The Favourite: A Goldmine of 2018

২০১৮ সালের অন্যতম অপেক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ফেবারিট’। ব্রিটেনের ১৮ শতকের প্রথমদিককার রানী অ্যানের দুই ‘ফেবারিট’ (অনুচর) সারাহ চার্চিল এবং অ্যাবিগ্যাল হিল এর দ্বন্দ এর গল্প নিয়ে তৈরি গ্রিক পরিচালক ইয়োর্গোস ল্যাথিমোস এর এই পিরিয়ড-কমেডি ড্রামা ফিল্ম। সিনেমার গল্প চলতে থাকে কুইন অ্যান-কে কিভাবে দুই কাজিন সারাহ চার্চিল আর অ্যাবিগ্যাল হিল ম্যানিপুলেট করতে থাকে। একদিকে সারাহ চার্চিল কুইন অ্যান-এর বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে এখন ডাচেস অব মার্লবোরো, অন্যদিকে মাত্রই রাজপ্রাসাদে আসা অ্যাবিগ্যাল হিল নিজের চতুর বুদ্দিমত্তা দিয়ে রানীর প্রিয়পাত্রী হয়ে উঠতে চায়।

 

স্টোরিটেলিং এর দিক থেকে ল্যাথিমোস খুব দারুণ কাজ করেন। ‘দ্য লবস্টার’ বা ‘দ্য কিলিং অব আ স্যাক্রেড ডিয়ার’, সবখানেই তিনি খুব কমের মাঝে গল্প ন্যারেট করতে পারদর্শী। আলাদাভাবে কোনো এক্সপোজিশনের দরকার পরে না তার, যে কারণে ‘দ্য লবস্টার’ তার অন্য সবগুলোর থেকে আমার প্রিয় সিনেমা (‘দ্য ফেবারিট’-এর চাইতেও)। সারাহ চার্চিল রানীর অনুচর ছিল, রানীর অবর্তমানে পলিটিক্যাল অনেক কাজই সামলাতো সে, এমনকি অন্য মন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের সদস্যরাও তার কথায় গুরুত্ব দিতো। এই বিষয়টি ল্যাথিমোস কিভাবে বর্ণনা করলেন? যেটা বুঝানো দরকার, সেটাই তিনি দেখাতে থাকলেন, যে সারাহ চার্চিল রানীকে বুঝ দিয়ে ঘরে পাঠিয়ে, নিজেই পলিটিশিয়ানদের সাথে মিটিং করে তাদের নির্দেশ দিচ্ছে বিভিন্ন কিছু। শুধুমাত্র এরকম দেখিয়েই সারাহ চার্চিল কতোটা পলিটিক্যালি পাওয়ারফুল ছিল, সেটা দেখিয়ে দিলেন ল্যাথিমোস। সারাহ চার্চিল চরিত্রে র‍্যাচেল ভাইজ অনবদ্য অভিনয় করেছেন, অনেকের মতে তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় করেছেন, এবং আমিও তাই মনে করি।

 

Rachel Weisz as Sarah Churchill, Duchess of Marlborough

 

শুধু র‍্যাচেল ভাইজ না, বাকি দুইজন, অলিভিয়া কোলম্যান এবং এমা স্টোনও খুব দারুণ অভিনয় করেছেন। অলিভিয়া কোলম্যান ব্রিটেনের টেলিভিশনে অনেক নামকরা অভিনেত্রী। তবে ‘দ্য ফেবারিটে’-এর মাধ্যমে এবার তিনি ওয়ার্ল্ডওয়াইড পরিচিতি পেলেন। যদিও ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’-এর কারণেও তিনি ভালোই নাম করেছিলেন। তবে মুভির দুনিয়ায় হয়তোবা তাকে আরো বেশি পাওয়া হবে এরপর থেকে। সিনেমার নাম ‘দ্য ফেবারিট’ হলেও, কিন্তু মূল চরিত্রতো আসলে কুইন অ্যান। কারণ তাকে ঘিরেই দুই ‘ফেবারিট’ এর যতো কান্ডকারখানা। কুইন অ্যান খুবই নাজুক প্রকৃতির মানুষ ছিল বাস্তব জীবনেও। সেটা খুব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন কোলম্যান। একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে কুইন অ্যানকে হুইলচেয়ারে করে বলরুমে আনা হয়, নাচের অনুষ্ঠানে, কারণ কিছুদিন আগে কোনো দুর্ঘটনায় তার পায়ে আঘাত লাগে। এখানে বসে অ্যান বেশ উপভোগ করতে শুরু করে অনুষ্ঠান। কিন্তু হঠাৎ করেই তার মুখের ভাব বদলে যেতে থাকে। খুব বড় একটা কষ্ট যেন তাকে আঁকড়ে ধরছে। বেশ অনেকক্ষণ যাবত অলিভিয়া কোলম্যানের মুখের উপরে স্থির হয়ে থাকে ক্যামেরা আর কোলম্যানের উপরে কুইন অ্যান এর সমস্ত মানসিক যন্ত্রণা যেন ভর করতে থাকে। কী দারুণ অভিনয় কোলম্যানের আর কী পারদর্শিতা ল্যাথিমোসের! শুধুমাত্র ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কতো চমৎকারভাবে গল্পকে উপস্থাপন করতে থাকেন তিনি!

 

 

Olivia Coleman as Anne, Queen of Great Britain

 

 

গল্পের যে চরিত্রটির কারণে এই গল্প শুরু, সেই অ্যাবিগ্যাল হিল এর চরিত্রে অভিনয় করেন এমা স্টোন। আগে একটা কথা বলি, এমা স্টোনের একটা খুব ইউনিক ভয়েজ আছে, তার হাস্কি কণ্ঠস্বরের সাথে অ্যারিজোনার এক্সেন্ট খুবই কড়া। কিন্তু এই সিনেমা দেখে কে বলবে যে এমা স্টোন ব্রিটিশ না! এমনকি তাকে দেখতেও লাগছিল ব্রিটিশ। সেটাতে যদিও মেকাপের একটা হাত আছে, কিন্তু এরপরেও। তার ব্রিটিশ উচ্চারণ থেকে তার সেই সময়ের ব্রিটিশ নারীর চরিত্রের চালচলণ খুব দারুণভাবে রপ্ত করেছেন এমা স্টোন। যদিও সারাহ চার্চিল নিজেও কুইন অ্যানকে নিজের কাজে ব্যবহার করেছে, কিন্তু তারপরেও কুইন অ্যানের প্রতি তার বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার কমতি ছিল না। কিন্তু অ্যাবিগ্যাল হিল শুধুমাত্রই নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছিল। কীভাবে সারাহকে সরিয়ে তার স্থান দখল করা যায়, এটাই হয়ে ওঠে তার উদ্দেশ্য, তবে এটা তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু অবস্থার কারণে অ্যাবিগ্যাল নিজেও বদলে যায়। এমনকি রানীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যারন ম্যাশামকে বিয়ে করার পরে সেই রাতেও সে চিন্তা করতে থাকে কিভাবে আরো উপরে ওঠা যায়। সাধারণ হাউজমেইড থেকে রানীর সহচর হয়ে ওঠা এই চরিত্রে এমা স্টোন নিজেও ধাপে ধাপে বদলাতে থাকেন নিজের স্টাইল, যে কারণে তাকে দেখলে মনে হচ্ছিল না এমা স্টোন, মনে হচ্ছিল অ্যাবিগ্যাল হিল।

 

Emma Stone as Abigail Masham, Baroness Masham

 

 

পিরিয়ড ড্রামার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ আমার জন্যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ল্যাথিমোসে অন্যান্য সিনেমাতেও অর্কেস্ট্রাল মিউজিক অনেক ব্যবহার দেখা যায়, আর পিরিয়ড ড্রামা এই মুভিতে থাকবে না, সেটাতো হয় না। পুরোটা সময় অর্কেস্ট্রাল মিউজিক এর মোহনীয়তা আচ্ছন করে রেখেছিল সিনেমাটা দেখার সময়ে।

 

সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে আলাদা কিছু বলা দরকার। ল্যাথিমোসের সিনেমাগুলোর মাঝে একটা স্পেশালিটি হচ্ছে, সেগুলো প্রায়ই ধূসর একটা আবহ বা কুয়াচ্ছান্ন একটা আবহ থাকে। সেটা এবারও ছিল। তবে যেটা আলাদাভাবে চোখে লেগেছে, সেটা হচ্ছে আলোর ব্যবহার। রাতের বেলার দৃশ্যে প্রচুর পরিমাণে আগুন আর মোমের ব্যবহার। আর দিনের বেলার দৃশ্যে যখন একটা ঘরের মাঝে দেখানো হচ্ছে, সেখানে বাইরের থেকে আলো এসে শুধুমাত্র অভিনয়শিল্পীদের উপরে পড়ছে, আর বাকি জায়গাটুক ধীরে ধীরে আবছা হয়ে অন্ধকারাচ্ছন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের দৃষ্টি শুধুমাত্র চরিত্রদের উপরেই থাকছে। আগেই বলেছি, ল্যাথিমোস ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের খুব পারদর্শি। এর আগের সিনেমাগুলো শুধুমাত্র সমালোচকদের দৃষ্টির ভিতরে থাকলেও এবার আশা করি ওয়ার্ল্ডওয়াইড পরিচিতি পাবেন ল্যাথিমোস।

 

অস্কারে বেশ কয়েকটি বড় নমিনেশন পেয়ে যাবে আশা করা যায়। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এর মাঝে গোল্ডেন গ্লোব জিতে নিয়েছেন অলিভিয়া কোলম্যান। অস্কারের দৌঁড়েও এগিয়ে থাকবেন হয়তোবা। অন্যান্য টেকনিক্যাল ক্যাটাগরিতে সিনেমাটোগ্রাফি, কস্টিউম, মেকাপ এবং সেট ডিজাইনে জেতারও বড় সম্ভাবনা হয়েছে ‘দ্য ফেবারিট-এর।
হিস্টোরিক্যাল পিরিয়ড-ড্রামা বলে সম্পূর্ণ অ্যাকুরেট স্টোরি কিনা, তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে, তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকায়, এটা নিয়ে সমালোচকেরা খুব বেশি মাথা ঘামাননি। যেমন সারাহ চার্চিল আর অ্যাবিগ্যাল হিল এর সাথে রানীর আসলেই কি কোনো সেক্সুয়াল রিলেশন ছিল কিনা, সেটা নিয়ে ইতিহাসবিদদের ভিন্ন মতামত আছে, তবে ল্যাথিমোস এটাকে গল্পের তাগিদের ব্যবহার করেছেন। তাছাড়া তার আগের সিনেমাগুলো দেখা থাকলে জানা কথা এটা যে তিনি খুব উইয়ার্ডলি ইরোটিক সিনে ব্যবহার করেন, যা অনেক সময় কমিক রিলিফের উদ্রেক ঘটায়, আবার কখনো শুধুমাত্র গল্পের প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হয়।

 

বিভিন্নজনের বিভিন্ন মতামত থাকতে পারে, অনেকের ভালো নাও থাকতে পারে, তবে সিনেমার বিভিন্ন প্যারামিটারের দিক থেকে ২০১৮ সালের মাঝে মুভিগুলোর মাঝে এটা একটা স্বর্ণখনি। দারুণ স্ক্রিপ্ট, পরিচালনা, অভিনয়, টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার, সবদিক থেকেই দারুণ চলচ্চিত্র ‘দ্য ফেবারিট’।

 

 

The Favourite (2018)

Director: Yorgos Lanthimos
Cast: Olivia Colman, Emma Stone, Rachel Weisz, Nicholas Hoult

 

My Rating: 8.0/10

IMDb Rating: 8.1/10
Rotten Tomatoes: 8.5/10; 94% CF
Box office: $26.8 million/$15 million

 

 

#Accolades:
1. 76 Golden Globe Awards:
Won for Best Actress Olivia Colman (Motion Picture Comedy or Musical).
Also nominated for Best Motion Picture (Musical or Comedy), Best Supporting Actress (Emma Stone & Rachel Weisz), Best Screenplay (Deborah Davis and Tony McNamara)

 

 

(Visited 301 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন