GRAVE OF THE FIREFLIES (মানবিকতার আর্তনাদ)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

জোনাকি পোকার কবর

 

 

 

মুভির নাম-Grave of the Fireflies

 Hotaru no haka (original title)

জোনাকি পোকার কবর

মুক্তির সাল- ১৯৮৮

দৈর্ঘ্য-৮৯ মিনিট

পরিচালনা : Isao Takahata

লেখক: Akiyuki Nosaka (উপন্যাস), Isao Takahata(মুভি)

কণ্ঠ: Tsutomu Tatsumi, Ayano Shiraishi and Akemi Yamaguchi

imdb রেটিং – ৮.৪

imdb top 250 position-১১০

rotten tomatoes রেটিং- ৯৬%

আমার রেটিং – ৯.০

 দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন কর কোন পক্ষে যাবে?

 

রাইফেল তাক করে আছ মানুষের দিকে,

সঙ্গিন উঁচু করে আছ ধূর্ত নেকড়ের মত

পায়ে বুট, সুরক্ষিত হেলমেটে ঢাকা তোমার মাথা-

কে তোমাকে ছোঁয়!!!!!!

 

তোমার বুলেট মানুষের বুক লক্ষ্য করে ছুটে যাচ্ছে,

তোমার বুলেট মানুষের মাথার খুলি উড়িয়ে দিচ্ছে,

তোমার বুলেট মানুষের হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ করে দিচ্ছে

 

তুমি গুলি ছুঁড়েছ,

তুমি গুলি ছুঁড়ছ মানুষের দিকে

যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার ভাই

যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার পিতা

যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার বোন

যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার ছেলে

সে মানুষের দিকে তুমি টার্গেট প্র্যাকটিস করছ

 

দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন কর কোন পক্ষে যাবে?

 

*** যুদ্ধ……। এখন এমন কোন দিন নেই যেদিন বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তির আক্রমণে নিরীহ মানুষ মারা যাবার খবর পাওয়া যায় না… কিন্তু আমরা কি কখনও চিন্তা করি ঐ সব মারা যাওয়া মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে? মনে হয় না……। কারন, চিন্তা করলে বিবেক নামক এক লোকের কাছে জবাবদিহি করতে হয়…। এই মুভিটি আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে, দাঁড় করাবে আপনার বিবেকের সামনে…। আবেগের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে গলায় দলা পাকানো কান্না নিয়ে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছা করবে সকল অবিচারের বাঁধন…।

 

*** দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ…। কিন্তু শেষ হল কি এই যুদ্ধে আক্রান্ত মানুষের দুর্দশা? মুভির শুরু প্রধান চরিত্রের অন্তিম অবস্থার মধ্য দিয়ে। এরপর তার বলা ঘটনা নিয়ে ফিরে যাওয়া কয়েক মাস আগে। যুদ্ধ তখন শেষ পর্যায়ে…। জাপানের কোব (kobe)  শহরে অন্যদের মত বাস করে সাধারণ একটি পরিবার। Seita আর Setsuko এর পরিবার। তাদের বাবা নৌ-বাহিনীতে কাজ করার স্বার্থে এখন যুদ্ধে আছে… তারা তাদের মায়ের সাথে মোটামুটি ভাল ভাবেই দিন যাপন করছে। তখন শুরু হল আমেরিকানদের Napam (নাপাম) বোমা বর্ষণ…… জ্বলে গেল বাড়ি, ঘর, শহর, মানুষ। সেই সাথে জ্বলে গেল মনুষ্যত্ব, বিবেক, মানবিকতার মত কঠিন সব মানুষের বুলি……  মূর্তিমান দানব বি-২৯ এর বর্ষিত অভিশাপ থেকে বাঁচতেই ১৪ বছরের কিশোর Seita আর তার ৪ বছরের বোন Setsuko কে পালাতে হয় বাড়ি থেকে। তার মা তাদেরচেয়ে ভাগ্যবান বলেই আটকে পরে বাড়িতে। নাপাম এর থাবার আঁচড়ে পুড়ে যায় তার দেহ। পরদিন এক দূরসম্পর্কের aunty’r সাথে কথা হয় Seita’র। তিনি জানান, তাদের মা জীবিত(!!!)  আছে। Seita তাকে দেখতে হাসপাতাল যায়…। মৃত্যুশয্যায় দেখতে পায় তার মাকে। যুদ্ধের সময়…। তাই শত তর্জন গর্জন করেও মার জন্য ওষুধ যোগার করতে পারে না সে। মারা যায় তার মা। দিক্বিদিক জ্ঞান শূন্য Seita আর Setsuko আশ্রয় নেয় তাদের ঐ aunty’র কাছে।সেখানেও চাল কেনার জন্য বিক্রি করতে হয় তাদের কাছে থাকা তাদের মায়ের একমাত্র স্মৃতি কয়েকটি কিমানো (জামা)। অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখীন, অতীত সেখানে আসলেই অতীত। seita বোমা হামলার আগে মাটিতে পুঁতে রাখা খাবার এনে aunty কে দেয়। যত দিন যেতে লাগল, aunty’র ব্যবহার তত খারাপ হতে লাগল। হাতে না মারিত যত, মুখে যে মারিত শত…অবস্থা…।কোন কাজ না করে খায় দেখে কথায় কথায় খোটা দিতে লাগল। এমনকি ৪ বছরের বাচ্চাও অন্য জায়গায় থাকার আবদার করে তার ভাই এর কাছ। শেষ পর্যন্ত তারা দুজনে এক পরিত্যক্ত গুহাতে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়…… রাতের বেলা অনেক জোনাকি মশারির ভিতরে ছেড়ে দিয়ে তারা মজা করে। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী জোনাকি যখন সকালে মারা যায়…তাদের কবর দিতে গিয়ে মনে পরে নির্মম সত্যেকে…। দুটি জোনাকি তখনও উড়ে চলেছে… কিন্তু কতক্ষণ উড়বে তা কি কেউ জানে? এই নিয়েই setsuku’র প্রশ্ন… কেন তাদের এই অবস্থা? কেন তাদের মাকে মরতে হল? ছোট্ট শিশুর এই প্রশ্নের সামনেই মানবিকতা খোঁড়া।

বোনের অসুস্থতার জন্য মধ্যবিত্তের একমাত্র সম্বল মান সম্মান বিসর্জন দিয়ে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে seita… বোনকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলে এর একমাত্র ওষুধ হল খাবার… কিন্তু খাবার কোথায় পাবে seita? বাধ্য হয়ে ব্যাংকে জমানো সব টাকা তুলে আনে seita… এমন সময় খবর পায় যুদ্ধ শেষ। জাপান আত্মসমর্পণ করেছে… বাবার অন্ধকার পরিণতি সম্পর্কে নিমিষেই ধারনা পেয়ে যায় সে। এরপরও বোনকে সাথে নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখে সে……। কিন্তু দুনিয়ার এই কঠিন রূপ, যা তাদের এতদিন শুধু উপহাস করে গেছে, সে কি তাদের বাঁচতে দিবে? কি হবে এই দুই নিষ্পাপ জীবনের ভবিষ্যৎ? জানতে হলে দেখুন মুভিটি……… 

 

দু জনের জোনাকি নিয়ে খেলা

*** পরিচালক দুই জোড়া শিশুর চোখ দিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। অনেকেই এই মুভিকে “Schindler’s List” এবং “life is beutifull (La vita è bella) এর মত masterpiece মুভির সাথে তুলনা করে… মুভিটি দেখার পর বুঝলাম কেন একটি 2D animation  মুভিকে এদের সাথে তুলনা করা হয়… সে তুলনা যথার্থই।

 

কবিতা ভাল লাগে বলে সদ্য প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ এবং আমার জাপান প্রবাসী চাচার কল্যাণে কিছু সংখ্যক জাপানী কবিতা শুনেছি। তাদের কিছু কবিতায় লক্ষ্য করার মত একটা দিক হল তাদের বিরাম। তাদের একটা যতি চিহ্ন আছে যাতে আমাদের দাড়ি আর কমার মাঝামাঝি একটা সময় থামতে হয়। একে বলে pillow word… এই মুভিতে  দৃশ্য শুরু করার আগে আর শেষ করার পর কিছু বিরতি আছে। এই বিরতি pillow word এর মতই। আপনাকে  বিরক্ত করবে না বরং দৃশ্য নিয়ে ভাববার সুযোগ করে দিবে। পরিচালক এখানে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন।

 

মুভিটি আপনার কল্পনা শক্তিকেও বাড়াবে…।। জোনাকি দিয়ে গুহা আলোকিত করা, ক্ষুধাতে মাটি দিয়ে ভাত বানান, জোনাকির উড়ে বেড়ান কিংবা খুশিতে আটখানা বোনের মুখে বাবল ছেড়ে দেবার দৃশ্যে আপনি খুঁজে পাবেন এই মুভির আসল রূপ।

পরিচালক আপনার আবেগ নিয়ে খেলবে এই মুভিতে…। কখনও দেখবেন সব খাবার aunty কে দিয়ে দিলেও চকলেট এর টিন না দিয়ে বোনের প্রতি ভালবাসা আবার চুরি করে ধরা খেয়ে মার খেলে বোনের ভাইকে ডাক্তার দেখানোর ব্যাকুলতা। আবার কখনও দেখবেন চুরি করার আগে মনের সাথে যুদ্ধ। আর দেখবেন জোনাকি ধরে বা অন্য ছোট ছোট কাজ করে বাঁধ ভাঙা আনন্দ। আর দুঃখের কথা না হয় নাই বললাম। শুধু বলব টিস্যু নিয়ে বসবেন। কখনও খেলা করতে ভাই বোনের সাথে আপনার ও নেমে যেতে ইচ্ছা করবে আবার কখনও ভাইকে মারতে দেখে ঐ লোককেই আপনার মারতে ইচ্ছা করবে…।বলা যায় আমার দেখা সেরা animated emmotional মুভি এটি।

মুভিটি আপনাকে আপনার নিজের বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে বারবার। ডাক্তার যখন ওষুধ হিসেবে খাবার এর কথা বলে তখন Seita চিৎকার করে বলে where can I find the food? আবার জোনাকিদের কবর দিতে গিয়ে যখন অবুঝ শিশু প্রশ্ন করে Why do fireflies have to die so soon? তখন শুধু ভাই নয় প্রশ্ন করা হয় আমাদের এই নৃশংসতাকে…। কে দেবে এর উত্তর? আমরা পারব কি?

জাপানে এই মুভির মূল বইটি খুব জনপ্রিয়। তাই প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে live action না বানিয়ে animated মুভি বানান কতটা যথার্থ… আমি শুধু উত্তরে একবার এই মুভি দেখতে বলব…। এরচে ভালভাবে কোনভাবে এই কাহিনী ফুটিয়ে তোলা যেত বলে আমার মনে হয় না। মুভিতে অনেক রঙ এর ব্যবহার আছে … তবে কখনই তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে হয়নি। বরং এই রঙের ব্যবহার মুভিটিকে আর উপভোগ্য করেছে।

 

*** সব মুভির ই ভাল দিকের সাথে সাথে কিছু খারাপ তথা দুর্বল দিক থাকে। আমার কাছে এর দুর্বল দিক বলতে শুধু জাপানী 2D animation কে মনে হয়েছে…। এই কারনে অনেক সময় পিছনের দৃশ্য ছিল স্থির। যদিও ঐ সময় (১৯৮৮) এটিই ছিল সর্বাধুনিক। তবুও এই যুগের disney, pixer, dreamworks এর CGI animation এর কাছে এই animation দুর্বল মনে হতে পারে… তবে মুভিটি এই সামান্য অপূর্ণতার ঊর্ধ্বে বলেই আমার মনে হয়। এতই ঊর্ধ্বে যে শুধু এর গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি আমার দেখা অন্যতম সেরা মুভি।

*** অনেক বড় বড় মুভি বোদ্ধারা এই মুভিকে তাদের সেরা মুভির তালিকায় স্থান দিয়েছেন। আবার অনেকে এত ভাল মুভি তবে এত কষ্টের, যে আর কখনও এটি দেখতে চান না বলেও রায় দিয়েছেন। imdb ও তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে ১১০ তম স্থান দিয়ে। আপনারা যদি এখনও না দেখে থাকেন তবে দেখার আমন্ত্রণ রইল। দেখে জানান আপনি এই দারুণ মুভিকে কোন স্থানে রাখবেন… ????

*** মুভিটির জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় লিংকঃ

 

 

ট্রেলারঃ

 

ডাউনলোড করুনঃ   ডিভিডি রিপ ৭০০ এমবি টরেন্ট

                                ডিভিডি রিপ ৪০০ এমবি ৪৮০ পি ফাইল ফ্যাক্টরি

>উপভোগ করুন< 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন