Living With Yourself: নিজের সাথে প্রতিযোগিতা (টিভি সিরিজ-নেটফ্লিক্স)

‘লিভিং উইথ ইওরসেলফ’ টিভি সিরিজটা যে কনসেপ্টে তৈরি, এই টপিকটা আমার ব্যক্তিগতভাবে বেশ আগ্রহের। একই কারণে ‘ব্ল্যাক মিরর’-এর সবগুলো এপিসোডের মাঝে ‘স্যান জুনিপেরো’ আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমার মেমরি যদি অন্য কোথাও স্টোর করা যায়, এবং কোনোভাবে সেই মেমরিটা যদি নিজেই সামনে আগাতে থাকে, তাহলে সেটাকে কি ইমমর্টালিটি বলা যায়? এবার সামান্য পরিবর্তন করি কাহিনিতে। আমার মেমরি এবার অন্য একটা জীবিত দেহে ট্রান্সফার করা হলো, একইসাথে আমার মূল শরীরেও মেমরি থেকে গেলো। এর মানে হচ্ছে অন্য যে মানুষটা সে-ও আমি, আমি নিজেও আমি! কারণ আমার ছেলেবেলার সকল স্মৃতি তার কাছেও আছে, আমার সবকিছুর প্রথম অনুভূতি, ভালোবাসা এগুলোর সবকিছুও তার মেমরিতে আছে। এবার আরেকটু আপগ্রেড করি গল্পতে। মনে করুন এই দ্বিতীয় শরীরটাও আপনারই শরীর!

 

এমনই এক অদ্ভুত সারিয়েল গল্প হচ্ছে সদ্য প্রিমিয়ার হওয়া নেটফ্লিক্সের ‘লিভিং উইথ ইওরসেলফ’। মাইলস এলিওট, মিড-লাইফ ক্রাইসিসে ভোগা এক মানুষ, যার কিনা ভালোবাসার স্ত্রী, ভালো চাকরি, ভালো একটা সাব-আর্বান বাড়ি, এসবই আছে। কিন্তু তারপরেও কেমন ছন্নছাড়া, এবং নিজেই এ কারণে নিজের উপরে বিরক্ত। একদিন তাই এক বন্ধুর পরামর্শে সে যায় এক স্পা সেন্টারে, নিজেকে ফ্রেশ করে আসতে। কিন্তু সে জানতো না যে এই “স্পা সেন্টার” আসলে তার একটা ক্লোন তৈরি করে তার মেমরি সেটায় ট্রান্সফার করবে, আর মূল এলিওটকে মেরে ফেলবে! কিন্তু সেই সেন্টারের অন্য সব ক্লায়েন্ট মারা গেলেও সে মারা যায়নি অবশ্যই, কারণ মারা গেলে এই সিরিজটা আর তৈরি হতো না।

 

Paul Rudd & Paul Rudd as Mike Elliot & Mike Elliot (!)

 

সিরিজটা চালু করার প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হুকড হয়ে গিয়েছিলাম। বলে রাখা ভালো, আমি মাঝেমধ্যে ট্রেইলার চেক করি না একদমই। আমার শুধু সামান্য প্রিমিসেস জানা ছিল এই সিরিজের। এবং শুরু করার পরে এক বসাতে পুরো সিরিজটা দেখে ফেলেছি, সিরিজটা এতোটা স্যাটিসফাইং এবং মজাদার! অনেকদিন যাবত কোনো টিভি সিরিজ দেখে এমন টপ-টিয়ার লেভেলের স্যাটিসফেকশন পাইনি।

 

সিরিজের গল্প নিয়ে পরে কথা বলি। আগে কথা বলি পল রাড কে নিয়ে। I like Paul Rudd, I like him a lot. কিন্তু এরপরেও এই সিরিজের প্রতি মুহুর্তে তার প্রতি ভালো লাগা বেড়ে চললো। What a performance! ওল্ড-মাইলস, নিউ-মাইলস, দু’টো সম্পূর্ণ আলাদা পার্সোনা একই ব্যক্তির। কিন্তু তার পরেও তাদের মধ্যে সামান্য ডিফারেন্স আছে, এবং সেটাই আসলে মূল পয়েন্ট সবকিছুর। ক্লোন করবার কারণই ছিল যেন ঐ ব্যক্তির একটা আপগ্রেডেড বা বেটার ভার্সন তৈরি হয়। তাই নিউ/ক্লোন মাইলস হচ্ছে ওল্ড-মাইলসের সব ত্রুঁটিমুক্ত। সে জানে কিভাবে তার চাকরি করতে হয়, কি করলে তার স্ত্রী (!) খুশি হবে, অথবা অপরিচিত কারো সাথেও কিভাবে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। আর ওল্ড-মাইলস? Let’s just say that is exactly why he needed the ‘spa’. পল রাড খুব চমৎকারভাবে এই দুইটি সিচ্যুয়েশন সামলেছেন।

 

‘কাউন্টারপার্ট’ সিরিজে জে কে সিমন্স একই ব্যক্তির আলাদা ভার্সনে অভিনয় করেছিলেন, এবং সেটাও অনবদ্য পারফর্ম্যান্স ছিল। কিন্তু সেখানে আলাদা দুইজন ইউনিভার্সের হবার কারণে আল্টিমেটলি দু’টো সম্পূর্ণ ব্যক্তিই ছিল, আর দু’টো আলাদা ওয়ার্ল্ড ছিল সম্পূর্ণ। কিন্তু এখানে আসলে ব্যাপারটা খুবই জটিল। কারণ দুইটি আলাদা দেহ হলেও মেমরি একজনেরই, তার (কিংবা তাদের?) স্ত্রী একজনই, জীবনও একটাই। ক্লোন হবার আগমূহুর্ত পর্যন্ত তারা একজনই ছিল। কিন্তু এখন তারা কি করবে? কারণ অরিজিনাল, এই সবকিছু তারই হবার কথা। কিন্তু যে ক্লোন, আদতে এই সবকিছুতো তারও! তাই সবকিছু একপ্রকার থাকার পরেও তার মাঝে একটা শুণ্যতা কাজ করছে।  এই জিনিসটাই কমেডিক স্টাইলে খুব দারুণভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। সিরিজটাকে যদিও ব্ল্যাক কমেডি বলা হচ্ছে না, কিন্তু সব মিলিয়ে আমার কাছে একটা ব্ল্যাক কমেডি ভাইব আছে বলে মনে হলো। বিভিন্ন পয়েন্ট অব ভিউ থেকে তিনটি মূল চরিত্রের সব সিচ্যুয়েশন বর্ণনা করা হয়েছে; খুবই দারুণ একটা থিমের উপরে খুবই চমৎকার, গোছানো একটা স্ক্রিপ্ট।

 

Let’s talk about the third character. মাইলস এলিওটের স্ত্রী কেট। এই চরিত্রটার কারণে এই সিরিজকে আসলে রোমান্টিক ক্যাটাগরিতেও ফেলা যায়। মাইলসের সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর এই চরিত্রটাকেও চমৎকারভাবে তৈরি করা হয়েছে। কমেডিয়ান অ্যালিসিং বি এই চরিত্রে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। তার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে একটা পুরো এপিসোড আছে, এই এপিসোডটাই আমার সবচেয়ে পছন্দ (এপিসোড ৫)। এই এপিসোডটার শেষটা জাস্ট মার্ভেলাস! সৌলমেট থিওরি থেকে শুরু করে একদম শেষ পর্যন্ত; এই দৃশ্যটাকে যদি আমার দেখা অন্যতম সেরা রোমান্টিক দৃশ্য বলি সেটা আমার থেকে আমি বাড়িয়ে বলবো না। স্পেশালি এই দৃশ্যে পল রাডের আনন্দ মাখা হাসিটা দেখে মনটা ভরে গিয়েছিল।

 

Alising Bea as Kate Elliot

 

সিরিজটার যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সামান্য সায়েন্স-ফিকশনের যে অংশ আছে, এই ঝামেলার দিকে কোনো লক্ষ্যপাত না করে শুধুমাত্র এক্সিস্টেনশিয়াল ড্রামা অংশটা নিয়েই কাজ করেছে। সৌল থিওরি নিয়ে কিছু বলা হবে সেটা আশা করছিলাম আসলে, সেটা সামান্য কিছু করেছেও অবশ্য। বিভিন্ন ধরণের এনালজি গঠণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, তার মাঝে টাইলস এনালজি (এপিসোড-৫) আর ক্রেডেঞ্জা ডেস্ক এনালজি (এপিসোড-৭) দু’টো চমৎকার লেগেছে।

 

সিরিজটায় একটা ব্রিটিশ ভাইব পাচ্ছিলাম কেমন জানি, যে কারণে বেশিই ভালো লাগছিল। সামান্য গ্লুমি, ডার্ক কালার গ্রেডিং এর কারণেই এমনটা লাগলো কিনা জানি না, তবে বেশ ভালো একটা আকর্ষন পাচ্ছিলাম। আরেকটা জিনিস না বললেই না, সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার জাস্ট পার্ফেক্ট। তার সাথে যে কয়েকটা গান ব্যবহার করেছে, তার মাঝে এপিসোড-৫ এর গানটা লুপে শুনছি বারবার; অবশ্য আমার এমনিতেও কেলটিক ফোক সং এর প্রতি একটা দুর্বলতা আছে (লিংক পোস্টের শেষে)।

 

Living With Yourself সিরিজটা আর কাছে এতো ওভারওয়েলমিংলি ভালো লেগেছে/লাগবে কিনা জানি না, তবে আমার কাছে এটা একট অন্য ধরণের জায়গা করে নিলো এটি। রেটিং দিতে তাই কার্পণ্য করবো না। পরবর্তী সিজনের অপেক্ষায় রইলাম।

 

Living With Yourself
Release: October 2019, NETFLIX
Genre: Comedy, Drama
Cast: Paul Rudd, Aisling Bea
Episode: 8 Episode (~25 minutes; 3h 39m total)

 

My Rating: 5/5
Rotten Tomatoes: 7.11/10; 86% CF
IMDb: 7.8/10

[Song from Episode 5: youtu.be/revrD2s0vu8]

 

Error: No API key provided.

(Visited 67 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন