ভুবন মাঝি: আলোচনা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ড্রামের আওয়াজ, তারপরে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ভাষণ! ট্রেইলার টার প্রতি মনোযোগ আসতে বেশি সময় লাগল না।

 

একটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখবো, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্ট্রাটেজি দেখাবে, তাদের অপারেশন দেখাবে এই যুগের অ্যাকশন ছবি মতো, পিছনে থাকবে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবার মতো মিউজিক আর রক্ত গরম করা কিছু মুহুর্ত। এমন ছবি যে আমাদের ছিল না, তা-না। কিন্তু অনেকদিন ছিল না। এই যুগের ছেলেমেয়েদের জন্যে একদম এমন একটা মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের দরকার ছিল, যেটা দেখে তারা আগের চেয়ে আগ্রহী হবে। ইদানিং বিভিন্ন খানে দেখি ২১শে ফেব্রুয়ারি নাকি দেশের জন্যে বীরশ্রেষ্ঠরা শহীদ হয়েছিলেন, ১৬ই ডিসেম্বর নাকি স্বাধীনতা দিবস।

 

তো সেটা সিনেমা দিয়ে কিভাবে সম্ভব? আসলে তারা জানতে পারছে না। আমরা ছোটো থেকে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ে এসেছি, কিছু সিনেমা দেখেছি। আগ্রহটা বিভিন্নভাবে এসেছে আমাদের কাছে। আগ্রহ ছড়ানো, শিক্ষা ছড়ানো, একটা বার্তা ছড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায়, জনগণের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় প্রযুক্তির ব্যবহার। টিভি অনেকদিন থেকেই আমাদের দেশের এই কাজ করে এসেছে। কয়েক বছর যাবত এই দেশে চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা আছে, এমন সংখ্যা কম নয়। মানুষ টিভি সিরিজ, মুভি এগুলো দেখতে পছন্দ করে। তো সেই পথে যদি ভালোভাবে একটা সিনেমা আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে করা যায়, বুঝতেই পারছেন কেন এখনকার ছেলেমেয়েরা আগ্রহটা পাবে।

 
বলছিলাম, সরকারি অনুদানে তৈরি ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রের কথা। ফাখরুল আবেদীন খান এর পরিচালনার এই ছবির বেশ নজরকাড়া পোস্টারে আগেই আগ্রহ বেশ। তবে এবার ট্রেইলার দেখে আগ্রহ বেশ চড়া। দারুণ লেভেলের মিউজিক, দুর্দান্ত কালার গ্রেডিং আর সত্যিই অনবদ্য কিছু ক্যামেরার কাজ। ট্রেইলার দেখার আগে একটা স্টিল ইমেজ দেখেছিলাম, যেখানে একটা মোটরবাইকে দুইজন  আসছে এক ব্রিজের নিচ দিয়ে। সেটা দেখে ভাবছিলাম,  এর পরের দৃশ্য যদি রাস্তার ডান পাশ, আর তার পরের দৃশ্য যদি বাম পাশ থেকে দেখায়, তাহলে বেশ হয়। ট্রেইলার দেখার সময় অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, একদম আমার কল্পনার মতো একটা অংশ। পরিচালক যদি এভাবে দর্শকদের সাথে কানেকশনটা ঘটাতে পারেন ছবিটির, আমার মনে হয় না এই ছবি হিট করতে খুব সমস্যা হবে।

 
এখন, সমস্যাটা যেটা, সেটা হচ্ছে আমরা হলে গিয়ে ছবি দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। সেটা আমরা ‘আয়নাবাজি’ থেকে কাটিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি ‘কিছুটা’। ‘আয়নাবাজি’ থেকে আমরা বুঝেছি, আসলে এগিয়ে আমাদেরই আসতে হবে। দর্শক না চাইলে কিছুই হবে না। ২০১৬ সালের সেরা বাংলা ছবি ছিল ‘অজ্ঞাতনামা’ দর্শকদের অনেকে জানতেনও না যে হলে একটা কী দারুণ ছবি চলছে। কারণ তখনও আমরা শিক্ষাটা পাই নি। ‘অজ্ঞাতনামা’ আর ‘আয়নাবাজি’ আমাদের শিখিয়ে গেলো, কি করে দর্শকদের আগ্রহীই ভালো সিনেমা তৈরি করার আশা জাগায় পরিচালকদের, কি করে ভালো চলচ্চিত্র দর্শকদের নিজেদের কাছেই আসবে।

 

পরমব্রত চ্যাটার্জী আমার বেশ পছন্দের অভিনেতা। তাকে আমরা দেখবো এক মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে। সাথে থাকবেন অপর্ণা ঘোষ, ইনিও আমার বেশ পছন্দের অভিনেত্রী। আছেন মাজনুন মিজান, এদেশের নাটকের সাপোর্টিং অ্যাক্টর হিসেবে যিনি দারুণ কাজ করছেন অনেক বছর যাবত। সাথে আছেন আমাদের বর্ষীয়ান অভিনেতা মামুনুর রশীদ। এমন এক কাস্টিং আর দারুণ এক ট্রেইলারে আশা করছি হল আবার ভরে উঠবে। তবে এবার ভরে উঠবে এক মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে।

 

ট্রেইলার: youtu.be/QaUl6pQBjhE

 

 

Picture1


এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন