STANLEY KUBRICK সমগ্র (এক অসামান্য নির্মাতার নির্মাণ ধরে রাখার সামান্য প্রয়াস) {বায়োগ্রাফী, মুভি রিভিউ এবং ডাউনলোড লিংক} [পর্ব -১]


জুলাই মাসের ২৬ তারিখ, ১৯২৮ সাল। কোন অতিপ্রাকৃত ঘটনা কি ঘটল পৃথিবীর বুকে? ইতিহাসের রঙ্গিন কিংবা সাদাকালো পাতা উল্টালেও হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না কোন ঘটনা। কিন্তু আসলে ঘটল। সিনেমা জগতের ইতিহাসে এক তারার পতন ঘটল যেন স্বর্গ থেকে এই পৃথিবীতে। আমেরিকার ম্যানহাটন শহরে জন্ম নিলো এক শিশু। নাম রাখা হল Stanley Kubrick.কে জানত এই শিশুই একদিন তার সিনেমার উপর অপরিসীম দক্ষতার মধ্য দিয়ে জগতের মাঝেই নিয়ে আসবে স্বর্গের আমেজ? এই ক্ষণজন্মা লোকটি একাধারে ছিলেন সফল পরিচালক, চিত্র-নাট্যকার, প্রযোজক, এডিটর এবং সিনেমাটোগ্রাফার। ভাবতে অবাক লাগে একজন মাত্র লোক সিনেমার এত গুলো বিশাল বিস্তৃত ভুবনে পদচারণ করে কি করে সবগুলো ক্ষেত্রেই সমান ভাবে সফল হতে পারে? হয়ত এই করনেই তিনি Stanley Kubrick.

 

Stanley Kubrick কে অন্যদের কাছ থেকে মূলত আলাদা করেছে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নির্মাণশৈলী। প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সুবিধার এই আধুনিক যুগে এসেও দেখা যায় একেকজন পরিচালক একেকদিকে দক্ষ। অন্যান্য জেনারের মুভি নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদের অপটুতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু একবার তাকান এই ব্যক্তির দিকে; ওয়ার, ক্রাইম, রোমান্টিক, কমেডি, ব্ল্যাক কমেডি, হরর, এপিক, সাই-ফাই, কি নেই তার ভাণ্ডারে? এমন কোন জেনার নেই যেখানে হাত দিয়ে তাতে সোনা ফলাননি তিনি। তিনি তার কলা-কুশলী এবং অভিনেতাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন তার কাজের প্রতি এবং অভিনেতা-সহকারীদের প্রতি তার ভালবাসার জন্য। তার ছবির মধ্যকার লুকায়িত অর্থ উদ্ধার করতে আজও অনেক মুভি বোদ্ধাদের হিমশিম খেতে হয়।

 

Stanley Kubrick তার কর্ম জীবন শুরু করেন নিউইয়র্ক এ ফটোগ্রাফি করার মধ্য দিয়ে। গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর তিনি যুক্ত হয়ে পরেন মুভি পরিচালনা এবং প্রযোজনা করার কাজে। অর্থের অভাবে তখন অনেক কম বাজেটের মুভি তিনি নির্মাণ করেন। এর মধ্যে ছিল ইতিহাসের অন্যতম ব্লকবাস্টার Spartacus। এরপর তিনি চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানেই বাসা করেন আর পরিচালনা করতে থাকেন একের পর এক ঐতিহাসিক মুভি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি অনেকটা সময় তার কাটাতে হয়েছে কোন বড় প্রযোজনা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই।

মুভির জগত একটি অনেক বড় জগত। এই জগতের বেশ কিছু নিয়ম আর নতুন ব্যবহার এসেছে তার হাত ধরে। তিনি ছিলেন নিয়মের কারিগর, সোজা কথায় স্রষ্টা। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় 2001: A Space Odyssey মুভিটির নাম। এর মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছেন সিনেমাটোগ্রাফীর এক নতুন দিগন্ত। ঐ সময়ে এই ধরনের ভিজুয়াল ইফেক্ট এর কথা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। আরও বলা যেতে পারে Barry Lyndon মুভিটির কথা, যেখানে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক লেন্স তৈরি করে ব্যবহার করা হয়েছিল যা সাধারণ মোমবাতির আগুনের নড়াচড়াও সুন্দরভাবে ধরতে পারত। The Shinning মুভিতে তিনি ব্যবহার করেছিলেন নতুন বেশ কিছু প্রযুক্তি। শট নেবার বেশ কিছু নতুন প্রকার তিনি বিশ্বকে জানান দিয়েছেন এই মুভির মাধ্যমে।

 

এবার আসছি কুবরিক সম্পর্কে সবচেয়ে মজার অংশটিতে। কুবরিকের জীবদ্দশায় তার অনেক মুভি বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেক মুভি বোদ্ধা তার ছবিকে মানের দিক দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন আস্তা-কুড়ে। তাদের দেয়া রেটিং দেখলে আপনার নিজেরই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। এক কথায়, সর্বকালের সবচেয়ে বাজে মুভির তালিকায় তার বহু ছবি স্থান পেয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলি হল- Paths of Glory, Lolita, A clockwork Orange, The shining ইত্যাদি। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই মুভি গুলোই পরবর্তী সময় মাস্টারপিস হিসাবে চিহ্নিত হয়। আরও মজার ব্যপার হল The Shining ছাড়া কুবরিকের সব মুভিই অস্কার, গোল্ডেন-গ্লোব, অথবা বাফটা পুরুস্কারের জন্য অন্তত মনোনয়ন পেয়েছে অথবা পুরুস্কার পেয়েছে। তবে এই রকম ধারনা করার কোন কারন নেই যে The Shinning মুভিটা খারাপ হয়েছে। প্রমান স্বরূপ বলা যায় মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৮.৫। শ্রেষ্ঠ ২৫০ মুভির মধ্যে ৪৫ তম। তাই এই মুভি নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

{চলবে……}

(Visited 49 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন