ডার্ক নাইট – এক বিনিদ্র কিংবদন্তির গল্প (Pain Rises)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

   I am Bane
A
nd I could kill you…
But death would only end your agony,
And silence your shame.
Instead, I will simply… BREAK YOU!

The Man Who Broke the Bat

The Man Who Broke the Bat

 

১৯৯৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৯৯৪ সালের অগাস্ট মাস পর্যন্ত ডিসি কমিকস বিশাল তিনটি সিরিয়াল কমিকস বই প্রকাশিত করে (বইগুলো যথাক্রমে নাইটফল, নাইটকুয়েস্ট এবং নাইটএন্ড আর বই তিনটা আসলেই অনেক মোটা মোটা)। নাইটফল কমিকসটির কথা মাথায় রেখেই ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে ‘ব্যাটম্যানঃ ভিনজেন্স অফ বেইন’ নামে যে কমিকস বই প্রকাশিত হয় তাতে চাক ডিক্সন, ডাগ ময়েঞ্ছ এবং গ্রাহাম নোলান কমিকস ওয়ার্ল্ডের কাছে বেইনকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই সালেরই এপ্রিল মাসে নাইটফল ট্রিলজির প্রথম যে কমিকস বই বের হয় তাতে বেইনের উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

 

নাইটফলে বর্ণিতঃ (!)  বেইনের জন্ম ক্যারিবিয়ান গণরাজ্যের সান্তা প্রিষ্কায় অবস্থিত এক দুর্গম কারাগার পেনা দুরাতে (পেনা দুরা = শক্ত পাথর)। ‘কিং স্নেইক’ নাম খ্যাত বেইনের জেল পলাতক পিতা এডমান্ড ড্যুরান্স যখন সান্তা প্রিষ্কার কারাগার থেকে পালায়, তখন সে সেখানকার দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে এমন ভাবে পরিচালিত করে যাতে তারা ড্যুরান্সের প্রাপ্ত শাস্তি তার অনাগত সন্তানের উপর চাপিয়ে দেয়।

 

বেইনের শৈশব এবং যুবক বয়সের অনেকাংশ কেটেছে কারাগারের দুর্বিসহ পরিবেশে হিংস্র অপরাধীদের সাথে। নারকীয় এই কারাগারের তার জীবনের প্রত্যেকটা দিন ছিল  ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাকে দিন কাটাতে হয়েছে প্রাণনাশের সংশয় নিয়ে । জীবনে এতো প্রতিকূলতার প্রভাবে তার ভেতর  টিকে থাকার এক শক্তিশালী মনোভাব আর সাহসের জন্ম নেয়। যার ফলস্বরূপ মাত্র আট বছর বয়সেই অন্য এক কয়েদীর মোকাবিলা করার সময় সে তার টেডি বেয়ার ‘অসিতো’র মাঝে লুকিয়ে রাখা ছুরি দিয়ে সেই কয়েদিকে হত্যা করে। কিশোর অবস্থায়ই প্রথম খুন করার পর কারাগারের ওয়ার্ডেন তার নাম দেয় ‘বেইন’।

 

যাই হোক, খুনের দায়ে ওয়ার্ডেন তাকে বিচ্ছিন্ন এক জেলকক্ষে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে বসে সে উপলব্ধি করে যে- তার সাহস, আত্মোৎসর্গ এবং তার শরীর আর মনের প্রচণ্ড জোরই তার বেচে থাকার  অবলম্বন। মাঝে মাঝে রাতে তার এই কক্ষটি পানিতে ডুবে যেতো সেই প্রতিকূল অবস্থায়ও সে নিজেকে টিকিয়ে রাখে। বিচ্ছিন্ন সেই কক্ষ থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই প্রচুর ট্রেনিং-এর পাশাপাশি সে বই পড়া চালিয়ে যায়। প্রতিভাধর শারীরিক শক্তি এবং স্বভাবগত বুদ্ধিমত্তা থাকার পরেও শারীরিক বৃদ্ধি এবং বুদ্ধির বিকাশের জন্যে সে তার কারারূদ্ধ দিন গুলো কাটিয়েছে ব্যায়াম করে এবং প্রচুর বই পড়ে। হাতের কাছে যতোগুলো বই পেয়েছে, সবগুলোই সে পড়েছে। সৈনাপত্যবিদ্যা, দর্শনশাস্ত্র, গণিত, ব্যাকরণশাস্ত্র ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয়ে সে জ্ঞ্যানার্জন করে। তাছাড়া সান প্রিস্কার ভৌগোলিক অবস্থানের কারনে সে ইংরেজি ছাড়াও স্প্যানিশ, পর্তুগিজ এবং লাতিন ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতো।

 

এক সময় সে পরিণত হয় পেনা দুরার ত্রাসে। সে নিজেকে প্রতিষ্টিত করে সেখানকার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর  ব্যক্তি হিসেবে। সে হয়ে যায় ‘কিং অফ পেনা দুরা’। কারাগারে জম্বি এবং ট্রগ নামের আরো দুই কয়েদি বেইনের সহকারি হিসেবে সবসময় সাথে ছিল। সে নিজেকে গড়ে তুলে এক পরম মরনাস্ত্রে যার ভয়ে কারাগারের প্রহরীরাও আতঙ্কিত থাকতো।

 

ব্যাপারটি কারাগার নিয়ন্ত্রণকারীদের চোখে পরে। তারা তখন আরেক সুপার ভিলেন ডঃ হুগো স্ট্রেঞ্জের তৈরি স্টেরয়েড জাতীয় একধরনের রহস্যম্য ড্রাগ ভেনম দিয়ে মহাক্ষমতা সম্পন্ন সৈনিক বানানোর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিল। গবেষণাটি পরিচালনা করছিল এক পাগল মনোবৈজ্ঞানিক। তারা বেইনকে বাধ্য করে সেই গবেষণার টেস্ট সাবজেক্ট হতে।  বেইনের শরীরে ভেনম  পুশ করার পরপরই আগের বহুসংখ্যক সাবজেক্টের মত বেইনেরও মরনপ্রায় অবস্থা হয়। চেতনাহীন বেইনকে মৃত মনে করে তাকেও সাগরে ফেলে দেয়া হয়। বেইন বেঁচে যায় বটে এবং ভেনম  তার শারীরিক শক্তি আশ্চর্যজনকভাবে বাড়িয়েও দেয় তবে তাকে প্রতি ১২ ঘণ্টায়  একবার করে ড্রাগটি নিতে হতো না হলে বিরূপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতো। মুক্ত বেইন পরবর্তীতে পুনরায় কারাগারে ফিরে আসে এবং ওখানকার ওয়ার্ডেনকে জিম্মি রেখে তার সহচারীদের মুক্ত করে নিয়ে যায়। ষাটের দশকের রক ব্যান্ডের নামানুসারে তার তিন সহচারীর নাম ছিল জম্বি, ট্রগ এবং বার্ড। ।

 

প্রায় রাতেই বেইন বাদুড় নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখতো।কারারুদ্ধ থাকাকালিন সময় তার সহকারি বার্ড  বেইনকে গথাম শহরের ব্যাটম্যান নামধারি এক দানবের কথা বলে। বেইন মনে করতো এই সেই পৈশাচিক দৈত্য যে তাকে দুঃস্বপ্নে তাড়া করে বেড়ায়। জেল থেকে পালানোর পরই সে আঘাত হানে গথাম শহরে। সে বুঝতে পেরেছিল ব্যাটম্যানের উপর সরাসরি আঘাত হানাটা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তাই প্রথমে সে আঘাত হানে আরখাম এসাইলামে। এবং সেখানকার মানসিক বিকারগ্রস্ত ক্রিমিনালদের (দ্য জোকার, দ্য রিডলার, হার্ভে টু ফেইস, স্কেয়ার ক্রো, ম্যাড হ্যাঁটার, ভেন্ট্রিলোকুইস্ট, ফায়ার ফ্লাই, পয়জন আইভি, কর্নেলিয়াস স্টির্ক, ফিল্ম   ফ্রিক এবং ভিক্টর স্যাজস) পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। পালিয়ে যাওয়া ক্রিমিনালদের ধরে আনার অভিযানে নামতে বাধ্য হয় ব্যাটম্যান। তিন মাসব্যাপী অভিযানের পর অবসন্ন ব্যাটম্যান ও্যেয়েইন ম্যানরে ফিরে দেখে বেইন তার জন্য অপেক্ষা করছে। বেইন ব্যাটম্যানের উপর আক্রমণ চালায়। মারামারির এক পর্যায়ে বেইন ব্যাটম্যানকে তুলে নিজের হাটু দিয়ে ব্যাটম্যানের পিঠে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। ব্যাটম্যান শরীর এবং মানুষিক আত্মবিশ্বাসকে পঙ্গুর করে দেয়। যার জন্য তাকে ডাকা হয় ‘The Man Who Broke the Bat’। (সংগৃহীত)

 

এই পর্যন্ত ব্যাটম্যান নিয়ে তৈরি দুইটি চলচ্চিত্রে বেইনকে নিয়ে আসা হয়। যার প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। জুয়েল শুমাখারের নির্মিত ‘ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন’ চলচ্চিত্রে বেইনকে দেখানো হয় মস্তিষ্কহীন এক মহাশক্তিধর দানব হিসেবে যা বেইনের চরিত্রের উলটো। ভেনমক্রিয়া আর অতিকায় বিশালাকার শরীর দেখালেও বিরক্তিকর সেই চলচ্চিত্রে দেখে মনে হয়েছিল যে বেইনকে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে হাসির বস্তু হিসেবে। তবে ২০১২ সালে আমাদের সবার সুপরিচিত এবং জগত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান তার ডার্ক নাইট ট্রিলজির শেষ চলচ্চিত্র ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেসে‘ পুনরায় বেইনকে নিয়ে আসেন। এবং  তিনি তার চলচ্চিত্রে বেইনের চরিত্র মোটামুটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি বেইনের উৎপত্তি সম্পর্কে মুল কাহিনীর সাথে মিল রেখেই একটি আলাদা ধারণা দিয়েছেন। (সেটা নাহয় মুভি দেখার সময়ই শুনে নিবেন)


 

আসা যাক মুল বিষয়ে,
দ্য ডার্ক নাইট রাইজেসে

The Dark Knight Rises

The Dark Knight Rises

IMDb: 8.6/10 (Top 250 #54)
Rotten Tomatoes: 88% (Audience: 94% )
আমার রেটিংঃ ৪.৫/৫
ডাউনলোড লিংকঃ http://goo.gl/U9jqRV

নোলান পরিচালিত ডার্ক নাইট ট্রিলজির এটাই ছিল শেষ মুভি।
চলচ্চিত্রটি প্রকাশ পায় ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ।

কাহিনী সংক্ষেপঃ হার্ভে ডেন্টের মৃত্যুর আজ প্রায় আট বছর।

The Dark Knight Rises (2012).mp4_snapshot_00.08.07_[2014.12.03_23.58.04]

গত আট বছরে একবারও গথামের রাস্তায় দেখা যায়নি ব্যাটম্যানকে। কেনই বা দেখা যাবে? গথামের হোয়াইট নাইট হার্ভে ডেন্টের মৃত্যুর জন্য দায়ি তো ব্যাটম্যানই।

The Dark Knight Rises (2012).mp4_snapshot_00.43.59_[2014.12.04_00.02.10]
অনেকদিন ধরে ছোটখাটো ক্রাইম ছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটেনি গথাম শহরে। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় লিগ অফ স্যাডোর প্রাক্তন সদস্য বেইন নামক এক মুখোশধারী ক্রিমিনাল দলবল নিয়ে গথাম স্টক এক্সচেঞ্জে হামলা চলায়।

batman

ডাকাতি শেষে সে যখন পালানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।ঠিক তখনি প্রায় আট বছর পর গথামের রাস্তায় আবার দেখা যায় ব্যাটম্যানকে।বেইনকে ধরতে আবার গথামের রাস্তায় নেমে এসেছে ব্যাটম্যান। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত দেখা দেয়। বেইনকে রেখে পুরো পুলিশ ফোর্স এবার হার্ভের খুনি ব্যাটম্যানকে ধাওয়া করা শুরু করে। বেইনকে ধরবে? নাকি নিজেকে মুক্ত করে পালাবে ব্যাটম্যান?

The Dark Knight Rises (2012).mp4_snapshot_00.53.52_[2014.12.04_00.14.05]

আর শুধুই স্টক এক্সচেঞ্জে ডাকাতি করতেই গথামে এসেছে বেইন? কখন, কোথায় আবার আঘাত হানবে সে?

The Dark Knight Rises (2012).mp4_snapshot_01.11.28_[2014.12.04_00.17.18]

এদিকে আপন প্রাণ বাঁচাতে ব্যাটম্যানকে এ কোথায় নিয়ে আসলো সেলিনা ক্যেইল? কি পরিণতি হয় সেখানে তার?

The Dark Knight Rises (2012).mp4_snapshot_01.37.21_[2014.12.04_15.07.07]

শেষমেশ ব্যাটম্যান কি পেরেছিল হিংস্র বেইনের হাত থেকে তার প্রাণের শহর গথামকে বাঁচাতে?


অভিনয়ে ছিলেন…
ক্রিস্টিয়ান বেইল – ব্রুস ওয়েইন
মাইকেল কেইন – অ্যালফ্রেড পেনিওর্ত
গ্যারি ওল্ডম্যান – কমিশনার জিম গর্ডন
মরগান ফ্রিম্যান – লুসিয়াস ফক্স
মারিওন কটিয়ার – মিরান্ডা টেইট
টম হার্ডি – বেইন
অ্যান হ্যাথয়ে – সেলিনা ক্যেইল
মাথিও মডিন – ফলি

বরবরে মত,
চিত্রনাট্য- ক্রিস্টোফার নোলান এবং ডেভিড এস. গয়্যার
কাহিনী- ডেভিড এস. গয়্যার
সিনেমাটোগ্রাফি- ওয়ালী ফিস্টার

অ্যাকশন ব্যপারটা কখনই নোলানের চলচ্চিত্রের মুল ভিত্তি ছিল না। এবং আমি বলবো আগের দুই চলচ্চিত্রের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে ওইগুলোর কাহিনীর কাছে দ্য ডার্ক নাইট রাইজেসের কাহিনি খানিকটা হলেও দুর্বল। যাইহোক হতাশ হওয়ার কিছু নাই। এই চলচ্চিত্রেও ছিল চিন্তাভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মত কিছু দৃশ্য। বরাবরের মত চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, এফেক্টস গুলো ছিল অসাধারণ। কাহিনীর তুচ্ছ দুর্বলতাগুলোও ক্রিস নোলান স্পেসিয়াল এফেক্টস এবং দুর্দান্ত ক্যামেরা ওয়ার্ক দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন।

এবারেও মিঃপারফেকশনিস্ট ক্রিস্টিয়ান বেইলের অভিনয় ছিল দুর্দান্ত।
সেলিনা ক্যেইল চরিত্রে নিজেকে যথাসম্ভব ফুটিয়ে তুলেছেন অ্যান হ্যাথয়ে। চরিত্রটির সাথে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি।
মিরান্ডা চরিত্রে মারিওন কোটিয়ার পারফরম্যান্স তেমন ভালো ছিল না। অবশ্য ঐ চরিত্রটিতে প্রতিভাবান এই ফরাসি অভিনেত্রীর আহামরি অভিনয় দেখানোর খুব একটা সুযোগও ছিল না।


আগের লেখা গুলোতে ক্রিস নোলান, ক্রিস্টিয়ান বেইল, মাইকেল কেইন এবং মরগান ফ্রিম্যান সামান্য কিছু বর্ননা দেয়ায় এবারে এদের নিয়ে আর কিছু লেখছিনা।

যাকে নিয়ে এবার না বললেই নয়!
তিনি হলেন

গ্যারি ওল্ডম্যান /কমিশনার জিম গর্ডন

গ্যারি ওল্ডম্যান / কমিশনার জিম গর্ডন

গ্যারি ওল্ডম্যান / কমিশনার জিম গর্ডন

গর্ডনবিহীন ব্যাটম্যান চলচ্চিত্র কল্পনা করা কষ্টকর। ব্রুসের মা-বাবা মারা যাওয়ার পর পুলিশ অফিসার গর্ডনই ব্রুসের গায়ের তার পিতার কোট জড়িয়ে দিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল ‘Its Okey’। সেই পুলিশ অফিসার গর্ডন এখন কমিশনার গর্ডন। শুরু থেকেই বিভিন্ন কেসে একসাথেই কাজ করে ব্যাটম্যান এবং গর্ডন। যদিও গর্ডন জানতোনা ব্যাটম্যানের আসল পরিচয় তবুও ব্যাটম্যান ছিল তার খুব কাছের বন্ধু। দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজির এই চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন স্বনামধন্য অভিনেতা গ্যারি ওল্ডম্যান। তিনি একজন ব্রিটিশ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার জন্ম ১৯৫৮ সালের ২১শে মার্চ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। তার প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘রিমেম্বারনেস’। এবং ১৯৮৬ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সিড এন্ড ন্যান্সি’তে তিনি মুল চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাসমূহ হচ্ছে: ড্রাকুলা, লিওনঃ দ্য প্রফেশনাল, ব্যাটম্যান বিগিন্স, দ্য ডার্ক নাইট এবং দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস।


টম হার্ডি/বেইন

টম হার্ডি/বেইন

টম হার্ডি
একজন ব্রিটিশ অভিনেতা।
জন্মঃ ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ (বয়স ৩৭), হ্যামারস্মিথ, লন্ডন, ইংল্যান্ড।
ডাকনামঃ টম
পুর্ণ নামঃ টম থমাস হার্ডি
উচ্চতাঃ ১.৭৫ মিটার
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রঃ লেয়ার কেইক, রক’ন রলা, স্টারটেক নেমেসিস, ইন্সেপ্শন ওয়ারিওর, লোলেস,  দিস মিনস ওয়ার এবং দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস।

তার অভিনয় জীবন শুরু ‘দ্য ব্যান্ড অফ ব্রাদার্স’ নামক টিভি মিনি সিরিজ দিয়ে এবং তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ব্লাক হাক ডাউন’। ক্রিস নোলান তার চলচ্চিত্রে বেইনের চরিত্রে নিয়ে আসেন  টম হার্ডিকে। তাকে নিয়ে আসার কারন ছিল তার দরকার ছিল হার্ডির মতই একজন অ্যাক্টর যে চরিত্রের স্বার্থে তার পুরো শরীর ব্যবহার করতে পারবে । স্ক্রিপ্ট না পড়েই টম চরিত্রটি করতে রাজি হয়ে যান।কেননা ব্যাটম্যান  তার শৈশবের নায়ক।স্ক্রিপ্টের সাথে তাকে বেইনের যে সংস্করণ এর বাইরে বেইনের চরিত্রের অন্যান্য সংস্করণ সম্পর্কে তার তেমন একটা ধারণা ছিলোনা । হার্ডি বলেন ‘আমি যখন প্রথম বেইনের কথা শুনলাম তখন অনেক মানুষের মত আমারও বেইন সম্পর্কে  তেমন একটা ধারণা ছিলোনা।তাই নিজের কাছেই চরিত্রটির ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। তো আমি বেইন সম্পর্কে অনুসন্ধান করলাম তার মুখোশ তার কুস্তির টাইট প্যান্ট আর বিশাল পেশী দেখেই আমার মনে হলো নোলান ভুল মানুষের কাছে এসেছেন ‘Because I can’t play …I don’t play that.’ ’অবশেষে টম নোলানের বেইন সংস্করণের ব্যাখ্যায়ন ভালো করে পড়েন এবং বেইনের ইতিহাস তলিয়ে দেখে নতুন কিছু তুলে আনা চেষ্টা করেন। হার্ডির বেইন ভার্সন প্রধান বেইন চরিত্রের নেপথ্যের কিছু বিবরণ এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি মনে করতেন কিছু মানুষ হয়তো তার তুলে ধরা এই নতুন ব্যপারগুলো মেনে নাও নিতে পারে তবে তিনি আশা করেছিলেন যে সমর্থকরা চরিত্রের তারতম্যটা তলিয়ে দেখবে আর সেটা গ্রহন করে নিবে। চরিত্রটির স্বার্থে হার্ডিকে তার ওজন ৩০ পাউন্ডসের মত বাড়াতে হয়েছিল। টমের উচ্চতা ৫ ফিট ৯ ইঞ্চি অন্যদিকে বেইল এবং ফ্রিমানের উচ্চতা ৬ ফিটের উপরে, তাই সমতা আনার জন্যে হার্ডিকে প্রায় ৩ ইঞ্চি উচু লিফটস পড়তে হয়েছিল। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ চলচ্চিত্রে জোকার চরিত্রে অভিনয় করার সময় হিথ ল্যাজার যে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন তার তুলনায় টম হার্ডি ঠিক ততোটা পাননি। তবুও চলচ্চিত্রের হাতেগোনা কিছু দৃশ্যের ডায়লগ ছিল সেই মুহূর্তে তৈরি করা। বিশেষ করে এক দৃশ্যে একটি কিশোর যখন গথামের  জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করছিল তখন বেইনের ‘That’s a lovely, lovely voice.’ ডায়লগটি অন সেটে তৈরি করা। তাছাড়া বেইনের কন্ঠে তিনি একটি ব্যতিক্রম ভাব আনার চেষ্টা করেন। লক্ষণীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে টমের শরীরে ট্যাটু। তার সারা শরীরে রয়েছে প্রচুর ট্যাটু। মনে হতে পারে তার ট্যাটু গুলো আসলে নকল যার কারনে তাকে বেইন চরিত্রে দেখা গেছে ট্যাটুবিহীন শরীরে। আসলে তখনই তিনি মেকআপ ব্যবহার করেন; ট্যাটু ঢেকে রাখার জন্যে। যাই হোক, চলচ্চিত্রে টম হার্ডির অভিনয় ছিল প্রশংসনীয়। তিনি তার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।


বাই দ্য ও্যেয়ে

I AM BATMAN

Sheldon_Cooper_by_Smile4Purple


যারা পূর্ববর্তি পোস্ট মিস করেছেন। নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

bioscopeblog.net/jakaria/20289 

bioscopeblog.net/jakaria/22271

 

 

The Dark Knight Rises (2012)
The Dark Knight Rises poster Rating: 8.6/10 (857,266 votes)
Director: Christopher Nolan
Writer: Jonathan Nolan (screenplay), Christopher Nolan (screenplay), Christopher Nolan (story), David S. Goyer (story), Bob Kane (characters)
Stars: Christian Bale, Gary Oldman, Tom Hardy, Joseph Gordon-Levitt
Runtime: 165 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure
Released: 20 Jul 2012
Plot: When Bane, a former member of the League of Shadows, plans to continue the work of Ra's al Ghul, the Dark Knight is forced to return after an eight year absence to stop him.

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ডার্টি হ্যারি ডার্টি হ্যারি says:

    আগের লেখা দুটা পড়ে শেষটার অপেক্ষায় ছিলাম। ধন্যবাদ লিখে ফেলার জন্য। :)

  2. আইম্যান আইম্যান says:

    ডার্ক নাইট ট্রিলজির শেষটা যেমন ভাল লেগেছিল। এই ট্রিলজি তোমার এই লেখাটাও খব ভাল লাগল। :)

  3. অবশেষে পড়লাম। :) দারুন পোষ্ট।

  4. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    অসাধারন এই লেখাটা এতদিন পরে পড়লাম বলে দুঃখিত। দারুন লেখনি। এমন করে যে লিখতে পারে তার কাছ থেকে লেখা পাওয়া তো দেখছি দুষ্কর। আরো অনেক অনেক লেখা চাই।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন