আমি “জোকার” (আসুন আপনার সাথে একটু মজা করি)

মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে রে,

তুই সে আমার মন।

মন পক্ষীরে আমি যতোই বুঝ দেই না কেন, তিনি আছেন তার চিন্তা লইয়া। ভাল কিছু দেখিবার আপ্রাণ চেষ্টা করিবার পরেও ঐ লোকটির সাথে ঠিক জুত করিয়ে উঠিতে পারিতেছি না। আমি ভাল জিনিসের পক্ষে একশত যুক্তি দাঁড় করাইলে উনি একশত দশ খানা যুক্তি আমার সম্মুখে নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। হোক সে খোঁড়া যুক্তি, যুক্তি তো। তাহাকে অগ্রাহ্য করিবার কোনোরূপ পন্থা খুঁজিয়া পাইলাম না। আমি যুক্তি জিনিসটাকে ভয়াবহ রকম ভয় পাই। যাহারা নিজকে যুক্তিবাদী বলিয়া বুকখানা উঁচু করিয়া ঘুরিয়া বেড়ান, তাহাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখিয়া বলিতেছি, তাহাদের জন্য আমার মনের ধারনা এক প্রকারের ঘাড়-ত্যাড়া বৈ আর কিছু নহে। মন সাহেব যেখানে মণে মণে যুক্তি আমার নিকট পেশ করিতেছেন তখন আমি শুধুমাত্র তর্ক করিবার স্বার্থে তাহার সহিত কথা চালাইয়া গেলাম। এতে করে উপকার হোক বা নাহোক, বৃথা সময় ক্ষেপণ হইতেছিল তাহা আর বলিয়া দিতে হইবে না। কিন্তু হাজার খান গান করিলে যেমন তাহার মধ্যে একখানা পছন্দ হইবার সম্ভাবনা বাড়িয়া যায়, তেমন করিয়া হাজার খানা যুক্তি দিলে তাহার মধ্যে দু চারখানা ভাল যুক্তি বাহির হওয়া অবাক করা কোন বিষয় না। আচমকা, মন সাহেব এমন এক যুক্তি খাড়া করাইয়া দিলেন যে আমি আর নড়িবার যায়গা খুঁজিয়া পাইলাম না। বুঝিতে পারিলাম আমি বাগে পড়িয়াছি। কি আর করিব, “পড়েছি মোঘলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে”।

ভাবিতেছেন মুভির কথা না বলিয়া এই সব কি বলিতেছি? মুভির কথা বলিতেই আসিয়াছি। তাহা বলিবার পূর্বে আমার দুঃখের কথা কিছু বলিবার খুব ইচ্ছা করিতেছিল। আমার মন সাহেবের সহিত ভাল আর খারাপ মুভি লইয়া তর্ক হইতেছিল তাহা নিশ্চয়ই বুঝিয়া লইয়াছেন। তাহার যে যুক্তি শুনিয়া আমি খারাপ মুভি দেখিতে বসিলাম  তাহা এইরূপ,

•শুধুমাত্র ভাল মুভি সম্পর্কে মানুষকে জানান দেয়া তোমার কম্ম নহে। খারাপ মুভি লইয়া কিছু না বলিলে জাতির উন্নতি হইবে কি করিয়া?

• তোমার হিসাব-কারী যন্ত্রের অপব্যবহার এমন পর্যায়ে আসিয়া ঠেকিয়াছে যে তাহার এই বিশাল স্মৃতি-সংরক্ষণ চাকতি (হার্ডডিস্ক) দ্বারা তোমার প্রদত্ত চাপ সে কুলাইয়া উঠিতে পারিতেছে না। তাহার চাপ কমাইতে হইলে তোমার এই খারাপ মুভি সমূহ যত দ্রুত সম্ভব দেখিয়া লইয়া কর্তন করিতে হইবে।

 

এইবার আর যুক্তিতে কুলাইয়া উঠিতে পারিলাম না। বুঝিতেই পারিয়াছেন, ইহার ফলস্বরূপ আমার আবার পিতা মাতার কিনিয়া দেওয়া সেই বাক্সের সম্মুখে আসন গ্রহণ করিতে হইল।

 

শেষ হইল আমার মুভি দেখা। এইবার ছোট্ট করিয়া ২/১ খানা লাইন বলিয়া লই। মুভিখানার নাম প্রথমেই উল্লেখ করিব না। এমনকি কাহিনীও বলিব না। তাহা হইলে এই লেখা না পড়িয়া আপনাদের আসন ছাড়িবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। আমি শুধু নিজের অভিজ্ঞতা (আদান) প্রদান!! করিব। তো চলুন-

 

মতামতঃ

প্রথমেই বলিয়া রাখি, দেখিলাম হাস্যকর একখানা মুভি। এতে করিয়া সময়ের অপচয় ছাড়া আর কি কি পাইলাম তাহার জন্য প্রাপ্তির খাতা খুলিয়া বসিলাম। নায়ক মহাশয় কে সুদর্শন দেখাইবার উদ্দেশ্যে পরিচালকের অনেক প্রচেষ্টা দেখিলাম। যাহা সময় গড়াইবার সাথে সাথে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইল। নায়ক সারা মুভিতে বহু কেরি-কুরি  দেখাইতে চাহিয়াছেন। দুঃখজনক হইলেও সত্যি তাহার কিছুই মনঃ-পূত হয় নাই। ইহার-পর আসি নায়িকাতে। এই নায়িকাকে লইয়া আমার একখানা অভিযোগ রহিয়াছে সেই আদ্যিকাল হইতে। দেশে জোয়ান মেয়ে-ছেলের কি পরিমাণ অভাব হইলে এই রকম একখানা বুড়ির মত চেহারার মেয়ে নায়িকা হইতে পারে তাহা ভাবিয়া আমার কষ্ট হইত। আজও আবার হইল। এই নায়িকা একই নায়কের সহিত অপর একখানা মুভিতে ভালই  নাচনকোঁদন করিয়া সমগ্র মুভি ব্যাপিয়া তাহার কোমর প্রদর্শন করিয়াছেন বলিয়া কথিত আছে। ইনি যদি অন্তত তাহার কিছু অংশ এইখানেও প্রদর্শন করিতেন, তাহা হইলে আমার মতন নাদান কিছু লোকের সময় কিছুটা হইলেও উসুল হইত। কিন্তু বিধি বাম। তিনি তাহাও করিলেন না। এমনকি ভাড়া করিয়া আনা নাচুনিও আমাকে তাহার রস দিতে পারিলেন না (আইটেম সং)। অন্যান্য চরিত্র বিশ্লেষণ করিব না। তাহা হইলে একই জিনিস পুনঃপুন উচ্চারণের দায়ে আমার জরিমানাও হইতে পারে। তবে ভুল ভাল ইংরেজি শুনিয়া ভাঁড়ামি মনে হইলেও আমাদের জলিল ভাইয়ের কথা ভাবিয়া মজা পাইয়াছি। একে তো মুভিতে গাঁজাখুরি গল্পের তাড়না করা হইয়াছে, ইহার উপর যোগ হইয়াছে আনাড়ি হাতের গ্রাফিক্স। ইহার কারনে মুভিটাকে এক টুকরা বিষ্ঠা (piece of sheet) ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। কাহিনী যেইদিকে যাইতেছিল তাহা দেখিয়া আমি ইহাকে ফালতু মুভি বলিয়া হাই তুলিতে গিয়াছি, তখনই আমাকে চমৎকৃত করিয়া আরেক ঘটনার অবতারণা। আসমান হইতে নামিয়া আসিলেন স্বয়ং তিনি(!!!) এই তিনাকে দেখিয়া আমি নড়িয়া চড়িয়া বসিলাম। এইবার বুঝি কিছু ঘটে। আমাকে দ্বিগুণ গতিতে নিরাশ করিয়া তিনি যেই কাণ্ড কীর্তি করিতে লাগিলেন তাহা দেখিয়া আমি বুকে জমাট করিয়া রাখা গালি খানা মুখ দ্বারা নিঃসরণ করিয়া ক্ষান্ত হইলাম। আপনাদের ছবির কাহিনী কিছুই বললাম না বলিয়া দুঃখ পাইবেন না। আসলে ইহার বলার মত কাহিনী কিছুই নাই। ইহার পরেও যদি কারো দেখার ইচ্ছা হয় তাহা হইলে দেখিয়া লইতে পারেন। বলা বাহুল্য, আসমান হইতে নামিয়া আসা তিনি ছিলেন এলিয়েন। কারন মুভিটির নাম জোকার। এই রে!!! নাম বলিয়া ফেলিয়াছি!!! এখন আর বেশী কিছু বলিলে মার খাইতে হইতে পারে। তাই আর কিছু বলিব না। শুধু বলি, নামের সহিত মিল-বন্ধন রাখিয়া পরিচালক মহাশয় আমার সহিত পুরো মুভিতে কোন জোক করিলেন কিনা ঠাওর করিতে পারিলাম না। যদি তাই হইয়া থাকে, তবেই কেবলমাত্র পরিচালক সাহেব সফল।

কথা বাড়াইলাম না। এমন একখানা মুভি লইয়া এত উচ্চবাচ্য করিবার কিছু নাই বলিয়াই মনে হইতেছে। তার চেয়ে আসেন এই মুভির কিছু সংখ্যক দৃশ্য দেখিয়া লই। আর প্রথমে গ্রেট একজনার ছবি ব্যবহার করাতে দুঃখিত।

 

দেখুন ছবির পোস্টার। কস্টিউমও দেখে নেন।

 

আইটেম গান…।।

 

এরে বুড়ি কমু না তো কারে কমু কন??

 

এই হইল এলিয়েনের অবস্থা… ব্যাটা, মজা লস??

(Visited 95 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন