STANLEY KUBRICK সমগ্র (এক অসামান্য নির্মাতার নির্মাণ ধরে রাখার সামান্য প্রয়াস) {বায়োগ্রাফী, মুভি রিভিউ এবং ডাউনলোড লিংক} [পর্ব -২]
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

যারা কোন কারনে ১ম পর্ব দেখতে পারেননি, তারা ১ম পর্বটি পড়ে নিতে পারেন এখান থেকেঃ  http://www.movieloversblog.com/imam1/2695

১ম পর্বের পরঃ

বায়োগ্রাফী লিখতে বসে তার ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে কিছু না বললে পাপ হবে। তাই বলছি, তার বাবার নাম ছিল Jacques Kubrick। তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার। তার (Stanley) দাদা ছিলেন একইসাথে অস্ট্রিয়ান, রোমানিয়ান আর পোলিশ বংশোদ্ভূত। Stanley এর বাবা মা ধর্মে বিশ্বাস করতেন না। তিনি নিজেও ছিলেন নাস্তিক। ছোট বেলা থেকেই তিনি বই-পাগল ছিলেন। এর জন্য পরবর্তীতে তার গান এবং স্ক্রিপ্ট লিখতে অনেক সুবিধা হয়। ১২ বছর বয়সে তার বাবা তাকে দাবা খেলতে শেখান। পরবর্তীতে তিনি এই খেলার বিভিন্ন অংশ তার মুভিতে কাজে লাগান। তাকে একবার এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “দাবার মুভির সাথে সম্পর্ক হল, এটি আপনাকে শেখাবে ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা, আর অন্য কিছু পছন্দ করার ক্ষমতা ; যখন আপনার যা প্রয়োজন।” ১৩ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ক্যামেরার মালিক হন। এতে তিনি ঝুঁকে পরেন স্থির চিত্র গ্রহণের কাজে। এরপর স্কুলে ব্যান্ড দলের ড্রামার হিসেবে ভাল করতে ব্যর্থ হলে ফটোগ্রাফিকেই তিনি প্রধান কাজ হিসেবে নেন। স্কুলে তিনি নিয়মিত ছিলেন না কখনই। ছিলেন না আহামরি কোন ছাত্রও। ১৯৪৫ সালে তিনি তার গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। উচ্চশিক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়া কুবরিক এরপর তার ফটোগ্রাফি আর দাবার উপর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চলতে থাকেন সামনের দিকে। ১৯৪৮ সালে হাই-স্কুলের প্রেমিকা Toba Metz কে বিয়ে করেন কুবরিক। কিন্তু তাদের সংসার বেশীদিন টিকে নি। ১৯৫২ সালে তিনি দেখা পান Ruth Sobotka এর। ১৯৫৫ সালে তারা আবদ্ধ হন বিবাহ বন্ধনে। এই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ১৯৫৭ সালে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। Paths of Glory (1957) এর কাজ করার সময় তার সাথে দেখা হয়  Christiane Harlan এর। তাকে তিনি ১৯৫৮ সালে বিয়ে করেন। তাদের সম্পর্ক অটুট ছিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তাকে গৃহী মানুষ মনে না করার কোন কারন নেই। তার কাছের মানুষ এবং অভিনেতা/অভিনেত্রী সকলেই তাকে একজন গৃহী মানুষ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

 

তার ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করেন। এগুলোর মাধ্যমেই তিনি তার জাত চেনাতে সক্ষম হন। এরপর আসে তার পূর্ণ দৈর্ঘ্য মুভি নির্মাণের কাজ। এতে তিনি কতটা সফল তা নতুন করে বর্ণনা করার কিছু নেই। তার মুভিগুলোতে সবসময় গোপন অনেক তথ্য লুকায়িত থাকে যা উপলব্ধি করলে আপনি বিস্মিত হবেন। আমি সেই গুলো নিয়ে আলাপ করে আপনাদের তার মুভি দেখার মজা থেকে বঞ্চিত করতে চাই না। তার মুভি নিয়ে লিখা শুরু করলে কথা শেষ হবার নয়। তাই মুভি গুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলব না। পরবর্তীতে আপনাদের মুভিগুলো নিয়ে একটু করে কিছু বলে দেব শুধু।

১৯৯৯ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখ। ৭০ বছর বয়সে কুবরিক মৃত্যুবরণ করেন। তার সর্বশেষ মুভি Eyes Wide Shut তখনও মুক্তির অপেক্ষায়। তিনি এর সফলতা দেখে যেতে পারলেন না। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয় শুধু কাছের কিছু লোকজনকে। ১০০ জনের মত উপস্থিত ছিল সেই অনুষ্ঠানে। তিনি এখনও শুয়ে আছেন তার প্রিয় গাছের পাশে ইংল্যান্ডে। তার কবরের ফলকের উপর লেখা আছে Oscar Wilde এর লেখা তার প্রিয় উক্তিটি- “The tragedy of old age is not that one is old, but that one is young.”

বর্ষীয়ান এ পরিচালকের জীবনটাই এমন যে তার জীবনী শুরু করলে শেষ করার ইচ্ছা করে না। তাই জীবনী সম্পর্কে আর না বলাই শ্রেয় বলে মনে করছি। তার পুরো জীবনটাই যেন এক সিনেমার কাহিনী। তবুও আমি মনে করি একজন সত্যিকারের লিজেন্ড সম্পর্কে অনেক কিছুই বলা হল। এবার বরং শুরু করি তার মুভি সম্পর্কে বলা। আর আপনারাও শুরু করুন তার মুভি দেখা। তার নির্মিত মুভির ডাউনলোড লিংক আর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসছি খুব শীঘ্রই … ততক্ষন পর্যন্ত সাথে থাকুন……

{চলবে……}

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন