চলচ্চিত্র সমালোচনাঃ ডুব (২০১৭)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

“ঢাকা অ্যাটাক” মুক্তির পর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে বেশ ফুরফুরে একটা আবহাওয়া যাচ্ছিলো। কখনো রিভিউ না দেয়া কিংবা লিখতে না জানা মানুষ গুলোও সিনেমাটির প্রতি তাদের ভাল লাগা প্রকাশ করেছে। বেশ তৃপ্তির একটি দৃশ্য। এমন একটা পরিস্থিতিতে খুব প্রত্যাশা নিয়ে ডুবের প্রথম শো দেখে ফেললাম এবং এক রাশ হতাশা নিয়ে বের হওয়া লাগলো।

 

অবশ্য প্রত্যাশার সাথে ভয়ও ছিলো। প্রত্যাশার কারন ফারুকীর ব্যাচেলর, মেইড ইন বাংলাদেশ, থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার ও টেলিভিশন বেশ ভাল লেগেছিল। বিশেষ করে বলাকা সিনেমাহলে টেলিভিশন দেখে বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। সাথে ইরফান খানের মতো বড় মাপের অভিনেতার প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র। আর ভয় ছিল কারন আরেকটা “পিপড়াবিদ্যা” না দেখতে হয়।

 

কেন ভাল লাগেনি সেই আলোচনায় চলে যাই। প্রথমত অফ-ট্রাকের তথা আর্ট ফিল্ম গুলোর ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে কোন মন মুগ্ধকর গল্পের আদলে তৈরি হবে। যে গল্পের সিনেমা দেখে দর্শক গভীরভাবে ভাববে, পর্দার চরিত্রগুলোর গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, জীবনবোধের অন্য এক সচিত্র অনুভব করা যাবে। সিনেমার চরিত্রের বেদনায় নিজে বেদনা সিক্ত হবে। সেই দিক থেকে “ডুব” ব্যর্থ।

 

প্রাথমিক দৃষ্টিতে অথাৎ ট্রেইলার, আলোচনা-সমালোচনা দেখে মনে হয়েছিল ডুব মূলত পারিবারিক টানাপোড়ন-দ্বিধাদ্বন্দ্বের গল্পের আদলে তৈরি করা মানসম্মত ড্রামা নির্ভর সিনেমা হতে যাচ্ছে। কিন্তু সিনেমার টোন এমন থাকলেও কোথাও এসবের সঠিক উপস্থাপন ছিল বলে মনে হয়নি। কোন চরিত্রের প্রতি রাগ লাগলোনা, প্রেমবোধ ও সহমর্মিতা জাগলো না, ভাল খারাপ কিংবা উভয় উপস্থিতি নিয়ে মনে কোন সংশয় সৃষ্টি হয়নি। তাছাড়া সিনেমাটি দেখা শুরু করার পর থেকে যতই সময় যাচ্ছিলোনা ততই ভাবছিলাম “এখন ভাল লাগছেনা, সামনে হয়তো বিশেষ কিছু আসবে” কিন্তু এটা ভাবতে ভাবতেই সিনেমা শেষ হয়ে গেলো। সুতরাং সিনেমাটি ভাল লাগার প্রশ্নই উঠেনা।

আর যদি হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক প্রসঙ্গে বলি তাহলে বলবো এটাকে বায়োপিক না বলে বড়জোর পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার জন্য “ইনস্পায়ার্ড” বলা যায়। কেন বায়োপিক মন হয়নি আমার? মনে আছে হুমায়ূন স্যার যেদিন মারা যান সেদিন কুমিল্লার মেসে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম, এক বড় ভাই এসে বললেন খবরে দেখাচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন। অনেকক্ষণ মন খারাপ ছিল। কিন্তু এই সিনেমায় জাবেদ হাসানের মৃত্যুতে আমার খারাপ লাগেনি কেন? অথবা জাবেদ হাসানের কিছু সিদ্ধান্তের প্রতি অভিমান কাজ করেনি কেন? এত বছর পরে তাহলে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি আমার ভালোবাসা বা অভিমান কমে গেছে? নাহ, কমেনি। বরং আমার অনুভূতি জাগানোর মত উপাদান ছিলনা সিনেমায়। সিনেমা এক কথায় বলতে গেলে “তিনি আসলেন , চা খেলেন এবং চলে গেলেন” এই চা খাওয়া আর চলে যাওয়ার মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ বা মনে দাগ কাটার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।

 

একটা ব্যাক্তিগত তিক্ততা শেয়ার করি, শ্যামলী সিনেমাহলে মুভি দেখি অনেক বছর হল, কিন্তু এবারের মতো বাজে অভিজ্ঞতা হয়নি কখনো। কিছু থার্ড-ক্লাস দর্শক ছিল হলে যাদের বিরক্তিকর চিক্কার চেঁচামেচি, অহেতুক ও খোঁড়া শ্রুতিকটু মন্তব্য খুবই পীড়া দিয়েছে সারাক্ষণ। সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে দয়া করে সিনেমাহলের পরিবেশ নষ্ট করবেন না। আপনার কারনে অন্যদের সিনেমা দেখায় ডিস্টার্ব হোক এটা কখনোই কাম্য নয়।

 

যাক এই হচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “ডুব” নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত মতামত। আমি চেষ্টা করেছি সম্পূর্ণ সৎ থেকে নিজের মতামত জানানোর, তৈলাক্ত রিভিউ দিয়ে নিজের কাছে নিজে ছোট হতে পারবোনা। সিনেমাটি দেখা না দেখা এখন একান্তই আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটিতে ৭৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Nur Tanjim says:

    Jabin Tasmin প্রথম শোয়ের টিকেট না কেটে ভালোই করেছি😃

  2. Md Ferdaus says:

    Foul cinema. er theke 3rd class movie o bhalo.

  3. Irfan Ekram says:

    ঢাকা এটাক মুভিটা কি বায়োস্কপ এপ্স এ আছে

  4. এইটা কত যুগ স্যার?
    কি ভাবেন নিজেকে?
    খুব বড় কিছু?
    অনেক সম্মান করতাম এইই লোকটাকে কিন্তু না এখন তাকে আবাল ছাড়া আর কিছুই বলতে পারতেছি না।
    জনাব,ফারুকী আপনি এতো বড় মাপের কিছু হন নাই যে আপনার মুভির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন স্যারের সাথে মিলে যাবে!
    প্রতিটা অংশের সাথে মিল ইহা ইম্পসিবল, প্লীজ নিজেকে অনন্ত জলিল ভাববেন না!

    হুমায়ুন স্যারের বিয়ে,২য় বিয়ে,শাওন,মৃতু এমনকি মারা যাওয়ার পর লাশ নিয়ে রাজনীতি সেইটাও।
    এতো কিছু মিলে না জনাব।
    টাকা দিয়ে নিউজ করে লাভ নাই,আজ ৩.৪০ এর ক্লাব রয়েলের ফুল হাউজ শো থেকে বাহির হওয়া প্রতিটা মানুষের প্রশ্ন কি ছিল জানেন?

    এর নাম ডুব কিভাবে হয়?
    এইটা নিয়ে মিথ্যাচার কেন করলো এতো বড় মাপের পরিচালক।
    জানি জনাব এই রিভিউ আপনি পাবেন না।
    আজ যে স্রোত ছিল তা কত দিন থাকে দেখেন।

    ২.৫০/১০ এর মুভি বানাইছেন।
    ইরফানের কি কি ডায়ালগ ছিল স্যার?
    কতগুলো ডায়ালগ?
    তার মত একজন বড় মাপের মানুষকেউ আপনি ব্যবহার করতে পারেন নাই,ব্যর্থতা আপনার।

  5. Sohel Saafir says:

    ডুব দেখা মানে সময় নস্ট করা

  6. Partha Dev says:

    Jak honest review pawa galo.chobiwal r high level r pa chata gula thaka dura thakar jonno bioscope blog k thanks.

  7. ruhulaminofficial68 says:

    onek gulo review porlam tobe apnarta chara baki sobgulo e cilo positive but apni…..!

    http://www.somewhereinblog.net/blog/shaikat123/30216683

  8. ruhulaminofficial68 says:

    ছোটকালে ফ্রেইজ এন্ড ইডিয়মসে কতবার যে মুখস্ত করেছিলাম, লাইফ ইজ নট এ বেড অফ রোজেজ- জীবন পুষ্প শয্যা নয়। তখন কি আর জীবনের মানে বুঝতাম! জীবনকে নাকি আবার পুষ্প শয্যা ভাবতে মানা করা হয়েছে। হলে ছারপোকার কামড় খেয়ে রাত জেগে জেগে ইতোমধ্যে ওই কথার মানে এখন বুঝে গেছি। লেখক আসলে ছারপোকা থেকে সাবধান করার জন্যই হয়ত পুষ্প শয্যা ভাবতে মানা করে দিয়েছিলেন।

    তাই বলে ফারুকী কেন তার সিনেমার নাম, নো বেড অফ রোজেজ রাখলেন? তিনিও কি হলে ছারপোকার কামড় খেয়ে ঘুমবিহীন রাত কাটিয়েছিলেন? তাই তিনি আমাদেরকে বেড অফ বাগ দেখাতে চান? ট্রেলার রিলিজ হইল, ভীষণ সাংসারিক টানাপোড়েনের গল্প মনে হইল। গান রিলিজ হইল, আহারে জীবন, আহা জীবন। দর্শককে কি বেদনায় ডুবিয়ে দিতে চাইছেন ফারুকী? জানতে হলে দেখতে হবে। অবশেষে আজকে সিনেমা রিলিজ হইল, প্রথম শো দেখতে চলে গেলাম নন্দিতা সিনেমাহলে।

    এক চিত্র পরিচালক জাভেদ হাসানের গল্প। তার নাম আছে, যশ আছে, স্ত্রী আছে, কন্যা আছে, পুত্র আছে, আর কি চাই তবে? প্রেম আছে? আছে হয়ত! স্ত্রী মায়াকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন বলে কত না যাতনা সইতে হয়েছিল। শ্বশুর মশায় থানা পুলিশ পর্যন্ত করেছিলেন। কিন্তু শ্বাশুরি নিজে তাদেরকে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছিল। তারপরে অনেকদিন কেটে গেল। জাভেদ এখন দেশের নামকরা চিত্র পরিচালক। গল্প নিয়ে ভাবতে আর নিজেকে সময় দেবার জন্য তিনি দূরে একলা বাড়িতে মাঝেমাঝে রাত্রি যাপন করেন। যেন তার সংসারে থাকতে আর ভাল লাগেনা। যেন মায়ায় আবদ্ধ জীবন থেকে তিনি একটু মুক্তি পেতে চান। যেন তিনি নতুন করে কোন মায়ায় জড়াতে চান। জাভেদের এমন পরিবর্তন স্ত্রী মায়া বুঝতে পারছিলেন। কিন্তু তিনি জানতে না জাভেদ আসলে কি চান! তাদের মাঝে ধীরেধীরে দুরত্ব তৈরি হতে থাকে। এর মাঝে একদিন হুট করে জাভেদ তার সিনেমার নায়িকা এবং একই সাথে কন্যা সাবেরির বন্ধু নিতুকে বিয়ে করেন। এই সংবাদে দেশের সকল পত্র পত্রিকা আর নিউজ মিডিয়া সবখানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিতর্কের চূড়ান্ত পর্যায়ে স্ত্রী মায়া, কন্যা সাবেরি আর তার পুত্র সবাই তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এত বছর ধরে, এত মমতা দিয়ে গড়ে তোলা নিজের সংসারটি এক মুহুর্তেই যেন তার অতীত হয়ে যায়। সেই বেদনা জাভেদকে চিরতরে গ্রাস করে। এক গভীর শূন্যতায় জাভেদ ডুবে যান। তার মৃত্যু হয়। কন্যা আর পুত্ররা পিতার মৃত দেহকে শেষ বিদায় দেয়। চিরতরে তাকে দাফন করা হয় তারই প্রিয় স্থান নয়নতারায়। সেই সাথে গল্পের সমাপ্তি হয়।

    ফারুকীর ডুব সিনেমার গল্পটি এক গভীর বেদনায় দর্শককে সিক্ত করে। সন্তানের প্রতি পিতার ভালবাসা নিয়ে তৈরি এক অনন্য গল্প ডুব। সিনেমাতে একই সাথে একজন প্রেমিক এবং পিতা জাভেদ হাসান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। লাঞ্চ বক্স সিনেমার কেরানি প্রেমিক সাজান ফার্নান্দেজকে দেখে কবেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। ডুবে ইরফানের অভিনয় দেখে আবারো মুগ্ধ হয়েছি। এক পৃথিবীর সংকোচ আর নীরবতাকে ঠিকঠাক ভাবেই তিনি নিজের চেহারায় ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। যদি ভাষাটিকে তিনি আরেকটু ভালভাবে রপ্ত করতে পারতেন তাহলে আরো ভাল হতো। যদিও বুদ্ধি করে পরিচালক তাকে দিয়ে ইংরাজি বলিয়ে নিয়েছেন। জাভেদের কন্যা সাবেরি চরিত্রে তিশাও সাবলিল ছিলেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিব্যক্তিতে তিশা রীতিমত সেরা ছিলেন। জাভেদের প্রথম স্ত্রী মায়া চরিত্রে রোকেয়া প্রাচী আর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সাবেরির বন্ধু নিতু চরিত্রে পার্নো মিত্রও ভাল ছিলেন। আসলে তারা সবাই মিলে একটি বেদনাকে ফুটিয়ে তোলার মিশনে নেমে শেষমেশ সফল হয়েছেন। গভীর বেদনায় তারা দর্শককে ডুবিয়ে দিয়েছেন

  9. আরিফ টাকা বাইচা গেলো মনে হয় 😛
    Kaosar দোস্ত টাইম নষ্ট হইতো পইড়া দেখ।
    Usrin দেখবানা পাখি?

  10. Imdadul Islam Swadin review ta pore public er comment gula o porish.

  11. Saiful Islam Rakib
    Abdur Rahman
    Said Rabby
    Tanvir Ahmed Siddique
    Aniket Anik

  12. Eto negetive vibe ken … dekhar iccha more jacche 🙀🙀 vabchilam family r sobai ke niye dekhbo ?

  13. Moinul Masum Sohag Chowdhury Adhur Habibur Rahman Atiqur Rahman Khan

  14. নাহ্ শান্তি পেলাম না… 😛
    অাগামীকাল শ্যামলী গিয়ে নিজে দেখে মতামত জানাবো… 😛

  15. সুন্দর রিভিউ।একদম মনের কথা গুলা বলছেন।

  16. বাইটকা বাটপার ফারুকী। পিপড়া বিদ্যায় পাবলিকের পুটকি মারছে।

  17. Shohanur Rahman thik bolso vaya taka khoros koira a movie dakha ucit na…..

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন