মহানায়ক মান্না (১৯৬৪-২০০৮) । ।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তী নায়ক মান্না আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে আজকের এই দিনে চলে যান না ফেরার দেশে। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মান্না মৃত্যুবরণ করেন। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে যায় দুনিয়া ছেড়ে। ১৯৬৪ সালে ৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে জন্ম গ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক মান্না। তার পুরো নাম এস এম আসলাম তালুকদার। এক সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত নায়ক ছিলেন মহা নায়ক মান্না। চলচিত্র কে আপন ভেবে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে গেছেন তিনি। এজন্যই বাংলা চলচিত্রের মহানায়ক খ্যাতি পেয়েছেন দর্শকদের কাছ থেকে। ১৯৯৬ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শত শত ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখেন। মমতাজুর রহমান আকবর, কাজী হায়াত, নুর হোসেন বলাই, নাদিম মাহমুদ, এম এ মালেক, এফ আই মানিক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, এ জে রানা, বেলাল আহমেদের মতো পরিচালকের ছবি দিয়ে মান্না নিজেকে প্রমাণ করতে থাকেন। পরিচালকেরা তাঁর প্রতি আস্থা অর্জন করতে শুরু করেন। আশির দশকে মান্না যখন ছবিতে অভিনয় শুরু করেন, সে সময় রাজ্জাক, আলমগীর, জসীম, ফারুক, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চনের নায়ক হিসেবে বেশ দাপট। সেই দাপুটে অভিনেতাদের মাঝেও ‘তওবা’, ‘পাগলী’, ‘ছেলে কার’, ‘নিষ্পাপ’, ‘পালকি’, ‘দুঃখিনী মা’, ‘বাদশা ভাই’-এর মতো ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন মান্না। দুঃখজনক হচ্ছে, এসব ছবির কোনোটিতেই মান্না প্রধান নায়ক ছিলেন না। তাই সাফল্যের ভাগীদার খুব একটা হতে পারতেন না।
মান্না অভিনীত প্রথম ছবি ‘তওবা’ হলেও প্রথম ছবি হিসেবে যে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল তার নাম ‘পাগলী’। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাশেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন মান্না। এ ছবিটি সুপার-ডুপার হিট হওয়ার কারণে একের পর এক একক ছবিতে কাজ করার সুযোগ পান মান্না। এরপর কাজী হায়াতের ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’ ছবির কারণে তাঁর একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

Manna

তওবা,পাগলী,কাসেম মালার প্রেম,দাঙ্গা (১৯৯২),চাঁদাবাজ, ত্রাস,তেজী, মিনিস্টার,প্রেম দিওয়ানা,ডিস্কো ড্যান্সার,খল নায়ক,শান্ত কেন মাস্তান,গুণ্ডা নাম্বার ওয়ান,কুখ্যাত খুনী,রংবাজ বাদশা,বসিরা,ঢাকাইয়া মাস্তান,মেজর সাহেব,আরমান,মাস্তানের ওপর মাস্তান,বিগবস,টপ সম্রাট,সুলতান,ভাইয়া,বিদ্রোহী সালাহউদ্দিন,বাবা,মান্না ভাই,কিলার,টপ টেরর,জনতার বাদশা,রাজপথের রাজা,এতিম রাজা,টোকাই রংবাজ,ভিলেন,নায়ক,সন্ত্রাসী মুন্না,মোস্তফা ভাই,রাজা বাংলাদেশী,বীর সৈনিক,ভণ্ড বাবা,জুম্মান কসাই,আব্বাস দারোয়ান.জিদ্দি ড্রাইভার, রাজা,লাল বাদশা, রুস্তম,দানব, ঈমানদার মাস্তান,বাবা মাস্তান,রাজা নাম্বার ওয়ান,তেজী সন্তান,রাজু মাস্তান,মেশিনম্যান,মুসা ভাই,নেতা,বাংলার হিরো,সিপাহী,দেশপ্রমিক, চিরঋনী,লুটতরাজ,কষ্ট (2000),আম্মাজান,আব্বাজান,বীরসৈনিক,স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ সহ প্রায় ৪০০টিরও বেশি ব্যসাসফল চলচিত্রে দাপটের সাথে অভিনয় করেন।

Ammajan-film-poster-with-manna-moushumi-dipjol

তাঁর অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

‘আম্মাজান’ সিনেমার শেষ দৃশ্য।  দেখুন ।

আম্মজান ছবিতে একজন মা পাগল ছেলের ভূমিকায় অসাধারন অভিনয় তিনি তার ভক্তদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন ।।

২২ বছর আম্মাজান আমার সাথে কথা কয় না  (লিঙ্কে ক্লিক করুন)।

১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন।কাসেম মালার প্রেম ছবিটি দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলার কারনে মান্না একের পর এক একক ছবিতে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। এরপর কাজী হায়াত পরিচালিত দাঙ্গা ও ত্রাস ছবির কারনে তাঁর একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ হয়ে যায়।২০০৬ সালে তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পান। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৃত্যুর পর তার জানাজা এফ’ডিসিতে হয়। ২য় জানাজা স্মৃতিসৌধে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দর্শক ভক্তকুলের ভিড় এবং পুরো ঢাকায় অত্যন্ত জ্যাম থাকায় তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত তার নিজ গ্রাম এলেঙ্গায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন