It: The Crooked Clown
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ডেরি, মেইন; সামার ১৯৮৮। গ্রীষ্মের সুন্দর ছুটি বাদ দিয়ে স্কুলপড়ুয়া বিল ডেনব্রোহ চেষ্টা চালাচ্ছে তার ছোট্টো ভাই জর্জির খুনিকে বের করতে। যার অন্তর্ধানের কারণে তাদের বাবা-মা বিলকেই দায়ী করে, কেননা বিলের বানিয়ে দেওয়া নৌকো নিয়ে বৃষ্টির মাঝে খেলতে গিয়েই হারিয়ে যায় জর্জি। আর ফিরে আসেনি। জর্জি সহ ওদের সমবয়সী আরো অনেকেরই একইসময়ে এই রহস্যময় অন্তর্ধানের পিছনের কাহিনি বা হত্যাকারীকে খুঁজতে গিয়ে তারা পরে যায় আরো বড় বিপদে। সাধারণ মানুষ, জগতের উর্ধ্বের এক সত্ত্বাকে আবিষ্কার করে তারা। আবিষ্কার করে ‘ইট’-কে।

 

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় হরর-কিং স্টিফেন কিং এর বিখ্যাত হরর উপন্যাস ‘ইট’। সেখানেই এই ঘটনা নিয়েই রচিত হয় এক ডেমনিক সত্ত্বাকে নিয়ে উপাখ্যান। সেই উপন্যাস অবলম্বনে দু’বছর বাদেই তৈরি হয় একটি টিভি মিনিসিরিজ। ভালো প্রশংসাও কুড়োয় সেই মিনিসিরিজ। এরপরে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় এই সিনেমার কাজ। প্রথমে চিত্রনাট্যকার ‘বিস্ট অব নো নেশন’ খ্যাত ক্যারি ফুকুঙ্গার পরিচালনার কথা থাকলেও, স্টুডিওর সাথে বনিবনা না হওয়ায় পরিচালনার কাজ ছেড়ে দেন। এরপরে সিনেমার কাজ আগাবে কিনা, এমন একটা সন্দেহ শুরু হয়। তবে কিছুদিন বাদেই অ্যান্ডি মাশিয়েটি আসেন পরিচালনার দায়িত্বে। ফুকুঙ্গার নির্ধারিত কাস্টিং ও বদল হয়ে যায় এর সাথে। সাথে ‘ইট’ এর চরিত্রে ‘নার্নিয়া’ খ্যাত উইল পোল্টার এর বদলে আসেন সুইডিশ অ্যাক্টিং ফ্যামিলি স্কার্সগার্দ এর সদস্য বিল স্কার্সগার্দ।

 

Bill Skarsgård as ‘It/Pennywise’.

 

সম্ভবত এতো ঘটনা হওয়া ভালই ছিলো। কারণ আমার মনে হয় না ‘ইট’ অর্থাৎ ‘পেনিওয়াইজ দ্য ড্যান্সিং ক্লাউন’ এর চরিত্রে বিল এর থেকে বেশি ভালো কাউকে মানাতে পারতো। তার স্পিড, স্ট্যামিনা, কথা বলার ঢং, ক্রুঢ় হাসি কিংবা সাইকোপ্যাথেটিক আচরণ এর সাথে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, উচ্চতা, চেহারা; এই সবকিছুই খুব দারুনভাবে খাপ খেয়ে গেছে। সত্যি বলতে এতোটাই ভয়ংকর সে ছিলো, তার কোনো অ্যাক্ট বাদে সামনাসামনি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেও কোনো বাচ্চা ভয় পেতে পারে। এবং সেটাই হয়েছিলো প্রোডাকশন সেটে।

 

প্রোডাকশন সেটে পুরো সিনেমার অন্য সকল অংশের কাজ আগে শেষ হয়ে যায়। এরপরে শ্যুট করা হয় বিল এর অংশগুলো। এর আগে চাইল্ড-অ্যাক্টরদের সাথে বিল এর দেখা করানো হয়নি। পরিচালক মাশিয়েটির ধারণা ছিল বাচ্চারা যদি একবারে বিলকে পেনিওয়াইজ হিসেবে দেখে, সেটা তাদের স্বাভাবিক ভয়টা দাঁড় করাবে। এবং সেটাই হয়েছিলো। তারা অভিনয় বাদেও বিল এর এই চেহারাটা সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। রিচি টজিয়ের এর চরিত্রে অভিনয় করা স্ট্রেঞ্জার থিংস খ্যাত ফিন উলফহার্ড এর সিনেমার কাজ শেষ হবার পরেও বেশ সমস্যা হয়েছে এই নিয়ে।

 

হ্যাঁ, স্ট্রেঞ্জার থিংস এর সাথে মিল আছে, ট্রেইলার দেখার পরে এমন কথা ওঠে, এবং সেখানেরই একজন আবার এখানেও। মূলত ২০১৫ সালের মাশিয়েটি-কাস্টিং পুরোটা বদল হলেও উলফহার্ড বদল হয়নি। ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ এর ক্রিয়েটর্স ডাফার ব্রাদার্স মূলত প্রথমে ‘ইট’ পরিচালনার দায়িত্ব চেয়েছিলো। কিন্তু খুব বেশি পরিচিত মুখ না হওয়ায় তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় কাজ। তাই তারা ২০১৬ সালে স্ট্রেঞ্জার থিংস এ উলফহার্ডকে কাস্ট করে নেয় মূল চরিত্রে, স্টিফেন কিং এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে। আর ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ যে মোটামুটি স্টিফেন কিং এর বই বা সরাসরি ‘ইট’ এর ইন্সপায়ার্ড, এটা যারা বই পরেছেন, তারা আগেই জানেন।

 

‘The Loosers Club’

 

বিল ডেনব্রোহ এর ‘তদন্তকারী দল’ ‘দ্য লুজার্স ক্লাব’ এর চাইল্ড অ্যাক্টরদের কাস্টিং ছিলো ভালো। বিশেষত মূল চরিত্র বিল ডেনব্রোহ এর চরিত্রে জ্যাডেন লাইবারহার দারুন। এছাড়া সোফিয়া লিলিস (বেভার্লি মার্শ), জেরেমি টাইলর (বেন হ্যান্সকম), ওয়াইট ওলেফ (স্ট্যান ইউরিস), জ্যাক গ্রেজার (এডি কাস্পব্রাক), চোজেন জ্যাকবস (মাইক হ্যানলন); সবাই-ই দারুণ। এর বাইরে মেজর ক্যারেক্টার হিসাবে আছে বোয়ার্স গ্যাং এর সদস্যরা। তবে বুলিইং এর বাইরে অতোটা ফোকাস তাদের করা হয়নি। মূলত এদের বুলিইং এর স্বীকার হবার কারণেই বাচ্চারা নিজেদের ‘লুজার্স ক্লাব’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

 

সিনেমাটা যতোটা না হরর, তারচেয়ে অনেক বেশ অ্যাডভেঞ্চার। হরর হলেও কমিক সিন ছিলো প্রচুর, এবং দারুণ ভালো মানের। এক ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল হররও বলা যায়। কেননা ‘ইট’ এর আক্রমণ পুরোটাই টিনেজারদের মাইন্ডে করা হয়। বয়সে বড়োরা এর আয়ত্বমুক্ত। এমনকি তারা একসময় আর ‘ইট’ এর কথা মনেও রাখতে পারে না।

 

সাতাশ থেকে ত্রিশ বছর পরপর ডেরি শহরে ফিরে আসা এই ডেমন এর আসল রূপ আসলে ক্লাউন নয়। শেপশিফটার এই ডেমন ক্লাউন হিসেবে রূপ নিয়ে থাকতেই বেশি ‘মজা’ পায়। কেননা সে নিজে আনন্দ পায় বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে। তার আনন্দটা সাইকোপ্যাথদের মতো। যে কারণে তার ভালো লাগে ক্রুকেড ক্লাউন সেজে থাকতে। এই নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে সিক্যুয়েল ‘ইট: চাপ্টার টু’-তে। এবারে শুধুমাত্র বই এর প্রথম অংশ দেখানো হয়েছে, পরবর্তী অংশে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে ‘ইট’ কে নিয়ে।

 

সিনেমাতে আসলে কোনো ঘাটতি ছিলো না। বেশ ভালোই লেগেছে। হলে দেখার কারণে পেনিওয়াইজ এর কিছু এপেয়ারেন্স এর দারুণ ভয় পাবার মতোই অবস্থা ছিলো। বেন ওয়ালফিশ এর মিউজিক আর ‘ওল্ডবয়’ খ্যাত কোরিয়ান সিনেমাটোগ্রাফার চাং-হোন চাং এর ক্যামেরা কাজ আর লোকেশনে বেশ ভালোই লেগেছে ‘ইট’। তবে বাচ্চাদের নিয়ে এই সিনেমা না দেখার অনুরোধ রইলো। আর যারা হলে যাবেন না, তারা অন্তত খুব ভালো কোয়ালিটির প্রিন্ট এবং ভালো সময় বেছে নিয়ে দেখবেন আশা করি।

 

সব মিলিয়ে হরর-প্রেমীদের জন্যে এঞ্জয় করার মতো সিনেমা। হরর-প্রেমী না হলেও ভালো লাগবে সম্ভবত। স্টিফেন কিং স্বয়ং প্রশংসা করেছেন এই সিনেমার। স্বচারচর তার বই যতোটা ভালো হয়, এডাপশন ততোটাই খারাপ হয়। তবে এবার শ্যুটিং এ প্রায়শই সেটে ছিলেন তিনি। সবকিছু সামনাসামনি দেখে তার কাছে পুরো সিনেমার কাজ শেষ হবার আগেই ভালো লেগেছে এবারে।

 

এরইমাঝে কাজ শুরু হয়ে গেছে সিক্যুয়েল এর। বিল স্কার্সগার্দ এর মানসিকভাবে কিছুটা সমস্যা হয়েছিলো ‘ইট’ চরিত্রে অভিনয় এর পরে। সিক্যুয়েল করবেন না এমন সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তবে পরে আবার মত বদল করে ফিরে আসেন। দেখা যাক’লুজার্স ক্লাব’ সদস্যরা ভবিষ্যতে কিভাবে মোকাবেলা করে ‘পেনিওয়াইজ’ কে।

 

IT (2017)

Genre: Horror, Thriller, Adventure
Based on: ‘It’ by Stephen King
Director: Andy Muschietti

 

Cast: Bill Skarsgård, Jaeden Lieberher, Sophia Lillis, Wyatt Oleff, Jeremy Ray Taylor, Finn Wolfhard, Jack Dylan Grazer, Chosen Jacobs

 

IMDb Rating: 7.9/10
My Rating: 7.5+/10
Rotten Tomatoes: 85% Certified Fresh
Box Office: $553.2 million/$35 million (and going)
Rated: R

 

 

Error: No API key provided.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন