Elysium(2013) … স্বপ্নের পৃথিবী

নতুন এক ‘কল্পলোক’ বা ‘স্বপ্নপুরি’ সপ্ন দেখি আমরা সবাই… যে রাজ্যের আমরাই রাজা……যেখানে থাকে না কোনো বভুক্ষের আর্তনাদ…দারিদ্রের হাহাকার…সেখানে থাকে শুধু মুক্ত পাখির মত ডানা  মেলে  উড়ে বেড়ানোর অনাবিল আনন্দ…সুখনিদ্রায় যায় সে  রাজ্যে্র মানুষেরা । যুগে যুগে  কবি  সাহিত্যিক দের লেখায় অগনিতবার প্রানবন্তভাবে উপস্থাপিত হওয়া সেই সপ্নপূরীকে  নতুন  আঙ্গীকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করার প্রয়াস ‘এলিজিয়াম’

elysium-2013-movie

ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নানা রকম মহামারিতে আক্রান্ত ও অধিক জনবসতিপূর্ন  ২১৫৪ সালের পৃথিবী…… এই জরাজীর্ন পৃথিবী থেকে বাচঁতে মহাকাশে অত্যাধুনিক স্পেস স্টেশন তথা  নতুন এক সপ্নপূরী   গড়ে তোলে  উচ্চাভিলাসী মানুষেরা ।   এই কল্পলোকের বাসিন্দাদের বিলাসীতার জন্য কোনো কিছুর অভাব নেই…রোগ-ব্যাধিরও কোনো বালাই নেই…থাকবে কিভাবে এইখানে যে আছে ‘মেড-বেইস’ ( ছবি অনুযায়ী এক ধরনের মেডিক্যাল ডিভাইস যেখানে যে কোনো অসুখে আক্রান্ত রোগীকে প্রবেশ করালে মূহুর্তেই সে আরোগ্য লাভ করে)।আরাধ্য এ কল্পলোক হাতছানি দিয়ে ডাকে পৃথিবীর অসহায় মানুষদের…আর তাই তা ছুঁয়ে দেখবার জন্য বার বার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়  কিছু মানুষ আর তাদের বার বারই প্রতিহত করে কল্পলোকের বাসিন্দা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রোবট…পৃথিবীতে এবং কল্পলোকে এই দুই জায়গাতেই সাধারন মানুষের শক্ত  প্রতিবন্ধক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এই রোবট তৈরী হয় পৃথিবীর এক কারখানায়…সেই কারখানার একজন  নির্মানকর্মী  ‘ম্যাক্স’ (Matt Damon) । চারবছর  জেল খাটা ম্যাক্স  পেশায় একসময় ছিল দূর্ধর্ষ এক গাড়ী চোর…পৃথিবীর  আর দশটা  সাধারন মানুষের  মত তার শৈশবলালিত সপ্ন এলিজিয়াম তথা সপ্নপূরীতে আশ্রয় লাভ…ধীরে ধীরে সেই সপ্নের জালবোনা ম্যাক্সের সবকিছু হঠাৎ উলট-পালট হয়ে যায় একটি দূর্ঘটনায়…কারখানায় কর্মরত অবস্থায় বিকল মেশিন সচল করতে গিয়ে অনাকাংখিত এবং স্বাভাবিক ধারনক্ষমতার চেয়েও অত্যধিক তীব্র তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয় সে…ফলে তার দেহকোষের বেশীরভাগই নষ্ট হয়ে যায়…তার জীবনের আয়ু কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ দিন।

1url

url

9url

জীবনের শেষ সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে ম্যাক্সের শেষ সম্বল সপ্নপূরীর  ‘মেড-বেইস’…  যেখানে পৌছানোর মত অক্ষম ম্যাক্স  অবশেষে  শরনাপন্ন  হয় তার বেপরোয়া জীবনকালীন প্রশয়দাতা স্মাগলার ‘স্পাইডার’ এর…সুযোগ সন্ধানী স্পাইডার ম্যাক্সকে শর্ত দেয়  সপ্নপূরীর  নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় কম্পিউটার এর ইনফরমেশন ডাউনলোড করে তাকে এনে দেয়ার…নিরূপায় ম্যাক্স সে শর্তে রাজী হলে তার শরীরে বসানো হয়  এক্সো স্কেলিটন ( এক ধরনের মেশিন নিয়ন্ত্রিত কঙ্কাল যা মানুষের শরীরে লাগালে অন্যরকম শক্তি বৃদ্ধি পায়  এবং ব্রেইনে কম্পিউটারের  তথ্য সংরক্ষন করা যায় ) । সুপার হিউম্যান ক্ষমতা সম্পন্ন ম্যাক্সের শুরু হয় নতুন এক দুরন্ত অভিযান…কিন্ত তার জীবনের ঘন্টা বাজতে যে আর মাত্র কয়েকদিন দিন...সে কি পারবে  এই ক্ষীন সময়ে তার কঠিন লক্ষ্যে পৌছোতে ? কিংবা তার দীর্ঘদিনের লালিত সপ্ন সেই সপ্নপূরিতে পা রাখতে ? জানতে হলে দেখতে হবে চমৎকার এই কল্পকাহিনীটি

Elysium2013akm5

 

Elysium-Alice-Braga-809-1

কোনো ছবি যদি হয় সায়েন্স ফিকশন আর সেই ছবিতে যদি থাকে ম্যাট ডেমন তবে তা ডাবল আকর্ষন মুভিখোরদের মাঝে…এই ছবিটিও  তার ব্যতিক্রম নয় । ম্যাট ডেমনের অভিনয় নিয়ে নতুন করে কি বলার কিছু আছে...’ডিপার্টেড’...’বার্ন সিরিজ’ কত নামই চলে আসে  তার  নজরকাড়া অভিনয়ের তালিকায়…আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পাঙ্খা ‘দি অ্যাডজাস্টমেন্ট ব্যু্রো’ ছবি দেখে…আর কেনই বা  হবোনা সায়েন্স ফিকশনেও যে অভিনয় বলতে কিছু আছে তাতো জানতে পারলাম এই ছবিতে তার অভিনয় দেখেই…তিনি আসলেই একজন জাঁদরেল অভিনেতা ।পরিচালক নেইল ব্লমক্যাম্প তার সপ্নের ক্যানভাসে চিরজীবন সপ্নপূরীর ছবি এঁকেছেন…আর সে চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠে  এই ছবির পরতে পরতে … মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফী…ভি.এফ.এক্স এর দূর্দান্ত ব্যবহার সত্যিকারের সপ্নপূরীর অনুভূতি এনে  দিয়েছে …ছবি শুরু হওয়ার পর থেকে কিভাবে যে এক ঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিট কেটে গেছে টেরই পায়নি…আর এটাই পরিচালকের স্বার্থকতা ।

Elysium-screenshot-26

 

কিছুটা হলেও নতুনত্ব নিয়ে আসা এই ছবিটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও এতে আছে চমৎকার এক ভালোবাসার গল্প যা  স্নরন করিয়ে দিবে সম্পর্কের তাৎপর্যময় উক্তি ” ভালোবাসা চিরঅম্লান”…আছে মানবতার গল্প যা স্নরন করিয়ে দিবে সেই  অমর উক্তি ” ভোগে সুখ নেই …ত্যাগেই প্রকৃ্ত সুখ” । প্রতিনিয়ত গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন দেখে যারা  বিরক্ত হয়ে গিয়েছেন তাদের জন্য একটি উপভোগ্য সময় উপহার দিবে ছবিটি

IMDB Rating   :  6.9
My Rating        : 7.5
Comment        :  Enjoyable worth watching

Elysium-Movie

//

(Visited 153 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    নট শিওর এবাউট দ্যা মুভি কিন্তু ক্যামেরার কাজ ভালো মনে হচ্ছে। এই মুভিটা সিনেমায় দেখতে ভালো লাগবে। আপনার লেখাটা ভালো লাগলো বিশেষ করে ভূমিকা।

    • গ্রীন ড্রিমার says:

      ধন্যবাদ…ছবিটি দেখতে পারেন সাইন্স ফিকশন হিসেবে বেশ নতুনত্ব আছে ছবিটিতে

  2. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    দেখতে হবে। 🙂

  3. সি.এম. তানভীর উল ইসলাম says:

    ভালো প্রিন্ট আসে নাই তাই দেখতে পারি নাই …ভালো প্রিন্টের জন্য ওয়েট করছি 🙂

  4. এখনো দেখা হয়নি। তবে ম্যাট আমার ফেভারিট অভিনেতা। দেখতেই হবে।

    • গ্রীন ড্রিমার says:

      ম্যাট আমারও প্রিয় অভিনেতা…বরাবরের মত এই ছবিতেও বস একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছে

  5. James Bond says:

    অপেক্ষায় আছি দেখার জন্য।

  6. শাতিল আফিন্দি says:

    অপেক্ষায় আছি…এখনও ভালো প্রিন্ট পাইনাই!

  7. অনিক চৌধুরী says:

    মুভিটা দেখে বেশ ভালো লাগছে মেসেজটা। রিভিউ ভালো লাগছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন