একবিংশ শতাব্দীর সেরা ৭ টি সুপারন্যাচারাল হরর মুভি।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ভৌতিক মুভি আমাদের সাধারণ মানুষের কম বেশি সবাইরই খুব পছন্দের একটি জনরা। তবে এই ভৌতিক মুভির মাঝেও বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি কিংবা বিভাগ রয়েছে যেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা একেকজন মানুষের কাছে একেক রকম। আর এরকমই একটি ভৌতিক জনরা হচ্ছে সুপারন্যাচারাল হরর মুভি। ছোটবেলা থেকেই একটি মানুষ তার চারপাশের প্রকৃতিকে আপন করে বড় হতে শিখে। প্রকৃতিও ঠিক তেমনিই তাকে আগলে রাখে যাতে করে তার পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশ খুব স্বাভাবিকভাবে বিস্তার লাভ করে। একজন মানুষ তার জীবনে যখনই এই প্রকৃতির বাহিরে কোন কিছু অনুভব করে তখনই তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এলোমেলো হতে শুরু করে। তার জীবনে কিংবা তার পরিবারের জীবনে নেমে আসে এক অচেনা ভয়াল কালো অন্ধকার যার উৎস খোঁজার ক্ষমতা তার নিজেরও থাকে না।

এই সুপারন্যাচারাল জনরা নিয়ে নব্বইয়ের দশকে বেশ কিছু ভালো মুভি নির্মিত হলেও আমি আজ আমার এই লিখায় ২০০০ সাল এর পর থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কিছু সুপারন্যাচারাল মুভি নিয়ে আলোচনা করবো। ছুটির দিনে কিংবা বৃষ্টিস্নাত রাতে ঘরের লাইট নিভিয়ে এসব মুভি দেখতে বসলে ভয় তো পাবেনই সেই সাথে অদ্ভুত রকমের এক আধিভৌতিক অনুভুতি আপনার মধ্যে প্রবেশ করবে যার স্থায়িত্ব সারারাতব্যাপী হতে পারে।

Deliver us from Evil (2014):

“Deliver us from Evil” মুভির পোস্টার, Image Credit: COVERS.BOX.SK

২০১৪ তে মুক্তি পাওয়া “ডেলিভার আস ফ্রম ইভিল” ছবিটি সুপারন্যাচারাল হরর জনরায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। মুভিটি নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত প্রযোজক জেরি ব্রুসেইমার এর পৃষ্ঠপোষকতায়। যারা “পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান” সিরিজটি দেখেছেন তারা এতোক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কার কথা বলছি। মুভিটির সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে মুভিটি নির্মিত হয়েছে সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে। মুভিটির চিত্রনাট্য নেয়া হয়েছে এন. ওয়াই. পি. ডি. অফিসার রালফ সারচির লিখা “বেওয়ার দা নাইট” বইটি থেকে। একজন এন. ওয়াই. পি. ডি. অফিসারের জীবনে ঘটে যাওয়া মারাত্মক কিছু ঘটনা এবং কিছু ইনভেস্টিগেশন নিয়ে এগিয়ে গেছে এই মুভির কাহিনী। মুভিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। বুঝতেই পারছেন বেশ বড়সড় বাজেটের একটি হরর মুভি এটি।

মুভিটির শুরুতেই আপনারা দেখতে পাবেন একটি যুদ্ধের দৃশ্য যেখানে আমেরিকান কিছু সৈন্য বন্দুকযুদ্ধের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মুভিটির মূল কাহিনী মুলত শুরু হয় এখান থেকেই। পরবর্তীতে দেখা যায় নিউইয়র্ক এর ব্রনক্স শহরে অফিসার রালফ সারচি একটি বেশ অদ্ভুত ধরণের কেসের সাথে জড়িয়ে পরে যেখানে কিনা আমেরিকান কিছু মেরিন অফিসারের জড়িত থাকার সম্ভাবনা পাওয়া যায়। ঘটনার মূল উৎস বের করতে গিয়ে সারচি এমন কিছু জিনিসের মুখোমুখি হয় যা তার সারা জীবনের বিশ্বাসকে এলোমেলো করে দিতে সক্ষম। এভাবেই মুভির কাহিনীটি এগিয়ে যেতে থাকে।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ Deliver us from Evil

The Rite (2011):

“The Rite” মুভির পোস্টার, Image Credit: COVERS.BOX.SK

এটিও একটি বিগ বাজেটে নির্মিত হরর মুভি। একজন এক্সরসিস্ট এর জীবনে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা থেকে নির্মিত হয়েছে এই মুভিটি। আগের মুভিটির মতো এটিও সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরোটা মুভিটি জুড়ে একধরণের ডার্ক টোন কাজ করেছে যা যেকোনো দর্শককে মুভিটি দেখতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ বিচলিত করে তুলবে। মুভিটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে মুভিটির উপস্থাপনা। কোন অশরীরী এনটিটিকে সরাসরি পর্দায় না দেখিয়েও যে দর্শকের মনে ভয় এবং সাসপেন্স সৃষ্টি করা যায় তার একটি বড় উদাহরণ হচ্ছে এই মুভিটি। আর মুভিটিতে অন্য এক মাত্রা যোগ করেছে “স্যার অ্যানথনি হপকিন্সের” অনবদ্য অভিনয়।

একজন দ্বিধান্বিত এক্সরসিস্ট কি করে তার হারানো বিশ্বাস খুঁজে পায় তার উপর ভিত্তি করে মুভিটির কাহিনী এগিয়ে গেছে। মুভিটির শুরুতেই দেখা যাবে সেমিনারি স্কুল থেকে সদ্য পাশ করা এক বালক তার বিশ্বাসের ঘাটতির কথা জানিয়ে তার সুপিরিয়রকে একটি চিঠি লিখে। পরবর্তীতে কিছু ঘটনার পর তার সুপিরিয়র তাকে ভ্যাটিকানে পাঠানোর সিধান্ত নেয় যেখানে কিনা তার পরিচয় হয় ফাদার লুকাসের সাথে। আর মুভিটির কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় তখনই।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ The Rite

The Omen (2006):

“The Omen” মুভির পোস্টার, Image Credit: FreeDVDcover.Com

মুভিটি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া “দা উমেন” ছবিটির রিমেক। সুপারন্যাচারাল জনরায় বেশ শক্ত একটি অবস্থান সৃষ্টি করেছিলো ১৯৭৬ সালের এই “উমেন” মুভিটি। আর এর রিমেক মুভিটি কেমন হবে তা আশা করি আপনাদের আর বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। প্রচণ্ড সাসপেন্স আর অনেকটা অ্যাডভেঞ্চার এর ছোঁয়া রয়েছে মুভিটির কাহিনীতে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুভিটির কাহিনী বেশ জমে উঠবে আপনার কাছে। মুভিটির চিত্রনাট্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে একবার আপনি মুভিটি দেখতে বসলে শেষ না করে আর উঠতে পারবেন না। সেই সাথে মুভিটির উপস্থাপনা অন্যান্য হরর মুভির চাইতে যথেষ্ট ভালো। ছবিটি দেখে আপনি ভয় যতোটা না পাবেন তার চেয়েও বেশি পাবেন সাসপেন্স আর থ্রিলার এর স্বাদ। চিত্রনাট্যকার ছবিটির কাহিনীতে রহস্য ব্যাপারটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন অনেক বিস্তৃতভাবে। আশা করি ছবিটি দেখতে যেয়ে অন্তত বিরক্ত হবেন না।

মুভিটির কাহিনী এগিয়েছে একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া একটি বাচ্চা ছেলে ডেমিয়েনকে কেন্দ্র করে। জন্মের পাঁচ থেকে ছয় বছর পরে বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হবার পর ডেমিয়েনের বাবা তার ছেলের সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য বের করতে যেয়ে জানতে পারে যে তার এই ছেলে তো তার নয়ই এবং বেশ কিছু আধিভৌতিক ব্যাপারের সাথে সম্পর্ক আছে তার এই ছেলের। ঘটনা বের করতে যেয়ে ডেমিয়েনের বাবা সম্মুখীন হয় এমন এক সত্যের যা কিনা শুধু তাদের পরিবারের জন্যই নয় পুরো পৃথিবীর জন্য নিয়ে আসতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ The Omen

Demonic (2015):

“Demonic” মুভির পোস্টার, Image Credit: FreeDVDcover.Com

টুইস্টে ভরা মুভি কার না পছন্দ। তার উপর সেই মুভি যদি আবার হয় সুপারন্যাচারাল হরর জনরার। সেরকমই একটি মুভি হচ্ছে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া “ডেমোনিক” মুভিটি। খুবই স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত এই মুভিটিতে খুবই সাধারণ একটি কাহিনীর পাশাপাশি সাসপেন্সে পরিপূর্ণ একটি অসাধারণ প্লট যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ প্লানচেট এর একটি কাহিনী থেকে কিভাবে এতোটা গভীর একটি হরর কাহিনী উপহার দেয়া যায় তা এই মুভিটি না দেখলে আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না। মুভিটি প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন “কঞ্জিউরিং” ক্ষ্যাত পরিচালক “জেমস অয়ান”। ছবিটির কাহিনী বিন্যাস বেশ সাধারণ তবে ব্যাতিক্রমধর্মী।

পুরো মুভিটির কাহিনী বিস্তৃত হয়েছে আমেরিকার লুইসিয়ানার একটি পরিত্যাক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করে যেখানে কিনা কিছু টিনেজার ছেলেমেয়ে প্ল্যানচেট করার জন্য রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সেই বাড়িতে একটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যার ফলে তিনজন ছেলেমেয়ে সাথে সাথেই মারা যায়। ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেট করার জন্য ডিটেকটিভ মার্ক যখন সেখানে পৌঁছে তখন বাড়িটির অভ্যন্তরীণ কিছু অবস্থার কারণে সে যথেষ্ট কৌতূহলী হয়ে উঠে এবং আসল ঘটনা উদ্ধার করার জন্য নেমে পরে। কিন্তু ইনভেস্টিগেট করতে গিয়ে সে এমন কিছু সত্যের মুখোমুখি হয় যা পুরো ঘটনাকে এবং এই ঘটনার অস্তিত্বগুলোকে পাল্টে দিতে সক্ষম।

আগেই বলেছি ছবিটিতে মারাত্মক একটি টুইস্ট রয়েছে। আর সেই টুইস্টই হচ্ছে ছবিটির গল্পের প্রাণ। পরিচালক বেশ মাথা ঘাটিয়ে জায়গামতো টুইস্টটি ব্যবহার করেছেন। তবে সেটি কি? তা জানার জন্য আপনার মুভিটি দেখতে হবে।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ Demonic

As Above So Below (2014):

“As Above So Below” মুভির পোস্টার, Image Credit: http://cover.box3.net

আপনি যদি ফাউন্ড-ফুটেজ স্টাইলে নির্মিত হরর মুভি দেখতে পছন্দ করেন তাহলে এই মুভিটি হবে ঝড়বৃষ্টির রাতে দেখার জন্য আপনার জন্য পারফেক্ট চয়েস। মুভিটি নির্মিত হয়েছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স এর ব্যানারে। বুঝতেই পারছেন, যেমন তেমন মুভি না এটি। মুভিটিতে ফাউন্ড-ফুটেজ স্টাইলে এক ভয়ানক আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এই মুভিটি দেখতে যেয়ে ভালো মাত্রায় ভয় পেয়েছিলাম। তার উপর মুভিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে প্যারিসের বিখ্যাত ক্যাটাকুম্বকে কেন্দ্র করে। মুভিটির বেশ কিছু দৃশ্যে এমন কিছু স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে যা দেখলে অনেকটা বিভ্রমের সৃষ্টি হয়। মুভিটি দেখার সময় আপনার স্নায়ুর উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আর এটিই হচ্ছে এই মুভিটি দেখার প্রধান আকর্ষণ। মুভিটির বেশ কিছু জায়গায় “জাম্প স্কেয়ার” টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে যা আপনাকে নিয়ে যাবে ভয়ের অন্য এক জগতে। মুভিটির বেশ কিছু দৃশ্য আপনাকে কোনটা বাস্তব আর কোনটা পরাবাস্তব সেই নিয়ে দ্বিধায় ফেলে দিতে পারে। বুঝতেই পারছেন মুভিটির পরিচালক মুভিটিতে দক্ষতার সাথে বেশ কিছু সৃজনশীলতা যোগ করেছেন। মুভিটির বেস্ট পার্ট হচ্ছে এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। জাম্প স্কেয়ার এর পাশাপাশি সাধারণ দৃশ্যগুলোতেও আপনার মনোযোগ ধরে রাখতে মুভিটির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বেশ ভালো প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

মুভিটির কাহিনী এগিয়েছে একদল ডকুমেন্টারী ক্রুদের কেন্দ্র করে যারা কিনা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে প্যারিসের ক্যাটাকুম্ব এর মধ্যে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। কিন্তু কিছুদূর সেই অভিশপ্ত জায়গায় অগ্রসর হবার পর তারা এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হয় যা তাদের পর্যায়ক্রমে ভেতর থেকে ভেঙ্গেচুরে দিতে থাকে। সেখানে তারা এমন কিছু এনটিটির অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে যা এতোদিন শুধুমাত্র তারা বিভিন্ন মিথিকাল গল্পেই দেখে আসছিলো। সেই সাথে শুরু হয় আরো ভয়ানক কিছু অনুভুতি যা থেকে তারা বুঝতে পারে যে তারা ঠিক পৃথিবীতে নয়, তারা চলে এসেছে তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি করা ভয়ের অন্য এক জগতে। যেখান থেকে বের হবার রাস্তা শুধু একটাই। আর সেটি হচ্ছে, পাতাল। মুভিটির ট্যাগলাইন দেখলেই আপনি আমার এই কথাটির যথার্থতা বুঝতে পারবেন।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ As Above So Below

The Eye (2008):

“The Eye” মুভির পোস্টার, Image Credit: http://germancovers.top

২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া “দি আই” মুভিটি সুপারন্যাচারাল হরর জনরায় এক অনন্য সংযোজন। এই মুভিটিও ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া একটি হংকং সিঙ্গাপুরিয়ান একটি মুভির রিমেক। মাঝারী ধরণের বাজেটে তৈরি এই মুভিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন “জেসিকা অ্যালবা”। এই মুভিটির কাহিনী উপস্থাপনাও বেশ অসাধারণ। খুবই অল্প সময়ের মাঝেই এর কাহিনী বেশ জমে উঠবে। মুভিটির চিত্রনাট্যও যথেষ্ট গুছানো যে কারণে মুভিটি দেখতে গিয়ে কেউই অন্তত বোর ফীল করবেন না। সাথে সাসপেন্স, থ্রিলার এবং রহস্য তো আছেই। কেন্দ্রীয় চরিত্রের ডেভলাপমেন্টও বেশ সুন্দরভাবে পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে এই মুভিটিতে।

সিডনী ওয়েলস একজন ক্লাসিক্যাল ভায়োলিনিস্ট যে কিনা পাঁচ বছর বয়স থেকেই অন্ধ। পরিণত বয়সে এসে সে তার কর্নিয়া ত্রান্সপ্লেন্ট করায় এবং তার দৃষ্টি শক্তির আংশিক ফিরে পায়। কিন্তু মূল ঘটনা শুরু হয় তখন থেকেই। সে এমন সব জিনিস দেখতে শুরু করে যা তার পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না। শুধু তার পক্ষে কেন কোন মানুষের পক্ষেই এসব জিনিস দেখা সম্ভব ছিল না। এভাবেই আবর্তিত হতে থাকে মুভিটির কাহিনী।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ The Eye

Exorcist: The Beginning (2004):

“Exorcist: The Beginning” মুভির পোস্টার, Image Credit: http://www.dvd-covers.org

১৯৭৩ সালের সেই “দা এক্সরসিস্ট” মুভির কথা মনে আছে? হ্যাঁ, এটি সেই মুভিরই প্রিকুয়েল। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মুভিতে “দা এক্সরসিস্ট” মুভিতে দেখানো সেই ইভিলের জন্ম দেখানো হয়েছে। এটি এক্সরসিস্ট ফ্রাঞ্চাইজের চতুর্থ মুভি। মুভিটিতে এডভেঞ্চার এর উপস্থিতি এতোটাই বেশি যে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আপনি এই মুভিটির কাহিনীর ভেতর ঢুকে যাবেন। মুভিটি ডার্ক টোনে বানানো। মুভিটির প্লট থেকে শুরু করে এর আবহ এবং কাহিনী বিন্যাসে যথেষ্ট আঁধারের উপস্থিতি রাখা রয়েছে। মুভিটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর পটভূমি। অন্যান্য হরর মুভির পটভূমির তুলনায় এর পটভূমি বেশ বিশাল। মুভিটিতে খুবই স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কিছু যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হয়েছে যা দেখলে আপনার গায়ের লোম খাঁড়া হতে বাধ্য। মুভিটিতে বেশ কয়েকটি সময়ের পটভূমি দেখানো হয়েছে। আর এর মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে।

ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয় মেরিন নামক একজন প্রিস্ট এবং আরকিওলজিস্টকে নিয়ে যে কিনা কেনিয়াতে একটি আরকিওলজি খনন সাইটে যায়। খননের এক পর্যায়ে আবিষ্কৃত হয় যে এটি একটি প্রাচীন চার্চ এবং এটি এতোটাই প্রাচীন যে আফ্রিকা রিজিওনে ক্রিসচিয়ানিটি আসার বেশ আগেই এই চার্চ এখানে স্থাপন করা হয়েছিলো। মূল ঘটনা ঘটতে শুরু করে তখনই যখন কিনা চার্চটি আবিষ্কৃত হবার পর থেকে বেশ কিছু অশুভ ঘটনা ঘটতে থাকে ঐ অঞ্চল জুড়ে। আর এভাবেই এগিয়ে যায় মুভিটির কাহিনী।

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ Exorcist: The Beginning

 

সবশেষে শুধু এটুকুই বলবো যে সুপারন্যাচারাল হরর জনরাটি হরর মুভির অন্য সব জনরা থেকে বেশ আলাদা। এই জনরাতে থাকে কাহিনীর শক্ত বুনন এবং রহস্যে ঘেরা একটি অতিপ্রাকৃত পরিবেশ। ভূত সরাসরি না দেখেও যদি আপনি ভয় পেতে চান আর হরর মুভি দেখার সময় যদি একটু মাথা ঘাটাতে চান, তাহলে এই সুপারন্যাচারাল জনরা আপনার জন্যই।

 

 

 

 

 

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন