Birthday of Al Pacino

বেশ ছোটো থাকতে থেকেই একটা নাম শুনতাম খুব জনপ্রিয়, অনেক লিজেন্ডারি। তার গ্রেটেস্ট ওয়ার্ক দেখার জন্যে ইচ্ছা হতো সবসময়ই। তখন অতোটা ভালো ব্যবস্থা ছিলো না ইচ্ছামতো এখনের মতোন মুভি সংগ্রহ করার। তাই অপেক্ষাটার মাঝেই তার অন্য কয়েকটা কাজ দেখা হলেও মন ভরছিলো না।

 

এই অপেক্ষার সময়টাকেই কাজে লাগালাম আরেকটা বিশেষ কাজে। তার সেরা কাজের বেজমেন্টটা চেখে দেখলাম একবার।

 

‘গডফাদার’ বইটা পড়ার পরে যে অনুভূতী আমার ছিলো, আমি ভয়ে ছিলাম আমি মুভি দেখে ততোটা অনুভূতী পাবো কিনা। অনেকের মতেই মুভিটা বইয়ের মতোন হয় নি। আমি তাতে বিশ্বাসী নই। আমার পড়া সেরা বই ‘দ্য গডফাদার’, আমার দেখা সেরা মুভি ‘দ্য গডফাদার’, আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ডন ভিটো কর্লিওনে। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা দ্য গ্রেট মারলোন ব্রান্ডো নয়। সেই জায়গাটা আল পাচিনোর।

 

সিসিলিয়ান মব বসের চরিত্রে অভিনয় করা আল পাচিনোর আদিপুরুষও ছিলো সিসিলিয়ান। কাকতালীয়ভাবে তার মায়ের বাবা-মা এর আদিবাড়ি ছিলো সিসিলির কর্লিওনে শহরে। একদম ছোটোবেলা থেকে ইচ্ছা ছিলো বাস্কেটবল খেলোয়াড় হবার। কিন্তু ছোটখাটো আকারের ‘সনি’ ডাকনামের আল পাচিনো তা হতে না পারলেও, তখন থেকেই বন্ধুদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘দ্য অ্যাক্টর’ নামে।

 

কিশোর বয়সে স্কুল ছেড়ে দিলেও অ্যাক্টিং স্কুলে ভর্তি হন, যে বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কিছুটা ছন্নছাড়া স্বভাবের হওয়ায় সেখান থেকে ছেড়ে চলে আসেন। মায়ের সাথে এসব নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় বাড়িও ছেড়ে দেন। এরপরে বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতে থাকেন। একদম ছোটোবেলা থেকে সিগারেটের আর অন্যান্য অনেক নেশা থাকলেও নিজের অভিনয়ের সত্ত্বাটা বিসর্জন দেননি এসবের পিছনে। তাই অভিনয়ও চাইলে যেতে থাকেন ছোটোখাটো থিয়েটারে। একসময় ‘হার্বার্ট বার্গফ (HB) স্টুডিও’-তে আসেন অভিনয়কে জীবনের চাবিকাঠি হিসেবে ঠিক করে নিতে। সেখানেও দীক্ষা নেন তার মেন্টর চার্লস ল’টন এর কাছে। সেখানেই নিজেকে গড়ে তোলেন ‘মেথড অ্যাক্টর’ হিসেবে।
এরপরে বেশ কয়েকবছর থিয়েটারে কাজ করতে থাকেন। HB Studio এর মাধ্যমেই ১৯৭১ সালে ‘দ্য প্যানিক ইন দ্য নিডল পার্ক’ চলচ্চিত্রে একজন মাদকাসক্তের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তরুণ ফোর্ড কপোলা তখন মারিও পুজোকে সাথে নিয়ে গডফাদারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টায় রত।  ‘দ্য প্যানিক ইন দ্য নিডল পার্ক’ দেখে কপোলার চোখে পরে আল পাচিনোকে। কপোলার লিস্টে তখন ঝানু অভিনেতা জ্যাক নিকোলসন, রবার্ট রেডফোর্ড, ওয়ারেন বেটি, সাথে আরেক স্বল্প পরিচিত খেলোয়াড়, রবার্ট ডি নিরো। সবাইকে বাদ দিয়ে ফোর্ড কপোলা বেছে নেন আল পাচিনোকে, স্টুডিওর দ্বিমত সত্ত্বেও।

 

ফোর্ড কপোলার এরোগেন্সের জন্যে শুধু স্টুডিও ব্লকবাস্টার একটা ছবি পেলো না, সাথে মুভি ইতিহাস পেল আল পাচিনোকে। ‘দ্য গডফাদার’ চলচ্চিত্রকে ধরা হয় ক্রাইম ফিল্মের বাইবেল হিসাবে। আর সেই ছবির ডন মাইকেল কর্লিওনে চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রথম বড়সর কাজেই অস্কারে জুটে নেন নমিনেশন। যদিও তা পার্শ্বচরিত্রের জন্য হওয়ায় সে বছরের অস্কার বয়কট করেন তিনি।

 

‘দ্য গডফাদার’ এর সিক্যুয়েল মুভির জন্যেও তিনি নমিনেশন পান। তবে এবার সেরা অভিনেতার জন্যে। মাত্র ছয়জন অভিনেতা-অভিনেত্রী এখন পর্যন্ত একই চরিত্রের জন্যে দুইবার নমিনেশন পেয়ছেন। তিন তাদের মাঝে একজন। নিজের সাত নমিনেশনের মাঝে সকলের মতে এই ছবির জন্যেই তার অস্কার পাওয়া উচিৎ ছিলো, কিন্তু অনেক বছর কাটিয়ে শেষমেশ অস্কার পান ১৯৯২ সালের ‘সেন্ট অফ আ উইম্যান’ ছবির জন্যে। একই বছরে আরো একটা নমিনেশন ছিলো এন্সেম্বল কাস্টের ডার্ক-কমেডি মুভি ‘গ্লেনগ্যারি গ্লেন রস’ এর জন্যে, যেটা তার আরেকটা অসাধারণ কাজের দৃষ্টান্ত।

 

আল পাচিনো বিখ্যাত তার ক্রাইম থ্রিলার মুভিগুলোর জন্যে। মব বস, গ্যাংস্টার, আন্ডারকভার কপ, পুলিশ; আইনের দুই পাশের চরিত্রেই সমানভাবে অভিনয় করে গেছেন। ‘স্কারফেস’, ‘গডফাদার সাগা’, ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এ তে যেমন ছিলেন গ্যাংস্টার, ‘সার্পিকো’, ‘হিট’, ‘ইনসমনিয়া’ মুভিতে তেমনই অসাধারণ ছিলেন পুলিশের চরিত্রে।

 

‘হিট’ মুভির কথা আলাদাভাবে একটু উল্লেখ করা যায়। মারদাঙ্গা পুলিশ লেফটেন্যান্ট হিসেবে তার অসাধারণ এই ছবিতে সাথে এন্টাগনিস্ট হিসেবে ছিলেন রবার্ট ডি নিরো। একই মুভিতে সিলেক্ট হওয়া রবার্ট ডি নিরোকে ফোর্ড কপোলা না নিলেও, ‘দ্য গডফাদার: পার্ট টু’ তে মাইকেল কর্লিওনের বাবা ডন ভিটো কর্লিওনের তরুণ চরিত্রে নেওয়া হয় ডি নিরোকে। এবং ডি নিরো সেরা সাপোর্টিং অ্যাক্টর হিসেবে অস্কার জিতে নেন। যদিও একই ছবিতে প্যারালাল স্টোরি হওয়ায় একই দৃশ্যে দুই ডনকে দেখা যায়নি। কিন্তু তাদের মাঝে ছিলো দারুণ সুসম্পর্ক। তাদের শেষমেশ দেখা যায় ‘হিট’ এর একটি দৃশ্যে। প্রচন্ড পরিমাণে গুজবাম্প সৃষ্টি করবে, যারা ‘গডফাদার সাগা’ কে ভালোবেসে এসেছেন। এই ছবির শেষ দৃশ্যতে আল পাচিনোর প্রতি সম্মান আরেকধাপ বেড়ে যাবে।

 

ব্রায়ান ডি পালমার গ্যাংস্টার-ড্রামা ফিল্ম ‘স্কারফেস’-এর অভিনয় করেন কিউবান রিফিউজি থেকে ড্রাগলর্ড হয়ে ওঠা ‘টনি মন্টানা’ চরিত্রে। এই ছবি প্রথমে সমালোচকদের তেমন পছন্দ না হলেও প্রচন্ড পরিমাণে ইনফ্লুয়েন্সিয়াল হয়ে ওঠে একসময় শুধুমাত্র পচিনোর অভিনয়ের কারণেই। তার সেই কোল্ট হাতে ”Say hello to my little friend’ কিংবা হোটেলের দৃশ্যে ‘I always tell lies, even when I tell the truths,’ ডায়লগ ডেলিভারি ভোলা অসম্ভব।

 

টনি, অ্যামি, অস্কার; ‘ট্রিপল ক্রাউন অব অ্যাক্টিং’ যেতা এই অভিনেতা চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৬৯ সালে জিতেছিলেন প্রথম টনি অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৭ সালে জিতেছিলেন দ্বিতীয়টি। ১৯৯২ সালের অস্কারের পরে ২০১০ সালে ‘ইউ ডোন্ট নো জ্যাক’ নামক ক্রিটিক্যালি এক্লেইমড থ্রিলার টিভি মুভির জন্যে এমি অ্যাওয়ার্ডও জেতা হয়ে যায়।

 

আল পাচিনো হয়তোবা আর আগের মতোন নেই। বেশ কয়েকবছর তার লেভেলের অভিনয় তেমন আসেনি, যদিও ২০১৪ সালের ‘ড্যানি কলিন্স’ এর জন্যে বেশ অনেক বছর বাদে গোল্ডেন গ্লোব এ নমিনেশন পান।  কিন্তু তিনি সবসময়ই আল পাচিনো। প্রথম সারির একজন মেথড অ্যাক্টর, মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল অভিনেতাদের একজন, যাকে আইডল মানেন আরো অনেক বিখ্যাত অভিনেতারা।  রিলের ‘ব্যাড বয়’ খেতাব পেলেও আসল জীবনে প্রায় সকলেরই অনেক পছন্দের মানুষ তিনি। হলিউডের প্রায় সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী সাথেই তার বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তার অ্যাক্টিং স্কিলের জন্যে ১৯৯৪ সাল থেকে ‘অ্যাক্টর স্টুডিও’ এর জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট তিনি।

 

১৯৪০ সালের ২৫ এপ্রিল নিউ ইয়র্কে জন্ম নেয়া আল পাচিনো এভাবেই কিংবদন্তী হয়ে ওঠেন।

 

লিজেন্ডকে ৭৭ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 

al_pacino_quote_facebook_cover_1370594120 P

(Visited 240 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন