Jackie: Under the Veil
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

‘I did not want fame. I became a Kennedy.’

জ্যাকুলিন কেনেডি এই কথাটা মনে হয় নাটালিয়া পোর্টম্যানের জন্যেই বলে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের অন্যতম প্রত্যাশিত-আকাঙ্খিত হলিউড চলচ্চিত্র ‘জ্যাকি’-তে আমরা নাটালিয়া পোর্টম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এর স্ত্রী জ্যাকুলিন কেনেডি এর চরিত্রে দেখতে পাই। আসলেই কী অন্য কারো চরিত্রে দেখলাম, নাকি আসলেই জ্যাকি কেনেডিকে দেখলাম, এই ধন্দে ছিলাম পুরো সিনেমাতে।

 

২২ নভেম্বর, ১৯৬৩। টেক্সাসে এক রাজনৈতিক সফরে সস্ত্রীক যান জন এফ কেনেডি। সেইদিনই দিন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তাঁর স্ত্রী জ্যাকি কেনেডি একজন প্রেসিডেন্ট এবং একজন স্বামী হিসেবে এরপর থেকে তাঁর সর্বোচ্চ সম্মানের ব্যবস্থা করেন, যেন কোনো কিছুতে জন এফ কেনেডির অসম্মান না হয়।

 

জ্যাকুলিন কেনেডি ছিলেন একজন ফ্যাশন আইকন। হোয়াইট হাউজের বয়সের দিক থেকে তৃতীয় ছোটো জ্যাকি কেনেডি মানুষের কাছে তার জলি মুড, হোয়াইট হাউজকে মানুষের কাছে আরো কাছের থেকে প্রেজেন্ট করা আর তার দারুণ ফ্যাশন স্টাইলের জন্যে। এর বাইরেও তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে ছিলেন দারুণ অ্যাক্টিভ। হোয়াইট হাউজের সকল কর্মকর্তার সাথে ছিল তার সুসম্পর্ক। জন এফ কেনেডি মারা যাবার পরে তিনি তাই তার লিগ্যাসি ধরে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করেন নি।

 

এই জ্যাকি কেনেডি হিসেবে নাটালিয়া পোর্টম্যান তার অভিনয় জীবনের সেরা কাজ করলেন। শেষ পাঁচ বছরেও তারচেয়ে দারুণ অভিনয় আর কারো আছে বলে মনে হচ্ছে না। তার অস্কার উইনিং ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ সিনেমার চেয়েও অনেক বেশি ভালো অভিনয় করেছেন। কস্টিউম আর মেকাপ-হেয়ারস্টাইলের কারণে একদম পুরো জ্যাকি কেনেডি। এটা বাদ দিলেও উচ্চারণ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, এক্সপ্রেশন; সব দিক থেকেই ‘She just became a Kennedy’। এই চরিত্র করার জন্যে তিনি ঘেটেছেন জ্যাকি কেনেডি সম্বন্ধীয় সকল ভিডিও, হোয়াইট হাউজের ট্যুর ভিডিও, তার বায়োগ্রাফি আর সবের উপর নাটালিয়া পোর্টম্যান, জ্যাকি কেনেডির ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনের ইন্টারভিউকে বেছে নিয়েছেন বেশি।

 

Talking about ‘Life’ magazine interview. মুভিটি কেন্দ্রই করা হয়েছে এই ইন্টারভিউকে কেন্দ্র করে। নাম উল্লেখ না করা এক জার্নালিস্ট এর সাথে সাক্ষাতকারে উঠে আসে জ্যাকি কেনেডি স্বামী হারাবার পরবর্তী দিনগুলোর কথা। প্রথমের র‍্যুড আর স্ট্রং এক জ্যাকি কেনেডিকে দেখানোর পরে ন্যারেটিভে একবার তার হোয়াইট হাউজের ট্যুর ভিডিও এর শ্যুটিং দিন আর একবার জন এফ কেনেডি এর অ্যাসাসিনেসন এর পরের দিনগুলো উঠে আসে। চিলিয়ান পরিচালক ল্যারিন এর দারুণ কাজে খুবই দুর্দান্ত একটা বায়োগ্রাফি ফিল্ম হয়েছে ‘জ্যাকি’। পিরিয়ড ড্রামা হলেও এক মূহুর্তের জন্যেও বোরিং লাগেনি। বরং নাটালিয়া পোর্টম্যানের দারুণ অভিনয় বাদেও চমৎকার দৃষ্টিনন্দন ক্যামেরার কাজ আর দারুণ একটা গোছানো চলচ্চিত্র দেখলাম। অরিজিনাল ডকুমেন্টারি আর ট্যুর ভিডিও এর রিইমাজিনেশন ভিডিও-ও তৈরি করা হয় কাস্টিং মেম্বারদের নিয়ে। সাদাকালো স্ক্রিনে সেগুলো সেগুলো দেখানো বাদেও কিছু দৃশ্যে ‘৬৩ এর স্টাইলের ভিডিও কোয়ালিটি এর মতো দেখানো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

 

Lyndon B. Johnson taking oath as Acting President (Up- In real life; Down- In Movie)

Lyndon B. Johnson taking oath as Acting President
(Up- In real life; Down- In Movie)

 

জ্যাকি কেনেডি চেয়েছিলেন তার মৃত স্বামী যেন যোগ্য সম্মান পান সবার কাছ থেকে। নিজের কষ্ট চেপেও তাই তিনি বারবার তাঁর স্বামীর হত্যাকারী কে হতে পারে, সেটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন, চিন্তিত হয়ে পড়েন কোথায় কবর দেয়া হবে তাঁকে, কেমন হবে তার অন্ত্যেক্রিষ্টিয়া। আর এসব বিষয়ে তাকে সবসময়ই মানসিকভাবে সহায়তা করে আসেন JFK এর ছোটো ভাই RFK।

 

সবাই JFK কে একনামে চিনলেও তার ছোটোভাই RFK কে এইদেশের কতোজন চেনেন বা নাম শুনেছেন আমি জানি না। আমিও নিজেও যে শুনেছি, সেটা অস্বীকার করবো না। রবার্ট ‘ববি’ কেনেডি ছিলেন তার বড় ভাই এর প্রেসিডেন্সিয়াল সময়ে তার অ্যাটর্নি জেনারেল, একজন সিনেটর এবং তরুণ রাজনীতিবিদদের কাছে একজন আইকন। এই চরিত্রে অভিনয় করেন পিটার সার্সগার্দ। পুরো মুভিতে ববি কেনেডি হিসেবে নাটালিয়া পোর্টম্যানকে দারুণ সাপোর্ট দিয়ে গেছেন তিনি। জ্যাকি কেনেডির মতো তিনিও চেয়েছিলেন তাঁর ভাই যোগ্য সম্মান পাক।

 

জ্যাকি কেনেডি যে কতোটা ইনফ্লুয়েনশিয়াল ছিলেন জনগণের কাছে, তা প্রায় সবময়ই দেখানো হয় সবখানে। তার ফ্যাশনস্টাইক আইকনে পরিণত হওয়া, টিভির সামনে তার উপস্তিতিকে পার্ফেক্ট করা কিংবা হোয়াইট হাউজে তার দিন ফুরিয়ে গেছে এটা বুঝিয়ে দিতে যখন কেউ ব্যস্ত, তখনো তার দিকে চোখ তুলে কথা বলার সাহস পেত না কেউ। প্রথমে জার্নালিস্ট এর কাছে রাফ হিসেবে দেখানো এবং আস্তে আস্তে করে আসল মানুষটাকে দেখানো; নাটালিয়া পোর্টম্যান এর এই এক্টিং অসাধারণেরও উপরে ছিল। আস্তে আস্তে করে যেন JFK এর অন্ত্যেক্রিষ্টিয়াতে কাল অবগুণ্ঠনে ঢাকা মুখ এর থেকে এক আসল জ্যাকি কেনেডি বেরিয়ে আসতে থাকে সবার সামনে। মুভি রিলিজ পাবার আগেই অস্কার হাইপ সৃষ্টি করে এখন অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর দৌঁড়ে আমার কাছে সবার আগেই রয়েছেন নাটালিয়া পোর্টম্যান।

 

5472

 

পরিচালনার এক্যুরেসি এর কথা বললেই চলে আসে প্রোডাকশন ডিজাইন, মেকাপ আর কস্টিউমের কথা। দেখতে একরকম না হলেও জ্যাকি কেনেডির আইকনিক হেয়ারস্টাইল আর মেকাপের কারণে নাটালিয়া পোর্টম্যানকে একদমই জ্যাকি কেনেডি মনে হচ্ছিল। সে বাদেও, অন্যদের মেকাপ আর কস্টিউমও এতো বেশি হোমওয়ার্ক করে করা, সেটা এই চলচ্চিত্রে পারফেকশনের শেষ ছোঁয়া দিয়েছে। কিন্তু এই মেকাপ-হেয়ারস্টাইল ক্ষেত্রেই নমিনেশন নেই অস্কারে ‘জ্যাকি’-র। এটা খুবই হতাশাজনক ছিল। কারণ এই মুভিতে প্রত্যেকের; ছোট-বড় সব রকমের চরিত্রের মেকাপ-হেয়ারস্টাইল খুবই পারফেক্ট।

 

tdy_tren_jackie_151218.today-inline-vid-featured-desktop

Left – Natalie Portman as Jackie Kennedy Right – Jackie Kennedy

 

মিকা লেভির দুর্দান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এ সবসময়ই মোহাচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। মাঝ দিয়ে JFK এর প্রিয় মঞ্চনাটক ‘Camelot’ থেকে কবিতা আবৃত্তি আলাদা অনুভূতী যোগ করেছে। JFK কে প্রায়ই ‘Camelot’ বলতেন জ্যাকি কেনেডি, তাঁর ক্যামেলট এর মতোই কাজের জন্যে।

 

নাটালিয়া পোর্টম্যানের সাথে নাম উল্লেখ না করা সেই জার্নালিস্ট ছিলেন আসলে ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনের পলিটিক্যাল জার্নালিস্ট থিওডর এইচ হোয়াইট। তার সাথে এই সাক্ষাতকার কিছুটা ফিকশনালাইজ করা হয় মুভিতে। এই ভূমিকায় অভিনয় করেন বিলি ক্রাডপ। জন হার্ট ছিলেন অল্প সময়ে জ্যাকি কেনেডিকে মোটিভেট করা পাদ্রী ফাদার রিচার্ড ম্যাকসর্লির চরিত্রে, যিনি জন এফ কেনেডির অন্ত্যেক্রিষ্টিয়া সম্পন্ন করেন। দারুণ মেকাপে ক্যাসপার ফিলিপসনকে একদম জন এফ কেনেডির মতোই লাগছিল। কিন্তু তাকে দেখানো হয় কম সময়ই।

 

MV5BNDEzOGEzNjgtNWViYS00Zjg1LWIzYTgtMWE2YTI4ODJkMzRmL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMjk3NTUyOTc@._V1_

 

অল্প সময়ে জ্যাকি কেনেডিকে দেখাতে গিয়েও পুরো মুভিতেই ছিলেন জন এফ কেনেডি। বারবার তার সম্পর্কে জ্যাকি কেনেডির মন্তব্যে উঠে আসে অনেক কথা। তাছাড়াও কথায় কথায় JFK এর রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং বিভিন্ন বিখ্যাত সিদ্ধান্তের কথাও অল্পবিস্তর তুলে ধরা হয়।

 

নাটালিয়া পোর্টম্যানের সাথে জ্যাকি কেনেডির দুই ছেলেমেয়ের চরিত্রে বাচ্চা দুইটির কাজ দেখে ভালো লাগে সাথে দারুণ মন খারাপও হয়। বিশেষ করে একটা জায়গায় যখন ছোট্ট জন জুনিয়র জিজ্ঞাসা করে, তার বাবা কোথায়, তখন দারুণ মন খারাপ হয়। তার চেয়েও মন খারাপ হয় জ্যাকি কেনেডির উত্তর শুনে। এই উত্তরটা খেয়াল করে শুনবেন আশা করি। জন জুনিয়রের জন্মদিনের মাত্র তিনদিন আগেই নিহত হন JFK।

 

দারুণ চিত্রনাট্যে অনেক রাজনৈতিক ঘটনার আথে শেষ পর্যন্ত আসলে দুইজন মানুষের জীবনের কথা উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট হলেও জন এফ কেনেডি যে একজন স্বামী, একজন পিতা ছিলেন, এই কথাগুলোই উঠে আসে। তুলে ধরা হয় শেষেমেশ একজন ফার্স্ট লেডিও সাধারণ এক নারীর মতোই এক সাধারন স্ত্রী আর একজন মা। নাটালিয়া পোর্টম্যানের সেরা অভিনয়ে যেন আসল ‘জ্যাকি’-কেই দেখলাম এই সিনেমায়।

 

Jackie
Year: 2016

 

IMDb Rating: 7.2/10
My Rating: 9.0/10
Rotten Toamtoes: 83% Fresh
Box office:  $18.1 million/$9 million

 

Written by: Noah Oppenheim
Directed by: Pablo Larraín
Cast: Natalie Portman, Peter Sarsgaard, Billy Crudup, John Hurt

Genre: Biography, Historical, Drama

 

Accolades:
1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Actress, Costume Design (Madeline Fontaine), Original Score (Mica Levi)
2. 74th Golden Globes: Nominated for Best Best Actress
3. 70th BAFTA Awards (Pending): Nomination for Best Actress, Costume Design (Madeline Fontaine), Original Score (Mica Levi)

Jackie (2016)
Jackie poster Rating: 7.7/10 (5,103 votes)
Director: Pablo Larraín
Writer: Noah Oppenheim
Stars: Natalie Portman, Peter Sarsgaard, Greta Gerwig, Billy Crudup
Runtime: 100 min
Rated: R
Genre: Biography, Drama
Released: 02 Dec 2016
Plot: Following the assassination of President John F. Kennedy, First Lady Jacqueline Kennedy fights through grief and trauma to regain her faith, console her children, and define her husband's historic legacy.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন