First Man ( : or the story behind him)

ড্যামিয়েন শ্যাজেলের ‘হুইপল্যাশ’ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, ‘লা লা ল্যান্ড’ ছিলো তার নিজেকে বড় পরিসরে প্রকাশের মঞ্চ। চাঁদে পা রাখা প্রথম মানব নিল আর্মস্ট্রং এর জীবনীভিত্তিক ‘ফার্স্ট ম্যান’ নিয়ে তাই আগ্রহটাও বেশি ছিল। নতুন ডিরেক্টরদের মাঝে অন্যতম প্রতিভাবান পরিচালক শ্যাজেল। ‘ফার্স্ট ম্যান’ এর কাহিনি অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে বেশি হবে আর্মস্ট্রং আর তাঁর পরিবারের মধ্যকার গল্প নিয়ে, তিনি আগেই বলে দিয়েছিলেন। শ্যাজেলের সাথে রায়ান গসলিং এর দ্বিতীয় সিনেমা, গসলিং এখানে অভিনয় করেছেন নিল আর্মস্ট্রং এর চরিত্রে। সাথে ‘দ্য ক্রাউন’ টিভি সিরিজ খ্যাত ক্লেয়ার ফয় আছেন আর্মস্ট্রং এর প্রথম স্ত্রী জ্যানেট এর চরিত্রে।

 

‘ফার্স্ট ম্যান’ ভালো লাগার মতো একটা সিনেমা। কিন্তু যতোটুকু ভালো হবে, বা আলাদা আলাদা অংশে যেরকম প্রত্যাশা ছিলো, সে তুলনায় খানিকটা হলেও অন্যরকম লেগেছে, এটা অস্বীকার করার মতো না। যখন বলা হয়েছিল পারিবারিক ড্রামা গল্পের দিকে বেশি ফোকাস করা হবে, স্বাভাবিকভাবেই পার্সোনাল গল্প আশা করেছিলাম। ডেমিয়েন শ্যাজেলের পরিচালনায় খুব সুন্দরভাবে নিল আর্মস্ট্রং এর ব্যক্তিগত জীবন আর চাঁদে অভিযানের গল্প সাজানো হয়েছে। যে কারণে এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিজীবনও না, আবার সম্পূর্ণ মিশনের গল্পও না। এটা সেই সময়ের গল্প। তবে আর্মস্ট্রং আর তার পরিবারের গল্পটা আরেকটু গভীরে গেলে হয়তোবা আরেকটু বেশি ভালো লাগতো। কেননা সত্যি বলতে মিশনের অংশের চেয়ে আমি বেশি আগ্রহী ছিলাম আর্মস্ট্রং এর ব্যক্তিজীবনের অংশতে।

 

রায়ান গসলিং আর্মস্ট্রং হিসেবে দারুণ, তার স্ত্রী জ্যানেটের চরিত্রে ক্লেয়ার ফয় খুব সুন্দর পারফর্ম করেছেন, কিন্তু তাঁর চরিত্রটাকে আরো অনেক স্পেস দেওয়া উচিৎ ছিলো বলে মনে করি। হ্যাঁ, কয়েকটা খুব ডিফারেন্ট অ্যাঙ্গেলের ঘটনা দেখানো হয়েছে তার চরিত্রের, কিছু নন-টিপিক্যাল এপ্রোচ ছিল, কিন্তু সেটাও খুব বেশি না। যদিও গল্পে বিভিন্নধরণের এলিমেন্ট আনা হয়েছে, ছোটো ছোটো অনেক কিছু দিয়ে নিল আর জ্যানেটের বিয়ের আগের কয়েকটা ব্যাপার তুলে ধরেছে, এই ব্যাপারগুলো সুন্দর ছিল ঠিকই, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বারবার কোথায় যেন সামান্য কিছু ঘাটতি মনে হচ্ছিল। তবে তাতে করে ক্লেয়ার ফয়ের অভিনয়ের সৌন্দর্য বিন্দুমাত্র কমে যায়নি।

 

Claire Foy in First Man (2018)

 

মুভির টেকনিক্যাল দিকগুলো খুবই ভালো। ক্যামেরা মুভমেন্টের কারণে অলমোস্ট ডকুড্রামার একটা আবহ তৈরি হচ্ছিল। এই ব্যাপারটাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পুরোটাই কিছুটা ডকুমেন্টারি স্টাইলে বানাতে পারতো, সেটা অন্যরকম হতে পারতো একদমই। তবে সেটা শুধুমাত্র একটা অন্য এপ্রোচের কথা বলছি, বলছিনা এটা একটা ভুল ছিল। ভিজ্যুয়াল এফেক্টের প্রয়োজনীয়তা মিনিমাল থাকায় প্রোডাকশন ডিজাইনে নজর বেশি দিতে হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে কিছু আলাদা বলার নেই।

 

জাস্টিন হারউইটজ আবারো খুব দারুণ স্কোর করেছেন। একদম প্রথম থেকেই তার দুর্দান্ত মিউজিক ছিলো সিনেমার সবচেয়ে সেরা পাওয়া। চাঁদে যাবার অনেক বছর আগে থেকেই নিল আর্মস্ট্রং এর অন্যতম পছন্দের মিউজিক ছিলো স্যামুয়েল হফম্যানের থেরেমিনে করা ‘মিউজিক আউট অফ দ্য মুন’, যেটা নিয়ে নিল আর জ্যানেটের আলাদা অংশ আছে। মিউজিকটা বিভিন্নভাবে খুব সুন্দর করে ব্যবহার করা হয়েছে। স্পেস নিয়ে একটা মুভিতে থেরেমিনের ব্যবহার না থাকলে চলে না। তাই হারউইটজ নিজেও থেরেমিনের চমৎকার ব্যবহার করেছেন।

 

এটা একটা হিস্টোরিক্যাল ঘটনা নিয়ে তৈরি সিনেমা। আমরা জানি কি হবে, কি হতে চলেছে। যতো যাই হোক নিল আর্মস্ট্রং মারা যাবেন না, মিশন শেষে আরো বছর চল্লিশেক তিনি মানুষকে ইন্সপায়ার করে যাবেন। কিন্তু এরপরেও সাসপেন্স সিনগুলোতে খুব ভালো টেনশন ক্রিয়েট করেছেন শ্যাজেল। চাঁদে অবতরণের সিক্যুয়েন্সটা খুবই ন্যাচারাল। চাঁদে পতাকা ওড়ার কন্ট্রোভার্সির কারণে শ্যাজেল ঠিক করেন পতাকার অংশটাই রাখবেন না। যেটা অনেকে খুব পজিটিভলি নিয়েছেন। কিন্তু আসলে এখানে কিছুটা খুঁত থেকেই যায়। অনেক অ্যানালিস্ট সিনেমার এক্সপেক্টেশনের চাইতে লো-বিজনেসের পিছনে এই সেগমেন্টটাকেই একা দোষ দিয়েছেন।

 

Ryan Gosling as First Man (2018)

 

আগেই বলেছি, রায়ান গসলিং দারুণ অভিনয় করেছে। অনেকে অবশ্য তার এই শান্ত, ধীরস্থির চরিত্রায়ণকে পছন্দ করেননি, তবে আমার খুবই ভালো লেগেছে, শুধুমাত্র তাকে আমার অনেক পছন্দ বলে বলছিনা। ‘ফার্স্ট ম্যান’ এ মিশনের গল্পে একটা ছোটো অংশ যোগ করা হয়, যেটা খুব সম্ভবত ড্রামাটিক এলিমেন্টের জন্যেই, বাস্তবে ঘটেছে বলে সম্ভবত মনে হয় না। অন্তত আমার জানা নেই বা আমি খুঁজে পাই নি। স্পয়লার হয়ে যেতে পারে বলে আমি উল্লেখ করছিনা, যারা দেখে ফেলেছেন, বা দেখার সময়ে বুঝতে পারবেন কোন অংশের কথা বলছি। কাল্পনিক হোক বা বাস্তবিক, সেটা সত্যিকার অর্থেই বেশ ইমোশনাল ছিল। আমি অন্তত এটাকে পজিটিভলি নিচ্ছি।

 

First Man (2018)

 

শ্যাজেলের সিনেমা বলে আশার তুঙ্গে থাকা সত্যেও কিছুটা হলেও অন্যরকম লাগার পিছনে অন্যতম একটা কারণ হতে পারে এর স্ক্রিপ্ট এবার শ্যাজেল নিজে লেখেননি। ‘হুইপল্যাশ’ বা ‘লা লা ল্যান্ড’ ছিল তার নিজের লেখা, কিন্তু এখানে হয়তোবা, নিজের স্ক্রিপ্ট না বলেই কিছুটা ভিন্নতা বজায় ছিলো। তবে মুভির সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যে ছিলো শতভাগ শ্যাজেলিয়তা, আর সেটা হচ্ছে এন্ডিং সিন। ‘হুইপল্যাশ’, ‘লা লা ল্যান্ড’ এর মতোই চমৎকার কিন্তু অন্যমাত্রার এই এন্ডিং দৃশ্য থেকে বলে দেয়া যায় গল্পের নিল আর জ্যানেটের ভালোবাসা কতোটা তীব্র ছিল আর জ্যানেটের এই পুরো মিশনের সময়কালে কতোটা ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়েছিল।

 

যদিও এই সিনেমা অনেক ভালো ক্রিটিক্যাল সাকসেস পেয়েছে, তবে প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি। তবে অ্যাওয়ার্ড সিজনের বিভিন্ন প্রোগ্রামে হয়তোবা শ্যাজেল আবারো অনেক মেজর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন বা পুরষ্কারই নিয়ে আসবেন। কিন্তু চাঁদে মানুষ আসলে গিয়েছিল কিনা, এই ব্যাপারটা নিয়ে দু’দলে ভাগ হওয়া সাধারণ মানুষের কাছে শেষমেশ সবটাই প্রোপাগান্ডা হয়ে থাকবে হয়তোবা।

 

First Man (2018)

Director: Damien Chazelle
Based on: ‘First Man: The Life of Neil A. Armstrong’ by James R. Hansen
Cast: Ryan Gosling. Claire Foy, Jason Clarke

My Rating: 7.5/10

IMDb Rating: 7.5/10
Rotten Tomatoes: 8.1/10; 88% Certified Fresh
Box office: $100.4 million/$59 million

 

#Accolades:
1. 76th Golden Globe Awards:
Nominated for Best Supporting Actress (Claire Foy), and Best Original Score (Justin Hurwitz)

 

Ryan Gosling and Claire Foy in First Man (2018)

Error: No API key provided.

(Visited 171 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন