Tully: The Struggles are Real
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

দুই বাচ্চার মা মার্লো মাঝবয়সে এসে আবারো অন্তঃসত্তা। একদিকে ছেলে জোনাসের বিভিন্ন সমস্যা, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের যাবতীয় সমস্যা। এর মাঝে তার ধনী বড় ভাই চাইছে সাহায্য করতে, কিন্তু সেটাকে চ্যারিটি মনে করে সাহায্য নিতেও চাচ্ছে না। তাই তার বড় ভাই বলে অন্তত একজন ‘নাইট ন্যানি’র সাহায্য নিতে, যে কিনা রাতে এসে নতুন বাচ্চাটাকে দেখাশোনা করবে, আর মার্লোরও একটু সাহায্য হবে। আর সেখানেই মার্লোকে সাহায্য করতে আসে তরুণী টালি, যাকে দেখে মার্লোর নিজের তারুণ্যের কথা মনে ওঠে। আর এই নিয়েই গল্প এ বছরের অন্যতম ক্রিটিকাল সফল সিনেমা ‘টালি’

 

শার্লিজ থেরন আমার অলটাইম ফেবারিট অভিনেত্রীদের মাঝে একজন। ‘অ্যাটমিক ব্লন্ড’-এর মতো ব্যাডঅ্যাস অ্যাকশন মুভি করার পরে এরকম মাঝবয়সী মায়ের চরিত্র করতে সাহস থাকা লাগে, যেটা মিস থেরনের মাঝে খুব ভালোভাবেই আছে। এবং সে কারণেই খুব সুন্দর একটা পার্ফর্ম্যান্স দেখতে পারলাম আবারো তার কাছ থেকে। তাকে দেখে আসলেই মনে হচ্ছিল প্যারেন্টহুড কতোটা ঝামেলা হতে পারে, স্বামী-স্ত্রী এর মাঝে সম্পর্কটা কিভাবে বাবা-মা এর সম্পর্ক ওঠে।

 

Charlize Theron as Marlo Moreau

 

পরিচালক জেসন রাইটম্যান এর আগের ছবিগুলো হচ্ছে ‘জুনো’, ‘থ্যাংক ইউ ফর স্মোকিং’, ‘আপ ইন দ্য এয়ার’,’ ‘ইয়ং অ্যাডাল্ট’। এর মাঝে ‘আপ ইন দ্য এয়ার’ পার্সোনালি আমার অলটাইম ফেবারিট কমেডি-ড্রামার মাঝে একটা। যারা এই সিনেমাগুলো দেখেছেন, বিশেষ করে ‘জুনো’ বা ‘ইয়ং অ্যাডাল্ট’ তারা ভালোভাবেই জানেন যে রাইটম্যান এধরণের থিমের সিনেমা বানাতে খুব পারদর্শী। আর এই দুটো সিনেমারই রাইটার ডিয়াবলো কোডি, সেই সাথে ‘টালি’রও। কাহিনিটা অদ্ভুত লাগবে, মজার লাগবে, মন খারাপ হবে। কিন্তু শেষে এসে আপনি বুঝতে পারবেন তারা আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছে।

 

শার্লিজ থেরনের সাথে টালি চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন ম্যাকেঞ্জি ডেভিস। কানাডিয়ান এই অভিনেত্রীকে আপনারা চিনে থাকবেন ‘ব্ল্যাক মিরর’ টিভি সিরিজের অন্যতম সেরা এপিসোড ‘স্যান জুনিপেরো’ বা গতো বছরের সাইফাই মুভি ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ থেকে।

 

Mackenzie Davis as Tully

 

সিনেমার কিছু জিনিস ব্যাখ্যা করতে আমাকে কাহিনি বলতেই হচ্ছে। সো স্পয়লার অ্যালার্ট। তবে তার আগে, যারা ড্রামা ঘরানার সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই সিনেমা ভালো লাগবে আশা করি।

 

#স্পয়লার অ্যালার্ট

 

মুভির শেষে এসে যেটা হবে, এটা অনেকেই আন্দাজ করতে পারবেন আগে থেকেই। কিন্তু সেটা প্রেডিক্টেবল কিনা সেটা মূখ্য বিষয় না আমার কাছে। যেই মেসেজটা পরিচালক বা লেখক দিতে চেয়েছেন, সেটা খুব স্বার্থকভাবেই দিতে পেরেছেন বলে মনে করি।

 

সিনেমার শেষে এসে দেখতে পারবেন যে টালি বলে আসলে কেউ আসেনি মার্লোকে সাহায্য করতে। টালি আসলে মার্লোর কল্পনার চরিত্র, যার সাহায্য নিয়ে নিজেই নিজেকে সাহায্য করেছে সে। কিন্তু আসলে এটা কল্পনার চরিত্র নয়। এটা আসলে মার্লো মিড টুয়েন্টির স্বত্তা। মার্লো নিজে যেমন ছিলো, ঠিক তেমনটাই। এখানে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে বিয়ে, পরিবার, সন্তান কিভাবে একজন নারীকে ওতোপ্রেত ভাবে বদলে দেয়। সেইজন্যেই শুরুতে কফিহাউজে মার্লোকে দেখে তার তরুণবয়সের রুমমেট অবাক হয়, কিভাবে সে এতো বদলে গেলো। এই কারণেই টালি মার্লোকে বারে জিজ্ঞাসা করে, ‘শিপ অব থেসাস’-এর কথা, যে একটা জাহাজের প্রতিটি অংশ যদি বদলে ফেলা হয়, তাহলে শেষমেশ কি জাহাজটা একই জাহাজ থাকে কিনা, নাকি সেটাকে নতুন জাহাজ বলা যায়? আর সে কারণেই একদম শেষে হাসপাতালে মার্লো টালিকে বলে, তিনটা বাচ্চা হবার পরে আর আসলে তারুণ্যের ঝলকটা থাকবে না।

 

অনেকের কাছেই এই কথাগুলো পছন্দ হবে না। কিন্তু এটাই আসলে বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতা যতো কঠিনই হোক না কেনো, সেটাকে পছন্দ করছে মার্লো। তারা চ্যালেঞ্জকে উড়িয়ে দিয়ে তারুণ্য ধরে রাখার অদ্ভুত চেষ্টা করছে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে নতুন চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়ে সেটা জিততে চাচ্ছে। আর এই বাস্তবতা দেখানোর ক্ষেত্রে খুব দারুণ প্রেজেন্টেশন করতে পেরেছেন পরিচালক-লেখক এবং অভিনয়কুশলীরা।

 

Tully (2018)
Genre: Drama, Comedy
Cast: Charlize Theron, Mackenzie Davis, Ron Livingston
Director: Jason Reitman

 

IMDb Rating: 7.1/10
My Rating: 8/10
Rotten Tomatoes: 7.6/10; 86% Certified Fresh

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন