ডার্ক নাইট – এক বিনিদ্র কিংবদন্তির গল্প (Chaos Falls)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Beyond Evil There is Insanity

Beyond Insanity There Is The Joker

dc-comics-joker-arkham-asylum-gates-poster-TRrp5760

দ্য জোকার

১৯৪০ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ব্যাটম্যান কমিকসের প্রথম ইস্যুতে ডি.সি. কমিক বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দেয় এক মনস্তাত্ত্বিক সুপার ভিলেনের সাথে; যার নাম ‘দ্য জোকার’। শুরুর দিকে তাকে ইভিল কোর্ট জেস্টার হিসেবে তুলে ধরলেও চরিত্রের অতিরিক্ত ভাঁড়ামির জন্যে তাকে ভিলেন হিসেবে বাদ দেয়া হয়েছিল।

জোকারের সৃষ্টির পেছনে অবদান হচ্ছে জেরি রবিনসন, বিল ফিঙ্গার এবং বব কেইনের। তবে জোকার চরিত্র নির্মাণের পেছন কার কৃতিত্ব বেশি এই বিষয়টা বিতর্কিত কারণ জেরি রবিনসন এবং বব কেইন দুজনেই নিজ নিজ কৃতিত্ব দাবি করেন। কিন্তু কাহিনী লেখার পিছনে ফিঙ্গারের অবদানের কথা স্বীকার করেন দুজনেই।

এই বিষয়ে বব কেইন বলেছিলেন―
“ জোকারের সৃষ্টি করছিলাম আমি আর বিল ফিঙ্গার। বিল কাহিনী লিখতো আর জেরী রবিনসন জোকারের প্লেয়িং কার্ড ব্যবহারের আইডিয়া নিয়ে আসে। শুরুটা হয়েছিল এভাবে, কনরাড ভাইতের [কনরাড ভাইত হচ্ছেন ভিক্টর হুগো রচিত গ্রন্থের এর উপর ভিত্তি করে ১৯২৮ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ম্যান হু লাফস’ এর অভিনেতা] গুয়েনপেন চরিত্রের পোস্টার করা একটি বই দেখিয়ে বিল বললো ‘এই হচ্ছে জোকার’। যদিও জোকারের পেছনে জেরী রবিন্সনের তেমন কোনও কৃতিত্ব নেই, তবুও মরার আগ পর্যন্ত সে বলবে সেই জোকারের স্রষ্টা। অথচ সে শুধুমাত্র তাস ব্যবহারের ধারণাটাই নিয়ে আসে যা আমরা কয়েকটা কাহিনীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলাম।”

tumblr_m83mfuQcvk1qg1kz5o1_500

জোকারের আসল পরিচয় কিংবা অতীত এখনও অজানা। তবে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া টিম বার্টনের ব্যাটম্যানের মুভিতে তার নাম ছিল ‘জ্যাক ন্যাপিয়ার’। জ্যাক নিকলসন এবং ষাটের দশকে চলাকালীন ব্যাটম্যান টিভিশোতে অ্যালফ্রেড চরিত্রে অভিনয় করা অ্যালান ন্যাপিয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেই চলচ্চিত্রের জন্যে জোকারের নাম রাখা হয় জ্যাক ন্যাপিয়ার।

তার ছদ্মনাম গুলো হচ্ছেঃ ক্লাউন প্রিন্স অফ ক্রাইম, জে. রেকো, জ্যাকো দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এবং ডমিনো কিলার প্রভৃতি। তার পরিচিতি দেয়া হয় ‘স্যাডিস্টিক সেন্স অফ হিউমার’ বিশিষ্ট এক মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে। ব্যাটম্যানের চিরশত্রু ছাড়াও সে ডি. সি. ইউনিভার্সের ভয়ংকর ভিলেনদের মধ্যে একজন। প্রত্যেকটি কমিকস বইয়ে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে অত্যন্ত চালাক এবং নির্মম ক্রিমিনাল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে। জোকার এমন এক বিপজ্জনক ভিলেন যার মানুষের জীবনের উপর কোন মায়াদয়া নেই। হত্যা এবং হানাহানিতে সে খুঁজে পায় পৈশাচিক আনন্দ।

যদিও জোকারের একটি অতীত প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনেক ধরণের চেষ্টা করা হয়েছে তবুও এখন পর্যন্ত তার অফিসিয়াল অরিজিন তৈরি করা হয়ে উঠেনি। আর তার অতীত সম্পর্কে সে প্রায়ই বলে যে “ অতীত যদি থাকতেই হয়, আমি চাই বেছে নেবার মতো একাধিক অতীত থাকুক ”। তবে জোকারের অরিজিন নিয়ে সব থেকে জনপ্রিয় গল্পটি হচ্ছে অ্যালান মুরের দ্য কিলিং জোক। গল্পটি এরকম যে, প্রথম দিকে সে একটি কেমিকেল প্লান্টে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতো। স্ট্যান্ড-আপ কমিডিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষে সে কেমিক্যাল প্লান্টের কাজ ছেড়ে দিয়ে সেই চাকরি নেয়। কিন্তু যাচ্ছেতাইভাবে সেখানে ব্যর্থ হওয়ার পর সে বুঝতে পারে ক্যারিয়ার বদলানো তার সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এদিকে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী জেনাইনকে সাপোর্ট করার জন্য উন্মত্ত হয়ে সে একসময় কিছু ক্রিমিনালদের সাথে জড়িয়ে যায়। যারা তার আগের কর্মস্থলে হামলা করার পরিকল্পনা করছিল। যেহেতূ সে এখানে আগেও কাজ করেছে ভেতরের সব কিছু তার জানা তাই ক্রিমিনালগুলো চালাকি করে তাকে দ্য রেড হুড পারসোনা দেয় এবং তাদের দলনেতা হিসেবে ঠিক করে যাতে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে সেটা তার উপর চাপানো যায়। পরিকল্পনার মাঝখানে, পুলিশ তাকে ফোন করে জানায় যে তার স্ত্রী এবং সন্তান দু’জনই মারা গিয়েছে।প্রচণ্ড শোকে ভেঙ্গে পড়ে সে পিছু হটতে চেয়েও কি মনে করে অপারেশনটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্লান্টে পৌছানোর পর তারা দেখে সিকিউরিটি দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে আর তারা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেটা দেখে সে পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে আর ক্রিমিনাল দু’জন পুলিশের গুলিতে মারা যায়।পালাবার পথে ব্যাটম্যানকে দেখে সে রেলের উপরে রাখা কেমিকেলের পাত্রে ঝাঁপ দেয়। এক সময় এক জলপথ দিয়ে সে বাইরে এসে পড়ে, পরে থাকা রেডহুড খুলে সে দেখে কেমিকেলের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তার গায়ের চামড়া সাদা, চুল সবুজ হয়ে গেছে। একই দিনে ঘটা দুই দুইটা দুর্ঘটনায় সে তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে আর সেদিনই জন্ম হয় জোকারের। তবে তার উৎপত্তি আজও রহস্য কারণ জোকার নিজেই বিভিন্ন সময় তার অতীতের কথা বিভিন্ন ভাবে স্মরণ করে।

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া টিম বার্টনের ব্যাটম্যান চলচ্চিত্রে এই কাহিনীটি দেখানো হয় একটু ভিন্নভাবে, দুর্ঘটনাক্রমে মারাত্মক কিছু রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রিত এক ড্রামে পড়ে যাওয়ার ফলে তার গায়ের চামড়া ফ্যাকাসে সাদা আর চুলের রং সবুজ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা তার মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয় ড্রামের রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া তার স্বাভাবিক মানসিক অবস্থার বিকৃতি ঘটায়।

এখন পর্যন্ত এনিমটেড সিরিজ/চলচ্চিত্র বাদে জোকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৪ জন অভিনেতাঃ

ব্যাটম্যানঃ দ্য মুভি (১৯৬৬)
ব্যাটম্যান (১৯৮৯)
দ্য ডার্ক নাইট (২০০৮)
সুইসাইড স্কোয়াড (২০১৬)

ofyr9qqnfxsb8ZB0dY1-o

১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যাটম্যানঃ দ্য মুভি চলচ্চিত্রে জোকার চরিত্রে অভিনয় করেন সিজার রমারো।
১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যাটম্যান চলচ্চিত্রে জোকার চরিত্রে করেন অভিনয় তিনবার অস্কারজয়ী অভিনেতা জ্যাক নিকলসন।
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দ্য ডার্ক নাইটে জোকার চরিত্রে অভিনয় করেন হিথ লেজার।
এবং ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া সুইসাইড স্কোয়াডে জোকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যারেড লেটো।

দ্য ডার্ক নাইটের আগ পর্যন্ত জোকার চরিত্রের কথা মাথায় আসলেই চিন্তায় ভেসে উঠতো জ্যাক নিকলসনের মুখ। এখনও তার চেহারাই ভাসে তবে তাতে ভাগ বসিয়েছেন হিথ লেজারও। আমি যেটা মনে করি জ্যাক নিকলসনের জন্মই হয়েছিল জোকার চরিত্রটি রুপায়ন করার জন্য। জোকারের নির্মাতা বব কেইন নিজেই টিম বার্টনকে পরামর্শ দেন চলচ্চিত্রে জ্যাক নিকলসনকে জোকার হিসেবে নেয়ার জন্য। দ্য ডার্ক নাইট নির্মাণের সময় জোকার চরিত্রের জন্য তাকে না বলার কারনে জ্যাক নিকলসন কিছুটা বিচলিতও হয়েছিলেন।

২০০৭ সালে এক সাক্ষাত্কারে জ্যাক নিজেই বলেন―
“ জোকার এসেছে আমার শৈশবের সময়। সেই সময় থেকেই আমি এর সাথে যুক্ত। আমি সবসময় ভাবতাম এই চরিত্রটিতে আমিই অভিনয় করবো।”

929699SMILEWallPaperbysahinduezguen

প্রকৃতিগতভাবে জ্যাক নিকলসন ছিলেন সেরা জোকার। তবে হিথের জোকারের পেছনে অনেক ভালো স্ক্রিপ্ট সাপোর্ট ছিল যেটা নিকলসন পাননি। তাই পারফরমেন্স অনুযায়ী বলা যায় হিথের জোকার অনেক ভালো ছিল। তবে তার মতো করে নিকলসন যদি এতো ভালো স্ক্রিপ্ট পেতেন তাহলে এই ব্যাপারে আর কোন বিতর্ক থাকতো না।

আর আমাকে যদি প্রশ্ন করেন কে সেরা জোকার?

মার্ক হ্যামিল; বিচেস! \m/

এখন আসি হিথ লেজারের কাছে,

হিথ লেজার/দ্য জোকার

দ্য জোকার

দ্য ডার্ক নাইট চলচ্চিত্রে জোকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রতিভাধর অভিনেতা হিথ লেজার।
হিথ আন্ড্রিউ লেজার,
একজন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা এবং চিত্রপরিচালক।
জন্মঃ ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার পার্থে।
বাবাঃ কিম লেজার, একজন রেইসার এবং মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার।
মাঃ স্যালি লেজার, ফরাসী শিক্ষিকা।

প্রথম চলচ্চিত্র ব্যাটম্যান বিগিন্সের শুটিং শুরুর আগে ব্রুস ওয়েইন রোলের জন্য কম বয়সী অভিনেতার খুজে থাকা পরিচালক নোলান শরণাপন্ন হয়েছিলেন লেজারেরও। সুপারহিরো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে অনুৎসাহী লেজার সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নোলানকে। পরবর্তীতে ব্যাটম্যান বিগিনস দেখে তিনি এতোটাই মুগ্ধ হন যে তিনি তার মত পরিবর্তন করেন। এবং সেই চলচ্চিত্রের শেষে পরবর্তী চলচ্চিত্রের জোকারের আসার ইঙ্গিত দেখে তিনি নিজেই পরিচালক নোলানকে ছবিটির পরবর্তী পর্ব ‘দ্য ডার্ক নাইট’ এর ভিলেন জোকার চরিত্রে তাকে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এই চরিত্রটা সার্থকভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এতোটাই উঠে পড়ে লেগেছিলেন যে ছবিটির চিত্রনাট্য লেখার আগেই জোকার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। সহকারী অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতে নেন এই চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে।

হিথ ল্যাজার/দ্য জোকার

প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখানো হয় জোকারে শারীরিক অবস্থার পেছনে দায়ী রাসায়নিক দুর্ঘটনা। তবে লেজার অভিনীত এই জোকার চরিত্রটি অন্যান্য জোকার চরিত্র থেকে অনেকখানি ব্যতিক্রম। রঙ করা শুকানো সবুজ চুল এবং ক্লাউনের মেকআপ করা এই জোকারের মুখে খেলা করতো গ্লাসগো হাসি। চলচিত্রে তাকে তার মুখের দাগ সম্পর্কে বিভিন্ন গল্প বলতে দেখা যায়। যার একটি শিশু নির্যাতন এবং অন্যটিতে সে বলে তার মুখের এই দশা সে নিজেই করেছে। তার কিছু ভিক্টিমসের মুখেও সে এই ধরণের গ্লাসগো হাসিমার্কা ক্ষত সৃষ্টি করে। তিনি তার অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি কমিকস ওয়ার্ল্ডের জোকারকে এক ভিন্ন বাস্থবে পরিণত করেন।  রোল প্রস্থুতির জন্য লেজার এক মাসের জন্য একটি হোটেল রুম ভাড়া করে সেখানে বাস করা শুরু করেন যাতে তিনি চরিত্রটির বৈশিষ্ট, অঙ্গবিন্যাস এবং কণ্ঠ ভিন্নভাবে পরিবেশন করতে পারেন। তিনি তার তৈরি এই জোকারের চিন্তাধারা ও অনুভূতি তিনি একটি ডাইরিতে লিখে রাখতেন। নোলান নিজেই লেজারকে কিছু ভিডি পরিচালনার অনুমতি দেন। তার কর্মদক্ষতা নোলানকে এতটাই প্রভাবিত করে যে, লেজার যখন রিপোর্টার মাইক এঙ্গেলের অপহরণের চিত্র পরিচালনা করেণ সেই সময় নোলান সেটে উপস্থিত ছিলেন না।

হিথ ল্যাজার/দ্য জোকার

লেজার রিপোর্টারদের জানান যে, চরিত্রে বাস্তবতা আনার জন্যে এতোটাই পরিশ্রম করেছিলেন যে জন্য তিনি দৈনিক মাত্র দুঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারতেন না। ডাক্তারের দেয়া ওষুধও কাজে আসেনি। নির্মম হলেও সত্য যে চলচ্চিত্রটির শুটিং শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই এই নবীন অভিনেতা মৃত্যুবরণ করেন। ধারণা করা হয় যে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শে তিনি একসাথে বিভিন্ন ঔষুধ সেবন করতেন। যার ফলে ড্রাগ ওভারডোজের কারনে ২৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান এই অভিনেতার অকালমৃত্যু ঘটে। এই চলচ্চিত্রে লেজারের নিজস্ব চিন্তাভাবনায় সৃষ্ট এই জোকারের অভিনয় ছিল একটি অপূর্ণ স্বপ্ন সফল হওয়ার মত। তবে এখন অনেকেই মনে করেন এটি একটি দুঃস্বপ্ন যা লেজারকে বিয়োগান্তক মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। জোকার চরিত্রের ব্যপারে তার সাথে কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলে নব্বুই দশকের জোকার জ্যাক নিকলসন কিছুটা বিচলিত ছিলেন এবং লেজারের মৃত্যুর পর তিনি রহস্যময় এক মন্তব্য করে বলেন ‘আমি তাকে সাবধান করেছিলাম’।

1009770_504215779655317_1208855435_n

নব্বুই এর দশকে ‘শিপ টু শোর’ টিভি সিরিজ দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে আসা প্রতিভাবান এই অভিনেতা আমাদের অসাধারণ কিছু ছবি উপহার দিয়ে গেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছেঃ টেন থিংগস অ্যাই হ্যেইট এবাউট ইয়্যু, দ্য প্যাট্রিয়ট, এ নাইট’স ট্যেইল, মনস্টার’স বল, ন্যেড কেলি, দ্য ব্রাদার্স গ্রিম, লর্ডস অফ ডগটাউন, ব্র্যুকব্যাক মাউন্টেন, ক্যাসানোভা, ক্যান্ডি, অ্যায়েম নট দ্যেয়ার, দ্য ডার্ক নাইট এবং দ্য ইমাজিনারিয়াম অফ ডক্টর পারন্যাসাস।


 

এবারে দ্যা ডার্ক নাইট,

বিখ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত একটি ব্রিটিশ-আমেরিকান সুপারহিরো ফিল্ম এবং ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুভি ব্যাটম্যান বিগিন্সের স্যিকুয়াল।

দ্যা ডার্ক নাইট

The Dark Knight

IMDb: 9/10 (Top 250 #5)
Rotten Tomatoes: 94% (Audience: 94% )
আমার রেটিংঃ ৫/৫
ডাউনলোড লিংকঃ http://goo.gl/C2Zmyv

সারসংক্ষেপঃ ব্যাটম্যান বিগিন্সের শেষ দেখানো হয় যে শহরে এক নতুন লুঠেরার আগমন গঠেছে। ব্যাংক লুট করার পর ঘটনাস্থলে সে ফেলে যায় জোকারের তাস। তবে লেফটেন্যান্ট জিম গর্ডন, জেলা-উকিল হার্ভে ডেন্ট এবং তার বাল্যকালের বান্ধবি র‍্যাচেল ডসের সহায়তায় ব্যাটম্যান নেমেছে এক নতুন সংগ্রামে, গথামের আন্ডারগ্রাউন্ড সহ সকল অপরাধ সংঘটন নিশ্চিহ্ন করে গথামকে অপরাধ মুক্ত করতে ।

Batman, Gordon and Dent

 সবকিছু পরিকল্পনা মোতাবেকই চলছিল মাঝখানে বাগড়া দেয় ক্রমবর্ধমান  ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং শতাব্দীর সবচেয়ে বিধ্বংসী ক্রিমিনাল মাস্টার মাইন্ড ‘দ্য জোঁকার’

ব্যাটম্যান কি শেষমেশ সার্থক হয়েছিলো জোকারকে প্রতিহত করে তার অসম্পূর্ণ সংগ্রাম সম্পূর্ণ করতে?


ওয়ার্নার ব্রসের প্রডাকশনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির ক্যামেরা ওয়ার্ক এবং আলোকচিত্র সম্পাদন ছিল বরাবরের মতই অসাধারণ। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, স্পেসিয়াল এফেক্টসগুলো ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। অভিনয় এবং পরিচালনা দুটোই ছিল নিখুঁত এবং মানসম্মত বললেও হয়তো ভুল হবে বলা উচিৎ “বিস্ময়কর”। দ্য ডার্ক নাইট আমার অনেক ভাল লাগার একটি ছবি।ভিন্নধর্মী প্রত্যকটি চিত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিও অসাধারণ। যখন দেখার মত কিছু থাকেনা তখনই আমি দ্য ডার্ক নাইট দেখতে বসে যাই। কখনও বোর হইনি এবং ভবিষ্যতেও হবোনা। আর ইতিমধ্যে কতবার দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই।

অভিনয়ে ছিলেন…
ক্রিস্টিয়ান বেইল – ব্রুস ওয়েইন / ব্যাটম্যান
মাইকেল কেইন – অ্যালফ্রেড পেনিওর্ত
ম্যাজি ইলেনহাল – র‍্যাচেল ডস
গ্যারি ওল্ডম্যান – জিম গর্ডন
মরগান ফ্রিম্যান – লুসিয়াস ফক্স
অ্যারন অ্যাকহার্ট – হার্ভে ডেন্ট
জোকার – হিথ ল্যাজার
সিলিয়ান মারফি – স্কেয়ার ক্রো

আগেই বলেছি চলচ্চিত্রটির পরিচালনায় ছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান।

চিত্রনাট্য- ক্রিস্টোফার নোলান এবং এবারে এতে তার সাথে ছিলেন তার ভাই জনাথন নোলান।
কাহিনী- ক্রিস্টোফার নোলান এবং ডেভিড এস. গয়্যার
সিনেমাটোগ্রাফি- ওয়ালী ফিস্টার।


যেহেতু আগের পর্বে ব্যাটম্যান বেইল এবং এই ব্যাটম্যানের স্রষ্টা নোলান সম্পর্কে মোটামুটিভাবে কিছু বলা হয়ে গেছে তাই এবারে সল্প কথায় উপরোক্ত চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপুর্ন চরিত্র সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক,

মাইকেল কেইন / অ্যালফ্রেড পেনিওর্ত

আহ! অ্যালফ্রেড!
ওয়েইন পরিবারের চরম বিশ্বস্ত ভৃত্য। ব্রুসের মা-বাবার পর অ্যালফ্রেডই তার দেখাশোনার ভার নেয়।তাকে ছাড়া ব্রুস ওয়েইন/ব্যাটম্যান অসমপূর্ণ। ব্রুসের প্রত্যেকটি কর্মেই ছিল তার নিঃস্বার্থ সহযোগিতা। ব্যাটম্যান বিগিন্স এবং দ্য ডার্ক নাইট চলচ্চিত্রে অ্যালফ্রেড চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন কিংবদন্তী অভিনেতা মাইকেল কেইন। তাকে আমরা মুলত সহকারী অভিনেতা হিসেবে চিনি। অনেক নামকরা ছবিতে তাকে সহকারী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। প্রত্যেকটি ছবিতেই তার অভিনয় ছিল অসামান্য। বরাবরের মত এই দুই ছবিতেও তিনি করেছেন সাবলীল এবং প্রশংসনীয় অভিনয়। স্যার মাইকেল কেইন! স্বনামধন্য এই ব্রিটিশ অভিনেতার জন্ম ১৯৩৩ সালের ১৪ই মার্চ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। দুই দুইবার অস্কার জেতা ৮০ বছর বয়সী অভিনেতার অভিনয় জীবন শুরু ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘হেল ইন কুরিয়া’ দিয়ে। কত কয়েক যুগ ধরে তিনি অভিনয় করেছেন অনেক ঐতিহাসিক এবং নামকরা চলচিত্রে। তিনি অস্কার জিতেন ‘দ্য সিডার হাউস রুলস’ এবং ‘হান্নাহ এন্ড হার সিস্টার্স’ নামক দুইটি চলচ্চিত্রে সহকারী অভিনেতা হিসেবে অসাধারণ পারফর্মেন্স দিয়ে। তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছেঃ দ্য সিডার হাউস রুলস, হান্নাহ এন্ড হার সিস্টার্স, চিলড্রেন অফ ম্যান, ব্যাটম্যান বিগিন্স, দ্য ডার্ক নাইট এবং দ্য প্রেস্টিজ।


মরগান ফ্রিম্যান/লুসিয়াস ফক্স

লুসিয়াস ফক্স

ব্যাটম্যান মুভি গুলোতে এটি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ব্যাটম্যানের স্যুইট থেকে শুরু করে ব্যাটকার ও অন্যান্য দরকারি সরঞ্জামাদি নির্মান করেন ওয়েইন এন্টারপ্রাইজের অ্যাপ্লাইড সাইন্স বিভাগের CEO লুসিয়াস ফক্স নামের এই লোকটি। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইতিহাসের একজন নামকরা অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যান। তার চলচ্চিত্র দেখতে বসে হতাশ হইনি কখনো। ছবির আর কিছু ভালো না লাগলেও তার অভিনয় দেখে অন্যরকম তৃপ্তি মিলে। এই গুনি অভিনেতার জন্ম ১৯৩৭ সালের পহেলা জুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে। তাকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৫ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য পাওনব্রোকারে’ ফিল্ম এক্সট্রা হিসেবে। আশির দশক থেকেই বিভিন্ন নামকরা ছায়াছবিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাপোর্টিং রোলে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। পরবর্তীতে আরও কিছু মুভিতে তিনি বড় কিছু চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৯ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ড্রাইভিং মিস ডেইজি’তে তিনি ‘হোক কলবার্ন, একই সালে নির্মিত আরেকটি ছায়াছবি গ্লরীতে তিনি সার্জেন্ট মেজর রাউলিন্স চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ১৯৯৪ সালে নির্মিত চলিচ্চিত্র ‘দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশন’ মুভিতে তিনি অভিনয় করেন রেড চরিত্রে। ২০০৪ সালে আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মিলিয়ন ডলার বেইবি’ ছবিতে সহকারী চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে তিনি অস্কার জিতে নেন। উল্লেখযোগ্য ছায়াছবিঃ ড্রাইভিং মিস ডেইজি, দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশন, সেভেন, মিলিয়ন ডলার বেইবি।


গুড এভেনিং! লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান।
উই আর টুনাইট’স এন্টারট্যেইনম্যান্ট। অ্যাই হ্যাভ অনলি ওয়ান কুয়েশ্চান।
হয়্যার ইজ হার্ভে ডেন্ট?

Aaron Eckhart

হার্ভে ডেন্ট/অ্যারন অ্যাকহার্ট
দ্য ডার্ক নাইট চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি চরিত্র, ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি হার্ভে ডেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ এই চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন আরেকজন নামকরা অভিনেতা অ্যারন অ্যাকহার্ট। পুরো চলচিত্র জুড়ে চরিত্র অনুযায়ী তার অভিনয় ছিল অসামান্য। হার্ভে ডেন্ট চরিত্রটি তিনি ফুটিয়ে তুলতে সফল হয়েছেন। অ্যারন এডওয়ার্ড অ্যাকহার্ট নামক এই আমেরিকান ফিল্ম এবং স্টেজ অভিনেতার জন্ম ১৯৬৮ সালের ১২ই মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে। ১৯৯২ সালে নির্মিত টিভি মুভি ‘ডাবল জেওপার্ডি’ চলচ্চিত্রজীবন শুরু করা ৪৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন নানভিদ চলচ্চিত্রে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ফিল্ম হচ্ছেঃ দ্য ডার্ক নাইট, থ্যাংকিয়ু ফর স্মোকিং, অল্যিম্পাস হ্যাজ ফলেন এবং ব্যাটল অফ নিউইয়র্ক।


জোকারের প্রত্যেকটি ডায়লগই ইউনিক তাও নিচে আমার প্রিয় এবং জোকার এর বিখ্যাত কিছু ডায়লগের লিংক দিলামঃ

www.imdb.com/character/ch0000180/quotes

যারা পূর্ববর্তি পোস্ট মিস করেছেন। নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

bioscopeblog.net/jakaria/20289

এবং পরবর্তী পোষ্ট পড়তেঃ 

bioscopeblog.net/jakaria/28689

The Dark Knight (2008)
The Dark Knight poster Rating: 9.0/10 (1,299,062 votes)
Director: Christopher Nolan
Writer: Jonathan Nolan (screenplay), Christopher Nolan (screenplay), Christopher Nolan (story), David S. Goyer (story), Bob Kane (characters)
Stars: Christian Bale, Heath Ledger, Aaron Eckhart, Michael Caine
Runtime: 152 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Crime, Drama
Released: 18 Jul 2008
Plot: When the menace known as the Joker wreaks havoc and chaos on the people of Gotham, the caped crusader must come to terms with one of the greatest psychological tests of his ability to fight injustice.

এই পোস্টটিতে ৩৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অনিক চৌধুরী says:

    ওরে বাবা! যেন উপন্যাস পড়লাম! তবে দারুণ লেখা। আর ট্রিলজি নিয়ে কথা হবে না বস।

  2. নস্‌ ফেরাতু says:

    All I have to say is:
    This is a review TDK deserves, and it’s the review we needed!
    Two thumbs up for The Professor!

  3. আইম্যান আইম্যান says:

    ওয়াও !! :hoax চমৎকার লেখা হয়েছে। এমন মুভি রিভিউ এর জন্য এমন প্রেজেন্টেশনই দরকার। :2thumbup

    জোকার নিয়ে জানার পরিধি আরেকটু বাড়ল। অনেক তথ্য সম্বলিত মুভি রিভিউ। :thumbup

  4. Sev Darcy says:

    Legend continues! Keep it up, bro!

  5. মেগামাইন্ড says:

    কি লেখসেন ভাই ? মাথা নষ্ট হইয়া গেল। চরম হইসে।

  6. ধ্রুব নীল says:

    ফ্যান্টাবুলাস……পুরাই মাথা নষ্ট… 😀
    :pertamax

  7. টাইলার ডারডেন says:

    onek koshto kore, time niye likhso bojha jaitase.. liked it :thanks2 :2thumbup

  8. ফরেস্ট গাম্প says:

    এত্ত বড় পোষ্ট, পুরাটাই পরে নিলাম। চখাম অ্যান্ড ফান্টাবুলাস। অনেক শুভকামনা রইল।

  9. সি.এম. তানভীর উল ইসলাম says:

    অসম্ভব ভালো লেগেছে আপনার লেখনী :) সামনে আরও ভালো পোস্ট পাবো আশা করছি … :thumbup

  10. আ গ্রেট রিভিউ … ওয়ান অব দ্য বেষ্টস এভার… :)
    :2thumbup :thumbup :selamat

  11. সামিয়া রুপন্তি says:

    :thumbup খালি Ledger মরে গিয়েই ঝামেলা করে দিল!!! :(

  12. পুরাই ফাডাইন্না রিভ্যু !! এত ধৈর্য পাইলেন কই ? :p গ্রেট মুভি গ্রেট লেখা !!

  13. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এতদিন পর মন্তব্য করতে আসায়… আসলে আমি এই পুরো লেখাটা পড়ে এতটাই বিমোহিত, চমকিত এবং আবেগায়িত হয়ে গেছিলাম যে, ঠিক কি বলা যায় ভেবে বের করতে এতদিন পার হয়ে গেল…

    হিথ লেজার কিংবা জোকার সম্পর্কে এতদিন কেউ জানতে চাইলে তাকে মিনিমাম দুই ঘণ্টার এক নাতিদীর্ঘ লেকচার দিতে হত। আজ থেকে আমি জাস্ট এই পোস্টের লিংকটা দিয়ে দেব। আমি নিশ্চিত এই লেখা পড়ার পর সে কোনদিন জোকারকে ভুলতে পারবে না… :selamat অন্তত এই জীবনে তোঁ নয়ই… :2thumbup

    বিঃদ্রঃ– জোকাররে নিয়া লিখতে চাইছিলাম। এই পোস্ট দেখে সেই ইচ্ছা এই পোস্টেই হারায়া গেছে… 😮

    বিঃদ্রঃ ২– আপনার হাত দুইটা হীরা দিয়া বান্ধায়া রাখতে মুঞ্চায়… :army: :flower: :hoax

    • জিম মরিয়ার্টি জিম মরিয়ার্টি says:

      কি কমেন্ট দিছেন ভাই আমিতো এতদিন বাকরুদ্ধ হয়ে ছিলাম, কিভাবে আপনাকে ধন্যবাদ দিব সেই ভাষাই হারিয়ে ফেলেছিলাম। :) আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ :)

  14. রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

    দারুণ ম্যান দারুণ

  15. ডঃ জেকিল says:

    porte porte ar sesh hoyna! btw, superb writing :)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন