Silence: প্রভুর নিস্তব্ধতা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

সমুদ্রের ধারে তিনটে ক্রুশ। তিন ক্রুশে ঝোলানো তিনজন মানুষ। সমুদ্রের গর্জন ওঠা ডেউ এসে জীবন তিনটি নিয়ে গেলে আগুণে পুড়িয়ে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করা হলো। চোখের জল ফেলে ফাদার রদ্রিগেজের কিছুই করার ছিল না আর দূর থেকে দেখা ছাড়া। কারণ তার উপস্থিতিতে জীবনের আশংকা থাকবে গ্রামের বাকি মানুষেরও। বন্ধু এবং সহকর্মী ফাদার গারুপে কে অন্যখানে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে চলে আসেন তিনি গটো আইল্যান্ডে, যেখানে তার শিক্ষক ফাদার ফেরেইরাকে শেষবার দেখা গেছে, যাকে খুঁজতে জাপানে এসেছেন তিনি এবং ফাদার গারুপে।
মার্টিন স্করসেজি ১৯৮৮ সালে তাঁর কন্ট্রোভার্শিয়াল রিলিজিয়াস ফিল্ম ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’ তৈরি করার বছরই জাপানি ঔপন্যাসিক শুসাকো এন্দোর বিখ্যাত হিস্টোরিক্যাল ফিকশন ১৯৬৬ সালের ‘চিনমোক্যো’ বা ‘সাইলেন্স’ পড়েই এই মুভি অ্যাডাপশন করার জন্য সিনেমা সত্ত্ব কিনে নেন। তার দুই বছর পর থেকেই তিনি এই সিনেমা তৈরির কাজে হাত দেন। প্রায় পঁচিশ বছর যাবত তার ড্রিম প্রোজেক্টকে আগলে রেখে দীর্ঘদিনের বন্ধু জে ককসকে সাথে নিয়ে বারবার ঠিক করেছেন তার চিত্রনাট্য, সাজিয়েছেন গল্প, চিন্তা করেছেন এই সিনেমা নিয়ে। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের সাধনা ছিল একটা প্রচন্ড কমপ্লিকেটেড একটা সিনেমার পিছনে। এবং ‘নো ডাউট’ ট্যাগ এটার জন্যে, আসলেই মার্টিন স্করসেজির মতো সাজানো এক পরিচালকের জন্যে এই কমপ্লিকেটেড গল্প অনেক সময় নিয়ে তৈরি করা মোটেও অবাক করার মতো নয়। এবং অবশেষে এই ২০১৬ সালে এসে মুক্তি পেল তার অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র ‘সাইলেন্স’।

 

এই মুভি খুব সাধারন চিন্তাধারার বাইরে অনেক কমপ্লিকেটেড কিন্তু বাস্তিব এক গল্প নিয়ে। একই উপন্যাস থেকে ১৯৭১ সালে জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা মাশিও শিনোডা তৈরি করেন তার ভার্সনের জাপানি চলচ্চিত্র ‘চিনমোক্যো’ বা বিশ্বব্যাপী ‘সাইলেন্স’ নামে। একই গল্প থেকে তোইরি হয়েছে মঞ্চনাটক, নির্মিত হয়েছে অপেরা মিউজিক্যাল। মার্টিন স্কোরসেজি দীর্ঘদিন ‘ডেভেলপমেন্ট হেল’-এ থাকা তার ভার্সনকে অবশেষে বের করে আনলেন, তুলে ধরলেন তার দুর্দান্ত সেই প্রেজেন্টেশনে।

 

সেন্ট পল কলেজ, ম্যাকাও থেকে ফাদার রদ্রিগেজ এবং ফাদার গারুপে নাগাসাকি, জাপানে আসেন তাদের শিক্ষক এবং জাপানে ধর্মপ্রচারে আসা জেসোইট পাদ্রী ফাদার ফেরেইরাকে খুঁজতে। কারণ তাদের কাছে খবর এসেছে, ফাদার ফেরেইরা তার ধর্ম বিসর্জন দিয়েছেন। গুরুর এই ঘটনার কথা বিশ্বাস করতে না পেরে দুই ছাত্র জাপানে আসে ফাদার ফেরেইরাকে খুঁজে ফেরত নিয়ে যেতে। কিন্তু জাপানে এসে তারা দেখে এক অন্য পৃথিবী। তাদের জানাশোনা দুনিয়ার বাইরে জাপান যেন এক নরক খ্রিস্টানদের কাছে। নিজেদের জীবন বাজি রেখে স্থানীয় খ্রিস্টানরা রক্ষা করে এই দুই পাদ্রীকে। সাহায্য করে নির্যাতিত হয়ে ধর্মত্যাগ করা কিচিজিরো নামক এক জাপানি। শিক্ষককে বাঁচাতে এসে যেন দুই পাদ্রী এক নিস্তব্ধ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

 

ryxBrad

 

এই নিস্তব্ধতা নিয়ে পরে বলছি। আগে বলে আসি ছবির মূল চরিত্রের কথা। ছবির পুরোটুকু জুড়ে শুধু অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং অ্যান্ড্রু গারফিল্ড। অত্যন্ত ভয়াবহ রকমের চমৎকার অভিনয় দেখলাম অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের। একই বছরে ‘হ্যাকশ রিজ’ চলচ্চিত্রেও সে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে। কিন্তু ‘সাইলেন্স’-এও তার অভিনয়ের কমতি ছিল না কোথাও, ছিল না কোনো খুঁত। এতো চমৎকার অভিনয়ে প্রায় তিন ঘন্টার দীর্ঘ সময়ে একবারও স্ক্রিন থেকে চোখ ফেরাবার উপায় ছিল না। পর্তুগিজ একসেন্ট, এক্সপ্রেশন, কান্না, এবং সবশেষে নির্লিপ্ততা; অ্যান্ড্রু গারফিল্ড যে অভিনয় করেছে, সেটা আসলে শুধু লিখে বা বলে বোঝানো অসম্ভব আসলে, তাই আমি আর চেষ্টা করছি না। চলুন চলে যাই স্বপ্নবাজের কাছে।

 

দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে এই ড্রিম প্রোজেক্ট কে স্বপ্নে লালন করা স্বপ্নবাজ স্কোরসেজির জীবনের সেরা কাজ সম্ভবত এখন ‘সাইলেন্স’। কী অসাধারণ ভাবে সাজানো গল্প, ন্যারেটিভ, প্রেজেন্টেশন! স্কোরসেজির প্রিয় ফিল্ড ‘ক্রাইম’ থেকে অনেক-অনেক দূরের এই ছবিতে এক কমপ্লিকেটেড গল্পের সাথে দেখলাম যেন এক নতুন স্কোরসেজিকে। পঁচিশ বছর কেনো? স্কোরসেজি সুন্দরমতো উত্তর দেন, ‘বয়স বাড়ার সাথে সাথে আইডিয়া বাড়ে, প্রশ্ন-উত্তরে পরিবর্তন আসে, এবং এগুলোই আমাকে আগ্রহী করে তোলে।’ নিজের কথার মতোই এই চুয়াত্তর বছর বয়সে এসেও তার মানুষকে দেওয়ার মতো তার চিন্তা বাড়ছে যেন। হিস্টোরিক্যাল সেমি-ফিকশনালাইজ ড্রামা ফিল্মের মাঝেও মনুষত্য আর হিংস্রতার মিশেলে অদ্ভুত প্রেজেন্টেশনে এক থ্রিলার অনুভূতি জাগিয়ে তুলে স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখার সব উপাদানই ছিল তাঁর কাজে।

 

বারবার বলছি কমপ্লিকেটেড গল্প। কেনো? এই হিস্টোরিক্যাল সেমি-ফিকশনালাইজ গল্পটা আসলে শুধু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কাজ করছে না। বাস্তব আর পরাবাস্তবতার মাঝ দিয়ে এই গল্প শুধু রদ্রিগেজের তার শিক্ষককে অনুসন্ধান করার মাঝ দিয়ে নয়, সাথে তার প্রভুকে সন্ধান করার সাথে মনুষ্যত্ব আর প্রতিটা মানুষের জীবনের ধর্মীয় বিশ্বাসের দুর্বলতা নিয়ে গড়ে উঠেছে। প্রভুর নিস্তব্ধতাতে রদ্রিগেজ বুঝে উঠতে পারে না সে কী করবে, বিসর্জন দিতে পারে না তার ধর্মকে। কিন্তু তার বন্ধু গারুপের মাঝের দুর্বলতা ঠিকই একসময় জেগে উঠতে চাইলেও, সে-ও বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকতে চায় এই ধর্ম বিসর্জনের সমুদ্রে।

 

silencecover

 

সিসিলিয়ান পাদ্রী গুইসেপ্পে চিয়ারার ঐতিহাসিকতাকে নির্ভর করে শুশাকো এন্দো তার বইয়ে কল্পনা করে গড়ে তোলেন ফাদার রদ্রিগেজের চরিত্রে। সাথে থাকেন ধর্ম বিসর্জনের জন্যে বিখ্যাত ফাদার ক্রিস্টোভাও ফেরেইরা আর রদ্রিগেজের বন্ধু এবং সহকর্মী হিসেবে ফ্রান্সিসকো গারুপে। গারুপে চরিত্রে অভিনয় করেন অ্যাডাম ড্রাইভার। যতোক্ষন স্ক্রিনে ছিলেন অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের সার্থক সাপোর্টং চরিত্রে ছিল দারুণ অভিনয়। কখনো একই মতামত বা কখনো আয়নার ওপাশের মতামত দিয়ে রদ্রিগেজের সাথে নিজেও এক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সিসকো গারুপে চরিত্রে ছিলেন দারুণ।

 

আইরিশ ভেটেরান অভিনেতা লিয়াম নেসন এর আগে এই চরিত্রে কল্পনা করা হয় মেথড-অ্যাক্টর ড্যানিয়েল ডে লুইস আর ভার্সেটাইল অ্যাক্টর বেনিসিও দেল তোরোকে। কিন্তু শেষমেশ এই চরিত্রে আসেন লিয়াম নেসন। প্রথমে তাকে দিয়ে শুরু হলেও, তাকে আবার দেখা যায় শেষে এসেই। কিন্তু এই সময়টুকুতেই ছবির সবচেয়ে গুরত্বপূর্নে অংশে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে তার অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। সেই মোটা গলায় ফাদার ফেরেইরা হিসেবে রদ্রিগেজের কাছে তার কথাগুলো ছিল ছবির সেই কমপ্লিকেশন এর মূহুর্ত হয়ে ওঠার কারণ। তার খুব স্বাভাবিক সেকেন্ড এন্ট্রিতে যে কেউ চমকে যেতে পারেন কাহিনীর স্রোতে ভালোভাবে মিশে যেতে পারলে। অন্তত আমি এখানে এসে বেশ চমকে গিয়েছিলাম কাহিনীর কারনে। আর এই সময়টাতে এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি করার কারণে।

 

27scorsese5-master675

 

অদ্ভুত বলতে যে খুব অস্বাভাবিক কিছু, তা নয়। কিন্তু সেই সহজ-স্বাভাবিক দৃশ্যটাই অনবদ্য হয়ে ওঠে স্কোরসেজির কারণে। খুব স্বাভাবিক একটা দৃশ্য শিল্পীর তুলির আঁচড়ে যেমন মাস্টারপিসে তৈরি হতে পারে, তেমনিই একজন পরিচালকের কারনে যেকোনো স্বাভাবিক ঘটনা অনবদ্য হয়ে ওঠে। ছবির নাম সাইলেন্স বলেই কিনা স্বল্প ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে শুধুমাত্র ন্যাচারাল শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ দিয়ে শুরু আর শেষের প্রথমে টাইটেল সিনে ভয়াবহ একটা ব্যাপার ঘটিয়ে দিয়েছেন স্কোরসেজি। আবারও, সেই স্বাভাবিক ব্যাপারকে অস্বাভাবিক করাই। কোন আহামরি কিছু না, না কোনো ভিজ্যুয়াল এফেক্ট বা গ্রাফিক্সের কাজ। ক্যালিব্রি ফন্টে কালো স্ক্রিনে মুভির নাম; এ-পর্যন্তই। কিন্তু তার পিছনে ‘ছিল না’ অন্যকিছু। কী ছিলনা সেটা ধরতে পারলেই মুভির স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেয়া যায়।

 

অনবদ্য এই চলচ্চিত্র অস্কারে শুধুমাত্র সেরা সিনেমাটোগ্রাফিতে নমিনেশন পাওয়া সম্ভবত এবারের সবচেয়ে বড় অস্কার-স্নাব। সেরা চলচ্চিত্রের নমিনেশনের যোগ্যতা রাখা এই ছবি অন্তত সাথে সেরা চিত্রনাট্যে নমিনেশন পাবার যোগ্যতা রাখে। তবে মেক্সিকান সিনেমাটগ্রাফার রদ্রিগো প্রেতো যে সেই একটা নমিনেশন কে জয় করে নিয়ে যাবার জন্য অন্যতম যোগ্য দাবীদার এবারে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি স্কোরসেজিকে পুরো পৌনে তিন ঘন্টা সাপোর্ট দিয়ে গেছে সার্থকভাবে। জাপানের কাহিনীতে একটা সিনও জাপানে শ্যুট করা নয়, সম্পূর্ণ ছবি তাইওয়ানে শ্যুট করা। কিন্তু সকল লোকেশন ওইতিহাসিক লোকেশনের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ করা হয়।

 

screen-shot-2016-11-22-at-9-27-48-am

 

ছবির অন্যতম দুই চরিত্র ছিল কিচিজিরো আর গর্ভনর ইন্যো মাসাইজে। কিচিজারোর চরিত্রে প্রথমে কেত ওয়াতানাবের করার কথা থাকলে, শিডিউলের কারণে ছেড়ে দেন এই ছবি। তার জায়গায় আসেন জাপানি অভিনেতা তাদানবো আসানো। আর এদো পিরিয়ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গর্ভনর ইন্যো মাসাইজে এর চরিত্রে ছবির অন্যতম স্ট্রং অ্যাক্টিং করেন জাপানি অভিনেতা ইস্যে ওগাতা। অল্প সময়েও তার স্ট্রং স্ক্রিন প্রেজেন্সে ইন্যো মাসাইজের ধূর্ত, রুথলেস আর হৃদয়হীন গভর্নর চরিত্র বেশ দারুণ ফুটে উঠেছে। তার সময়ে জাপানে খ্রিস্টান সমাজ নিধনে তার ব্যাপক ভূমিকা সেভাবে না দেখালেও, এই সময়টুকের ভিতরে তার সামান্য নিদর্শন ঠিকই ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

 

MV5BOTQ1ZWRiNDctOGRiYi00NDVlLThjMzEtNjExY2U0NGRlNGFkL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyNDkzNTM2ODg@._V1_SY1000_CR0,0,1500,1000_AL_

 

বিশ্বাসকে ভিন্ন কারনে ভেঙেচুড়ে ফেলে এক নতুন বিশ্বাস গড়ে তোলা চরিত্রে ফাদার ফেরেইরা মাধ্যমে জাপানের এদো যুগের সময়ের এই ঘটনার মাধ্যমে যেন প্রতিটা মানুষের বিশ্বাস ভাঙার সুযোগ হবার উপক্রম দেখানো হয়। বিশ্বাস ভেঙে গেলও অন্য বিশ্বাস গড়ে তোলা আর কন্ট্রোভার্শিয়াল ভাবে সেখানে অন্য ধর্মের কথা তুলে ধরলেও, মানুষের অদ্ভুত মস্তিষ্কের আরো অদ্ভুত সাইকোলজিই দেখানো হয়। স্করসেজিরই কন্ট্রোভার্শিয়াল রিলিজিয়াস ফিল্ম ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস’ আর ‘কুন্দোন’ এর মতোই ধর্মের সাথে মানুষের এই অদ্ভুত সম্পর্ক আর সেখান থেকে নিজেকে অনুসন্ধান এর যোগযূত্রে ‘সাইলেন্স’-কে মিলিয়ে অনেকে তাই এই তিন সিনেমাকে আনঅফিসিয়াল ‘রিলিজিয়াস ট্রিলজি’ আখ্যা দিয়েছেন।

 

বিশ্বাসের উপর গড়ে ওঠা এই গল্প শেষ পর্যন্ত মানুষের শোনা সেই নিস্তব্ধতাকে কেন্দ্র করেই। যে নিস্তব্ধতাও যে কান পেতে শোনা যায়। ছবির শেষে সে যে নিস্তব্ধতা রূপ নেয় নির্লিপ্ততায়। যে নির্লিপ্ততা আবার রাখে বাঁচিয়ে আর প্রভুর সেই নিস্তব্ধতাকেই। স্কোরসেজির অসাধারণ প্রেজেন্টেশনে অ্যান্ড্রু গারফিল্ড নামক এক ক্যানভাসে তাই যেন শেষে ‘সাইলেন্স’ এঁকে দেয়া হলো আবারো।

 

Silence
Year: 2016

 

IMDb Rating: 7.5/10
My Rating: 10/10
Rotten Tomatoes: 83% Fresh
Box office: $13.8 million/$40 million
Rated: R

 

Screenplay by: Jay Cocks & Martin Scorsese
Directed by: Martin Scorsese
Cast: Andrew Garfield, Adam Driver, Liam Neeson, Tadanobu Asano, Issey Ogata

Genre: Historical Semi-Fiction, Drama

 

Accolades:
1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Cinematography (Rodrigo Prieto)
2. In Top 10 Film list of AFI & In Many Others’.

Error:

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন