Wonder Woman: Attractive & Gorgeous
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

থেমিসক্যারা। সাধারণ মানুষদের চোখের আড়ালে এই দ্বীপে বাস নারীযোদ্ধা অ্যামাজনদের। আর তাদেরই রানী হিপোলিটা। তার বারণ সত্ত্বেও তার কন্যা ডায়ানাকে যুদ্ধশিক্ষা দেয় তার বোন এবং থেমিসক্যারার জেনারেল অ্যান্টিওপি। আর রাতে গ্রিক দেবতাদের গল্প শোনে ডায়ানা মার কাছে। শিক্ষা আর যুদ্ধবিদ্যা পেয়ে, অ্যামাজনদের মাঝে সেরা যোদ্ধা হয়ে ওঠে একসময়ে তরুণী প্রিন্সেস ডায়ানা। এরইমাঝে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের হয়ে লড়া ক্যাপ্টেন স্ট্রিভ ট্রেভর এর প্লেন ক্রাশ করে থেমিসক্যারায়। আর তার মাধ্যমে ডায়ানা খুঁজে পায় এক অন্যজগৎ।

 

ডিসি এক্সটেন্ডেড ইউনিভার্সের উপর যখন সবাই হতাশ, গেলো গেলো রব শোনা উঠলো; ঠিক তখনই সিলভার লাইনিং এর মতো DCEU এর চতুর্থ মুভি ফিমেল লিডের Wonder Woman এসে আবার দাঁড় করালো DCEU কে। এর পর থেকে বক্স অফিস সাফল্য, ক্রিটিকদের প্রশংসা, দর্শকদের কাছে Wonder Woman এর জয়জয়কার। সাথে DC এর আর্চএনিমি বনে যাওয়া রোটেনটমাটোস এ ৯২% ফ্রেশ সার্টিফিকেট পাওয়া Wonder Woman-এর মাধ্যমে DCEU আবারো খেলায় ফিরে এলো।

 

নারীপ্রধান সুপারহিরো ফিল্ম যে আগে আসেনি, তা নয়; অথবা নারী সুপারহিরো যে মুভিতে দেখা যায়নি কখনো, তাও নয়। তারপরও ‘Wonder Woman’ নিয়ে সকলেরই উন্মাদনা ছিলো। কারণ জাস্টিস লীগের প্রধান ত্রয়ীর এই সদস্যের ১৯৪১ সালে আবির্ভাবের পরে, সিনেমায় দেখা মেলেনি তার এতোদিনেও। যদি ৭০ এর দশকের এক টিভি সিরিজে দেখা মেলে তার। নাম ভূমিকায় লিন্ডা কার্টার অভিনীত এই টিভি সিরিজ প্রচারিত হয় ১৯৭৫ সালে। তিনি ছিলেন বেশ ভালো রকমের কমিক এক্যুরেট প্রিন্সেস ডায়ানা। এ কারণে এক্সটেন্ডেড ইউনিভার্সে হালকা গড়নের গ্যাল গাদোটকে কাস্ট করায় ডিসি ফ্যানসহ অন্যান্য দর্শকদের তোপের মুখে পড়তে হয় DCEU টিমকে। তবে মিলিটারি ট্রেইনিংপ্রাপ্ত মিস ইসরায়েল গ্যাল গাদোটকে নিয়ে আমার নিজের ব্যক্তিগতভাবে সংশয় ছিলো না কখনোই। অ্যাকশনধর্মী ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস-এ তার পার্ফর্ম্যান্স ছিলো অত্যন্ত ভাল। হ্যাঁ, গাদোট যে অনেক কমিক এক্যুরেট, তা বলবো না। তবে বয়স আর তার অ্যাকশন পার্ফর্ম্যান্স ভিত্তি করে, অন্য অনেক এস্টাবলিশড অভিনেত্রীদের চেয়ে তাকে নেওয়া আমার বেশ ভাল সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিলো।

 

MV5BMTkyMzUxMDQwNF5BMl5BanBnXkFtZTgwMzEyOTYzMjI@._V1_SY1000_CR0,0,1499,1000_AL_

 

‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’-এ গ্যাল গাদোট এর পার্ফর্ম্যান্সের পরেও অবশ্য তেমন কোনো পরিবর্তন ছিলো ফ্যানবেসের নেগেটিভ মন্তুব্যে। তবে আসলেই তাকে নেওয়া যে ভুল ছিলো না, তা সে একক মুভিটা রিলিজ হতেই প্রমাণ করে দিয়েছে। সকল ক্রিটিকদের ভাষ্যেই তার অভিনয়ের প্রশংসা। অভিনয়, অ্যাকশন, এক্সপ্রেশন; সবকিছুতেই গ্যাদোটকে সত্যিকার ওয়ান্ডার উইম্যানই মনে হচ্ছিল। কমিকপড়ুয়া বাদে, অন্তত যারা ডিসি অ্যানিমেটেড মুভি বা টিভি সিরিজগুলো দেখেছেন, তারাও বেশ ভালো মিল খুঁজে পাবেন।
অভিনয়ে ভালো ছিলো ক্যাপ্টেন স্টিভ ট্রেভর হিসেবে ক্রিস পাইনের। ক্রিস পাইন আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন, ক্যারিশমাটিক, কিন্তু সাধারণ অ্যাক্টিং এর জন্যে। প্রিন্সেস ডায়ানার পাশে তারমতো একজনকেই মানায়। সাহসী এবং বুদ্ধিমান সৈনিক হিসেবে তার অভিনয় ছিলো দারুণ। সাথে প্রিন্সেস ডায়ানা আর স্টিভ ট্রেভরের সাধারণের মাঝে চমৎকার রোমান্টিক-রসায়নে ক্রিস পাইন-গ্যাল গাদোট দুজনেই ছিলো সাবলীল। আর পুরোটা সময় ডায়ানার নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার অভিযানে সে ছিলো বন্ধু ও বড় সহায়ক।

 

wonder_woman_movie_stills_2-wide

 

নিজেকে খুঁজে পাবার জন্যে অবশ্য আগে ডায়ানাকে খুঁজে পেতে হয় এক গ্রিক দেবতাকে। সুপারহিরো জন্রা হলেও চেষ্টা করা হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখাতে। আর এই যুদ্ধের ময়দানে ডায়ানা চেয়েছিলো ‘গড অব ওয়ার’ এরিসকে খুঁজে পেয়ে তাকে পরাজিত করতে। কেননা ডায়ানার ধারণা ছিলো শুধুমাত্র যুদ্ধদেবতার পক্ষেই সম্ভব এমন ভয়াবহ যুদ্ধ পরিকল্পনা করা। এরিস এর সাথে ডায়ানার যুদ্ধের অংশ ছিলো একদম ‘ক্ল্যাশ অব টাইটানস’। এরিসের উপস্থাপনাও ছিলো দারুণ ভয়াবহ। তার সাথে যুদ্ধও ছিলো দারুণ। শুধু তার সাথে নয়, পুরো মুভির অ্যাকশনই ছিলো দারুণ উত্তেজনাকর।

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বহুলাংশে সুপারহিরো জন্রা হলেও। সুপারহিরো, অ্যাকশনের সাথে তাই সিনেমার জন্রাতে সহজেই ওয়্যার ড্রামা লেখা যায়। সিনেমাতে শুধু অ্যাকশন নয়, প্রিন্সেস ডায়ানার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার গল্প ছিলো এখানে। নারী সুপারহিরো মুভির পরিচালক আর নারী প্যাটি জেনকিন্স ক্যামেরা পিছন থেকে এই গল্প তুলে ধরেছেন দারুণভাবে। শার্লিজ থেরনকে অস্কার এনে দেওয়া ‘মন্সটার’ মুভির এই পরিচালক এর জন্যেই মূলত এই গল্পটা এতো সুন্দর করে দর্শকদের সামনে এসেছে। অন্য সিনেমার মতো এখানে সুপারহিরো এলো-দেখলো-জয় করলো; এমনটা নয় আসলে। বরঞ্চ যুদ্ধ করার সাথে সাথে আসলেই ডায়ানা থেকে সত্যিকারের ওয়ান্ডার উইম্যান হয়ে ওঠার লম্বা রাস্তার গল্প ছিলো এটি। এবং এই ‘হয়ে ওঠা’কে আক্ষরিক অর্থে তুলে ধরা ছিলো শেষে এসে। পুরো সিনেমায় দারুণভাবে ডায়ানা থেকে ওয়ান্ডার উইম্যান এ গড়ে তোলা হয় চরিত্রটাকে; গল্পের মাঝ দিয়ে এবং ভিজ্যুয়ালি।

 

মুভির অ্যাকশন পুরোদমে মারমার-কাটকাট ধরনের। আকর্ষণীয় এবং চমকপ্রদ অ্যাকশনের সাথে দারুণ মিউজিকের সিঙ্ক্রোনাইজেশন ছিলো অসাধারণ। পরিচালক জেনকিন্স পুরো সিনেমা উপহারের বাক্সের মতো সাজিয়েছেন। একজন দর্শক যা যা চাইতে পারে, তার প্রায় সবই রেখেছেন। তবে বেশি ছিলো মিউজিকে। যুদ্ধের ময়দানের আবহ সঙ্গীতে যখনই হ্যান্স জিমারের ‘Wonder Woman’ থিম ‘Is She With You?’ এর অনুপস্থিতি অনুভব করবেন, তখনই একদম সঠিক একটা অংশে এই মিউজিকটা নিয়ে আসা হয়। এই অংশটা আসলেই গুজবাম্পের ছিলো, শুধুমাত্র মিউজিকের জন্যে।

 

মুভির ভালো দিকগুলোর মাঝে আলাদা করে আর বলতে হয় গ্রাফিক্সের কথা। ট্রেইলার থেকেই বোঝা যায় বেশ দারুণ গ্রাফিক্সের কাজ দেখা যাবে। কিন্তু কয়েকটা থ্রিডি অংশ আছে, যেগুলো অন্যমাত্রার অসাধারণ। সামান্য একটু বলি, শুরুর দিকে একটা থ্রিডি ম্যাপের দৃশ্য আছে, মাইথোলজি থেকে কাহিনীতে গল্প টানার। অ্যানিমেটেড এই অংশের থ্রিডি এর কাজ এক্সেপশনাল। এটা আসলে কথায় বলে বোঝানো কঠিন উদাহরণ ছাড়া। যারা থ্রিডিতে দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন। আর যারা দেখবেন, তারা খেয়াল করবেন। তাছাড়াও ডিসির সাধারণ ডার্ক কালার গ্রেডিং এর পরেও আলো ও রঙের ব্যবহার ছিলো প্রয়োজনীয় সময়ে দারুণ ভালো।

MV5BMTY5Nzg4MjYyMF5BMl5BanBnXkFtZTgwNjMyOTYzMjI@._V1_SY1000_CR0,0,1499,1000_AL_
ডিসিতে হিউমার নেই; এই কথা ভুল প্রমাণ করতেই বেশ সুন্দরভাবে হিউমার নিয়ে আসা হলো এবার। বেশি কিছু নয়, শুধু ডায়ানার বহিঃর্বিশ্বে পরিচিত হওয়া দিয়েই বেশ দারুণ মজার কিছু অংশ তৈরি করা হয়। ইস্টার এগেরও অভাব ছিলোনা মুভিতে। কমিকস এর থেকে নেওয়ার সাথে সাথে, রিচার্ড ডোনারের ‘সুপারম্যান’ মুভির থেকে কয়েকটা অংশের ইস্টার এগ ছিলো, ছিলো ডিসি’র অ্যানিমেশন থেকে অনেক অংশের ইস্টার এগ। যেমন, ডিসি অ্যানিমেটেড মুভি ‘Justice League: War’ এর মতো করেই প্রিন্সের ডায়ানার প্রথম আইসক্রিম খাওয়া এবং বিক্রেতাকে ধন্যবাদ জানানো। তবে সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে, একটা দৃশ্যে সমুদ্রের গ্রিক দেবতা পসাইডেন এর অবয়ব অ্যাকুয়াম্যান, তথা আমাদের জ্যাসম মোমোয়ার আদলে।

Wonder-Woman-History-Lesson-Olympus-Banner

 

 

ছবিতে ছোটো ডায়ানার চরিত্রে লিলি অ্যাস্পেল খুব ভালো কাজ দেখিয়েছে। রানী হিপোলিটার চরিত্রে ছিলেন কনি নিয়েলসন এবং তার বোন ও জেনারেল অ্যান্টিওপি এর চরিত্রে রবিন রাইট। জার্মান জেনারেল এবং এন্টাগনিস্ট হিসেবে ড্যানি হিউস্টন, ডক্টর পয়সন চরিত্রে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এলেনা এনায়া এবং ব্রিটিশ লর্ড স্যার প্যাট্রিক মরগান এর চরিত্রে ছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা ডেভিড থিউলিস। রবিন রাইট এই বয়সেও অ্যাকশন দৃশ্যের জন্যে নিয়েছিলেন বিশেষ প্রশিক্ষণ।

 

ওয়ান্ডার উইম্যান চরিত্রটাকে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করতেই সৃষ্টি করা হয়। এই মুভিতেও ওয়ান্ডার উইম্যান শুধু নারী হয়েও আসলেই সব ছাড়িয়ে একজন হিরো, আইডল; এভাবেই তাকে তুলে ধরা হয়েছে। শুধুমাত্র নারীপ্রধান সিনেমা বলেই এতো প্রশংসা কুড়োচ্ছে, তা নয়। গল্প, প্রেজেন্টেশন, অ্যাক্টিং, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স; সব দিক থেকেই বেশ ভালোভাবে জোড়া লাগানো অ্যাট্রাক্টিভ এবং গর্জিয়াস একটা সিনেমা ছিলো Wonder Woman।  এরপরে হতাশা ছেড়ে আশা করা যায় DCEU এর পরবর্তী মুভিগুলোও বেশ ভালো হবে।

 

Wonder Woman
Year: 2017

 

Cast: Gal Gadot, Chris Pine, David Thewlis, Connie Nielsen, Robin Wright, Danny Huston
Director: Patty Jenkins
Genre: Superhero, Action, War

 

IMDb Rating: 8.1/10
Rottentomatoes: 92% Certified Fresh
My Rating: 8.5/10
Box office: $571.8 million/$149 million

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস মুভি থেকেই গাল গাদট এর প্রতি ভাললাগার শুরু।
    আর ওয়ান্ডার ওমেন এ ত এর অভিনয়ে আরো মুগ্ধ হয়েছি।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন