GRAVITY…. মহাশূন্যে অসহায় দুই নগণ্য মানুষের গল্প

প্রথম দৃশ্যেই বাজিমাত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ কিলোমিটার ওপর থেকে দেখা আবর্তিত পৃথিবীর ছবি। অনেক দূরে পৃথিবীর সমুদ্রে ঘূর্ণি, মেঘের আনাগোণা, আঁকাবাঁকা ল্যান্ডস্কেপ। হঠাৎ করেই নিজেকে এতো ক্ষুদ্র, এতো নগণ্য মনে হলো !! মনে হলো, আমি তো কেউ না। সিনেমার কোনো ডায়লগ শুরু হলো না, ক্লাইম্যাক্স আসতে তো ম্যালা দেরি – কিন্তু তখনি পুরো শরীর বেয়ে একটা শিহরণ বয়ে গেলো। মহাশূন্যের অসীম শূন্যতা অনুভব করানোটা সিনেমার খাতিরেই প্রয়োজন ছিলো, এক দৃশ্যেই সেটা করিয়ে দিলো সিনেমার অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি।

gravity-movie-poster

হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এর সার্ভিস করতে এসেছে ডক্টর রায়ান স্টোন (স্যান্ড্রা বুলক) এবং ম্যাথিউ কোয়ালস্কি (জর্জ ক্লুনি)…… ম্যাট এর আত্মবিশ্বাসী মনোভাব তাকে যে কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার করে আনে, আর তার কৌতুক যে কোনো বিষণ্ন পরিস্থিতি হালকা করে দেয়। আর রায়ান একজন স্পেশালিস্ট হাবল টেলিস্কোপের ওপরে।

gravity

ভালোই চলছিলো সবকিছু, কিন্তু একটা ঝামেলা বেঁধে গেলো। রাশিয়ানরা তাদের একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করার জন্য একটা মিসাইল পাঠিয়েছিলো, সেখান থেকে একটা চেইন রিয়েকশন শুরু হয়েছে। এবং অত্যন্ত দ্রুতবেগে ধেয়ে আসছে ধ্বংসাবশেষ এর টুকরোগুলো।

সংঘর্ষ এড়ানো গেলো না কোনোভাবেই। প্রবল ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে অভিকর্ষহীন মহাশূন্যে অনির্দিষ্টভাবে ভেসে বেড়াতে শুরু করলো রায়ান। কিছুই নেই আশেপাশে আঁকড়ে ধরার মত, নিজের গতি থামানোর মত। এখন শুধু অসহায় হয়ে চরকির মত নিরন্তর ঘুরতে থাকা। অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে এক সময়, কিন্তু এই গতি থামবে না – এ ধরনের অসাধারণ একটা prologue দিয়ে কাহিনীর শুরু।

সার্ভিস করার সিনটার ডিটেইলস এতো বেশিমাত্রায় নিখুঁত ছিলো যে নাসার মহাকাশচারী মাইকেল ম্যাসিমিনো, যিনি কিনা দুইবার হাবল স্পেস টেলিস্কোপে সার্ভিস রিপেয়ারে ছিলেন, বলেছেন, “পৃথিবীতে হয়তো পাঁচজন এমন আছেন যে কিনা ঐ ধরনের ডিটেইলস খেয়াল করতে পারবে। এমনকি আমরা যে তার কাটার যন্ত্র ব্যবহার করেছি, আমি নিশ্চিত যে ওরাও সেই একই তার কাটার যন্ত্র ব্যবহার করেছে”……… যাই হোক, কিছু কিছু বৈজ্ঞানিক ত্রুটি আছে। পরিচালক নিজেও বলেছেন, কাহিনীর প্রয়োজনে কোথাও কোথাও ত্রুটি দেখিয়েছেন। তবে একটা ছাড়া আর কোনোটাই আমার খুব একটা দৃষ্টিকটু মনে হয়নি।

যখন রায়ান বিভ্রান্তের মত মহাশূন্যে ঘুরতে থাকে, তখন এতো অসহায় লেগেছিলো যে বলার মত না। ঐ জায়গার সিনেমাটোগ্রাফিটাও ছিলো একদম গায়ে কাঁটা দেয়ার মত। এই দৃশ্য ছাড়াও সিনেমার অনেক দৃশ্যেই ফার্স্ট-পারসন-পয়েন্ট-অফ-ভিউ-ফটোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকমতো ব্যবহার করতে না জানলে খুবই অপ্রয়োজনীয় মনে হতো, কিন্তু এখানে আসলেই এটাকে খুব সতর্কতার সাথে এবং সফলতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছে। আর সাইট সিলেকশন? Come on, IT’S THE SPACE, you can’t beat the view.

মিউজিকও ছিলো অসাধারণ, makes your blood boil in your veins. অনেকবার মনে মনে, আর একবার তো সশব্দেই বলে উঠেছি “oh, boy”……. নব্বইটা মিনিট এতো অসাধারণ কেটেছে যে আমি সংশয়ে পড়ে গেলাম, ২০১৩ তে আমার দেখা বেস্ট মুভি কি এটা না তো? পরে MUD এর কথা মনে পড়লো। Story আর screenplay এর জন্য ওটা এগিয়ে থাকবে আমার কাছে। এর পরেই GRAVITY. এবার হবিটের জন্য অপেক্ষা করছি, অধীর আগ্রহে !!

(Visited 138 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পজেটিভ রিভিউ তে আশার পারদ আরও উপরে উঠলো। দেখতেই হবে।

  2. দিলেন তো দাদা মন খারাপ করে। হলে না আসা পর্যন্ত মন ভালো হবে না ।
    :/

  3. আইম্যান আইম্যান says:

    বহুত ঠ্যালা গুতার পর শেষ পর্যন্ত মাসুম ভাইরে মুভিটা দেখাইতে পারলাম। 😀 ৩ডি তে দেখলে বেশি এঞ্জয় করতেন। আইম্যাক্স হইলে আরো ভাল হইত।
    কইছিলাম না এইটা হলিউড কাপায় ফালাইব। অস্কার পাইয়া যায় কিনা তাই দেখেন। এটার সাথে অস্কারের দৌড়ে স্টিভ ম্যাককুইনের 12 Years a Slave (2013) ও থাকবে। শেষ বেলায় স্করসিসি The Wolf of Wall Street (2013) দিয়া না কাঁপায়। ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে একটা কথা আছে 😛

    • gr8masum says:

      স্করসেসির জন্য তো বসে আছি। কখন বের হবে, আর কখন দেখুম !!!

      আইম্যান কিতা, সাইদ? আইডির মধ্যে নিজের নামের কিছু তো রাখো…

  4. 3gneoz says:

    kothai link gulo?/
    plz ekta link den….

  5. আরিফুল হক says:

    গতকাল সিনেমাটা দেখলাম। এক কথায় অসাধারণ! আমার মনে হয় এবার অস্কারে মুভিটা সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি ও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারে প্রথম দিকেই থাকবে।
    টরেন্টে ওয়েবরিপ চলে এসেছে। কোয়ালিটি ভালই। তবে থ্রি ডি দেখার সুযোগ পেলে আবার দেখার ইচ্ছে রাখি।
    রিভিউ করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ভাল রিভিউ আগে থেকেই আছে দেখে আর করলাম না। শুধু এইটুকু বলব যে, ছোটবেলায় মহাকাশচারী হওয়ার ইচ্ছে জাগেনি এমন মানুষ পাওয়া দুর্লভ। আমারও জেগেছিল। মাঝে মাঝে মনে হত – “আচ্ছা, যদি কোন কারণে কোন মহাকাশচারী তার মহাশূন্যযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে নিঃসীম একাকী মহাশূন্যে তার অনুভূতি কেমন হবে?” একথা মনে হতেই শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে যেত। এখন এই সিনেমা দেখার পর তার জবাব পেলাম।
    সিনেমার সব দৃশ্যই অসাধারণ, তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছে সয়ুজ ক্যাপসুলের ভিতর হাল ছেড়ে দেওয়া নায়িকার কান্নার দৃশ্য। অভিকর্ষ বলের অভাবে চোখের জলের ফোঁটাগুলো যেভাবে বুদবুদের মত চারিদিকে ভেসে বেড়াচ্ছিল, তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
    সব শেষে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের (১৭২৪-১৮০৪) এক অমর বাণী দিয়ে শেষ করতে চাই। তিনি বলে গেছেন, “দুইটি জিনিস আমাকে বিস্ময়ে হতবাক করে দেয় – একটা হল আমাদের উপরে এই বিশাল তারাভরা আকাশ আর অন্যটি হলো আমাদের ভিতরের নৈতিকতা!” সিনেমাটা দেখার পর এই বাণীর মাহাত্ম্য আরও ভালভাবে উপলব্ধি করলাম।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন