল ওয়ারের মত নয়।
কাহিনী সংক্ষেপঃ নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, সোকোভিয়া এবং লাগোস ব্যাটলে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনাইটেড নেশন এভেঞ্জার্স সদস্যদের “সোকোভিয়া চুক্তি” নামের একটি চুক্তিপত্রের আওতায় নিয়ে আসতে চায়।

” In accordance with the document at hand, I hereby certify that the below mentioned participants, peoples, and individuals, shall no longer operate freely or unregulated, but instead operate under the rules, ordinances and governances of the afore mentioned United Nations panel, acting only when and if the panel deems it appropriate and/or necessary. “

সোজা কথায় সামরিক বা অন্যান্য আইন রক্ষাকারী বাহিনীর মত এভেঞ্জার্সদেরও ইউ.এন-এর নিয়ম কানুনের অধীনে থাকতে হবে। এবং দ্বন্দ্বটা শুরু হয় এখানেই। টনি চুক্তির পক্ষে থাকলেও ক্যাপ্টেন আমেরিকা তাতে সই করতে অসম্মতি জানায়। এতে করে এভেঞ্জার্সরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়।

ব্যস! সিভিল ওয়ার?!

নাহ! যতটুকু সাধারন মনে হচ্ছে, আসলে ছবির কাহিনী এতটা সাধারণ ছিলোনা।এবং ছবি না দেখা পর্যন্ত সেটা বুঝবেন না।

 


 

মুলত ক্যাপ্টেন আমেরিকার ছবি হওয়া সত্ত্বেও এতে ক্যাপটেন আমেরিকা বাদেও আছে আরো অনেক সুপারহিরো।

 

 

1404136616030631087

টিম আয়রন ম্যানে ছিলঃ আয়রন ম্যান, ওয়ার ম্যাশিন, ব্লাক উইডো, ভিসন, ব্লাক প্যান্থার এবং স্পাইডারম্যান।

 


 

Captain-America-Civil-War-blue-team

আর টিম ক্যাপে আছেঃ ক্যাপ্টেন আমেরিকা, উইন্টার সোলজার, ফ্যাল্কন, স্কারলেট উইচ এবং অ্যান্টম্যান।

 


 

gallery-1461708070-civil5

চরিত্রগুলোতে অভিনয়ে করেছেন,
আয়রন ম্যান/টনি স্টার্কঃ রবার্ট ডাউনি জুনিয়র
ক্যাপ্টেন আমেরিকা/স্টিভ রজার্সঃ ক্রিস ইভান্স
ব্লাক উইডো/নাতাশা রোমানফঃ স্কারলেট জোহানসন
ওয়ার ম্যাশিন/জেমস রোডসঃ ডন চিডল
উইন্টার সোলজার/জেমস “বাকি” বার্নসঃ সেবাস্তিয়ান স্ট্যান
ফ্যাল্কন/স্যাম উইলসনঃ অ্যান্থনি ম্যাকি
স্কারলেট উইচ/ওয়ান্ডা ম্যাক্সিমফঃ এলিজাবেথ অলসেন
হক আই/ক্লিন্ট বার্টনঃ জেরেমি রেনার
ভিসনঃ পল বেটানি
অ্যান্টম্যান/স্কট ল্যাংঃ পল রুড
ব্লাক প্যান্থার/টি’চালাঃ চ্যাডউইক বসম্যান
স্পাইডারম্যান/পিটার পারকারঃ টম হল্যান্ড
হেলমুট জিমোঃ ড্যানিয়েল ব্রুহ্ল
শ্যারন কার্টারঃ এমিলি ভ্যানক্যাম্প
এভারেট কে. রসঃ মার্টিন ফ্রিম্যান
ক্রসবোনস/ব্রক রোমলোঃ ফ্রাংক গ্রিলো

ছবির পরিচালনায় ছিলেনঃ রুশো ব্রাদার্স


 

ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ উইন্টার সোলজারের পর আবার আমাদেরকে আরেকটি চমৎকার ছবি উপহার দিলেন রুশো ব্রাদার্স।

 

বরাবরের মত আয়রন ম্যান চরিত্রে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকা হিসেবে ক্রিস ইভান্স অনবদ্য অভিনয় করেছেন।তবে আমার বেশি ভালো লেগেছে স্পাইডারম্যান এবং ব্লাক প্যান্থারকে

 

স্পাইডারম্যান চরিত্রে টম হল্যান্ডের পারফর্মেন্স ছিল দারুন। আমাদের দেখা অন্য দুই স্পাইডারম্যান থেকে ভিন্ন। সে যতক্ষন স্ক্রিনে ছিল দুর্দান্তভাবে অভিনয় করে গেছে। তার সলো মুভির জন্যে প্রত্যাশা বেড়ে গেল। শেষ পর্যন্ত হয়তো এম.সি.ইউ এবং টম হল্যান্ডের হাত ধরে স্পাইডার-ম্যান তার রাইট ট্র্যাকে ফিরে আসবে। এবং আশা করছি স্পাইডারম্যান হোমকামিং আমাদের সবার প্রত্যাশা পূরণ করবে।

 

captain-america-civil-war-wallpaper-widescreen-107isq01k1

 

ব্লাক প্যান্থার/টি’চালা চরিত্রে চ্যাডউইক বসম্যানের অভিনয় সত্যি প্রশংসনীয়। রীতিমত সংশয়ে ছিলাম ব্লাক প্যান্থার হিসেবে সে কতোটুকু ভালো অভিনয় করবে। তার অভিনয় দেখে সে সংশয় দূর হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে টি’চালা বলতে চ্যাডউইককেই মনে পড়ছে। এখন শুধু তার একক চলচ্চিত্রের অপেক্ষা।

 

Black-Panther-Captain-America-Civil-War-Concept-Art

 

বাকি চরিত্রগুলো নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই, নিজ নিজ চরিত্রে ভালো অভিনয় করেছেন সবাই।

 

নিঃসন্দেহে এভেঞ্জারস ২.৫: এইজ আফটার আল্ট্রন,
আই মিন ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার এখন পর্যন্ত এই দশকের সেরা সুপারহিরো চলচ্চিত্র। সুপারহিরো এবং একশন জনরার মুভিপ্রেমিদের জন্য মাস্ট ওয়াচ।

 

আমার রেটিং ৪/৫।

 


 

Okey! Now brace yourselves;
Spoilers are coming.

 


 

ইতিমধ্যে যারা ছবিটি দেখে ফেলেছেন এই অংশটি শুধুমাত্র তাদের জন্য। যারা দেখেননি আর নিচের কিছু পড়তে যাবেন না।

 

ছবিটি প্রথমবার দেখার পর মাথায় কিছু প্রশ্ন জাগে। আমার মাথায়ও প্রশ্নগুলো এসেছে। আর, কোন ছবি দেখার পর আমার প্রথম কাজ হচ্ছে হিসে/স্ক্রিন জাঙ্কিস, ক্রিস স্টাকম্যান এবং আরও কয়েকজনের স্পয়লার রিভিউ ঘাটা। তাদের সবার রিভিউগুলোতে এই প্রশ্নগুলোর কিছু উল্লেখ ছিল। তবে দ্বিতীয়বার দেখার পর আমার নিজের কাছে অবশ্য ব্যপারগুলো মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে এসেছে। সেগুলো নিয়েই আলোচনা করবো।

 

প্রথমেই ধরবো এয়ারপোর্টের মারমারির দৃশ্য। অনেকের মতে ফাইটটি ফোর্সড ছিল। এবং দুইদলেরই মোটিভ তেমন ভালো ছিলনা। প্রথমে আমার কাছে এমন লাগলেও দ্বিতীয়বার ঠিক এমনটা মনে হয়নি। আমার মতে প্রত্যকেরই ভালোই মোটিভ ছিল।

 


 

আগে চুক্তির ব্যাপারে আসি। আয়রন ম্যানের কি কারন চুক্তি মেনে নেয়ার?

ছবির প্রথমাংশে একটি দৃশ্য আছে যেখানে দেখা যায় হিউম্যান রিসোর্সের একজন মহিলা নিজের ছেলের মৃত্যুর জন্যে দায়ী করছে টনিকে (এইজ অফ আল্ট্রনে সোকোভিয়ার ব্যাটলে প্রাণ হারায় তার ছেলে)। সেই দৃশ্যেই এক ধরণের অপরাধবোধ দেখা যায় টনির চেহারায়। তাছাড়া তার ভেতরের যে একধরনের অপরাধবোধ তৈরি হচ্ছে সেটা পূর্বের দুই ছবিতেও (আয়রন ম্যান ৩ এবং এইজ অফ আল্ট্রন) দেখানো হয়েছিল। এবং সে মনে করে তারা হয়তো মাঝে মধ্যে নিয়মের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই এভেঞ্জার্সদের নিয়মের ভিতরে আসা প্রয়োজন। যার জন্যে সে চুক্তির পক্ষে। আর ইউ.এন চায় বাকি এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতার করতে এবং সে তাই করবে।

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_00.27.37_[2016.05.16_02.22.47]

এখানে প্রশ্ন আসবে তাই বলে এতদিনের বন্ধুত্বের পর এতো সহজে টনি ক্যাপের বিরুদ্ধে লড়তে যায়?
আমারা দেখেছি কিভাবে আগে ছবিগুলোতে টনি এবং রজার্সের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। তবে একটা ব্যাপার লক্ষ করেছেন কিনা, টনি কিন্তু কখনও রজার্সকে পুরোপুরি রেস্পেক্ট করতোনা। প্রথম এভঞ্জারস ছবিতে ক্যাপকে লক্ষ করে টনিকে বিদ্রূপ করে বলতে দেখা যায়  “এর কথাই বাবা সারাক্ষণ বলতেন? একে তো মনে হচ্ছে হিমায়িত রাখলেই ভালো হত” 

 

cats

 

আর রজার্স নিজেও টনিকে সেভাবে পছন্দ করেনি, সে মনে করতে টনি চরম স্বার্থপর একজন মানুষ, যে সবকিছুতে আগে নিজের ভালো দেখে। এবং এভেঞ্জারসে দ্বিতীয় ছবিতে ক্যাপ এবং টনির মধ্যে কথোপকথনের এক পর্যায় টনিকে বলতে “পুরানো আমলি শোনাতে পারে, কিন্তু কারও অন্ধকার দিক না থাকলে আমি তাকে বিশ্বাস করতে পারি না”।  তাই ঘটনা যত উদ্ঘাটিত হচ্ছিল টনি মনে করতে শুরু করে তাহলে এই হচ্ছে ক্যাপের অন্ধকার দিক? তার পুরনো বন্ধুর জন্যে তার দুর্বলতা, যার বিষয় আসলে ক্যাপ সঠিক চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া জিমোর পরিকল্পনার ব্যপারে স্টার্ক কিছুই জানতোনা। তাই যখন সে পার্কারকে নিজের দলে ভেড়াতে যায় তখন ক্যাপ্টেনের সম্পর্কে সে পার্কারকে বলে “সে ভুল করছে, কিন্তু সেটা সে জানে না।এজন্য সে বিপজ্জনক। ”

 


 

ক্যাপ্টেনের চুক্তির বিপক্ষে যাওয়ার কারন কি?
ওয়ান্ডাকে বলা তার সেই কথা থেকেই অনেকখানি পরিষ্কার হয়ে যায় ব্যপারটি। “আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের জীবন বাঁচানো। কিন্তু সবসময় সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়না”। এবং তার মতে “চুক্তিতে সাইন করা মানে হচ্ছে ইউ.এন’র কাছে আমাদের অধিকার আত্মসমর্পণ করা। হয়তো আমাদেরকে এমন কোথায় যেতে বলা হবে যেখানে আমাদের যাওয়া উচিৎ নয় অথবা আমাদের এমন কোথাও যাওয়া দরকার সেখানে তারা আমাদের যেতে দিবেনা।” তাই ক্যাপ্টেনের মতে তারা হয়তো নিখুঁত না তবে তাদের জন্য স্বাধীনভাবেই থাকাটাই সবচে বেশি নিরাপদ, কোন চুক্তির আওতায় নয়।

 

1qJHOIn

 

 

পরে ভিয়েনার ইউ.এন কনফারেন্সে যে বোমা বিস্ফোরণ হয় তার জন্যে দায়ী মনে করা বাকি বার্নসকে যখন গ্রেফাতারের আদেশ দেয়া হয় ক্যাপ্টেন নিজেও কিন্তু প্রথমে তার বিরুদ্ধে ছিলনা, বরং সে নিজেই গিয়েছিল বাকিকে গ্রেফতার করতে। কারন সে মনে করে বাকিকে গ্রেফতারের জন্য সেই উপযুক্ত ব্যাক্তি।

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_00.22.38_[2016.05.16_02.26.00]

সোকোভিয়া চুক্তি নিয়ে হয়তো তাদের বিতর্ক চলতে থাকতো, হয়তো তর্কের এক পর্যায় রজার্স অবসরের সিদ্ধান্ত নিতো কিংবা হয়তো এক সময় চুক্তিতে সাক্ষর করতে রাজি হতো। কিন্তু বাকিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পর যখন ডঃ থিও ব্রোসার্ডের ছদ্ধবেশে হেলমুট জিমো বাকির উইন্টার সোলজার মোড একটিভেট করে তাকে মুক্ত করে দেয়। বাকি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। সেখানে একটি মারামারির দৃশ্য আছে।মারামারির একপর্যায়ে ক্যাপ্টেন বাকিকে সেখান থেকে গোপন এক জায়গায় নিয়ে যায়। এবং সেখানে বাকি ক্যাপ্টেনকে বলে যে সে ক্যাপকে চিনতে পারছে এবং তার মত আরও পাঁচজন উইন্টার সোলজার রয়েছে আর জিমো তাদের অবস্থান জানতেই এতোকিছু করেছে। সময়মত বাঁধা না দিলে, জিমো তাদেরকে একটিভেট করে দিবে এবং যার ফলাফল হবে ভয়ংকর। ক্যাপ্টেন প্রথমে টনিকে ডাকার কথা ভাবলে চুক্তির চাপে টনি কতটুকূ সাহায্য করতে পারবে এই ভেবে পরে সে আর টনিকে কিছু বলেনি।এবং ফ্যালকনের সাহায্যে একটি টিম গঠন করে জিমোকে থামানোর জন্যে।

 

a

 

প্রশ্ন আসতে পারে ক্যাপ নিজেই যখন আগে বাকিকে গ্রেফতার করতে যাচ্ছিল সেখানে সে বাকিকে কেন সাহায্য করবে।
এর কারন হচ্ছে বাকি যখন স্বীকার সে আর খুনাখুনি করবেনা এবং জিমোর পরিকল্পনা খুলে বলায় ক্যাপ তাকে বিশ্বাস করে এবং বুঝতে পারে জিমো তাকে আবার ব্রেইনওয়াস করায় এই ঘটনা ঘটেছে। তাই জিমোর পরিকল্পনা তুলে ধরতে এবং ভিয়েনার বিস্ফোরণের ব্যপারে বাকির ইনোসেন্স প্রমাণ করতে ক্যাপ বাকিকে সাহায্য করে।

 

রজার্স এবং টনির ব্যপারগুলো অনেকের কাছে পরিষ্কার থাকলেও সন্ধেহ করছেন বাকিদের মোটিভ নিয়ে এবং আসলেই কি এয়ারপোর্টের সেই মারামারি দৃশ্যের দরকার ছিল কি না?!

 


 

টিম আয়রন ম্যান

 

imgID64393729

 

আয়রন ম্যানঃ তার মোটিভ আগেই বলেছি তাও আবার ছোট করে বলছি। তাদের ব্যাটলে ঘটে যাওয়া কনসিকুয়েন্সের জন্য টনি নিজেদেরকে দোষারোপ করছে। সে মনে করে তাদের নিয়মের ভেতরে উচিৎ আর তারা যদি সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে পারে তাহলে টেরোরিস্টদের সাথে তাদের পার্থক্য কই থাকলো? আর চুক্তি চায় বাকি আর তার সহযোগীদের গ্রেফতার, টনি যায় তাদের গ্রেফতার করতে। এবং সে মনে করে ক্যাপ্টেন বন্ধুত্যের কারন অন্ধ হয়ে গেছে।।

 

ওয়ার ম্যাশিনঃ রোডস সরকারের লোক। সরকার যা চায় সে তাই করবে সেটা স্বাভাবিক।

 

ব্লাক উইডোঃ রোমানফ মনে করছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস চলে গেছে, সে তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চায়। এবং তার জন্যে সে যা করা দরকার করবে।

 

ভিসনঃ ভিসনের ব্যপারটা আসলে খুব সাধারণ। সে যেমন এইজ অফ আল্ট্রনে বলেছিল ” আমি জীবনের পক্ষে “। বাকি যাতে আর কোন খুন না করতে পারে তাই সে বাকিকে গ্রেফতার করতে চায়।

 

ব্লাক প্যান্থারঃ সে বাকিকে খুন করতে চায় কারণ সে মনে করে তার বাবার মৃত্যুর জন্য বাকি দায়ী।

 

স্পাইডারম্যানঃ আয়রন ম্যান তাকে বুঝিয়েছে ” ক্যাপ্টেন আসলে ভুল করছে কিন্তু সে মনে করছে সে ঠিক কাজটি করছে এবং তা তাকে বিপজ্জনক করে তুলছে। ” তাই সে টিম ক্যাপের সবাইকে ধরতে সাহায্য করতে চায়। আর সবাই জানে বাকি একজন সন্ত্রাসবাদী।

 


 

টিম ক্যাপ

 

civil-war-3

 

ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ ক্যাপটেন চায় জিমো বিপজ্জনক কিছু করার আগেই তাকে থামাতে, এবং ভিয়েনার বিস্ফোরণে বাকিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে।

 

উইন্টার সোলজারঃ সেও চায় জিমোকে থামাতে।

 

ফ্যাল্কনঃ ফ্যাল্কন ক্যাপকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে। এবং “যারা তোমাকে লক্ষ করে গুলি করে? তারা এক সময় আমকেও গুলি করা শুরু করবে।” ক্যাপকে দেয়া এই ডায়লগটি তার মোটিভ প্রমাণ করতে যথেষ্ট।

 

স্কারলেট উইচঃ সে তার ভয়ের কাছে হেরে যেতে চায় না। সে ক্যাপ্টেনকে বিশ্বাস করে আর সমর্থন করে। এবং সে চুক্তির বিপক্ষে।

 

হক আইঃ হক আই ক্যাপ্টেনেকে শ্রদ্ধা করে। সেও পুরোপুরি চুক্তির বিপক্ষে তাই সে অবসর নেয়। কিন্তু ওয়ান্ডার একমাত্র ভাই মারা গেছে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তাই সে ওয়ান্ডাকে সাহায্য করাতে সাহায্য করতে সে অবসর থেকে ফিরে আসে।

 

অ্যান্টম্যানঃ একমাত্র অ্যান্টম্যানের মোটিভই মনে হবে একটু হাস্যকর। তবে আসলে তার মোটিভ কিন্তু খুব ছোট ছিল না। মনে আছে কিনা ক্যাপের সাথে পরিচয় পর্বের সময় ক্যাপ তাকে জিজ্ঞেস করে “তোমাকে কি বলেছে আমরা কাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছি” সে বলেছিল “হ্যা কিছু পাগলাটে গুপ্তঘাতক”।তাই সে এসেছিল সেই পাঁচ উইন্টার সোলজারকে থামাতে টিম ক্যাপকে সাহায্য করতে।

 

এবং ক্যাপ্টেন আর অ্যান্টম্যানের কনভারসেশন থেকেই বোঝা যায় টিম ক্যাপ মুলত সেই পাঁচজন উইন্টার সোলজারদের থামানোর জন্যেই গড়া। তবে তারা বুঝতে পেরেছিল সামনে বাঁধা আসবে যার জন্যে তারা প্রথমে হেলিকপ্টারের ব্লাফ সিনটি তৈরি করে।

 


 

ভিলেন জিমোর আদৌ কি কোন রোল আছে এখানে?

ভিয়েনা বিস্ফোরণে বাকিকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর জন্যে দায়ী জিমো। সে বাকিকে না ফাঁসালে ক্যাপ্টেন গোপনে বাকিকে ধরতে যেতোনা এবং ঠিক তখনি কিন্তু বাকি ক্যাপ্টেনকে বলে সে ভিয়েনাতে ছিলোনা এবং ভিয়েনা্তে বিস্ফোরণটি সে ঘটায়নি।আর ক্যাপ কিন্তু বাকিকে ঠিক পালাতে সাহায্য করছিলনা। সে চাচ্ছিল কোন ধরণের খুনাখুনি ছাড়াই বাকিকে ধরতে।

 

তারপরই বাকিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পর উইন্টার সোলজার মোড রিএক্টিভের ঘটনা ঘটে। ডঃ থিও ব্রোসার্ডের ছদ্ধবেশে হেলমুট জিমো বাকিকে পর্যবেক্ষণ করতে আসে এবং সোলজার কোড ব্যবহার করে তাকে আবার ব্রেইন ওয়াস করে এবং আরও পাঁচ জন উইন্টার সোলজার এর অবস্থান জেনে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

 

168422

 

আর তার মানে হচ্ছে জিমো যদি বাকি না ফাঁসাতো তাহলে ক্যাপ্টেন গোপনে বাকিকে ধরতে যেতোনা। সোকোভিয়া চুক্তি নিয়ে তাদের বিতর্ক চলতে থাকতো হয়তো তর্কের এক পর্যায় রজার্স অবসরের সিদ্ধান্ত নিতো কিংবা হয়তো এক সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হতো।

 

এবং জিমোর ব্রেইন ওয়াসের পর যখন বাকি বার্লিন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ক্যাপ তাকে থামাতে যায় তখন জিমোকে পেয়ে সে জিজ্ঞেস করে “তুমি কি চাও” জিমো তখন উত্তর দিয়েছিল “একটি সাম্রাজ্যের পতন”।

 

আর জিমো চাইছিল ক্যাপ / টনি যাতে তাকে ফলো করে সাইবেরিয়া যায়। কারন জিমো ভালো করেই জানে সে তাদেরকে খুন করতে পারবেনা, তার থেকে অনেক শক্তিশালী লোকও সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই সে এমন একটা পরিকল্পনা করে যাতে এভেঞ্জারসরা একজন আরেকজনকে খুন করে। অত:পর যখন ক্যাপ আর বাকি সাইবেরিয়াতে পৌছায় এবং ততক্ষণে টনিও জিমোর পরিকল্পনা টের পেয়ে যায় এবং ইউ.এনের কাউকে না জানিয়েই ক্যাপ এবং বাকিকে সাহায্য করতে সাইবেরিয়া যায়। এবং জিমোর উদ্দেশ্য প্রকাশ পায় তার এবং ক্যাপের শেষের দিকের কনভারসেশনে। এভঞ্জারসদের মত দর্শকরাও ঠিক তখনি জিমোর উদ্দেশ্য বুঝতে পারে।

 

cats

 

ক্যাপঃ তুমি কাউকে হারিয়েছ।

জিমওঃ আমি সবাইকে হারিয়েছি। এবং তুমিও হারাবে।

 

এবং তখন বাকির একটি ফুটেজ দেখায় কিভাবে সে টনির বাবা মাকে হত্যা করেছিল। ফুটেজ দেখার পর টনি যেভাবে ক্যাপের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করেছিলা সে এব্যপারে কিছু জানতো কিনা সেই দৃশ্যটি ছিল ইমোশনালি অনেক শক্তিশালী।

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_02.02.26_[2016.05.16_02.41.48]

প্রথম থেকে ইচ্ছা করেই জিমোর পরিচয় রহস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল চরিত্রের স্বার্থেই, প্রথম দিক থেকেই তার পরিচয়, মোটিভ বা পরিকল্পনা দেখানো হয়ে গেলে ছবির শেষের শক্তিশালী দৃশ্য তৈরি করা যেতোনা। এমন কি এইজ অফ আল্ট্রেনেও যদি জিমোকে একবার করে দেখানো হতো তাহলেও তার রহস্যময় চরিত্র আর রহস্য থাকতোনা।এবং পরে যখন তার রহস্য তুলে ধরা হল রহস্য পরিণত হয় সহানুভূতিতে।

 

আমি মনে করি জিমোর মোটিভ এবং তার পরিকল্পনাগুলো ভালই শক্তিশালী ছিল। এবং শেষের দিকে তার এবং টি’চালার মধ্যের কথাগুলো তার আরও মোটিভ পরিষ্কার হয়ে উঠে। এবং ট’চালা তখনই বুঝতে পারে সে ভুল মানুষকে(বাকি খুন করতে যাচ্ছিল। ছবিতে জিমো তার ভুমিকা ভালোভাবেই তুলে ধরেছে। এবং সে কিন্তু সফল।

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_02.08.50_[2016.05.16_02.45.55]

তবে হয়তো তার চরিত্র আরো শক্তিশালী আর মোটিভেশনাল করে দেখানো যেত।কারন প্রথম দেখায় সে যা করছিল সেগুলো অস্বাভাবিক লাগছিল। এবং তাকে আরও স্ক্রিন টাইম দিলে হয়তো ভালো হতো। তার ব্যপারে যে প্রশ্নগুলো আসছে সেগুলো হয়তো তখন আর আসতোনা।

 

যে ব্যাপারটি আমার একদম ভালো লাগেনি সেটা হল আমি মনে করি ক্রসবোনসের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। আরেকটা ব্যপার আমার চোখে খারাপ লেগেছে সেটা হল তারা ভিসনের সদ্ব্যবহার করেনি। তাছাড়া এয়ারপোর্টের মারামারি দৃশ্যে হঠাৎ করে ভিসনকে অনেকক্ষণ দেখা যায়নি। ব্যপারটা কেমন জানি খাপছাড়া ছিল।

Crossbones

আর স্পাইডারম্যান এবং ব্লাক প্যান্থারের একক চলচ্চিত্র হয়তো আগে বের হলে ভালো হতো।কিন্তু তার মানে এই না যে চরিত্রগুলোর মোটিভ বিশ্বাসযোগ্য কিংবা আকর্ষণীয় ছিলনা। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান অসাধারণভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরেছেন।

 

স্পাইডারম্যানের সেই সংলাপটি অন্য একটি সংলাপ মনে করিয়ে দিচ্ছিল,

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_01.20.50_[2016.05.16_02.48.26]

 

“When you can do the things that I can, but you don’t, and then the bad things happen, they happen because of you.”

 

In other words

“With great power comes great responsibility.”

 

এবং জিমোর সাথে টি’চালার সেই সংলাপটিও ছিল খুব শক্তিশালী,

 

Captain.America.Civil.War.2016.1080p.TC.X264.Masteredition.Hive-CM8.mkv_snapshot_02.08.40_[2016.05.16_02.47.31]

 

“Vengeance has consumed you. It’s consuming them. I am done letting it consume me.”

 


 

ফুটনোটঃ একজন কমিকবুক মুভিপ্রেমী হিসেবে বলবো ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র। এবং উপরের তথ্যগুলো ফ্যানফ্যাক্ট বা কমিকবই থেকে তথ্য নিয়ে তৈরি ফ্যান থিওরি নয়। প্রত্যেক্টি তথ্য সিভিল ওয়ার এবং সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের অন্যান্য চলচ্চিত্রে থেকে তুলে ধরা।

Captain America: Civil War (2016)
Captain America: Civil War poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Anthony Russo, Joe Russo
Writer: Jack Kirby (comic book), Christopher Markus (screenplay), Stephen McFeely (screenplay), Joe Simon (comic book)
Stars: Scarlett Johansson, Chris Evans, Robert Downey Jr., Sebastian Stan
Runtime: N/A
Rated: N/A
Genre: Action, Sci-Fi, Thriller
Released: 06 May 2016
Plot: Following the events of the Age of Ultron, the collective governments of the world pass an act designed to regulate all superhuman activity. This polarizes opinion amongst the Avengers, causing two factions to side with Iron Man or Captain America, which causes an epic battle between former allies.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন