Unbreakable Universe: Unbreakable (2000) & Split (2016)

গতো বছর মোটামুটি কোনো প্রি-হাইপ ক্রিয়েট না করেই এম.নাইট শামালান এর ‘Split’ মুভিটা রিলিজ হয়। কিন্তু রিলিজ পাওয়ার পরে ক্রিটিক্যালি সাকসেস পায়, সাকসেস পায় বক্স অফিসেও।

 

আমাদের দেশের দর্শকদের মাঝে, ‘Split’ যারা আরেকটা সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার ভেবে দেখতে বসেছিলেন, তাদের প্রায় সবাই-ই একসময় বুঝতে পারেন এটা কোনো স্ট্যান্ড-অ্যালোন ফিল্ম নয়। বরং এটা পরিচালকের সতের বছর আগের ‘Unbreakable’ এর থিমেটিক সিক্যুয়েল, যেটাকে পরিচালক পরে ‘Split’ এর সাথে মার্জ করে একটা ট্রিলোজিই তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

 

অবশ্য ট্রিলোজির আইডিয়া ছিলো ২০০০ সালে ‘Unbreakable’ রিলিজ পাবার পরেই। স্যামুয়েল এল জ্যাকসন আর ব্রুস উইলিস অভিনীত এই মুভিকে অনেক সমালোচকই বলেছিলেন সুপারহিরো জন্রার মাঝে অন্যতম সেরা ছবি। হ্যাঁ, ‘Unbreakable’ একটি সুপারহিরো মুভি ছিলো। আর ‘Split’ যে সুপারভিলেন অরিজিন স্টোরি, সেটাতো বলাই আছে আগে থেকে।

 

অন্যান্য সুপারহিরো মুভির মতো ‘Unbreakable’ কোনো কমিক বুক থেকে অ্যাডাপ্ট করা নয়। কিন্তু মুভির শুরুই হয় কমিক দিয়ে। একজন কমিকবুক কালেক্টরের খুঁজে বেড়ানো একজন সত্যিকারের সুপারহিরোকে। আর সেই সুপারহিরো নিজেও জানে না তার মাঝে কী লুকিয়ে আছে।

 

‘Unbreakable’ একদমই অন্যধাঁচের একটা সুপারহিরো ফিল্ম। অবশ্যই একটা অরিজিন স্টোরি। তবে সুপারহিরো হলেও এর মাঝে ইমোশন, তুখোড় বুদ্ধিমত্তার খেলা আর সাইকোলজিক্যাল এলিমেন্টস এর কমতি ছিলো না। বরঞ্চ একটা থ্রিলার মুভি দেখতে গিয়ে একটা অন্য মাপের অসাধারণ রকমের সুপারহিরো স্টরি দেখে ভালোই লাগলো। কাহিনী দেখে মনে হচ্ছিল, সত্যিই যদি হঠাত এভাবে সুপারহিরো হয়ে ওঠে, তবে বাস্তবে এমনই হবার কথা। অন্য ইউনিভার্স, অন্য গ্রহ, ম্যাজিক বা অন্য ডাইমেনশন নয়, ক্রাইম ফাইটার সুপারপাওয়ার যদি হঠাত একজন সাধারণ মানুষের মাঝে আসে বা সে জানতে পারে, তাহলে এমনই হবার কথা।

 

এই সুপারহিরো ডেভিড ডান এর চরিত্রে অভিনয় করেন ব্রুস উইলিস। ১৯৯৬ সালের শামালানের আরেকটা তুখোড় সিনেমা ‘দ্য সিক্সথ সেন্স’ এর পুরাতন সহকর্মীকে নিয়ে ২০০ সালে এই মুভি তৈরি করেন শামালান। আর সাথে কমিকবুক কালেক্টর এলাইজা প্রাইস হিসাবে স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, যে তার সারাজীবন একজন অন্য মানুষকে খুঁজে বেড়িয়েছে।

 

Unbreakable (2000)

 

শামালানের কয়েকটা মুভি অদ্ভুত রকমের ভালো হলেও বাকিগুলো মানুষের কাছে সেগুলোর তুলনায় আহামরি কিছু নয়। তবে এই ‘Unbreakable’ কে প্রায় সকল সমালোচকই রেখেছেন বেশ উপরের দিকে, বলেছেন শামালানের সেরা কাজ। সব পরিচালকের মতো শামালানেরও আছে কিছু নিজস্ব স্টাইল। ধীরে সুস্থে স্টোরি বিল্ডাপ করা সাথে দর্শকদের কাছে স্টোরিটা সার্ভ করা আর চরিত্রগুলোকে বের করে আনাটা বেশ সুন্দরভাবে করা বলেই ছবির শেষের ত্রিশ মিনিট খুব আগ্রহ নিয়ে বসে থাকা যায়, তবে প্রথমেও যে আগ্রহ পাই নি, তা নয়। কিন্তু এমন নয় শেষ ত্রিশ মিনিতে খুব বেশি টানটান উত্তেজনা। তারপরও শুধুমাত্র গল্পটা কিভাবে শেষ হচ্ছে, সেটা দেখার জন্যে আগ্রহটা বেশ বেড়ে যাবে, অনেকটা গল্পের বইয়ের শেষের কয়েক চাপ্টার পড়ার মতোন।

 

‘Unbreakable’ এর বেশ ভালো কয়েকটা জিনিসের মাঝে সিনেমাটোগ্রাফি, কালারটোন আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অন্যতম। হ্যান্স জিমারের দীর্ঘদিনের সহকর্মী জেমস নিউটঅন হাওয়ার্ড এর মিউজিকের সাথে ডার্ক টোনের দৃশ্যে ধীরে সুস্থে এগোনো থ্রিলার দেখতে যে ভাল লেগেছে সেটা আগেই বলেছি। তবেই এই মুভির মিউজিকের কাজ আসলেই বেশ অসাধারণ ছিলো।

 

২০০০ সালে এই মুভি রিলিজের পর থেকেই শামালানের প্ল্যানে ছিলো এর সিক্যুয়েল করার। সতের বছর বাদে ‘Split’ রিলিজ দিলেও এমন নয় প্রোজেক্ট এতোদিন বাতিল ছিলো। বরং এই সতের বছর বেশ অনেক ঝক্কি-ঝামেলাই ছিলো এই প্রোজেক্ট নিয়ে। সেসময়ের তুলনায় বাজেটের তুলনায় ব্যবসা তেমন ভালো না চলায় আর সিক্যুয়েল প্রডিউস করার কথা ভাবেনি স্টুডিও। বেশ দীর্ঘদিনই অপেক্ষা করতে হয়েছে শামালানকে। অবশেষে গতো বছর রিলিজ দিলেন ‘Split.’

 

‘Split’ কে ‘Unbreakable’ এর থিমেটিক সিক্যুয়েল বললেও পরবর্তীতে দেখা যায় এটা ‘Unbreakable’ ইউনিভার্সেরই অংশ। সেটা কীভাবে বোঝা গেলো সেটা না হয় না-ই বললাম। কারণ যারা ‘Split’ দেখেছেন তার আসলে ‘Unbreakable’ এর বেশ বড় স্পয়লার খেয়ে গেছেন। তাই যারা এখনো কোনোটাই দেখেননি, তারা আগে ‘Unbreakable’ দেখে নিতে পারেন। তবে আগে ‘Split’ দেখলেও ভাল লাগার কমতি হবে না কোনোটার প্রতিই, সেটা বলা যায় অবশ্যই। বরং আগে ‘Split’ দেখে পরে ‘Unbreakable’ দেখলে কিছুটা প্রিক্যুয়েল এর আবহ সৃষ্টি হবে।

 

‘Unbreakable’ এ সুপারহিরো অরিজিন আর ‘Split’ এ সুপারভিলেন অরিজিন। থিম কী, সেটা সবাই-ই জানেন। কেভিন নামের একজনের পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার, কেভিনের মাঝে ২৩ জন ব্যক্তি রয়েছে। তবে এখানে একটা আলাদা ব্যাপার আছে, সেটা হচ্ছে, এই ২৩ জনের একজন জানে যে কী সমস্যা চলছে। সে চায় সমস্যাটা দূর হোক। কিন্তু বাকি ২২ জন চাইছে ২৪ তম জনকে বের করে আনতে।
মুভিতে এই ২৪ জনের অবশ্য মাত্র সাতজন এর পার্সোনালিটি দেখানো হয়। তবে এই সাতটা চরিত্রেই জেমস ম্যাকাভয় যে অসাধারণ অভিনয় করেছেন সেটা বলার বাহিরে। ম্যাকাভয়কে আমার সাধারণ ভাবে হাস্যোজ্জ্বল অভিনেতা মনে হয়। তার মাঝ থেকে এমন দুর্দান্ত রকমের একটা ভিলেনিয়ার অ্যাক্ট বেরিয়ে আসবে, সেটা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ ছিলো না। তারপরও তার অভিনয় দেখে মন ভরে গেছে।

 

Split (2016).mkv_20170508_221126.615

 

বারবার আমি পার্সোনালিটি গুলোকে ‘জন’ বা আলাদা মানুষ হিসাবে উল্লেখ করছি। কারণ মুভির মাঝেও এভাবেই উল্লেখ করা। পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের অন্যান্য গল্পের সাথে এখানে একটা পার্থক্য যে, পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারকে অন্য বেশিরভাগ স্টোরিতে শুধু মানসিক বিকার হিসাবে দেখানো হয়, যে দেহটা যা, তার মূল মানসিকতা হচ্ছে তার জন্মের পরের থেকে যেটা ছিলো, বাকি যেগুলো আসছে, সেগুলো হচ্ছে ‘ফল্ট’। কিন্তু এখানে দেখানো হচ্ছে যে, কেনো আলাদা পার্সনালিটি একজনের মাইন্ডে আসলেই সেটা শুধুমাত্র বিকার হবে। কেনো সে সম্পূর্ণ অন্য কেউ হতে পারবে না। এই গুলো দেখানো বেশ ভালো লেগেছে। অনেকটা, ‘A name, a race, a religion had given to you immedietly after your birth and hold the identity eternity. Is that really you identity?’ কথাটার মতো। যেভাবে আমাদের বড় করা হয়েছে, সেটা কী সত্যিই আমি? আমি কী আরেকজন হতে পারি না? কথাগুলো অনেকটা সায়েন্স-ফিকশন স্টোরি এর মতো শোনালেও আসলে এই মুভিতে শুধুমাত্র এই সাইকোলজিক্যাল এলিমেন্ট দিয়ে বেশ দারূনভাবে সেটা দেখানো হয়েছে।

 

Split (2016)
‘Split’ এ চরিত্র ছিলো অল্প। লোকেশনও ছিলো অল্প। জেমস ম্যাকাভয় বাদে ছিলো আনা টেইলর জয়। এবং কেভিন বা তার বাকি ২২ টা পার্সোনালিটি এর সাইকোথেরাপিস্ট এর চরিত্রে বেটি বাকলি। আনা টেইলর জয় এর চরিত্র যে বেশ গ্রুত্বপূর্ণ, শুধুমাত্র একটা পার্শ্বচরিত্র নয়, সেটা দেখতে থাকলেই বুঝতে পারবেন।

 

‘Split’ খুবই সাধারণভাবে তৈরি করা। মাত্র ৯ মিলিয়ন ডলারে তৈরি এই মুভি তারপরও ২৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সমালোচকদের সাথে দর্শকদেরও জোড় প্রশংসা পেয়েছে। এর মূল কারণ এর গল্পটা। ‘Unbreakable’  এর মতো এটার স্টোরিটেলিং এর কারণে দর্শক বসে থাকবে। আর সাথে জেমস ম্যাকাভয় এর অভিনয় তো আছেই। আমি নিজে শুধুমাত্র জেমস ম্যাকাভয় কেই দেখেছি বারবার রিওয়াইন্ড করে, তাকে এতোটা ভাল লেগেছে। এটা তার সেরা কাজ, কোনো সন্দেহ নেই সেখানে।

 

গল্পে বেশ কিছু মোড় আছে, চিন্তা করার খোড়াক আছে, আলাদা মানুষের কাছে আলাদা থিওরি লাগবে, এমন ব্যাপারও আছে। আর এই ইউনিভার্সে সুপারহিরো-সুপারভিলেন এর লড়াই এর জন্যে যে একদম পার্ফেক্ট এরিনা তৈরি করা, সেটাতো অবশ্যই।

 

ট্রিলোজির শেষ মুভিও এমন সাদামাটা ভাবে অসাধারণ কিছু বানাবে, সেই অপেক্ষায় থাকলাম বেশ অনেক আগ্রহ নিয়েই। শামালান যে সেটাতে অনেক রাম্বল আর অনেক বড় বাজেট করবেন না, সেটা জানা কথাই। তারপরও সেটা যদি আরেকটু এক্সপান্ডেড হয় এই দুটোর চেয়ে, সেটা আরেকটু ভালো লাগবে মনে হয়।

 

Unbreakable Universe/Trilogy
Director:  M. Night Shyamalan

 

Unbreakable (2000)
Cast: Bruce Willis, Samuel L. Jackson, Robin Wright Penn

 

Budget: $75 million
Box office: $248.1 million

 

 

Split (2016)
Cast: James McAvoy, Anya Taylor-Joy, Betty Buckley

 

Budget: $9 million
Box office: $275 million

 

 

IMDb Rating: 7.2/10 & 7.5/10
My Rating: 8/10 & 9/10
Rottentomatoes: 62% & 75% Fresh

 

Unbreakable Universe

(Visited 629 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন