হাসি, কান্না, ভাবনা (মুন্না ভাই সিরিজের তিন বৈশিষ্ট্য)

হঠাৎ করে একটা ধক উঠলো। ব্যাক টু ব্যাক মুন্না ভাই সিরিজ দেখে ফেললাম। বিকেলে মুন্না ভাই এমবিবিএস, সন্ধ্যায় লাগে রাহো মুন্নাভাই। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিলো, রাজকুমার হিরানির সিনেমা সফল হবে না কেন? তিনটা মুখ্য জিনিসই তো আছে সেখানে – আপনি হাসবেন, আপনি কাঁদবেন, এবং আপনি ভাববেন। এই সিরিজ দেখা নেই, এমন কেউ মনে হয় নেই। তাই, খুল্লাম খুল্লা কথা বলছি। তবুও, কারো যদি না দেখা থাকে, এই লাইনের পরে আর পড়ার দরকার নাই।
.
meme
.
আদতে দুটো সিনেমার কাহিনীই এক – মুন্না একটা মিথ্যে পরিচয় ধারণ করে, সেটার কারণেই বিপদে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত ভিলেইন বাবার মেয়ে একটা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দুটোতেই আছে মুন্না-সার্কিটের বন্ধুত্ব, পরিবারের প্রতি মূল্যবোধ, আর একটা গৌণ প্রেম কাহিনী। দুটো সিনেমার দৃশ্য বণ্টনেও অনেক সাদৃশ্য। দুটোতেই একজন ছিলো যে ওভার-এক্টিং করে সার্কিট বা মুন্নার হাতে মার খেয়েছে। এমনকি একটা জোক দুটোরই শেষ ১০ মিনিটের দিকে ব্যবহার করা হয়েছে,
.
মুন্না – তু গাঁও যাকে ক্যায়া কারেগা? তুঝে তো হাল চালানা ভি নেহি আতা।
সার্কিট – ভাই, আগার ম্যায় হাল চালাউঙ্গা, তো ব্যাহেল ক্যায়া চালায়েগা?
.
যাই হোক, বলতে এসেছিলাম এই সিনেমাগুলোর তিনটা প্রধান দিকের ধরন নিয়ে।
.
********** হাসিঃ
হাসতে হাসতে পেটে খিল তো ধরেই সবার। কিছু কিছু দৃশ্যের কথা মনে পড়লেই চলে, সিনেমাও দেখা লাগে না, এমনিতেই হাসি চলে আসে। মনে আছে, প্রথম মুভির সেই সীনটার কথা যেখানে আনন্দ ব্যানার্জির জন্য আনা বিছানা দেখে ডঃ আস্থানা জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ক্যায়া মে পুছ সাকতা হু, ইয়াহা ক্যায়া হো রাহা হ্যায়?”… আর মুন্না সাথে সাথে বলেছিলো, “নেহি।” একটু পরেই বলেছিলো, “আচ্ছা, পুছ না। পুছ, পুছ”…… গত ১১ বছরে যতবারই দৃশ্যটার কথা মনে পড়েছে, ততবারই হেসে ফেলেছি।
.

.
হিরানী খুব সরল মনের হিউমার ধারণ করেন। সবচেয়ে সহজ যে হিউমারটা মাথায় আসার কথা, সেটাকেই স্ক্রীনে ফুটিয়ে তোলার একটা কৌশল আছে তার কাছে। কোথাও কোথাও হাসানোর চেষ্টাটা একটু স্পষ্ট হলেও ওভারল কোনো কমপ্লেইন মনে হয় কেউ করবেনা কখনো।
.
********** কান্নাঃ
সিনেমা আগা-গোড়া কমেডি, কিন্তু এই সিনেমা দেখে দর্শক কেঁদেছে প্রচুর। কান্নার ধরনটাও ভিন্ন এই সিনেমাগুলোতে। ঠিক দুর্যোগের কান্না না, অনেক বেশি ভাল লাগা থেকে কান্না। প্রথম মুভিতে ঝাড়ুদার মাকসুদকে জাদু কি ঝাপ্পি দেয়ার কান্না, ডাক্তারের বাবার ক্যারম খেলা শেষে জুস খাওয়ার সীনের কান্না; দ্বিতীয় মুভিতে ভিক্টরের সাত লাখ টাকা হারিয়ে বাবাকে বলে দেয়া আর বাবার ক্ষমা করে দেয়ার পরের কান্না – সবগুলোই বেশি ভালো লাগা থেকে, নিকষ বেদনা থেকে না।
.

.
যখনই দৃশ্যের কেউ বলছে, “রুলায়েগা ক্যায়া?” তখনই দর্শকের সবার চোখে পানি। আর রুলায়েগা ক্যায়া-টা মনে হয় শেষ ধাক্কা। এতক্ষণ চোখের কোণায় জমা থাকলেও এবার গড়িয়েই গেলো।
.
********** ভাবনাঃ
দুটো সিনেমার আরো একটা সাদৃশ্য হচ্ছে ভাবনার মধ্যে। মেইন থিম হচ্ছে, মানুষের প্রতি আরেকটু সদয় হওয়া, এবং এভাবেই মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা। প্রথমটাতেও মুন্না হাসপাতালের রোগী, কর্মচারীদের প্রতি অন্য রকম আচরণ করে সবার মনে জায়গা করে নিলো। পরেরটাতেও গান্ধীগিরির অংশ হিসেবে সবাইকে পরামর্শ দিলো, মারামারি না, ভালোবেসে পালটে দাও মানুষকে।
.
দুটো সিনেমা দেখা শেষ করার পরেই একই অনুভূতি হয় – যাদের সাথে মন কষাকষি আছে, দেই তাদেরকে মাফ করে। কী আছে জীবনে? তাই না?

(Visited 262 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    মুভিতে মুন্না ভাইয়ের পর সার্কিটের চরিত্রটা আমার সবচেয়ে প্রিয়।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন