জীবন থেকে নেয়াঃ আমাদের জীবনের গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

3698700_orig

 

 

পোস্টারটা খেয়াল করে দেখুন। আজকের বিদেশি চলচ্চিত্র মজে যাওয়া সবার জন্যে হয়তোবা এই সাদাকালো ফাটা-ফাটা দেখতে পোস্টারটাকে খুবই ‘খ্যাত’ লাগছে। কিন্তু বাংলাদেশের সেরা চলচ্চিত্র গণ্য করা হয় যে চলচ্চিত্রকে, সেই চলচ্চিত্রের পোস্টারটাই এটি। যাই হোক, যেটা বলছিলাম। খেয়াল করে দেখার কথা।

 

 

উপরে একটা শব্দ লেখা, ‘প্রদেশ’; ‘মহাসমারোহে আজ প্রদেশব্যাপী শুভমুক্তি’। ১৯৭০ সালে তখনো এই দেশ পূর্ণাঙ্গ কোনো দেশ নয়, পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রদেশমাত্র। কেমন অদ্ভুত লাগছে না শুনতে? শোনারই কথা। কারণ আমরা জন্ম নিয়েছি এক স্বাধীন দেশে। কোনো যুদ্ধ দেখতে হয়নি, দেখতে হয়নি অন্যদের শাসন। যুদ্ধে গল্প শুনতে মজা লাগে অনেক, নিজের ভাষায় কথা বলার আনন্দে ভালো লাগে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় ঘুরতে।

 

 

১৯৭০ সালে এই ছবি মুক্তি দিতে জহির রায়হানকে পোড়াতে হয়েছে অনেক কাঠখড়। স্বাভাবিকভাবেই তৎকালীন  পূর্ব পাকিস্তানের গণ-আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি চলচ্চিত্র প্রকাশে বাঁধা আসবেই। কিন্তু সব ‘শিকল ভেঙে’ জহির রায়হান ঠিকই তাঁর এই ছবি মুক্তি দিলেন।

 

 

‘শিকল ভাঙা’… এই শিকল ভাঙা নিয়েই রূপক অর্থে গড়ে তোলা এক ছবিতে জহির রায়হান তাঁর কতোশত চিন্তাধারা দেখিয়ে গেলেন! এই ছবিটি দেখতে গিয়ে যতোবার না পূলক অনুভব করি, তারচেয়ে বেশি হতাশা, রাগ আর কষ্ট, যে কেন জহির রায়হান আজকে নেই এই দেশে? কেনো তাঁকে শহীদ হতে হলো? তিনি যদি আজ থাকতেন এই দেশের চলচ্চিত্রশিল্প কোথায় চলে যেত, আজ আমরা তা কল্পনাও করতে পারছি না।

 

 

এক ঘরে এক দেশ; শাসক, শোষণ, বঞ্চনা আর আন্দোলন; ঘর থেকেই শুরু হোক সব আন্দোলন, এমন আহবান এর সাথে সমগ্র দেশের অবস্থা তুলে ধরা রূপক অর্থে, সাথে অল্প কিছু রোমাঞ্চকর মূহুর্ত আর এক কোর্টরুম ড্রামা। খান আতাউর রহমানের নিজের স্ত্রী রওশন জামিলকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করার ওই মূহুর্তটা একদম ছোটো থেকেই দেখার সময় আলাদা একটা অনুভূতী সৃষ্টি করে কেমন জানি।

 

 

পলিটিক্যাল স্যাটায়ারের মাঝ দিয়ে এক অনন্য গল্প তুলে ধরার মাঝে জহির রায়হান সেই ৫৭ বছর আগে যে ছবি বানিয়ে গিয়েছিলেন আজও সেই ছবির সমপর্যায়ে আর কেউ যেতে পারলো না। সেই যুগেও সাদাকালো ছবির মাঝে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক রঙিন গল্পকে। যে গল্প রাঙিয়েছিলেন নবাব আনোয়ার হোসেন, রাজ রাজ্জাক, সম্রাট আকবর, সুচন্দা, রোজি সামাদ, রওশন জামিল, খান আতাউর রহমান। বেবি জামান, ব্ল্যাক আনোয়ার আর আমজাদ হোসেনের কথা না বললে অসম্মান করা হবে। কী অভিনয়ই তারা করেছিলেন এই ছবিতে।

 

 

অভিনয়ের সাথে গান। খান আতাউর রহমান এর করা সঙ্গী পরিচালনায় কী সুন্দর আর চমৎকার গান ছিল। নজরুলের ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ থেকে নিজের লেখা ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ আর সেই গানের সেনসেশনাল অংশটুকু কেউই ভুলবে না যে একবার দেখবে। সাথে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সম্পূর্ণ ব্যবহার। যদিও জহির রায়হান হয়তো জানতেন না তখনো আর এক বছরের মাথাতেই রবি ঠাকুরের এই গান আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে পরিণত হবে। গানের সাথে মিউজিকেরও দারুণ ব্যবহার। রওশন জামিলের অংশগুলোতে হঠাতই ড্রামাটিক বাদ্য ব্যবহার করে শাসন আর শোষক এর পরিচয় দিয়ে দেয়া; সবই দারুণ।

 

ঔপন্যাসিক জহির রায়হান তার গল্প উপন্যাসে সবসময়ই এদেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি, মানুষ নিয়ে কথা বলেছেন। কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন নিয়েও। চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন আমাদের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁরই তৈরি সর্বশেষ সম্পূর্ন চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ আসলেই একদম জীবন থেকে নেয়া এক গল্পের মাঝে এই সর্বসাধারণের মাঝেই এক অসাধারণ আন্দোলনকে তিনি তুলে ধরেছেন।

Jibon Thekey Neya (1970)
Jibon Thekey Neya poster Rating: 9.2/10 (1,149 votes)
Director: Zahir Raihan
Writer: Zahir Raihan (story), Amjad Hossain (dialogue), Zahir Raihan (screenplay)
Stars: Abdur Razzak, Suchanda, Shaukat Akbar, Rosy Samad
Runtime: 150 min
Rated: N/A
Genre: Drama, Family, War
Released: 10 Apr 1970
Plot: A political satire of Bangladesh under the rule of Pakistan metaphorically, where an autocratic woman in one family symbolizes the political dictatorship of Ayub Khan in East Pakistan.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন