UTOPIA….. ব্রিটিশ মাস্টারপিস টিভি সিরিজ
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

 

BLIMEY – উচ্চারণ হবে ব্লাইমি; আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “blind me” or “make me blind”. জিনিসটা বলে বোঝানো হয়, আশাতীতভাবে আশ্চর্য হওয়া। হ্যারি পটারের একটা অনুবাদের মধ্যে এটাকে “ব্লিমে” লিখেছিলেন এক অতি চমৎকার অনুবাদক! যাই হোক, আমার মতে, এটার সবচেয়ে চমৎকার অনুবাদ হচ্ছে, “তার মায়েরে বাপ”.

.

কিন্তু একটা সিরিয়াল দেখতে গিয়ে “ব্লাইমি” বলে বারবার চিৎকার করে উঠেছি, এবং এর আক্ষরিক অর্থটাই মীন করেছি। কারণ, দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে যেন অন্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। সাধারণত ব্রিটিশ সিরিয়ালগুলোতে cold feelings আনার জন্য warm color tone ব্যবহার করা হয়না। কিন্তু এটার মধ্যে Wes Anderson এর মত saturated colors, বেধড়ক এবং আনকমন রঙের ব্যবহার, মাঝে মাঝে cross processed imagery, wide angle scenes ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু ফটোগ্রাফি দিয়েই আমাকে অন্ধ করে দিচ্ছিলো, UTOPIA.

.

.

কাহিনীর শুরু

.

ইউটোপিয়া, নামে একটা গ্রাফিক নভেল বের হয়েছিলো, যেখানে একটা conspiracy theory এর কথা বলা হয়েছে। কেউ কেউ আবার এটাকে বেশ সিরিয়াসলি নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দাবি করলো, ইউটোপিয়ার আনপাবলিশড সেকেন্ড ভলিউম আছে তার কাছে। সে তার অনলাইন বন্ধুদের সাথে সেটা শেয়ার করবে বলে মিটিং ঠিক করলো। যেটা সে জানতোনা, তা হলো – দুজন ট্রেনিংপ্রাপ্ত খুনীও সেটা খুঁজছে। এবং এখন তারা জানে, সেটার জন্য কাকে খুঁজতে হবে। কাহিনীর শুরু এভাবে (প্রথম সীজনের প্রথম পর্বের প্রথম ১৫ মিনিট)

.

বিশেষ কিছু খুঁটিনাটি

.

থ্রিলারটা অনেকগুলো স্বতন্ত্র দিক আছে, তার মধ্যে একটা (ফটোগ্রাফি)-র কথা তো আগেই বললাম। যে ছবিটা এড করলাম, একই সীন একই কালারে ইউজ করা হয়েছে সিরিজের মধ্যে। অবিশ্বাস্য কিছুটা, তাইনা?

.

দশে দশ পাবে ইউটোপিয়ার কাস্টিং। ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি দেখানোর সময় যে কাস্ট ইউজ করা হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় – কাস্টিং এর জন্য এরা কতটা সময় বিনিয়োগ করেছে। আর যেহেতু এটা ব্রিটিশ সিরিয়াল, অনেক রকম সুন্দর সুন্দর উচ্চারণ শোনা যাবে। কিন্তু, Becky নামের একটা চরিত্র ছিলো, ওর উচ্চারণের কথা মাথায় আটকে গেছে বিশেষ করে। ঐ চরিত্রে অভিনয় করেছে Alexandra Roach. মেয়েটা ওয়েলস এর, এবং ইউটোপিয়াতে সে তার ওয়েলশ এক্সেন্ট-ই ইউজ করেছে। এতো গোলগাল উচ্চারণ, এতো কিউট এক্সেন্ট – ইচ্ছে করে, আদর করে ভাসায়ে দিই।

.

আরেকটা চোখে পড়ার মত এসপেক্ট হচ্ছে, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। প্রত্যেকের একটা আলাদা এবং চোখে পড়ার মত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিলো। বিশেষ করে, জেসিকা হাইড আর Arby এর চলাফেরা এতো পারফেক্ট ছিলো, বলার মত না। সবার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনই ইউটোপিয়ার ডার্ক থিমের সাথে অসাধারণ মানিয়ে গেছে।

.

.

একটা পিকিউলিয়ার জিনিস লক্ষ্য করলাম – ২০১৩ এর জানুয়ারির ১৫ তারিখে এটার প্রথম সীজন শুরু হয়েছিলো। চার মাস পর ১৪ই মে-তে বের হলো ড্যান ব্রাউনের থ্রিলার বই Inferno. ব্রাউন দুই বছর ধরে এটার কাজ করছিলেন। ইউটোপিয়ার টীমও দু বছর ধরে এটার পেছনে ছিলো। কেউ কারো থেকে ইন্সপায়ার্ড বা নকল করার সুযোগ পাওয়ার কথা না। অর্থাৎ, দুইজন দুই জায়গায় একই থিম নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেছে। The odds are low, but it happened somehow.

.

যাই হোক, সব শেষে, এক বাক্যে – অবশ্যই দেখার মত একটা সিরিয়াল। দুই সীজন, সব মিলিয়ে ১২ পর্ব, ক্ষুধার্তের মত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করেছিলাম। খুব খারাপ একটা খবর হলো, এটার থার্ড সীজন নাকি ক্যান্সেল হয়েছে। কারণ, হিসেবে কেউ কেউ বলছে, এটা এতো ভালো করে conspiracy theory দেখাচ্ছে, যে এটা দেখে নাকি মানুষ সরকারের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছে। অন্যদিকে, ডেভিড ফিঞ্চার (অনেকেরই প্রিয় পরিচালক, আমারো বেশ প্রিয় পরিচালকদের একজন) নাকি এটার আমেরিকান এডাপ্টেশন বানাবেন বলে HBO ঘোষণা দিয়েছে। জানিনা, কেমন হবে। ফিঞ্চারের ওপরে আশা আছে যদিও। এখন, আমেরিকান রিমেকের জন্য বসে আছি।

.

আর হ্যাঁ, তার মায়েরে বাপ!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন