শিকারি নিজেই যখন শিকার― এবারের পর্বঃ দ্য বর্ন আইডেন্টিটি।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

He was the perfect weapon
Until he became the target

২০০২ সালের জুনে মুক্তি পায় ডগ লিম্যান পরিচলিত এবং ম্যাট ড্যামন অভিনীত আমেরিকান-জার্মান স্পাই-থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র দ্য বর্ন আইডেন্টিটি।
এটি মুলত ১৯৮০ সালে কথা-সাহিত্যিক রবার্ট লুডলাম রচিত বর্ন ট্রিলজি-এর প্রথম স্পাই-ফিকশন থ্রিলার দ্য বর্ন আইডেন্টিটি এর এডাপ্সন ।

দ্য বর্ন আইডেন্টিটি উপন্যাসের কভার

দ্য বর্ন আইডেন্টিটি উপন্যাসের কভার

উপন্যাসটির উপোদ্ঘাত আসলে বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ১৯৭৫ সালে রচিত দুটি সংবাদপত্রের আর্টিকেলের খলনায়ক, সন্ত্রাসী ‘কার্লোস দ্যা জ্যাকেল’ হিসেবে পরিচিত ইলিখ রামিরেজ সানচেজকে নিয়ে।
মজার কথা হচ্ছে, জেসন বর্ন ট্রিলজি লেখার পূর্বে লেখক নিজেই কিছুদিনের জন্যে অস্থায়ী স্মৃতিলোপে আক্রান্ত ছিলেন। ভালো হওয়ার পরপরি বর্ন ট্রিলজি লেখার চিন্তা তার মাথায় আসে।
তার প্রথম বই ‘দ্য স্কারলেট ইনহ্যারিটেন্স’ প্রকাশিত হওয়ার পর লেখক তার জীবনে ঘটে যাওয়া ১২ ঘণ্টার কথা ভুলে যান।
উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম হিসেবে উদ্দেশ্যহীনভাবে একজন ডাবল এজেন্টের নাম ব্যবহার করা হয়। আলোচনা প্রসঙ্গে কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই শেষের দিকে শুধুমাত্র একবার “Bourne” নামটি উচ্চারন করা হয়।

to stay alive he had to get away from the place where Cain [i.e. Bourne] was born. Jason Bourne … there was no humor in the word association.

ABC নিউজ ধারণা করে নামটি তৎকালীন অ্যান্সেল বর্ন (উনিশ সতকের এক বিখ্যাত মানুষিক রোগী) এর নামানুসারে দেয়া হয়।

আসা যাক চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীতে,
ভূমধ্য সাগরে, মার্সেই এর কাছাকাছি কোথাও ইতালিয়ান জেলেরা উদ্ধার করে গুলিবিদ্ধ এক অজ্ঞান আমারিকানকে।

পানিতে ভাসছে জেসন

পানিতে ভাসছে জেসন

বোট মেডিক তার শরীর থেকে গুলি বের করার সময় তার হিপ থেকে বের করে একটি ক্ষুদ্র লেজার প্রজেক্টর,

হিপ অভ্যন্তরিস্ত  ক্ষুদ্র লেজার প্রজেক্টর

হিপ অভ্যন্তরিস্ত ক্ষুদ্র লেজার প্রজেক্টর

সক্রিয় করার পর যা নির্দেশ করে জুরিখের একটি সেফ ডিপোজিটের নাম্বার। জ্ঞ্যান ফেরার পর সে ধীরে ধীরে ধীরে আবিস্কার করে বিভিন্ন ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারা ছাড়াও আর্ম-কমব্যাটে তার অসাধারণ দক্ষতা। সৃতিশক্তিহীন জেসন জানেনা সে কে! কি তার পরিচয়! তার কাছে ক্লু শুধুমাত্র ওই ডিপোজিটের নাম্বার।

ডিপোজিটের নাম্বার

ডিপোজিটের নাম্বার

থ্রিলারধর্মী এই চলচ্চিত্রটির কাহিনী রেট্রগেট অ্যামনেসিয়া আক্রান্ত জেসন বর্ন নামক এই আমেরিকানটির বেচে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা এবং তার আসল পরিচয় খুঁজে বের করার উন্মত্ততা নিয়েই। জুরিখের সেই ব্যাংক থেকে শুরু করে পুরো চলচ্চিত্রজুড়েই চলে তার স্মৃতি ফিরে পাবার প্রচেষ্টা। জুরিখের মার্কিন দূতাবাসে তার পরিচয় হয় মেরী নামক এক জিপসি মেয়ের সাথে যে জেসনকে তার গাড়িতে করে প্যারিসে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সর্বক্ষণই তাকে দেখা যায় জেসনের সাথেই।

মেরী

মেরী

ওইদিকে কিছু একটা চলছে সি.আই.এ ব্লাক অপ্স প্রোগ্রামের ট্রেডস্টোন নামধারী এই গোপন সঙ্ঘকে ঘিরে।
কি চায় জেসনের কাছে ট্রেডস্টোন প্রধান আলেকজান্ডার কঙ্কলিন?

আলেকজান্ডার কঙ্কলিন

আলেকজান্ডার কঙ্কলিন

এদিকে তাকে খুন করতে তার পিছু নিয়েছে কিছু গুপ্তঘাতক… কিন্তু কেন?
শেষমেশ জেসন কি পেরেছিল তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি উদ্ধার করতে? তার মনে জেগে ধাধার উত্তর মেলাতে?

খুব বেশি কিছু লিখে সাসপেন্সটা নষ্ট করলাম না। আপনারাও অংশ নিন জেসনের এডভেঞ্চারে।

চলচ্চিত্রটির পরিচালনায় ছিলেন, ডগ লিম্যান
পুরনামঃ ডগলাস এরিক লিম্যান
জন্মঃ ২৪শে জুলাই ১৯৬৫ (বয়স ৪৮) নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুল হচ্ছেঃ সুইঙ্গার্স, দ্য বর্ন আইডেন্টিটি, মিস্টার এন্ড মিসেস স্মিথ, জাম্পার এবং ফেয়ার গেইম।

প্রধান চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন, ম্যাট ড্যামন
পুরো নামঃ ম্যাথিউ পেইজ ড্যামন
জন্মঃ অক্টোবর ৮, ১৯৭০ (বয়স ৪৩)
জন্মস্থানঃ কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
একজন আমেরিকান অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং লোকহিতৈষী। ম্যাটের বাবা একজন স্কটিশ যার পূর্বপুরুষরা ছিল ইংরেজ এবং মা ফিনিশ এবং সুইডিশ বংশদ্ভুত। ম্যাট বড় হয়েছেন আরেক অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেকের সাথে (উল্লেখ্য ম্যাট বেনের ১০ম কাজিন)।
তার আরেক প্রতিবেশী ছিলেন আমেরিকান ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিন, পরবর্তীতে হাওয়ার্ড জিনকে নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি You Can’t Be Neutral on a Moving Train এর ন্যারেটর ছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই ড্যামন নিজেকে অভিনয়ের পারিপার্শ্বিকভাবে নিযুক্ত করে নেন কারণ তার মা তাকে গড়ে তুলেছিলেন “বাই দ্য বুক”।
তার অনুভুতি ছিল অনেকটা এমন, “তুমি নিজেকে সংজ্ঞায়িত করতে পারোনি কারণ তুমি ইতিমদ্ধ্যেই তার (ম্যাটের মা) দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়ে আছো।”
হলিউড জগতে তার অভিনয় জীবন শুরু ১৯৮৮ সালে। তবে ১৮ নভেম্বর ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য রেইন মেকার’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায় তার আরেকটি ছবি ‘দ্য গুড উইল হান্টিং’ যার অসাধারণ লিখন এবং চিত্রনাট্যের জন্যে সহ-লেখক বেন আফ্লেকের সাথে যৌতভাবে অস্কার জিতে নেন।এই জুটির কবলে রয়েছে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের জন্য একাডেমি পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড।  দ্য ট্যালন্টেড মিস্টার রাইপ্লি এর প্রধান চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পান।  ২০০৯ সালে নির্মিত ইনভিক্টাস চলচ্চিত্রে, ফ্রাঞ্ছুয়া পিয়নার চরিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার একাডেমি পুরস্কার মনোনয়ন পান। এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন সেভিং প্রাইভেটর রায়ান, দ্য ডিপার্টেড, ওশেন’স ট্রিলজি এবং দ্য বর্ন ট্রিলজি প্রভৃতি বাণিজ্যিকসফল চলচ্চিত্রে।
২০০৭ সালে পিপল ম্যাগাজিন তাকে ‘সেক্সিয়েস্ট ম্যান অ্যালাইভ’ স্বীকৃতি দেয়।
তার অভিনিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রঃ দ্য রেইন মেকার, দ্য গুড উইল হান্টিং, সেভিং প্রাইভেটর রায়ান, দ্য গুড শেফার্ড, দ্য ডিপার্টেড, ওশেন’স ট্রিলজি, দ্য বর্ন ট্রিলজি এবং এলিজিয়ুম।

এছাড়াও এতে অভিনয়ে করেছেনঃ ফ্রাঙ্কা পটেন্টে, ক্রিস কুপার, ব্রায়ান কক্স, ক্লাইভ ওয়েন, আদ্যেল আখিনওয়্যে, গ্যাব্রিয়েল মান, জুলিয়া স্টাইলস, জশ হেমিল্টন, ওয়াল্টন গগিন্স, অর্স মারিয়া গুয়্যেরিনি এবং টিম ডাটন।

The Bourne Identity (2002)

দ্য বর্ন আইডেন্টিটি চলচ্চিত্রের কভার

দ্য বর্ন আইডেন্টিটি চলচ্চিত্রের কভার

IMDb: www.imdb.com/title/tt0258463
Ratings: 7.9

Rottentomatoes: www.rottentomatoes.com/m/bourne_identity
Tomatometer: 83% (Average Rating: 7/10)

আমার রেটিংঃ ৮/১০

ডাউনলোড লিঙ্কস

টরেন্টঃ http://thepiratebay.pe/torrent/7567900
ডিরেক্টঃ http://www.putlocker.com/file/C6DC7580BA227FF0

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Sev Darcy says:

    একশন মুভিগুলো সাধারণতো আমার খুব একটা ভালো লাগে না। তবে এই জ্যাসন বর্নের সিরিজটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। ম্যাট ডেমনের ফ্যানও হয়েছি জ্যাসন বর্ন চরিত্রে তার অভিনয় দেখে। যথারীতি খুব সুন্দর লিখেছেন।

  2. তাইন... তাইন... says:

    অতি সুন্দর করে লেখা অতি সুন্দর একটা মুভির উপ্রে। ব্যাপক লেগেছে। 🙂

  3. নস্‌ ফেরাতু says:

    দেখা হয় নি। অ্যাকশন মুভি বিষয়ক অ্যালার্জি আছে… তবে দারুণ এই রিভিউটা পড়ে দেখার ব্যাপারে উৎসাহ বোধ করছি।

  4. নির্ঝর রুথ says:

    অ্যাকশন তেমন পছন্দ করি না কিন্তু Bourne Trilogy আমার দারুণ প্রিয় তিনটা অ্যাকশন মুভি। দেখার পর ম্যাট ডেমনের প্রেমে অনেকদিন বুঁদ হয়ে ছিলাম 😛
    জুলিয়া স্টাইলসকেও খুব ভালো লেগেছিলো।

    • প্রফেসর মরিয়ার্টি says:

      আহা। এই তিনটি মুভি আমারও খব প্রিয়। প্রেমের ম্যাট ডেমনের স্ত্রী শুনলে কিন্তু খবর আছে। 😛

  5. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    বোর্ন সিরিজের এই পার্টটা আমার কাছে দারুন লেগেছে।

  6. ধ্রুব নীল says:

    ম্যাট ডেমন কে কেনো জানি ভালো লাগে না । পুরাই ফালতু লাগে । তাই বর্ন সিরিজ দেখা হয় নাই । দেখা যাক কোনও কারনে সিদ্ধান্ত বদলালে দেখা হয়েও যেতে পাড়ে মুভিটা । 😀
    রিভিউ ভালো হয়েছে বরাবরের মতই । :rate
    কিপ ইট আপ 🙂

  7. James Bond says:

    আমার অতি পছন্দের একটি সিরিজ এটি ।। সুন্দর হয়েছে রিভিউ :maafagan

  8. ডঃ জেকিল says:

    সুন্দর রিভিউ ।

  9. মেগামাইন্ড says:

    মুভি সুন্দর লেখাও ভাল । ধন্যবাদ ভাই

  10. অনিক চৌধুরী says:

    স্পাই থ্রিলার=জেসন বোর্ণ

  11. পেঙ্গুইন পেঙ্গুইন says:

    এক বসাতে পুরা ট্রিলজি দেখে ফেলছিলাম প্রথমবার……আজকে আবার দেখব 😀

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন